Broken Heart

Directions

Broken Heart I m depressed & want to be alone with my sorrows...r u depressed like me...?

27/10/2026

Good night

চার বছর আগে বাসর রাতে অপমান করে একা ফেলে উধাও হয়ে গিয়েছিলো যে মানুষটা, আজ হাসপাতালে সাদা অ্যাপ্রনে তাকেই ডাক্তারের চেয...
27/10/2026

চার বছর আগে বাসর রাতে অপমান করে একা ফেলে উধাও হয়ে গিয়েছিলো যে মানুষটা, আজ হাসপাতালে সাদা অ্যাপ্রনে তাকেই ডাক্তারের চেয়ারে দেখে হতভম্ব হয়ে বসে পড়লো তিথি! নেমপ্লেটে লেখা, ডা. মির্জা নাহিয়ান রুদ্র, গাইনোকলজিস্ট।
চার বছর আগে বাসর রাতে অপমান করে একা ফেলে উধাও হয়ে গিয়েছিলো যে মানুষটা, আজ হাসপাতালে সাদা অ্যাপ্রনে তাকেই ডাক্তারের চেয়ারে দেখে হতভম্ব হয়ে বসে পড়লো তিথি! নেমপ্লেটে লেখা, ডা. মির্জা নাহিয়ান রুদ্র, গাইনোকলজিস্ট।

লোকটা আগের চেয়েও বেশি সুদর্শন হয়েছে, সেটা মানতে তিথির খুব কষ্ট হলো। সাদা অ্যাপ্রনের নিচে কালো শার্টের হাতা কনুই অব্দি গোটানো, শক্ত হাতের শিরা স্পষ্ট। চোখে রিমলেস চশমা, যার আড়ালে গাঢ় কালো চোখদুটো ফাইলের ওপর স্থির। ধারালো চোয়াল, উঁচু নাক, আর কপালে এসে পড়া এক গোছা কালো চুল। তিথি তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিলো। অথচ বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা এমন লাফাচ্ছে যে মনে হচ্ছে পুরো চেম্বার সেটা শুনতে পাচ্ছে।

— নাম?

রুদ্র ফাইল থেকে চোখ না তুলেই জিজ্ঞেস করলো। ঠান্ডা, নিরুত্তাপ স্বর। তিথি চুপ করে রইলো। এই গলা সে চার বছর ধরে দুঃস্বপ্নে শুনেছে। এই গলাই সেদিন বলেছিলো, "তোমার মতো একটা মেয়েকে বিয়ে করাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল!"

— আমি কানে কম শুনি না, মিস। প্রশ্ন একবারই করি। নাম?

এবার কণ্ঠে চাপা ধমক। তিথি কেঁপে উঠে তড়িঘড়ি গলা ভারী করে বললো,

— অ..অনন্যা তিথি।

তিথির নিঃশ্বাস আটকে এলো, দু'হাতে ব্যাগের স্ট্র্যাপ এমন করে চেপে ধরলো যে আঙুলের গাঁট সাদা হয়ে গেলো। রুদ্র ধীরে চোখ তুললো। মাস্ক, কাঁপতে থাকা হাত, সবকিছুর ওপর দিয়ে একবার ঘুরে গেলো তার দৃষ্টি। তারপর কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই আবার ফাইলে ফিরে গেলো।

— সমস্যা কী?

তিথি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। এই? শুধু এটুকু? চার বছর পর দেখা, নামটা শুনেও কোনো ভাবান্তর নেই? বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা চিনচিনে ব্যথা হলো, স্বস্তির সাথে মেশানো অভিমান। পরক্ষণেই নিজেকে ধমক দিলো, ধুর! আমি কী চাইছি? ও না চিনলেই তো ভালো!

— আপনাকে বলছি, মিস অনন্যা। কানে শুনতে পান না? সমস্যা কানে হলে এখানে আসলেন কেন?

— আ..আসলে... মানে... পিরিয়ডটা কয়েক মাস ধরে... একটু...

তিথি আমতা আমতা করতে করতে আঙুল মোচড়াতে লাগলো। কথাটা শেষ করতেই পারলো না। লজ্জায় কান গরম হয়ে গেছে। সামনে বসা লোকটা তার ডাক্তার, আর এই লোকটাই কিনা তার...!

— কথা গিলে ফেললে আমি শুনবো কী করে? স্পষ্ট করে বলুন!

রুদ্র কলম ঠুকে টেবিলে রাখলো। শব্দটা এত জোরে হলো যে তিথি চমকে ছিটকে উঠলো চেয়ারে। রুদ্রর চোয়াল শক্ত, কপালে ভাঁজ। এই রাগ তিথি চেনে।

— অনিয়মিত?

— অ..অনিয়মিত! কয়েক মাস ধরে অনিয়মিত, স্যার!

— সেটা প্রথমেই বলতে পারতেন। আমার সময় দামি, আপনার মতো পেশেন্টের জন্য নষ্ট করার মতো নয়।

কথাটা তিথির বুকে ছুরির মতো বিঁধলো। সে নিচু গলায় বললো,

— স..স্যরি।

— বিয়ে হয়েছে?

তিথির দম আটকে গেলো। এই প্রশ্নটা, ঠিক এই প্রশ্নটা ও আমাকেই করছে! সে কাশলো, চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বললো,

— জি... হয়েছিলো।

— হয়েছিলো মানে? হয়েছে, নাকি হয়নি? একটা সোজা প্রশ্নের সোজা উত্তর দিতে পারেন না?

— মানে... আছে। হয়েছে। মানে...

রুদ্র সোজা হয়ে বসে চশমা ঠেলে নাকের ওপর তুললো, ভ্রু সামান্য কুঁচকে। তার দৃষ্টিতে এবার একটা তীক্ষ্ণতা, যেটা তিথি আগে দেখেনি।

— আপনি কি কিছু লুকাচ্ছেন?

— না না না! একদমই না!

তিথি এত জোরে মাথা নাড়লো যে কারণে মাস্কটা একটু নড়ে গেলো । তাড়াহুড়ো করে টেনে ঠিক করলো সে, কিন্তু রুদ্রর চোখ এক সেকেন্ডের জন্য তার কপালের ওপর আটকে গেলো। ঘামে ভিজে যাচ্ছে তিথির হাতের তালু। রুদ্র ঠান্ডা গলায় বললো,

— স্বামী কোথায়?

তিথির চোখ ছলছল করে উঠলো। কী বলবে সে? যে মানুষটা তাকে ফেলে গেছে, সে নিজেই এখন জিজ্ঞেস করছে স্বামী কোথায়! সে কাঁপা গলায় বললো,

— জানি না।

রুদ্রর হাত থেমে গেলো। এক সেকেন্ডের জন্য তার চোখে কিছু একটা ঝিলিক দিলো, যেটা রাগ নয়। পরক্ষণেই আবার সব ঠান্ডা, আরও কঠিন।

— মাস্কটা নামান। এক্সামিনেশনের আগে মুখ দেখতে হবে।

— কী...? ক..কেন?

