30/09/2026
ঘটনা মুন্সিগঞ্জের। ক্যানাডা প্রবাসী আশরাফুল রবিন দূর দেশে বসে অনলাইনে বিয়ে করলেন লামিয়া আক্তার প্রিয়াকে।
নিজে দেশে আসতে পারলেন না, কিন্তু আভিজাত্যের কোনো কমতি রাখেননি...বউকে বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে আনার জন্য ভাড়া করে পাঠালেন আস্ত একটা হেলিকপ্টার!
সংসার শুরু হতে না হতেই প্রিয়া ম্যাডাম তাঁর রাজকীয় ডিমান্ডের খাতা খুলে বসলেন।ঘর ঠান্ডা রাখতে চলে এলো ব্র্যান্ড নিউ এসি, আর নানা উসিলায় প্রবাসীর পকেট কেটে অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হলো নগদ ৩৫ লাখ টাকা। জামাই দূর দেশ থেকে ভালোবেসে হাতে ধরিয়ে দিলেন আইফোন ১৫....
যদিও পাবলিক এখন কমেন্ট করতেছে, এই যুগে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স না দিয়া ১৫ দিলে কি আর বউ থাকে?
যাই হোক, শেষমেশ লাখ টাকা ঢেলে ম্যাডামকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য IELTS করানো হলো।
কিন্তু বিধিবাম! প্রিয়া ম্যাডামের ক্যানাডার টিকিট আর কনফার্ম হলো না।🤦♀️
জামাই যখন বললেন, ভিসা যখন হচ্ছে না, আমিই তাহলে ক্যানাডার পাট চুকিয়ে পাকাপাকিভাবে দেশে চলে আসি, প্রিয়া ম্যাডাম তখন আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন, তোমার আসতে হবে না, আমি দেখছি কী করা যায়!
আশরাফুল ভাই ক্যানাডায় বসে ভেবেছিলেন হয়তো, আহা, আমার অর্ধাঙ্গিনী কতখানি ম্যাচিওরড আর কেয়ারিং! ভাই তখন স্বপ্নেও ভাবেন নাই, প্রিয়া ম্যাডাম আসলে ক্যানাডার ইমিগ্রেশনের ফাইল গোছাচ্ছিলেন না;তিনি আসলে তাঁর পুরনো পরকীয়া প্রেমিক রাসেল মাঝির সাথে দিগন্তের ওপারে হারিয়ে যাওয়ার নিখুঁত ছক কষছিলেন।
ফলস্বরূপ, একদিন সকালে দেখা গেল প্রিয়া উধাও। তবে তিনি একা যাননি; স্বামীর দেওয়া সেই আইফোন, ১৭ ভরি সোনা আর নগদ ৩৫ লাখ টাকা অত্যন্ত যত্ন সহকারে বগলদাবা করে রাসেল মাঝির হাত ধরে প্রস্থান করেছেন।
যে বউকে রাজকীয়ভাবে আকাশ দিয়ে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে আনা হয়েছিল, দিনশেষে সে কিনা ক্যানাডিয়ান ডলারের মোহ ছেড়ে মাঝির নৌকার বৈঠা বাইয়ে বাইয়ে ছলাৎ ছলাৎ করে চিরতরে হাওয়া হয়ে গেল!🙂
যখন ঘটনাটা মিডিয়ায় এলো, শাশুড়ি আম্মা তখন কাঁদো কাঁদো গলায় বিশ্ববাসীকে বোঝাচ্ছেন,
মেয়ের মতো রাজকীয় হালে রাখলাম, এক গ্লাস পানিও নিজে ঢেলে খাইতে দেই নাই! এত আইফোন, এসি আর হেলিকপ্টার খাওয়াইয়াও লাভ হইলো না! ছেলে ক্যানাডায় ঘাম ঝরিয়ে ৩৫ লাখ টাকা পাঠালো, আর বউ তা নিয়ে চম্পট দিল চুল-দাড়ি পেকে যাওয়া এক 'কাকু' টাইপ লোকের সাথে!
এদিকে প্রেমিক রাসেলের বাবা খুব ঠাণ্ডা মাথায় সংবাদমাধ্যমকে জানালেন,তাঁর ছেলে নাকি সম্পূর্ণ 'বৈধ' উপায়ে বিয়ে করেছে এবং মেয়েটির যে আগে একটা ক্যানাডিয়ান জামাই ছিল, সেটা তাঁরা জানতেনই না! প্রিয়া ও রাসেলের বক্তব্য অবশ্য জানা যায়নি, কারণ তাঁরা তখন ৩৫ লাখ টাকা আর ১৭ ভরি সোনা নিয়ে জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ব্যস্ত।
মানেহ!!! ভাই... এই যুগে এসেও এমন আত্মঘাতী রোমান্টিকতা দেখা সত্যিই বিরল!
এক বিছানায় চব্বিশ ঘণ্টা পার করেও যেখানে মাইনষের ভেতরের শয়তান চেনা যায় না, সেখানে আপনারা সাত সমুদ্র ওপারে বইসা, ইমোর স্ক্রিনে ফিল্টার মারা চেহারা দেইখাই নিজের লাইফের সব কামাই একাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন কোন সাহসে?
মানেহ....🤦♀️ প্রবাসীদের এই লেভেলের ডিলিউশন দেখার জন্যই বোধহয় ২০২৬ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকা.... 🙂