02/04/2026
কপি পোস্ট :-
প্রিয়ো ৩ নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়নবাসী,
আজ কিছু কথা না বলে আর পারলাম না। বুকের ভেতর জমানো কিছু সত্য আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। একটু ধৈর্য ধরে পড়বেন, কারণ এই কথাগুলো কোনো বানানো গল্প নয়—এগুলো রক্তে লেখা ইতিহাস।
আমি আজ আমার সেই বন্ধুর কথা বলবো, যার ধমনীতে বিএনপির আদর্শ মিশে আছে জন্মগতভাবে। যখন এই ৩ নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে বিএনপির জন্ম হয়েছিল, তখন যারা বুক চিতিয়ে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারা হলেন আমার বন্ধু চেয়ারম্যান মোঃ আসলাম হালদারের বাবা ও চাচারা। আসলাম হালদার কেবল একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান নন, তিনি এক মরণজয়ী সংগ্রামের নাম।
শৈশব থেকে রাজপথের লড়াকু সৈনিক:
যে বয়সে ছেলেরা খেলাধুলায় মত্ত থাকে, সেই দাড়ি-গোঁফ না গজানো কৈশোর থেকে হাফপ্যান্ট পরে তিনি দলের মিছিলে যোগ দিয়েছেন। পৈত্রিক এবং পারিবারিকভাবেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক। ইউনিয়ন ছাত্রদল, যুবদল থেকে শুরু করে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন রাজপথে থেকে। ১৯ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক নাশকতার প্রতিটি বড় মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য 'কেস পার্টনার'।
ত্যাগের মহিমা:
কতটা ত্যাগ করলে একজন মানুষকে 'ত্যাগী' বলা হয়? তাকে তো ক্রসফায়ারের জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল! জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন। ১৯ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানুষিক অত্যাচারে যখন তিনি শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন, তখন তার বদান্যতাতেই নতুন কমিটি গঠিত হয়। নিজের পদের লোভ না করে দলকে ভালোবেসে তিনি সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
অসহায়দের আশ্রয়স্থল:
প্রিয় বন্ধুগণ, যখন এই ইউনিয়নের কর্মীরা নাশকতার মামলায় জর্জরিত ছিল, তখন কে দাঁড়িয়েছিল তাদের পাশে? এই আসলাম হালদার নিজের পকেট থেকে কোর্ট-হাইকোর্টের খরচ জুগিয়েছেন, কর্মীদের জামিন করিয়েছেন, জেলে টাকা পাঠিয়েছেন এমনকি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাজার করে দিয়েছেন। তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই মানুষের বিপদের বন্ধু ছিলেন।
২০২১-এর লড়াই ও কৌশল:
২১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেই প্রতাপশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র লড়াই করে আপনারা তাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিলেন। কিন্তু শপথ নেওয়ার পর থেকে শুরু হলো শেখ পরিবারের হুমকি আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নগ্ন হস্তক্ষেপ। চেয়ারম্যানি রক্ষা করে এলাকার মানুষের উন্নয়ন আর সাধারণ মানুষের জানমাল বাঁচাতেই তাকে সেই সময়ে কৌশলী হতে হয়েছিল। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারের সাথে সমন্বয় করা ছাড়া আর কিইবা করার ছিল? সেটি ছিল টিকে থাকার লড়াই, প্রাণের চেয়ে প্রিয় আদর্শ বিসর্জন দেওয়া নয়।
জনগণের ব্রান্ড এবং ১২ই ফেব্রুয়ারির জবাব:
আসলাম হালদার কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি ৩ নং গঙ্গারামপুরের মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীক, এক জাদুকরী বাঁশিওয়ালা। গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাকে যখন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করা হলো, তখন সব ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে ঠকানোর জাল বুনেছিল। কিন্তু কী লাভ হলো? জনগণ ভোটের মাধ্যমে দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, আসলাম হালদারই 'অরিজিনাল বিএনপি'।
শেষ কথা:
যারা আজ অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের নিয়ে কথা বলতেও রুচিতে বাধে। তারা অন্ধকার থেকে কাদা ছুড়তে পারে, কিন্তু সূর্যের আলো নেভাতে পারে না। এই লেখাটি কেবল একটি বার্তা নয়, এটি এক বন্ধুর জন্য অন্য বন্ধুর হৃদয়ের আর্তি। সত্য কখনো চাপা থাকে না, আর আসলাম হালদারের মতো ত্যাগী নেতাকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।
ভুল মেসেজে বিভ্রান্ত হবেন না, সত্যের সাথেই থাকুন।
নিবেদক,
আপনারই একজন শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আসলাম হালদারের গর্বিত বন্ধু।
মোঃ সোহেল রানা হাসান