— কারণ আমি বলছি। নামান।

— আ..আসলে আমার সর্দি! ইনফেকশন হতে পারে, আপনাকে ছড়াতে চাই না, স্যার!

রুদ্র চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো। এক পা, দু'পা, ডেস্ক ঘুরে সোজা তিথির সামনে এসে থামলো। এত কাছে যে তিথি তার পারফিউমের গন্ধ পাচ্ছে। লম্বা শরীরটা ঝুঁকে এলো তার ওপর, দু'হাত চেয়ারের হাতলে। তিথির পিঠ চেয়ারের সাথে সেঁটে গেলো।

— আমি ডাক্তার। ইনফেকশন আমার ভয় না। কিন্তু অবাধ্য রোগী আমার একদম পছন্দ না।

ফিসফিসানির মতো নিচু, ভয়ংকর শান্ত স্বর।

— আমি তৃতীয়বার বলবো না, অনন্যা তিথি।

তিথির হাত কাঁপতে কাঁপতে মাস্কের ফিতেয় গেলো। মনে মনে বিড়বিড় করলো, না, এখন না, আল্লাহ, প্লিজ! ঠিক তখনই দরজায় জোরে টোকা পড়লো।

— স্যার, ইমার্জেন্সিতে আপনাকে এখনই ডাকছে!

রুদ্র চোখ বন্ধ করে বিরক্তিতে একটা শ্বাস ছাড়লো। সোজা হয়ে অ্যাপ্রন ঠিক করে দরজার দিকে এগোলো। যাওয়ার আগে ঘাড় না ঘুরিয়েই ঠান্ডা গলায় বললো,

— এখানেই বসুন। এক চুল নড়বেন না। ফিরে এসে যদি দেখি নেই, তাহলে...

কথাটা শেষ করলো না সে। দরজা সশব্দে বন্ধ হলো।

তিথি চেয়ারে এলিয়ে পড়লো, হাঁফাচ্ছে। দু'হাতে বুক চেপে ধরলো। এত কাছে এসেছিলো লোকটা, আর সেই গন্ধ, সেই ধমক, সবকিছু ঠিক আগের মতোই। কিন্তু সে কি সত্যিই চেনেনি? নাকি চিনে ফেলেছে আর খেলছে?

হঠাৎ তার চোখ আটকে গেলো ডেস্কের কোণে। ড্রয়ারটা সামান্য ফাঁক, আর ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে একটা পুরোনো ছবির কোণ। কৌতূহল আর ভয়, দুটোই একসাথে কাজ করলো। কাঁপা হাতে সে ছবিটা টেনে বের করলো।

পুরোনো, কোণ ছেঁড়া একটা ফটো। মাথায় ঘোমটা দেওয়া একটা মেয়ে, মুখ অর্ধেক ঢাকা, পাশে ঝাপসা এক পুরুষের ছায়া। আর ছবির পেছনে হাতে লেখা কয়েকটা শব্দ, কালি ছড়িয়ে গেছে, পড়া যায় না। শুধু শেষ দুটো শব্দ পড়া গেলো, "...আমার মায়াময়ী।"

কে এই মেয়েটা? তিথির বুক ধকধক করে উঠলো। ঘোমটার আড়ালে মুখটা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু মেয়েটার হাতে যে চুড়ি, তিথির নিজের হাতের চুড়ির সাথে হুবহু এক। সে কি...? না, না, এটা অন্য কেউ! রুদ্রর নিশ্চয়ই আর কোনো...

ঠিক তখনই পেছনে দরজা খুলে গেলো, আর ভারী জুতোর শব্দ থেমে গেলো ঠিক তার ঠিক পেছনে...

চলবে....(ইনশাআল্লাহ)
সংগ্রহীত......

সূচনা_পর্ব
ইশক রুদাদ

Good morning
24/10/2026

Good morning

 #বিরহ_বৃত্তান্ত  #পর্ব_৪৩মেহেরুন করিডোরেই বসে ছিল। ভেতরে যাওয়ার মতো শক্তি ভেতরে ছিল না তখন। মনটা ভেঙে গুঁড়ো। অদ্ভুত, অ...
19/10/2026

#বিরহ_বৃত্তান্ত
#পর্ব_৪৩
মেহেরুন করিডোরেই বসে ছিল। ভেতরে যাওয়ার মতো শক্তি ভেতরে ছিল না তখন। মনটা ভেঙে গুঁড়ো। অদ্ভুত, অন্যরকম সব চিন্তা ভাবনাগুলো মাথায় ঝামেলা পাঁকাচ্ছে। মেহেরুন ওসব থেকে মনোযোগ সরাতে চেয়েও পারছে না। অদূর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা আবারও বেড়েছে তার। মেয়েটাকে নিয়ে ভাবনায় বুঁদ হয়েছে মন। অনেক কিছু ভেবেও সুরাহা পায় না কোনো। মুন বাইরে এল তখন। মায়ের কাছে এসে বলল,

'ভেতরে চলো, মা। বাবা ডাকছে তোমায়।'

মুনকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েও পারল না। বাধ্য দু পা উঠে দাঁড়াল। মুনের হাত ধরে হাঁটা ধরল ভেতরে। কেবিনটা বড়ো। বেডটা মাঝে রাখা। ওয়াহীদের অক্সিজেন মাস্কটা নামানো হয়েছে অনেকক্ষণ আগেই। শ্বাস-প্রশ্বাস এখন স্বাভাবিক তার। শরীরের দুর্বলতাও অনেকটা কমেছে। ভেতরে মেহেরুন আসতেই মামুন সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, 'তোমরা বসো। আমি ক্যান্টিন থেকে নাস্তা নিয়ে আসছি।'

বেরিয়ে গেলেন তিনি। মুন মায়ের হাত ধরে তাকে সামনে আনল। ওয়াহীদের বেডের কাছে। ওয়াহীদ ঘাড় কাত করে চাইল ওদিক। মেহেরুনকে দেখল। দেখেই গেল নির্লিপ্ত, নির্নিমেষ চোখে। মেহেরুনের মাথা নোয়ান। চোখে মুখে ভারী সংকোচ। কেমন একটা অপ্রস্তুত ভাব। ওয়াহীদ ক্লান্ত স্বরে বলল, 'বসো, মেহেরুন।'

বেডের পাশেই একটা টুল। মেহেরুন তাতে বসল। আর মুন বসল তার বাবার পাশেই বেডের উপর। বাবার হাতের উপর হাত রেখে জিজ্ঞেস করল, 'তোমার শরীর এখন ভালো, বাবা?'

