12/02/2026
পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন পদ্ধতি।
বাংলাদেশে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য রবি মৌসুমে (অক্টোবর-নভেম্বর) সুস্থ ও মাঝারি আকারের (২০-২৫ গ্রাম) কন্দ নির্বাচন করে, সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটিতে ১.৫-২ ফুট সারিতে রোপণ করতে হয় [৩, ৪, ৮]। কন্দ রোপণের পর সুষম সার (গোবর, ইউরিয়া, পটাশ) ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার এবং ফুল আসলে পাখি বসার ব্যবস্থা করলে হেক্টর প্রতি ৫০০-৭০০ কেজি পর্যন্ত বীজ উৎপাদন সম্ভব।
পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন পদ্ধতির বিস্তারিত ধাপসমূহ:
১. উপযুক্ত সময়: কন্দ রোপণের সেরা সময় হলো কার্তিক মাস (মধ্য অক্টোবর-মধ্য নভেম্বর)
২. মাতৃকন্দ নির্বাচন ও প্রস্তুতি: ভালো মানের ও রোগের হাত থেকে মুক্ত মাঝারি আকারের (৩-৪ সেমি ব্যাস) পেঁয়াজ কন্দ নির্বাচন করতে হবে। রোপণের আগে কন্দের মাথা কেটে দিলে দ্রুত ও একসাথে চারা গজায়।
৩. জমি তৈরি: জমি ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। বেড তৈরির সময় পর্যাপ্ত গোবর সার দিতে হবে।
৪. রোপণ পদ্ধতি: সারি থেকে সারি ১.৫-২ ফুট এবং কন্দ থেকে কন্দ ১-১.৫ ফুট দূরত্বে কন্দ রোপণ করতে হবে।
৫. সার ও পরিচর্যা: প্রতি শতকে ইউরিয়া ২০০-২৫০ গ্রাম এবং পটাশ সার ব্যবহার করা উচিত। নিয়মিত সেচ (বিশেষ করে ফুল আসার সময়) এবং আগাছা দমন নিশ্চিত করতে হবে।
৬. পরাগায়ন ও রোগ দমন: পেঁয়াজের ফুলে মৌমাছি ও অন্যান্য পোকা পরাগায়নে সাহায্য করে। ছত্রাকজনিত সমস্যা (যেমন- পার্পল ব্লচ) দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।
৭. বীজ সংগ্রহ: ফুলের মাথা (কদম) বা আম্বেল যখন ধূসর বর্ণ ধারণ করে এবং বীজ কালো রঙের হয়, তখন তা ২-৩ ধাপে সংগ্রহ করতে হবে।
৮. শুকানো ও সংরক্ষণ: সংগৃহীত বীজ ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা রোধক পাত্রে বা কৌটায় সংরক্ষণ করতে হবে।
সাধারণত, কন্দ থেকে বীজ উৎপাদন পদ্ধতিটি বেশি লাভজনক এবং এতে ফলন বেশি পাওয়া যায়