07/05/2026
ভালোবাসার গল্প তো অনেক হয়, কিন্তু কিছু ভালোবাসা থাকে যা কোনোদিন পূর্ণতা পায় না, অথচ সময়ের অতলে হারিয়েও যায় না। তেমনই এক ছোটগল্প শোনাই আপনাকে।
# # # **অসমাপ্ত চিরকুট**
শরতের বিকেল। কোলকাতার এক পুরনো কফিশপে বসে ছিলেন অবনীশবাবু। জানলার বাইরে তখন রোদের ঝিলিক কমছে, আর আকাশটা হালকা বেগুনী হতে শুরু করেছে। হঠাৎ ক্যাফের দরজা ঠেলে ঢুকলেন এক বৃদ্ধা। সাদা পাড় শাড়ি, চোখে চশমা, আর হাতে একটা জীর্ণ ডায়েরি।
অবনীশবাবু চিনতে পারলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর দেখা। এই সেই **অপরাজিতা**।
# # # # **স্মৃতির সরণি**
১৯৮৫ সাল। অবনীশ তখন উঠতি লেখক, আর অপরাজিতা শান্তিনিকেতনের ছাত্রী। দুজনের প্রেমটা ছিল চিঠির। মুঠোফোন ছিল না, ছিল না কোনো তাৎক্ষণিক মেসেজ। ছিল শুধু অপেক্ষার মাধুর্য। কিন্তু সামাজিক ব্যবধান আর পারিবারিক জেদ তাদের পথ আলাদা করে দিয়েছিল।
# # # # **সেই শেষ বিকেলের কথা**
অপরাজিতা এসে বসলেন অবনীশবাবুর উল্টোদিকের চেয়ারে। অনেকক্ষণ কেউ কোনো কথা বলতে পারলেন না। নিঃশব্দেই অনেক কথা হয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে অপরাজিতা তাঁর ব্যাগ থেকে একটা হলুদ হয়ে যাওয়া কাগজ বের করলেন।
> "এই চিরকুটটা দেওয়ার কথা ছিল সেই শেষবার স্টেশনে। কিন্তু ভিড়ের চাপে হাত ফসকে গিয়েছিল।"
>
অবনীশবাবু কাঁপা হাতে কাগজটা খুললেন। সেখানে লেখা ছিল মাত্র দুটি লাইন:
> *"পৃথিবীর সব রাস্তা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবুও কবিতার পাতায় আমাদের দেখা হবে। তুমি থেমো না।"*
>
# # # # **উপলব্ধি**
অবনীশবাবু হেসে বললেন, "আমি থামিনি অপরাজিতা। আমার প্রতিটা উপন্যাসের নায়িকা তো তুমিই ছিলে। পাঠকরা ভাবত ওগুলো কল্পনা, কিন্তু আমি জানতাম ওগুলো আমাদের যাপন করা জীবন।"
অপরাজিতা জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। তাঁদের ভালোবাসা সংসার পায়নি, কিন্তু পেয়েছে অমরত্ব। অবনীশবাবুর কলমে আর অপরাজিতার মৌনতায় সেই প্রেম আজও জীবন্ত।
**সারকথা:**
সাহিত্যে সব সময় মিলনেই সুখ থাকে না। কখনো কখনো দূরত্ব আর অপ্রাপ্তিই একটা গল্পকে সার্থকতা দেয়।
আপনার কি মনে হয়? সব ভালোবাসার কি শেষটা সুন্দর হওয়া জরুরি, নাকি এমন অপূর্ণতাতেই বেশি মায়া থাকে?