ওয়াহীদ হাসল। চোখের তারায় তৃপ্তি। মনটা নদীর মতো শান্ত, শীতল। একটা পুতুলের মতো মিষ্টি মেয়ে তাকে "বাবা" বলে ডাকছে! কী আশ্চর্য! জীবন এত সুন্দর, এত চমৎকারও হয় বুঝি? অথচ সে ভেবেছিল, জীবন এক মরীচিকা বৈ আর কিছুই না। ভেবেছিল এক রঙিন বেলুন, যার ভেতরটা শূন্য, ফাঁকা। সে ধীরে ধীরে হাত নাড়িয়ে মেয়েটার গালে এনে রাখল। বলল,

'আমি খুব ভালো আছি, মা। খুবই। এতটা ভালো আমি আগে কখনোই থাকিনি।'

বাচ্চাটার চোখ মুখ উজ্জ্বল হলো। চাঁদের মতো জ্বলজ্বল করল মুখটা। চঞ্চল গলায় বলল, 'তবে তুমি আমাদের সাথে বাড়িতে যাবে কবে? আজই?'

'আজ বোধহয় ডাক্তার আঙ্কেল আমায় ছাড়বেন না, মা। আমরা কাল যাব। খুব সকালে।'

মেয়েটা খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলে, 'সত্যি?'

'হ্যাঁ, সত্যি। এখন তুমি ওই ব্যাগটা গিয়ে খুলো তো, মা। ওখানে তোমার দাদুভাই তোমার জন্য কিছু পুতুল আনিয়েছেন, দেখো তো তোমার পছন্দ হয় কিনা।'

কিছুক্ষণ আগেই এক অপরিচিত লোক কেবিনে এসে এই প্যাকেটটা দিয়ে যায়। মামুন শিকদারই আনান এসব। নাতনিকে পেয়ে ঠিক কীভাবে আদর, যত্ন শুরু করবেন সেটাই তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। মুন দৌড়ে সোফাটার কাছে গেল। সেখানেই পুতুলগুলো রাখা। সে এক এক করে সব বের করে খেলতে আরম্ভ করল। মেহেরুন কতক্ষণ দেখল সেসব। এরপর তাকাল ওয়াহীদের দিকে। চোখে চোখ পড়ল তখুনি। ওয়াহীদ এতক্ষণ তাকেই দেখছিল। দৃষ্টি বিনিময় হতেই সে হেসে বলল,

'তুমি আগের থেকে আরো সুন্দরী হয়ে গিয়েছ, মেহেরুন। অবশ্য শুনেছি, সুখে থাকলে মেয়েদের মুখ এমনিতেই উজ্জ্বল হয়ে যায়। আমাকে ছাড়া নিশ্চয় তোমার সুখের কমতি ছিল না?'

মেহেরুন ছোট্ট, গভীর নিশ্বাস ফেলে। স্মিত সুরে বলে, 'আমার মেয়েটাকে আমি অনেক মিথ্যে বলেছি। অনেক কিছু লুকিয়েছি আমি ওর কাছে। সেসব আমি এখনো সামনে আনতে চাই না। আমি চাই না, ওর উপর আমাদের সম্পর্কের কোনো প্রভাব পড়ুক। আমি জানি, একজন সন্তানের সুষ্ঠু ভাবে বেড়ে উঠতে গেলে মা বাবা দুজনেরই প্রয়োজন পড়ে। দুজনেই তার জন্য সমান গুরুত্ব বহন করে। শুধুমাত্র সেই কথা চিন্তা করেই আমি আজ এখানে এসেছি। সেই কথা চিন্তা করেই আপনার মুখোমুখি হয়েছি আবার। ওর আপনার ভালোবাসাও প্রয়োজন খুব। আপনার যত্ন, আপনার মমতা প্রয়োজন। আর আমি জানি, এসবের কোনো কিছুর কমতিই আপনি রাখবেষ না। কারণ পৃথিবীর সমস্ত পুরুষ খারাপ হলেও কোনো বাবা কখনো খারাপ হয় না। আপনিও এখন বাবা, আমার সন্তানের বাবা। সেই খাতিরে হলেও আমি আপনাকে মেনে নিচ্ছি। নিব।'

ওয়াহীদ প্রশ্ন করল, 'মানলাম আমার মেয়ের আমার ভালোবাসা, যত্ন, মমতার প্রয়োজন, আর মেয়ের মায়ের? মেয়ের মায়ের আর এসবের প্রয়োজন নেই বুঝি? তার আমার কাছ থেকে এসব আর কিচ্ছু লাগবে না? একটুও না?'

মেহেরুন দৃষ্টি নত করল। তাকাল কোলের উপর রাখা হাতের উপর। ঠোঁটের কোণে হাসি। তাচ্ছিল্যের ওটা। বলল, 'মেয়ের মায়ের যখন এসবের সবথেকে বেশি প্রয়োজন ছিল তখন সে এসব কিচ্ছু পায়নি। এখন তার এসবের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এসব ছাড়াও দিব্যি বেঁচে থাকতে শিখেছে সে।'

'আমরা কি আবার নতুন করে সব শুরু করতে পারি না? অন্তত, অন্তত আমাদের মেয়েটার কথা ভেবে?' কাতর শোনাল ওয়াহীদের স্বর। চোখগুলো ছলছল করল। কাঙ্ক্ষিত জবাবের আশায় মনটা উদগ্রীব হলো খুব। মেহেরুন আগের মতো হাসল। তাকাল ওয়াহীদের দিকে। বলল,

'আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে আলাদা হয়েছিলাম যেখানে দাঁড়িয়ে এখন আর নতুন করে কিছু ভাবার কথা কল্পনাও করতে পারি না। আসলে ওয়াহীদ, সম্পর্ক না ভালোবাসা ছাড়াও টিকে যায় কোনো কোনো সময় তবে, সম্মান ছাড়া একেবারেই টিকতে পারে না। আমাদের মধ্যে সেই সম্মানেরই খুব অভাব। আমি কিন্তু শুধু আপনার বলিনি, বলেছি আমাদের। আপনিও যেমন আমার প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি, তেমন আমিও পারিনি। গায়ে হাত আমিও আপনার উপর তুলেছি। ওসব ভুলে যাওয়া যায় না। যাওয়ার মতো কোনো বিষয়ও না। আর সেসব মনে রেখে মুখে মেকি হাসি ঝুলিয়ে নতুন করে যদি কিছু শুরু করতে যাই, তবে সেটাকে আর সংসার বলা যাবে না। সেটাকে বড়ো জোর বলা যেতে পারে, দায়বদ্ধতা। ওটা আমার আপনার জন্য বোঝা হয়ে উঠবে। আমরা ভালো থাকতে পারব না। কষ্ট বাড়বে, বাড়বে সমস্যা। আমার মেয়েটার জীবনেও প্রভাব পড়বে ওসবের। আর আমি এমনটা চাই না, ওয়াহীদ। ওকে আমি ঠিক কতটা কষ্ট সহ্য করে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়েছি তা কেবল আমিই জানি। ওর সুখের জন্য আমি সম্পর্কটা ধরে রাখতে পারলেও এখানে আর মনোনিবেশ করতে পারব না। একবার ভেঙে যাওয়া মন আর জোড়া লাগে না, ওয়াহীদ। এ অসম্ভব।'

