Rifat Ahamed

Rifat Ahamed Hi

06/02/2026
06/10/2025
24/09/2025
24/09/2025
08/09/2025

জাহাঙ্গীরপুর থেকে জঙ্গীপুর: এক শহরের লুকানো ইতিহাস !

বাংলার বুকের উপর দিয়ে কত সাম্রাজ্য, কত রাজবংশ গিয়েছে– তবুও কিছু জনপদ তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের জন্য বারবার ইতিহাসের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। জঙ্গিপুর সেই রকমই এক শহর। আজ যাকে আমরা “জঙ্গীপুর” নামে চিনি, তারই প্রাচীন নাম ছিল জাহাঙ্গীরপুর—মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে। সম্রাট নিজে যখন পূর্বভারতের অস্থিরতায় ছুটে এসে ভাগীরথীর তীরে শিবির করেছিলেন, তখনই এই জনপদ জাহাঙ্গীরপুর নামে খ্যাত হয়। পরে সংক্ষেপে নাম হয় জঙ্গীপুর—যেমন ঔরঙ্গজেবের নামে ঔরঙ্গাবাদ, ফারুক শিয়ারের নামে ফরক্কাবাদ তা থেকে ফরাক্কা।

জঙ্গীপুর শুধু মুঘল আমলের স্মৃতি নয়, বরং নবাবি বাংলার শিল্প–সংস্কৃতির এক গৌরবময় অধ্যায়। এখানকার তাঁতিরা শুধু শাড়ি বুনতেন না—বুনতেন ইতিহাস, বুনতেন শিল্প, বুনতেন রাজসিকতার প্রতীক। নবাব নাজিমদের প্রতিকৃতি খচিত রেশমী শাড়ি আজও কিংবদন্তির মতো শোনা যায়। ১৮০২ সালে লর্ড ভ্যালেন্টাইনা জঙ্গীপুরকে আখ্যা দিয়েছিলেন “The greatest silk station of East India Company”। তখন এখানে ৬০০ ফার্নেসে কাজ করত, তিন হাজার মানুষ রুটি-রুজির আশ্রয় পেত। পাশের বালুচর, মীর্জাপুরের তাঁতশিল্প বিলাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এখানকার নাহাট্টা পরিবার একদিন শুধু বাংলাতেই নয়, ফ্রান্সের বাজারেও জুয়েলারির ব্যবসায় খ্যাতি অর্জন করেছিল।

অর্থনীতি যেমন প্রসারিত হয়েছিল, তেমনি রাজনীতির ঝড়ও বয়ে গিয়েছে এই জনপদের উপর। পাঠানদের দমন করতে রাজপুত সেনানায়কেরা এখানে শিবির গড়েছিলেন। পর্তুগিজ, মগ, বর্গিদের আক্রমণে জর্জরিত হলেও জঙ্গিপুর দাঁড়িয়ে ছিল অবিচল। মুঘল, পাঠান, সেন, গুপ্ত—কোনো সাম্রাজ্যেরই কেন্দ্রীয় দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি এই অঞ্চল।

কিন্তু জঙ্গীপুর শুধু রাজনীতি বা বাণিজ্যের ইতিহাস নয়—এটি বিদ্রোহ ও প্রতিরোধেরও ইতিহাস। ইতিহাসের পাতায় জঙ্গীপুর ছিল গুপ্ত, সেন, পাঠান ও মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল, যেখানে বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে এবং মুর্শিদাবাদ ছিল রাজধানী। নদী অববাহিকার পথ ধরে সম্রাট, সুলতান, পীর, ফকির, সাধু, সন্ন্যাসী, জনজাতি ও উপজাতির আগমন ঘটেছে; মগ, বর্গি, পর্তুগিজদের আক্রমণও এই অঞ্চলে ঘটেছে। বৌদ্ধ, মহাবীর, চৈতন্যদেবের ছোঁয়া যেমন রয়েছে, তেমনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির—ব্রিটিশ, ফরাসি, ডাচ, ওলন্দাজ—বাণিজ্যিক আগ্রাসনও ঘটেছে। ওহাবি আন্দোলন, কৃষক বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহের মতো সামাজিক আন্দোলন এই ভূমিকে আন্দোলিত করেছে। নদীপথ ধরে পশ্চিমের জাতি-জনজাতির আগমন ঘটেছে, যার ফলে রাঢ় ও বাগড়ির সাংস্কৃতিক ধারা পৃথক হয়েছে—রাঢ়ে রক্ষণশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা হয়েছে, আর বাগড়িতে মিশ্রণ ও নব সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটেছে। এইভাবে জঙ্গিপুর শুধু একটি ভূগোল নয়, বরং ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের এক জীবন্ত কাব্য।

©Manas Bangla

#জঙ্গিপুর #বাংলারইতিহাস #মুর্শিদাবাদ #নবাবী_বাংলা #মানসবাংলা #রেশমশিল্প #জঙ্গীপুর

01/09/2025

উমিচাঁদ: পলাশির চক্রান্তে এক প্রতারিত বণিকরাজ!

