25/09/2024
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়,
পুরাতন সংসদ ভবন,
তেজগাও, ঢাকা।
মাননীয় উপদেষ্টা,
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ সচিবালয়,
ঢাকা।
বিষয়: ॰ বনায়নে একাশিয়া, আকাশমনি, মেনজিয়াম, ইউক্যালিপটাস্ গাছ সম্পূর্ণ বর্জন করুন।
॰ বর্জ্য রিসাইক্লিং প্রজেক্ট দ্রুত কার্যকর করুন।
(ক) বর্তমান পরিবেশ ধ্বংসী বনায়নঃ
১। (ক) এই সকল গাছ পাখির আবাসন ধ্বংস করে (খ) পাখির খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে।
২। এই গাছ বাতাস থেকে অক্সিজেন খেয়ে ফেলে, ফলে বাতাস অধিক পরিমানে দূষিত হয় ও বাতাসে তাপ প্রবাহ বাড়তে থাকে।
৩। এই গাছের পাতা মাটির যে অংশে পড়ে সে মাটির বিষাক্ততা বাড়ে যা কৃষির অন্তরায়।
৪। এই গাছ অধিক পরিমান পানি শোষণ করে, মাটিতে চাষে ও ভূগর্ভস্থ পানি সংকট বাড়িয়ে তোলে।
(খ) অতি জরুরী বিকল্প বনায়নেঃ
বন বিভাগ, সরকারী সকল দপ্তর, উপজেলা এবং সকল ইউনিয়ন পরিষদে কালক্ষেপ না করে, জাম, কাঠাল, নিম এই ধরণের মঙ্গলময় বৃক্ষ রোপনের নির্দেশ ও সহযোগীতা দান করুন। আগামীতে দেশের উষ্ণতা, গরমের তিব্রতা, এবং পানির প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, অতএব, সার্বিক বিষয়ে অতি জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করুন।
১। (ক) জাম, ফল হিসাবে একটি শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যকর ফল। (খ) পাখির খাদ্য ও আবাসনের জন্য উৎকৃষ্ট। (গ) পথিকের শান্তির ছায়া দেয়। (ঘ) এর কাঠ সর্বকালের মূল্যবান কাঠ।
২। কাঁঠাল, আমাদের জাতীয়ফল। পুষ্টিতে ভরপুর। এটি একটি অতি মূল্যবান অর্থকারী ফসল। বলতে গেলে বিনা পরিশ্রমেই কাঠাল উৎপাদন করা যায়। অধিক যত্ন, সার, পানি কিছুরই তেমন প্রয়োজন হয়না। কাঁঠাল কাঠ অতি মূল্যবান। আমাদের নানী, দাদিরা এখনও একটি কাঁঠাল কাঠের খাটের আকাংখা করে।
৩। নিম, বাংলাদেশ নিমের আদি ভূমি। (ক) সারা পৃথিবী নিম পণ্যের আগ্রহী। (খ) অধুনা, মরুর দেশেও নিম বাগান করতে তাঁরা প্রানপণ। (গ) পরিবেশের এক নম্বর বান্ধব এই গাছ। (ঘ) এই গাছ প্রকৃতির দাওয়াখানা বলে বিশ্ব পরিচিতি রয়েছে। (ঙ) রাস্তার ধারে এমনিতেই এই গাছ শোভা পায়। এই গাছ প্রতিপালনে কোন পরিশ্রম, সার, জল সেচ লাগেনা। (চ) পাখিরা আনন্দে পাকা নিম ফল খায়। (ছ) এর পাতা, ছাল, ফল, তেল অতি মূল্যবান ঔষধি। হোমিওপ্যাথি ঔষধে এই গাছ এক অনন্য অবদান রেখে চলেছে। (জ) সেগুন কাঠের খাটের মত নিম কাঠের খাট সকল মহিলাদেরই চাহিদা।
৪। কয়েক দশক ধরে, বুড়িগঙ্গার তলদেশে যে সিনথেটিক বর্জ্য কবর দিয়েছে হয়ত বা তা, আর জীবিত করা বাস্তব মুখী নাও হতে পারে। তবে সামনের বর্জ্য recycle করলে বাতাস-পরিবেশ জীবিত হতে পারে।
দেশকে পরিবেশে, কৃষিতে ও খাদ্যে এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়।
নিরবে, নিঃশব্দে আহাজারি করি,
ফিরিয়ে দাও আমাদের বাবা-দাদার প্রকৃতি, মাটি-আকাশ।
সর্বান্তকরে একান্তই,
জোয়ারদার নওশের আলী, এফসিএ
চেয়ারম্যান
০১৭১১-২৬৩-৯৯৫