মেহেরুন দ্রুত ওড়নার কোণে চোখ মুছল। ওয়াহীদের তার অন্যহাতে হাত রাখল নিজের। ধরল সেটা। মেহেরুন তাকাল সেদিক। ঢোক গিলল। ওয়াহীদ ব্যাকুল সুরে বলল, 'আমার ভুল আকাশ ছোঁয়া। ক্ষমা চাওয়ার মতো সাহসটুকুও আজ আর হচ্ছে না। আমি মানসিক ভাবে ঠিক কী পরিমাণ যন্ত্রণায় ছিলাম তা তোমায় বলে বোঝাতে পারব না। এই শ্বাসকষ্টের সমস্যাটা তারই এক পরিণাম। প্রতিটা ক্ষণ, প্রতিটা মুহূর্ত আমার অনুতাপ আর অনুশোচনা বোধ আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। রাতের পর রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। চোখ বুজলেই আমি তোমায় দেখতাম, তোমার সাথে করা অন্যায়গুলো দেখতাম। ভেতরটা আমার শেষ হয়ে যাচ্ছিল একটু একটু করে। বাবা সেসময়ই আমার খোঁজ করতে করতে আমার কাছে এলেন। ডাক্তার দেখালেন নতুন করে। আমার মানসিক চিকিৎসা চলল টানা চার বছর। ওই সময়টাতে বুঝলাম, আসলে শরীরের রোগগুলো সহজে ধরা গেলেও মনের রোগগুলো সহজে ধরা যায় না। ওসব ধরা ছোঁয়ার অনেক বাইরে থাকে। নিজেকে সম্পূর্ণ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে আবার নতুন ভাবে গড়তে আমার কষ্ট হয়েছে খুব। মাঝে মাঝে খুব রাগ করে মরতেও ইচ্ছে হতো। দু একবার সেই ভুলে পাও বাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু বাবার জন্য আর পারিনি। এসব তোমাকে বলে তোমার মন গলাতে চাইছি তা ভেব না। আমি শুধু বোঝাতে চাইছি, আমি ঠিক কতটা অপরাধ বোধে পুড়েছি, কতটা যন্ত্রণায় কাটিয়েছি দিনগুলো। আমি জানি, এসবের জন্য আমিই দায়ী। সবকিছু আমার জন্যই হয়েছে। ভুল আমার, একমাত্র আমার। কিন্তু সমুদ্র সমান ভুল করেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন, তুমিও কি আজ তেমন ইরে একটু উদার হতে পারবে না, মেহেরুন? পারবে না এই অধমকে ক্ষমা করতে? শেষবারের মতো? পারবে না? বলো, পারবে না?'

ওয়াহীদের চোখের কোণ বেয়ে জল গড়ায়। গড়িয়ে পড়ে বালিশের উপর। মেহেরুন সতর্ক দৃষ্টিতে একবার মেয়ের দিকে তাকায়, সে আবার এসব দেখছে না তো? দেখছে না। বরং বাচ্চাটা তার খেলায় ব্যস্ত খুবই। মেহেরুনের দৃষ্টি ফিরিয়ে আবারও ওয়াহীদের দিকে আনল। লোকটার চোখগুলো ভেজা। ঠোঁটগুলো শুকনো খুব। মেহেরুন জিজ্ঞেস করল, 'আপনি পানি খাবেন, ওয়াহীদ?'

'খাব।'

পিপাসা পেয়েছিল আরো আগেই। তবে বুঝতে পারছিল না এতক্ষণ। মেহেরুন পাশের টেবিল থেকে পানির গ্লাস নিয়ে এসে ওয়াহীদকে খাইয়ে দিল। বলল, 'শান্ত হোন। উত্তেজিত হলে শ্বাসকষ্টটা আপনার আবারও বাড়বে।'

'ক্ষমা করবে না আমায়?'

'আমি ক্ষমা করলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে? আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া ছয়টা বছর কি ফিরে আসবে আবার?'

'তা হবে না ঠিক। তবে যে কয়টা দিন আমি বাঁচব, শান্তির নিশ্বাসটুকু নিতে পারব আবার। আমার জন্য এটুকু করতে পারবে না, মেহেরুন?'

মেহেরুন হাসল। ওয়াহীদের হাতের উপর নিজের হাতটা রেখে বলল, 'বেশ যান, আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম। এর থেকে বেশি আর কিছুই চাইবেন না কিন্তু।'

এরপর সে উঠে দাঁড়াল। মেয়ের কাছে গিয়ে বলল, 'আমরা হোটেলে যাচ্ছি। দুপুরে খাবার নিয়ে আসব আবার।'

'আব্বা তো নাস্তা আনতে গেলেন।'

'আপনারা খেয়ে নিবেন। আমরা নাহয় বাইরে খেয়ে নিব কোথাও। আসি।'

মুন তখনই যেতে চাচ্ছিল না। তবে মা বোঝাতেই সে রাজি হয়ে যায়। মা'র বড়ো বাধ্য মেয়ে সে। বাবার কপালে, গালে ভালোবাসা দিয়ে মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে যায় অতঃপর।

চলবে...
সংগ্রহীত....

 #বিরহ_বৃত্তান্ত  #পর্ব_৪২মেহেরুন অ্যাম্বুলেন্সে কল করার আগেই সেখানে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাজির হয়। সে প্রথম বুঝতে পারে না...
18/10/2026

#বিরহ_বৃত্তান্ত
#পর্ব_৪২

মেহেরুন অ্যাম্বুলেন্সে কল করার আগেই সেখানে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাজির হয়। সে প্রথম বুঝতে পারে না কিছু। এগিয়ে যেতেই বাইরে, গেটের কাছে আলভিকে দেখে। ব্যাপারটা বোধগম্য হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে তখুনি আলভিকে কিছু বলতে পারে না। ভেতরে দুজন স্টাফ প্রবেশ করে। মেহেরুনও গিয়ে দাঁড়ায় ওয়াহীদের কাছে। ওয়াহীদকে ধরে উঠে দাঁড় করানো হয়। লোকটা ততক্ষণে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। শ্বাস প্রশ্বাসের গতি স্বল্প ভীষণই। তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে নেওয়া হয়। মুন মায়ের হাত টেনে বিষন্ন সুরে জিজ্ঞেস করে,

'বাবার কী হয়েছে, মা?'

