17/06/2026
উপমহাদেশে আমের চাহিদা সবসময় তুঙ্গে। মোঘল শাসকরা প্রথমবার যখন আম খেয়ে বিমোহিত হন, তখনই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এর উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গবেষকদের মতে প্রায় ১৬৫০ জাতের আম হয় আমাদের এতদাঞ্চলে। যার মধ্যে ৩০০ জাতের আম মুরশিদাবাদে নবাবদের বাগানে ব্যাপকভাবে চাষ হতো। সেখান থেকে বর্তমানে টিকে আছে প্রায় ১০০ বাহারি জাতের আম। এখনো পৃথিবীর ৫০% আমের চাহিদা পূরণ করে চলেছে ভারত।
চীন অন্য সব সেক্টরের মতো এই দৌড়েও এগিয়ে আসতে চায় বটে, তবে আল্লাহ তায়ালা উপমহাদেশের মাটিতে এমন কিছু রেখেছেন যে, কালারে বিট করতে পারলেও স্বাদে আমাদের বিট করা অসম্ভব। আমি দেওবন্দে থাকাকালীন আশেপাশে কিছু বাগানে দেখেছি, সে কী বাহারি জাতের আম। কত রঙ, কত অবয়ব। লম্বাটে, শ্যাওলাটে। বুনো, মসৃণ। লাল-হলুদ কিংবা গাঢ় সবুজ—আমও যে কত প্রকারের।
কিন্তু আশ্চর্যের কথা হলো, পুরো দুনিয়া ঘুরে এসে আপনি বাংলাদেশের হিমসাগর মুখে দেন, সব ভুলে যাবেন। বোঁটা ভেঙে ল্যাংড়ার ঘ্রাণ নিলে, হারিয়ে যাবেন। হালকা পাকা নাকফজলি পেটে চালান করুন, বিমোহিত হবেন। মাত্র কয়েকদিন গ্যাপ দিয়ে আম্রপালি খান, মনে হবে এরচেয়ে ভালো আমই হয় না।
আল্লাহ এ দেশের মাটিতে বিশেষ কিছু দিয়েছেন। অতি-বাণিজ্যিক হতে হতে আমরা যেন সেটা নষ্ট করে না ফেলি। দেশের আম চাহিদা পূরণ করে এতদিন মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপে পাড়ি জমাত, ঈদের জামা পরে আমাদের হিমসাগর, আম্রপালি এ বছর থেকে যাবে মালয়েশিয়া আর জাপানে। আমি নিশ্চিত যারা একবার মুখে দেবে এই আম, তারা এর ফ্যান না হয়ে পারবে না।
সুতরাং সামনে আমের চাহিদা বাড়বে, দামও হয়তো বেড়ে যাবে। মানুষ আপেলের দাম দিয়ে আম খাবে। এর বড় কারণ হলো, আমরা চাষীদের ন্যায্য দাম দেই না। তারা একবার কায়দা বুঝে ফেললে ভালো বাছাই করা আমগুলো আমরা আর পাব না। যেগুলো পাঠানো সম্ভব না; সাইজ ছোটো বা অন্য কোনো সমস্যা—সেগুলোই জুটবে আমাদের কপালে। গাছপাকা আমগুলোও খাবে শুধু স্থানীয় লোকজন।
তাই সময় ফুরোবার আগে জানায় রাখুন
দেয়া যাচ্ছে হিমসাগর, ল্যাংড়া, নাকফজলি..
( Sadik farhan vi)