04/03/2026
মাছ চাষে জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচিং পাউডার খুবই প্রচলিত ও কার্যকর। পুকুরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবী নষ্ট করতে, পুকুর প্রস্তুতকরণে(নতুন করে মাছ ছাড়ার আগে), রোগ দেখা দিলে পানি জীবাণুমুক্ত করতে ব্লিচিং পাওডার ব্যবহার করা যায়।
ব্লিচিং পাওডারে সাধারণত ৩০–৩৫% অ্যাকটিভ ক্লোরিন থাকে যা শক্তিশালী জীবাণুনাশক/অক্সিডাইজিং এজেন্ট।
অন্যান্য জীবানুনাশকের তুলনায় দ্রুত কাজ করে, তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে মাছের ক্ষতি হতে পারে।
ব্লিচিং পাউডার কীভাবে কাজ করে-
ব্লিচিং পাওডার অ্যাকটিভ ক্লোরিন ছেড়ে জীবাণু ধ্বংস করে, এটি শক্তিশালী অক্সিডাইজার।
সুবিধা:
• দাম কম
• পুকুর প্রস্তুতকরণে খুব কার্যকর
• ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীর(কিছুটা) বিরুদ্ধে কার্যকর
ব্লিচিং পাওডার ব্যবহাররের সীমাবদ্ধতা:
ব্লিচিং পাওডার ব্যবহারের আগে পুকুরে চুন প্রয়োগ করা যাবে না, প্রয়োগ করলে নিম্নোক্ত সমস্যা পরিলক্ষিত হয়-
১. জীবাণুনাশক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
• ব্লিচিং পাউডারের কার্যকর উপাদান হলো অ্যাকটিভ ক্লোরিন, চুন (CaO / Ca(OH)₂) পানির pH দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ pH-এ ক্লোরিন দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, ফলে ব্লিচিং ঠিকমতো জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে না।
২. পানির পিএইচ মানের ব্যপক তারতম্য ঘটে।
৩. পুকুরে থাকা সকল ধরনের জীবানু(উপকারী জীবানু) নষ্ট হয়ে যায়। চুন প্রয়োগে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পায়।
ডোজ:
পুকুর প্রস্তুতিতে: ৪-৫ কেজি/একর(১০০ শতাংশ)
চাষকালীন সময়: ২-৩.৫ কেজি/একর(১০০ শতাংশ)/৪-৬ ফুট পানি
*** ব্লিচিং পাওডার পুকুরে ব্যবহার করার ৩-৫ দিন পর চুন, প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত। এর আগে ব্যবহার করলে কার্যকর ফলাফল দেয় না।
✊ব্লিচিং পাওডার, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এবং বেনজাল কোনিয়াম ক্লোরাইড (বিকেসি) এই তিনটার ভিতরে কোন ধরনের জীবানুনাশক প্রয়োগ করা সবচেয়ে নিরাপদ তা নিয়ে বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন। তবে সংক্ষেপে বলতে গেলে….
👉 ব্লিচিং শক্তিশালী জীবানুনাশক কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ(পুকুর প্রস্তুতিতে সবচেয়ে ভাল)।
👉 পটাশ মাঝারি মানের জীবানুনাশক ও নির্দিষ্ট কিছু রোগে ভালো কাজ করে।
👉 বিকেসি সবচেয়ে নিরাপদ জীবানুনাশক ও চলমান চাষে সবচেয়ে উপযোগী।