মেহেরুন এক হাতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বলে, 'শরীরটা একটু খারাপ করেছে। ঠিক হয়ে যাবে। তুমি আল্লাহর কাছে দোয়া করো, মা।'

মেয়েকে নিয়ে বাইরে এল মেহেরুন। অ্যাম্বুলেন্সে বসেই হাসপাতালে যেতে চেয়েছিল। তবে আলভি এসে অনুরোধ করল, তার সাথে তার গাড়িতে করে যাওয়ার জন্য। মেহেরুন সরাসরি বারণ করল তাকে। মেয়েকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই উঠল।

ইমার্জেন্সিতে নেওয়া হলো ওয়াহীদকে। সেখানকার ডাক্তাররা দেখলেন তাকে। অক্সিজেন থেরাপি দিলেন প্রথম এরপর ইনহেলার। পরবর্তীতে ওয়াহীদ একটু স্বাভাবিক হতেই তাকে কিছু টেস্টও দেওয়া হলো। তার খবর পেয়ে শিকদার সাহেবও হাসপাতালে এসে পৌঁছালেন। মেহেরুন তখন মেয়েকে নিয়ে বাইরে করিডোরে বসে। শিকদার সাহেবকে দেখেই সে উঠে দাঁড়াল। ছোট্ট ঢোক গিলে ইতস্তত সুরে বলল,

'বাবা, উনি ভেতরে আছেন। এখন আশঙ্কামুক্ত। টেস্ট করানো হচ্ছে।'

'হঠাৎ এই অবস্থা কেমন করে হলো?'

'উনার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তখন, ইনহেলারও সাথে আনেননি। ধীরে ধীরে অবস্থা খারাপ হওয়াতে হাসপাতালে আনা হয়।'

'তুমি ডেকেছিলে ওকে?'

প্রশ্ন শুনে মাথা নোয়াল মেহেরুন। অল্প নাড়ল সেটা। ক্ষীণ সুরে বলল, 'জি।'

'ওর শ্বাসকষ্টটা যেন কবে থেকে শুরু হয়, আমিও জানি না ঠিক। আমায়ও কিছুই বলেনি কখনো। তবে এটুকু বুঝেছি, খুব বেশি উত্তেজিত, কিংবা কষ্ট থাকলে শ্বাসকষ্টটা বাড়ে। তখন অতিরিক্ত হয়ে ওঠে। ছেলেটা অসুস্থ হয়ে যায় খুব। ডাক্তার ওকে উত্তেজিত হতে কিংবা খুব বেশি দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু ও সেসব শুনে না। বললেও মানে না। তাই আজকাল ওসব বলাও বন্ধ করে দিয়েছি। তুমি ওকে কী বলেছিলে, ডিভোর্সের ব্যাপারটা? পেপারটা ওর কাছেই আছে। ও দিতে চাচ্ছে না, তাই না? আমি বুঝিয়ে বলব ওকে, একটু সময় দাও। ওকে প্রেশার দিও না, খুব অসুস্থ হয়ে পড়বে নাহয়।'

ভদ্রলোক অনুরোধ করলেন। করুণ শোনাল তার স্বর। মেহেরুন স্তম্ভিত চোখে চেয়ে রইল কেবল। সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেওয়ার মতো সাহস করতে পারল না। কফি নিয়ে তখন সেখানে হাজির হলো আলভি। ভদ্রলোককে দেখে সালাম দিল। সালামের জবাব তিনি দিলেন বিস্মিত কন্ঠে। মেহেরুনের দিকে চেয়ে একই সুরে জিজ্ঞেস করলেন,

'তোমার হাজবেন্ডও এখানে? উনি জানেন সব?'

অপ্রস্তুত হলো মেহেরুন। ভীষণই। ইতস্তত ভঙ্গিতে একবার আলভিকে দেখল। আলভিও থতমত খেয়েছে। কালও খেয়েছিল হয়তো। মেহেরুন শ্বাস টেনে ধীর গলায় বলল, 'উনি আমার হাজবেন্ড নন, বাবা। আমি এরপর আর বিয়ে করিনি।'

কথাটুকু যেন কেমন করে বলল মেহেরুন। একটু কষ্টই হলো বোধহয়। ভদ্রলোক চমকালেন। কপাল কুঁচকালেন তখুনি। বললেন, 'তবে উনি কে?'

'আমরা কলিগ, আঙ্কেল।' এবার জবাব আলভি দিল। মুখে সুন্দর, সাবলীল হাসি তার। ভদ্রলোক লজ্জায় পড়লেন বোধহয়। মুখটা কেমন মিইয়ে গেল। নিজের পুত্রবধূকে কেউ অমন কথা বলে! তিনি সংকোচ নিয়ে বললেন,

'দুঃখিত। না বোঝে এভাবে বলা ঠিক হয়নি একদম। আমি আসলে, কাল তোমাদের ওভাবে দেখে... আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। সব না জেনে, না বুঝে অত কিছু ভাবা উচিত হয়নি একদম। ক্ষমা করবে।'

'ইট'স ওকে, বাবা। এখানে আপনার কোনো দোষ ছিল না। আমারই তখন সবকিছু বলে দেওয়া উচিত ছিল। আমি...আমি এতটাই হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম যে কিছুই আর বলতে পারিনি। মাথা কাজ করছিল না ওই মুহূর্তে।'

মেহেরুন থামতেই হঠাৎ ভদ্রলোক উত্তেজিত হলেন। চঞ্চল হলো উনার চোখের দৃষ্টি। গিয়ে থামল মেহেরুনের পাশের বাচ্চা মেয়েটার দিকে। কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তবে ও কে, মেহেরুন?'

মেহেরুন পাশ ফিরে মেয়েকে দেখল। মেয়েটাও মাথা তুলে মায়ের দিকে তাকাল তখন। মেহেরুন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, 'দাদুভাইকে বলো তুমি কে, মা।'

বাচ্চাটা চোখ পিটপিট করে মামুন শিকদারের মুখের দিকে চাইল। স্থির চোখগুলো থেমে রইল ওখানেই। মামুন শিকদারের হঠাৎ বুকে মোচড় দিল বোধহয় । চোখগুলো খুব পরিচিত, খুব চেনা মনে হলো তার। মনে হলো, ঠিক এমনই এক জোড়া চোখ তার প্রিয় ছিল, আপন ছিল খুব। মুন খুব আস্তে করে বলে উঠল, 'আমি মুন শিকদার।'

মামুন শিকদার হকচকালেন। হতভম্ব, হতবাক হয়ে তাকালেন বাচ্চাটার মুখের দিকে। আবার দেখলেন মেহেরুনকে। বললেন, 'মেহেরুন, মেহেরুন ও তোমার মেয়ে?'

মেহেরুন ক্ষীণ সুরে বলল, 'আমার আর আপনার ছেলের।'

'কী বলছ? আমাদের আগে জানাওনি কেন?'