বাংলার ইতিহাসে ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ কেবলমাত্র একটি যুদ্ধ নয়, বরং এক মহাদুর্যোগ—যেখানে ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা, অর্থলোলুপতা আর বিদেশি শক্তির ধূর্ততা মিলেমিশে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে যেমন ছিলেন জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও খোজা ওয়াজিদ, তেমনি এক অদৃশ্য অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন কলকাতার হিন্দু বণিক উমিচাঁদ।

প্রারম্ভিক জীবন ও উত্থান

উমিচাঁদ ছিলেন আগ্রার অধিবাসী। অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে তিনি কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান সওদাগর বিষ্ণুদাস শেঠের তত্ত্বাবধানে তিনি বাণিজ্যে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে দাদনি ব্যবসা, ব্যাঙ্কিং, সোরা ও আফিং বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে কলকাতার অন্যতম ধনী বণিক হয়ে ওঠেন। বিহারের পাটনা অঞ্চলে সোরা উৎপাদন প্রায় একচেটিয়াভাবে তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আলিবর্দি খানের প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, এমনকি হাজি আহমদ পর্যন্ত ইংরেজ কোম্পানিকে লিখে উমিচাঁদের পুনর্বহালের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। এসব প্রমাণ করে মুর্শিদাবাদ দরবারে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর ছিল।

দরবারে প্রভাব ও ইংরেজদের দৃষ্টি আকর্ষণ

উমিচাঁদ শুধু ধনবানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসাধারণ বুদ্ধিমান। মুর্শিদাবাদ দরবারের অন্তর্দৃষ্টি, অমাত্যদের সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সম্পর্কে তিনি সম্যক ধারণা রাখতেন। ফলে ইংরেজদের কাছে তিনি হয়ে উঠলেন অপরিহার্য এক “এজেন্ট”। ওয়াটস নিজেই লিখেছিলেন যে, উমিচাঁদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে কোম্পানির কাজে সাহায্য করছেন এবং কোম্পানির অনুগ্রহ পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য মানুষ তিনি।

ষড়যন্ত্রে ভূমিকা

কলকাতা দখলের পর ক্লাইভ যখন পুনরায় ক্ষমতা কায়েম করেন, তখন উমিচাঁদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান। ক্লাইভও তাঁকে ষড়যন্ত্রে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। উমিচাঁদ প্রতিদিন দরবারে যেতেন, অমাত্যদের সঙ্গে গোপন আলাপ করতেন এবং চেষ্টা করতেন নবাব বিরোধী অসন্তোষকে উস্কে তুলতে। তিনি চাইতেন সিরাজকে সরিয়ে ইয়ার লতিফকে নবাব করা হোক—কারণ ইয়ার লতিফ দুর্বল অমাত্য, তাঁকে নিজের প্রভাব বলয়ে রাখা সহজ হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মীরজাফরকেই বেছে নেন ইংরেজরা, যা উমিচাঁদের জন্য বড় ধাক্কা।

স্বার্থসন্ধানী চাহিদা

উমিচাঁদ ছিলেন কেবল মধ্যস্থতাকারী নন; তিনি চাইছিলেন ক্ষমতার লড়াই থেকে নিজের আর্থিক লাভ নিশ্চিত করতে। তিনি দাবি করেন, বিপ্লব সফল হলে নবাবের ধনভাণ্ডারের পাঁচ শতাংশ তাঁর হাতে দিতে হবে—যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা! কিন্তু তাঁর এই দাবি দেখে ওয়াটস পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে লেখেন, “উমিচাঁদের মধ্যে ধূর্ততা ও অর্থলোলুপতার নগ্নরূপ প্রকাশ পেয়েছে।”

লাল কাগজ ও সাদা কাগজ

ইংরেজরা তাঁর এই দাবিকে মান্য না করে চাতুরির আশ্রয় নিল। ১৭ মে ১৭৫৭ সিলেক্ট কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো— দুটি চুক্তি হবে। একটিতে (লাল কাগজ) উমিচাঁদের প্রাপ্যর উল্লেখ থাকবে, আরেকটিতে (সাদা কাগজ) তাঁর নামই থাকবে না। লাল কাগজ কেবল প্রতারণার জন্য দেখানো হবে, আসল কার্যকর হবে সাদা কাগজ। ষড়যন্ত্র সফল হলে এই ভয়ঙ্কর সত্য প্রকাশিত হলো। রবার্ট ওরম লিখেছেন, উমিচাঁদ যখন জানতে পারলেন তিনি কিছুই পাবেন না, তখন তাঁর মুখ রক্তশূন্য হয়ে গেল এবং তিনি মূর্ছা গেলেন।

পতন ও পরিণতি

প্রতারিত উমিচাঁদ এরপর ইংরেজদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের চেষ্টা চালালেও কিছুই করতে পারলেন না। ক্লাইভও তাঁকে আর গুরুত্ব দিলেন না। শেষ পর্যন্ত হতাশা ও মানসিক ভগ্নতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উমিচাঁদের কাহিনি আমাদের শেখায়—রাজনীতির খেলায় শুধু ধনসম্পদের লোভে ঝাঁপিয়ে পড়লে শেষপর্যন্ত প্রাপ্তি হয় প্রতারণা ও অপমান।

ইতিহাসের রায়

উমিচাঁদ ছিলেন না কোনও দেশপ্রেমিক নায়ক, আবার সম্পূর্ণ ভিলেনও নন। তিনি ছিলেন বাংলার এক বণিকরাজ, যিনি নিজ স্বার্থে ষড়যন্ত্রে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে ইতিহাসে থেকে গেলেন এক করুণ প্রতারিত চরিত্র হিসেবে।

©Manas Bangla

#বাংলারইতিহাস #উমিচাঁদ #পলাশিযুদ্ধ #ষড়যন্ত্র #মানসবাংলা #ইতিহাস #মানসবাংলা

29/08/2025

Address

India Gate

Telephone

+81458025150

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rifat Ahamed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category