14/02/2024
রিক্সা চালাই। বিয়ে করেছিলাম আজ থেকে এক বছর আগে।আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম আমি।
অভাবের সংসারটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছিলো ও।বুঝতে পারি জান্নাত আমায় খুব ভালবাসে। আমার বউয়ের নাম জান্নাত।
আমি যখন রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরি,ও আমার জন্য গোছলের পানি তুলে দেয়।মাঝেমাঝে আমিও অবশ্য তুলে দেই।
বাড়িতে কারেন্ট নাই,খেতে বসলে ও পাখা দিয়ে বাতাস করে।
গরমের রাতে আমি আর জান্নাত অদল বদল করে পাখা দিয়ে বাতাস করি,ভবিষ্যৎটাকে সাজানোর গল্প করি দুজনে।
গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম বুঝতে পারতামনা।
রিক্সায় বড়বড় সাহেবরা তাদের বউকে নিয়ে উঠত।
দুজনে মিলে অনেক গল্প করত। সাহেবদের কাছে শুনতাম তারা যেদিন বিয়ে করেছে সেদিন আসলে তারা নাকি অনুষ্ঠান, পার্টি না কি জানি করে,
এই সব আমার জানা নেই। যখন শুনতাম আমারো ইচ্ছে করত জান্নাতকে একটা শাড়ী কিনে দিতে। জান্নাতকে যে খুব ভালবাসি আমি।
কিন্তু পারিনা।অভাবের সংসার, দিন আনি দিন খাই।তাই একটা মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম।
ওটাতে রোজ দুচার টাকা করে ফেলতাম।
দেখতে দেখতে অভাবের সংসারে আজ একটা বছর হয়েগেল।
আজ সকালে রিক্সা নিয়ে বের হবার আগে জান্নাত যখন রান্না ঘরে গেল তখন জান্নাতকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখা মাটির ব্যাংকটা বের করে ভেঙ্গে দেখলাম সেখানে প্রায় ৪৮০ টাকা হয়েছে।
বাসা থেকে বের হবার আগে জান্নাতকে বলেছিলাম, আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হবে। জান্নাত মাথা নাড়ে,বলে ভালো কইরা থাকবেন।
চলেগেলাম রিকশা নিয়ে। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় মার্কেটে গিয়েছিলাম জান্নাতের জন্যে একটা শাড়ী কেনার জন্য। আজরাতে জান্নাতকে দিব।
ঘুরে ঘুরে অনেক শাড়ীই দেখছিলাম,পছন্দ হয় কিন্তু দামের জন্য বলতে পারিনা।
অবশেষে দোকানীকে বললাম,
ভাই এই কাপড়টার দাম কত
১৫০০ টাকা।
আমার কাছে তো আছে মাত্র ৪৮০ টাকা।তাই ফিরে আসলাম।
মার্কেট থেকে বের হয়ে বাহিরে বসে থাকা দোকানদারদের থেকে ৪৮০ টাকায় একটা শাড়ী কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।
মাঝেমধ্যে ভাবি,এই দোকান গুলো যদি না থাকত,তাহলে কত কষ্ট হত আমাদের মত গরিবদের।
ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ঢুকলাম। অনেকদিন পর বউকে কিছু একটা দিতে পারব,ভাবতেই বুকটা খুশিতে ভরে উঠছে বারবার।
রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়ে আছি।
বারটা বাজার অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে আছি। কল্পনার জগতে ভাসছিলাম,বউকে দেবার পর বউ কি বলবে
কতটা খুশি হবে
__ রাতগঁল্পেঁ গঁল্পেঁ আঁড্ডা mariya ja