'চেয়েছিলাম প্রথমে। কিন্তু আপনার ছেলের খোঁজ তখন পাইনি বলে আর জানাতে পারিনি।'

'কিন্তু আমি তো ছিলাম, আমাকে জানাতে পারলে না? আমার নাতনি ও, আমার বংশের আলো। তুমি কেমন করে বিষয়টা আমাদের থেকে লুকাতে পারলে, মেহেরুন? ওর উপর তো আমাদের অধিকারও ছিল। আমার ছেলের অধিকারও ছিল। অথচ আমার ছেলেটা জানতই না যে ওর একটা ফুটফুটে মেয়ে সন্তান আছে, ওর একটা রাজকন্যা আছে। তুমি কেমন করে পারলে?'

লোকটা ভেঙে পড়লেন। নাতনিকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। আদুরে গলায় বললেন, 'দাদুভাই, আমার দাদুভাই কাল তুমি কেন বলোনি যে তুমি আমার নাতনি? আমার কলিজা? কেন বললে না?'

'আমি তো নিজেই সেটা জানতাম না, দাদুভাই। আমি তো তোমাদের কাউকে কাল চিনতেই পারিনি।'

ভদ্রলোক মেহেরুনের দিকে চেয়ে বললেন, 'মেয়েটাকে কখনো আমাদের ছবি অবধি দেখাওনি? ওর বাবার ছবিও না?'

জবাব দিতে পারল না মেহেরুন। তবে চোখ, মুখ স্বাভাবিকই থাকল। অপরাধবোধ ফুটল না। ওই মুহূর্ত আর ওই পরিস্থিতিতে সে কতটা নিজের সাথে যুদ্ধ করেছে তা কেবল সেই জানে। কতবার ওয়াহীদকে কল দিতে গিয়েও পারেনি। মনের ভয়, আতঙ্ক তাকে তা করতে দেয়নি। মেয়েকে একটা সুন্দর ভবিষ্যত দিতে সবটা একাই সহ্য করেছে। ওয়াহীদকে যে ভরসা করতে পারছিল না। একটুও না। যদি আবারও, আবারও মেয়েটার সামনেই তার সাথে খারাপ ব্যবহার করত? মেয়েটার সামনেই তাকে যা তা বলে অপমান করত? মেয়েটার মনে তখন কী ভয়ংকর প্রভাবটাই পড়ত সেই চিন্তা করেই নিজেকে দমিয়দম রেখেছিল মেহেরুন। সেই কথা সে কাউকে কখনো বলেনি, বলবেও না। ওসব একান্তই তার নিজস্ব ভাবনা। কাউকে বলে কারোর দয়ার পাত্রী হতে সে চায় না।

ততক্ষণে ভেতর থেকে ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। বললেন, 'এখন গিয়ে আপনারা রোগীর সাথে দেখা করতে পারেন। উনি এখন অনেকটাই সুস্থ।'

মামুন শিকদার জিজ্ঞেস করলেন, 'টেস্টের রিপোর্ট?'

'সময় লাগবে ঘন্টা খানেক। পাওয়ার পর রিপোর্ট নিয়ে আমার কেবিনে চলে আসবেন।'

ডাক্তার সেখান থেকে চলে যেতেই তিনি নাতনির হাত ধরে তাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন। মেহেরুন বাইরেই দাঁড়িয়ে রইল। চেয়ে রইল কেবল। মলিন হাসলও। আলভি পাশে এসে দাঁড়াল। জিজ্ঞেস করল, 'আপনি ভেতরে যাবেন না?'

মেহেরুন তার দিকে তাকাল। কপালে ভাঁজ ফেলে পাল্টা প্রশ্নে জানতে চাইল, 'আপনি উনার অবস্থার কথা কী করে জানলেন?'

আমতা আমতা করল আলভি। মাথাটা চুলকে এদিক ওদিক চেয়ে বলল, 'আসলে আমি ওখানেই ছিলাম। আপনার স্বামীর অবস্থা বেগতিক দেখে সাথে সাথেই অ্যাম্বুলেন্স কল দিই।'

'আপনি ছিলেন তখন? কেন?'

এই কেন এর উত্তর আলভি কেমন করে দিবে? কেমন করে বলবে, একটা শেষ আশায় আমি ওখানে গিয়েছিলাম। বলতে পারবে না। পারলও না। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে সামান্য মিথ্যে বলল বরং, 'আসলে আমি বাবা মেয়ের সুন্দর মুহূর্ত দেখতে গিয়েছিলাম। মুন সারাক্ষণ তার বাবার কথা বলত, মন খারাপ করত। আজ সেই বাবা তার চোখের সামনে, তার কাছে, ওকে খুশি দেখে আমারও ভালো লাগছে খুব।'

ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলল মেহেরুন। বলল, 'আলভি সাহেব, এবার সত্যিই আপনার থেমে যাওয়া উচিত। আমি আপনাকে সম্মান করি, যথেষ্ট সম্মান। সেই সম্মানের মর্যাদা রাখুন। অনুরোধ আমার, আর দয়া করে আমাদের সামনে আসবেন না। আমি নতুন করে আর কোনো ঝামেলা চাই না।'

ঢোক গিলল আলভি। ভেতরের যন্ত্রণাটুকু গিলে নিল। হালকা হাসার চেষ্টা করে বলল, 'তবে কি নতুন করে শুরু করছেন সব?'

'আমার মেয়ে, আমার মেয়েটার সুখের জন্য আমি সব করব।'

আলভি আর কিছু বলতে পারল না। মৃদু হেসে চলে এল সেখান থেকে। যাওয়ার পথে ডাস্টবিনে হাতের কফিটা ফেলে গেল।

চলবে...
সংগ্রহীত....

18/10/2026

My life
My rules
So আমি যখন ঘুম থেকে উঠবো তখনি আমার good morning

আমি গরিব ভাইএসব বিলাসিতা আমার মানায় না
17/10/2026

আমি গরিব ভাই
এসব বিলাসিতা আমার মানায় না

16/10/2026

এমন একটা পরিবেশে নিজেকে আটকে রাখা বড় অন্যায়।চোখের শান্তি যেন এখানেই।

16/10/2026

মন ভালো করার মত অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা

 #বিরহ_বৃত্তান্ত  #পর্ব_৪১মেহেরুন জবাব না দিয়ে নির্নিমেষ ওয়াহীদকেই দেখে। লোকটার কেমন পাগল পাগল অবস্থা যেন। হয়তো এখনো ...
16/10/2026

#বিরহ_বৃত্তান্ত
#পর্ব_৪১

মেহেরুন জবাব না দিয়ে নির্নিমেষ ওয়াহীদকেই দেখে। লোকটার কেমন পাগল পাগল অবস্থা যেন। হয়তো এখনো সব বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না। না করারই কথা। যে পরিস্থিতিতে দুজন আলাদা হয়েছিল ওই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এমন একটা কথা কারোরই হজম হবে না। এ অস্বাভাবিক কিছু নয়। মেহেরুন ওয়াহীদকে সময় দিল। ওয়াহীদ বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস ফেলছে। কেমন করে যেন বাচ্চা মেয়েটাকেও দেখছে একটু পরপর। মুন নির্লিপ্ত। সে নিষ্পলক তার বাবাকেই দেখছে। বাবা কেন এমন করছে সে জানে না, বোঝে না। ভাবছে, হয়তো মিশনে থাকায় বাবা তার জন্মের কথা শোনেইনি। আজ শুনে সারপ্রাইজড হয়ে গিয়েছে নিশ্চয়ই। তাও ভালো! বাবাকে এই অজুহাতে একটু সারপ্রাইজ তো দেওয়া গেল।

