28/05/2026
আমের বিজনেস যারা করে তারা সবাই স্টেডফাস্ট কুরিয়ার চিনে, চলুন জেনে নেই মালিকের সম্পর্কে!
ডেলিভারিম্যান থেকে কুরিয়ারের মালিক, ভালোবেসে কোটিপতি তারা!
কলেজে পড়ার সময় প্রেম, বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে গড়ায় পরিণয়ে। দুজনেই ছিলেন বেকার। ফলে পরিবার থেকে আসে বাধা। নিজেদের মতো করে স্বাবলম্বী হতে পারলে তবেই মেনে নেওয়া হবে এই সম্পর্ক—এমন শর্ত জুড়ে দেয় পরিবার। দিশাহারা এই তরুণ দম্পতি তাই নেমে পড়েন জীবনসংগ্রামে। শূন্য থেকে শুরু করা সেই যাত্রায় তাঁরা এগিয়েছেন বহুদূর। তাঁদের হাতে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানে এখন কাজ করেন প্রায় চার হাজার মানুষ।
ক্যারিয়ারে সফল এই দম্পতির নাম কে এম রিদওয়ানুল বারী (৩৪) ও জোয়াইরিয়া মোস্তারি (৩১)। তাঁরা দুজনে মিলে গড়ে তুলেছেন স্টেডফাস্ট কুরিয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আছেন রিদওয়ানুল আর জোয়াইরিয়া আছেন চেয়ারম্যান পদে।
রিদওয়ানুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্পটি জটিল। এইচএসসিতে রংপুরের বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়েছেন তাঁরা। সেখানেই তাঁদের প্রেম হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সাতপাঁচ না ভেবে পরিবারের অগোচরে দুজনে বিয়ে করে ফেলেন। বেকার অবস্থায় কী করবেন, কীভাবে চলবেন—এমন ভাবনায় অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটে তাঁদের। অন্যদিকে বিয়ের কথা পরিবারকে না জানানোর বিষয়টি নিয়েও ভাবনায় পড়েন।
রিদওয়ানুল জানান, ২০১১ সালে তিনি ঢাকায় গিয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর স্ত্রী জোয়াইরিয়া ভর্তি হন রংপুর কারমাইকেল কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। দুশ্চিন্তায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। বাধ্য হয়েই নিজেদের পরিবারকে তাঁরা বিয়ের কথা জানান। উভয় পরিবার থেকেই আপত্তি আসে। অভিভাবকেরা শর্ত জুড়ে দেন, জীবনে ভালো কিছু করতে পারলে তবেই বিয়ে মেনে নেওয়া হবে। এমন কঠিন শর্তের মুখে তাঁরা বাড়ি ছাড়েন। পরিবার থেকে দেওয়া মাসের খরচও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শূন্য হাতে রিদওয়ানুল বারী তখন পড়াশোনার ফাঁকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। প্রশিক্ষণ নেন ওয়েব ডেভেলপিংয়ের। এরপর ২০১৪ সালে হাটবাজার ডটকম নামে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। দমে না গিয়ে ২০১৬ সালে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় শুরু করেন কুরিয়ার সার্ভিসে ‘স্টেডফাস্ট’-এর ব্যবসা। তখন জনবল ছিল মাত্র চারজন। ঢাকা শহরে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের হয়ে ডেলিভারিম্যানের কাজও করেছেন। গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিয়েছেন। এরপর সময়ের পালাবদলে বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিসর।
তথ্য সুত্র: প্রথম আলো
✅আপনারও বিজনেস করার প্রবল ইচ্ছা? লেখাপড়া বা জবের পাশাপাশি এক্সট্রা ইনকামের জন্য বিজনেস আইডিয়া খুঁজছেন? আমাদের পেজ ফলো করুন, আমরা আপনাকে প্রোপার গাইডলাইন দিবো। পেজ লিংক: Mango Mission
আমাদের পেজ ফলো করুন।