মেয়েটা হাসল তখন। বাবার হাত ঝাঁকিয়ে বলল, 'বাবা, তুমি কি আমাকে দেখে সারপ্রাইজড হয়েছ? তুমি আমার কথা জানতে না, তাই না? আসলে তুমি মিশনে ছিলে তো তাই তোমার কাছে কোনো খবর পাঠানো যায়নি। নয়তো ওরা তো তোমাকে মিশন থেকে বের করে দিত।'

ওয়াহীদ তখন ধপ করে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল তার সামনে। দু হাতের আজলায় মেয়ের ছোট্ট, মিষ্টি মুখটা আগলে ধরে বলল, 'তুমি আমার মেয়ে? আমি বাবা তোমার? আমি? এত অন্যায়ের পরেও আল্লাহ আমায় এত বড়ো একটা উপহার দিলেন? সত্যি দিলেন? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, মা। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।'

ওয়াহীদের চোখের কোণে পানি টলমল করছে। একটুখানি সুযোগ খুঁজছে সব বের হয়ে আসার জন্য। মেয়েটা চট করে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। ওয়াহীদের মনে হলো, বুকের ভেতর থেকে খুব ভারী কিছু একটা সরে গেল যেন। বুকটা এত হালকা, এত শান্ত লাগল! এত সুখ সুখ অনুভূতি তার আগে হয়নি। আগে কখনো বুকের ভেতরে এতটা প্রশান্তির স্রোত বয়নি। কখনোই এত শান্তি শান্তি অনুভূতি হয়নি মনে। কখনোই না। তবে আজ কেন? কেন? শুধুমাত্র এই বাচ্চাটা তার মেয়ে বলে? সে তার বাবা বলে? বাবা হওয়ার অনুভূতির এত চমৎকার? এত দারুণ? অথচ, অথচ সেই এই অসাধারণ অনুভূতি থেকে ছয় ছয়টা বছর দূরে ছিল! অনেক দূরে।

দু হাতে মেয়েকে শক্ত করে চেপে ধরে হুঁ হুঁ করে কাঁদতে আরম্ভ করল ওয়াহীদ। মেহেরুন চমকাল, থমকাল। ওয়াহীদকে যে কখনো এভাবে কাঁদতে দেখেনি। এভাবে, বাচ্চাদের মতো। ওয়াহীদ কেঁদেই চলছে। চোখ ঝাঁপিয়ে বেরিয়ে আসা উষ্ণ জলরাশিগুলো আজ সবাইকে জানান দিচ্ছে তার ভেতরে দুঃখের পরিমাণ। জানান দিচ্ছে, নিজের অন্যায়ের জন্য আজ সে ঠিক কতটা অনুতপ্ত, কতটা অসহায়। ভেতরটা ঠিক তার কতটা পুড়ছে। বাবার এমন কান্না মুন সহ্য করতে পারছে না। বাবাকে ছেড়ে তুলতুলে দু হাতে তার চোখ মুখ মুছিয়ে দিতে দিতে বলল,

'কাঁদছ কেন, বাবা? আমি তো এখানেই আছি। তোমার কাছে। কেঁদো না। তুমি কাঁদলে আমারও যে খুব কান্না পাবে।' বলেই সে ঠোঁট উল্টাল। ওয়াহীদ মেয়ের মুখে অজস্র চুমু এঁকে বলল,

'তুমি বাবার সাথে এতদিন কেন যোগাযোগ করোনি, মা? কেন বাবাকে তোমার কথা জানাওনি? বাবা তবে সব ছেড়ে তোমার কাছে ছুটে আসতাম।'

মুন নাক টেনে বলল, 'তাহলে তো তোমার মিশনটা কমপ্লিট হতো না। তাই তোমাকে কেউ আমার কথা জানায়নি।'

মিশনের ব্যাপারটা যে কেবলই একটা বাহানা তা ওয়াহীদ বেশ বুঝতে পারল। উঠে দাঁড়াল সে। তাকাল মেহেরুনের দিকে। হতভম্ব, হতবাক গলায় জিজ্ঞেস করল,

'আমায় এভাবে শাস্তি দিলে, মেহেরুন? এভাবে? এই ছয় বছরে একটাবারের জন্যও তোমার মনে হলো না, আমার মেয়ের কথা, আমার সন্তানের কথা আমারও জানা উচিত? মনে হলো না তোমার? ওইটুকু অধিকারও কি আমার ছিল না? আমার রক্তকে, আমার সম্পদকে এভাবে আমার থেকে আড়াল করে রাখতে তুমি কীভাবে পারলে মেহেরুন? কীভাবে? একটুও মায়া হলো না বুঝি আমার উপর? একটুও না?'

কাতর শোনাল ওয়াহীদের গলার স্বর। আশেপাশের মানুষগুলো তাদের দেখছে। অপ্রস্তুত মেহেরুন। খুবই অপ্রস্তুত। মাথাটা নামিয়ে নিল। ওয়াহীদের কান্না থামলেও চোখগুলো এখনো ভেজা, রক্তিম। ঠোঁট দুটোতে অল্প ফাঁক। কাঁপছে সেগুলো। মেহেরুন জবাব দিতে সময় নিল অনেকটাই। এর আগে মেয়েকে সোফায় বসিয়ে দিয়ে ওয়াহীদকে নিয়ে একপাশে কর্ণারে দাঁড়াল। অত কথা মেয়ের সামনে বলা যায় না যে। এরপর শুরু করল ক্ষীণ সুরে,

'যখন মুনের কথা প্রথম জানতে পেরেছিলাম তখন আমার বাবা আপনার নাম্বারে কল দিয়েছিলেন। সেটা বন্ধ ছিল তখন। না পেয়ে আপনার বাবাকে কল দেওয়া হয়, আপনার খোঁজ নেওয়া হয়। আপনার বাবাও যখন আপনার কোনো খোঁজ দিতে পারছিলেন না তখন আমি নিজ থেকেই বাবাকে এই বিষয়টা আপনাদের জানাতে বারণ করি। আমার মনে হয়েছে, আমার বা আমার মেয়ের কোনো গুরুত্ব আপনার জীবনে নেই। বরং আমরা আলাদা থাকলেই ভালো থাকব। একসাথে থেকে দিনের পর দিন মা বাবার ঝগড়া ঝামেলা দেখে মানসিক অশান্তির মাঝে বড়ো হওয়ার চেয়ে মা বাবার সাথে আলাদা থেকে, সম্মানজনক সম্পর্ক দেখে বড়ো হওয়াটা অধিক ভালো। এতে বাচ্চাদের মন কিংবা মস্তিষ্কের উপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়ে না।'

ওয়াহীদ কপাল কুঁচকে বলল, 'এটাই কারণ? এটা? এর জন্য তুমি একজন বাবাকে তার বাবা হওয়ার সুসংবাদটা পর্যন্ত দিলে না? ছয়টা বছরে তার মেয়েটার সাথে একটাবারের জন্যও যোগাযোগ করালে না? শুধু এই কারণে? কোন বাবা-মা, কোনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া ঝামেলা হয় না, মেহেরুন? তুমি বলতে পারবে, কোন সংসারে জীবনে কখনোই কোনো অশান্তি হয়নি? মানছি আমি বাড়াবাড়িটা বেশিই করে ফেলেছিলাম, মানছি আমার অন্যায়টা ক্ষমার অযোগ্য ছিল, তাই বলে তুমি আমায় এভাবে শাস্তি দিবে? এত নিষ্ঠুর, নির্দয় তুমি কেমন করে হতে পারলে, মেহেরুন? কেমন করে?'

ওয়াহীদ অস্থির হয়ে উঠল খুব। ভীষণই। দু হাত নিজের চুলগুলো টেনে ধরল। বড়ো বড়ো নিঃশ্বাস ফেলল কয়েকবার। সে মানতেই পারছে না। কষ্ট হচ্ছে তার। খুব কষ্ট হচ্ছে। সে বাবা হয়েছিল, তার একটা ছোট্ট পুতুল, একটা ছোট্ট রাজকন্যা হয়েছিল। সেই রাজকন্যার আজ ছয় বছর, কতগুলো দিন, কতগুলো মাস! কেমন করে পারল মেহেরুন? কেমন করে? তার মেয়ে পৃথিবীতে আসার পর সে মেয়েকে ছুঁতে পারেনি, তার ছোট্ট শরীরটাকে খুব যত্নে, খুব আদরে বড়ো করতে পারেনি। কত কিছু সে দেখেনি, কত অনুভূতি সে পায়নি! তার একটা ভুল, একটা অন্যায়, এভাবে তার থেকে সব কেড়ে নিল? এভাবে?

ওয়াহীদ আর না পেরে সামনের দেয়ালটাতে জোরে ঘুষি মেরে বসে। মেহেরুন চমকায়। আশপাশের মানুষগুলো ভড়কে যায় সব। মেহেরুন দ্রুত সামলাতে চায় তাকে, 'কী করছেন? মেয়েটা দেখছে। প্লিজ শান্ত হোন।'

ওয়াহীদ আবারও ভেঙে পড়ে। বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে উঠে বলে, 'আমি কেমন করে শান্ত হব, মেহেরুন? কেমন করে? তোমার গর্ভে যখন আমার সন্তান ছিল তখন তোমার ওই রূপ, ওই সৌন্দর্য আমি দেখতে পারিনি। মেনে নিলাম না হয়। এরপর মেয়েটা যখন হলো। ওর ছোট্ট শরীরটাকে সবার আগে আমার কোলে দেওয়া হলো না। আমাকে জানোনাই হলো না, আমি যে বাবা হলাম। ওর হাত পা নাড়ানো, ওর কান্না, আদু আদু বুলি, প্রথম বাবা ডাকা, প্রথম হাঁটা, বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া, এসব কিছুই যে আমার দেখা হলো না, মেহেরুন। কোনো অনুভূতিই যে আমার পাওয়া হলো না। অথচ, অথচ এসব কিছু আমার পাওয়ার কথা ছিল, সবকিছুই আমার হওয়ার কথা ছিল। আমি এখন কী করে শান্ত হব, বলো? কী করে?'

হাঁপাতে আরম্ভ করল ওয়াহীদ। শ্বাসকষ্ট রোগীদের মতো শ্বাস নিতে আরম্ভ করল। মেহেরুন ঘাবড়াল খুব। বলল, 'শান্ত হোন, ওয়াহীদ। এমন করছেন কেন?'

ওয়াহীদ ঝটপট তার প্যান্ট আর শার্টের পকেট হাতায়। কিছু একটা খুঁজছে সে। মেহেরুন বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'কী খুঁজছেন?'

কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। শ্বাসে টান পড়ছে। তাও কোনোরকম বলল, 'আমার ইনহেলার! আমার ইনহেলারটা কোথায়?'

'আপনার কি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে? ইনহেলার লাগবে?'

ওয়াহীদ ঢোক গিলে মাথা ঝাঁকাল। মেহেরুন ভয় পেল এবার। সে এখানে ইনহেলার কোথায় পাবে? লোকটার কবে থেকে এই সমস্যা? আগে তো ছিল না। সে অসহায় হয়ে এদিক ওদিক চাইল। বাবার এমন অবস্থা দেখে মুনও ছুটে এল সেখানে। অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'বাবার কী হয়েছে, মা? বাবা অমন করছে কেন?'

'কিছু হয়নি, মা। বাবা ঠিক আছে। একদম ঠিক আছে। তুমি বাবাকে নিয়ে গিয়ে ওখানে বসাও।'

মুন বাবার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে সোফায় বসাল। তার বুকটা হাত দিয়ে ঘঁষতে ঘঁষতে বলল, 'বাবা, তোমার কি শ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছে?'

ওয়াহীদ ছলছল চোখে মেয়েটার মুখের দিকে তাকায়। কান্না পায়, তার খুব কান্না পায়। নাক টেনে, মাথা নেড়ে বোঝায়, তার খুব কষ্ট হচ্ছে।

মেহেরুন ছুটে রিসেপশনে গিয়ে একটা ইনহেলারের ব্যবস্থা করতে বলে। ওই মুহূর্তে হোটেলে ইনহেলার নেই। না থাকারই কথা। একজন স্টাফ বাইরে থেকে আনতে যায়। কিন্তু অত সময় বোধহয় হবে না। ওয়াহীদের অবস্থা বেগতিক। লোকটার শ্বাসকষ্টের যে এত ভয়াবহ দশা তা মেহেরুনের জানা ছিল না। সে আতঙ্কিত হলো খুব। চারপাশে জড়ো হলো অনেকেই। একেক জন একেক ধরণের পরামর্শ দিতে থাকল। তবুও কেউ এগিয়ে এসে তাদের একটু সাহায্য করল না। কোনো উপায় না পেয়ে মেহেরুন অ্যাম্বুলেন্স ডাকল একটা। এখনই ওয়াহীদকে হাসপাতালে নিতে না পারলে খারাপ কিছু একটাও হয়ে যেতে পারে।

চলবে...
সংগ্রহীত.....

Address

Bangladesh
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Broken Heart posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category