Fateha lifestyle

Fateha lifestyle আসসালামু আলাইকুম।🌹
আমার এই ছোট্ট পেজটা ফলো দিবেন প্লিজ...!! ✍️

->কেউ যদি কোনো গল্প বা কোনো অনুভূতি শেয়ার করতে চান তাহলে ইনবক্সে এ মেসেজ করুন..🙂🌸

আমি একজন ছেলে! বয়স আমার ৩২ বিয়ে করেছি দুই মাস হচ্ছে,আমার স্ত্রীর বয়স ১৮,আমি ৯ বছর প্রবাসে ছিলাম দুবাই। বাড়ি এসে পারিব...
02/04/2026

আমি একজন ছেলে! বয়স আমার ৩২ বিয়ে করেছি দুই মাস হচ্ছে,আমার স্ত্রীর বয়স ১৮,আমি ৯ বছর প্রবাসে ছিলাম দুবাই। বাড়ি এসে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে আমাকে ঘেষতে দিত না।

সব সময় কান্না/কাটি করতো রাগ করতো খা'রা'প ভাবে চিল্লা/চিল্লি করত, আমিও ছোট মানুষ হিসেবে যথেষ্ট বুঝতাম। তার হাত ধরাও যাবে না এরকম অবস্থা।
পরে একদিন কথায় কথায় বের হয়ে যেতে চায়,তার নাকি বয়ফ্রেন্ড আছে,৬ মাসে প্রেমের সম্পর্ক। সেই ছেলেটির সাথে তার অনেক গভীর সম্পর্ক ছিল,যেহেতু একই এলাকায় বাড়ি,আমার স্ত্রী আমাকে নিজেই বলেছে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে তার শা'রী'রি'ক সম্পর্ক হয়েছে ১০/১২ বার,, এগুলো জানার পর আমি একদম অবাক হয়ে গিয়েছি,বিয়ের আগে কেন বললো নি আমাকে,আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কাউকে পছন্দ আছে?? তখন আমার স্ত্রী বলে না নেই।

এগুলো জানার পর আমি মা'ন'সি'ক' ভাবে ভে'ঙে পড়েছি
৯ বছর দেশের বাইরে আছি,একবারও দেখে আসেনি কষ্ট করে কাজ করেছি ইনকাম করেছি বাড়ি করলাম,আর আমার জীবন সঙ্গী এরকম হবে আমি কখনো ভাবিনি,আমি কখনো একটা প্রেমও করিনি।
আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা!
সমাজের ভ'য় আমাকে এমন ভাবে আঁ'ক'ড়ে ধরেছে, আমার ডি"ভোর্স শুনতে ভ'য় লাগে অথচ আজকে আমার এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হলো।
আমি এগুলা বিষয়ে এখনো আমার বাবা-মা
বা তার বাবা-মা কাউকে জানাইনি,, আমি মাত্র তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছি।

আমি কি করবো আপনার আমাকে একটু পরামর্শ দিন।

প্রবাসে স্বামী, আর দেশে একা স্ত্রী, এই ফাঁকটাই কাজে লাগিয়েছে এক ল*ম্পট। বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলে নম্বর জোগাড়, ধীর...
31/03/2026

প্রবাসে স্বামী, আর দেশে একা স্ত্রী, এই ফাঁকটাই কাজে লাগিয়েছে এক ল*ম্পট। বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলে নম্বর জোগাড়, ধীরে ধীরে কথা, তারপর চাপ, তারপর ভয়। বিষয়টা হঠাৎ হয়নি, একেবারে ধাপে ধাপে সাজানো।

একই এলাকার সম্পর্কে ভাতিজা হাসান, বিদেশে যাওয়ার কথা বলে ওই গৃহবধূর নম্বর জোগাড় করে। শুরুতে সাধারণ আলাপ, কিন্তু খুব দ্রুতই কথার রং বদলায়। ইমো আর ভিডিও কলে সে নিয়মিত বিরক্ত করতে থাকে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি। ছোট দুই সন্তানকে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হবে, এমনকি মে*রে ফেলার ভয়ও দেখানো হয়। এই ভয়েই একসময় ওই নারীকে ভিডিও কলে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করা হয়। আর সেই সুযোগে স্ক্রিনশট, ভিডিও, সবকিছু জমা করে রাখে হাসান।

এখানেই শেষ না। এই জাল ফেলে সে বিদেশে চলে যায়, কিন্তু ব্ল্যা*কমে^ইল থামে না। দূর থেকেই ছবিগুলো দেখিয়ে চাপ, ভয়, মানসিক নি*র্যাতন চলতেই থাকে। একসময় দেশে ফিরে এসে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। তখন ওই নারী না বলেন, নম্বর ব্লক করেন। না মানার শাস্তিটা ছিল আরও নোংরা। ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সে ছবিগুলো ছড়িয়ে দেয়। মুহূর্তেই সেগুলো ছড়িয়ে পড়ে, আর শুরু হয় সামাজিক অপমান। একজন মা, দুই সন্তানের সামনে, পুরো সমাজের সামনে ভেঙে পড়েন।

এরপর যা হয়, সেটা আরও কষ্টদায়ক। অভিযুক্ত সব অস্বীকার করে। আর তার পরিবার, এমনকি কিছু প্রভাবশালী মানুষ, উল্টো ওই নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বলা হয়, তার আগেও নাকি সম্পর্ক ছিল। যেন এই অপবাদ দিলেই অপরাধটা হালকা হয়ে যায়।

একটা প্রশ্ন সোজা করে করা দরকার, সন্তানের প্রাণের ভয় দেখিয়ে কাউকে যা করানো হয়, সেটা কি তার ইচ্ছা?
না, এটা জোর। এটা অপরাধ।

এই নারী এখন দুই সন্তান নিয়ে ভয় আর লজ্জার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের পরিবার থেকেও সহায়তা পাননি। তবুও তিনি থামেননি। লোকলজ্জা পাশ কাটিয়ে বিচার চাইতে বের হয়েছেন।

এই ঘটনাটি আমাদের সমাজের এক ভয়ংকর বাস্তবতার প্রতিফলন। ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় এবং এলাকা নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হলেও, এমন লম্পটদের রুখে দিতে আমাদের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। আমরা চাই প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করুক এবং ডিজিটাল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুক।

এই ঘটনাটা আমাদের একটা কঠিন সত্য দেখায়। প্রযুক্তি এখন শুধু সুবিধা না, এটা ভুল মানুষের হাতে ভয়ংকর অস্ত্র। আর আমরা, সমাজ হিসেবে, এখনও ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। একজন প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবার যদি এমন অসুরক্ষিত হয়ে পড়ে, তাহলে প্রশ্নটা আমাদের সবার দিকে আসে।

আমরা আসলে কাদের পাশে দাঁড়াই? অপরাধীর, না ভুক্তভোগীর?

এখন দরকার পরিষ্কার তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা, আর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সহানুভূতি দেখিয়ে থেমে গেলে হবে না।

আপনি কি চান, এমন ঘটনার সঠিক বিচার হোক?

১১ বছরের  আফরিন মাদ্রাসা লেখাপড়া করত একই এলাকায় একই কলোনিতে ভাড়ায় থাকতো ফয়সাল ।তারপর তাকে কৌশলে অপহরণ করে নির্জন স্...
30/03/2026

১১ বছরের আফরিন মাদ্রাসা লেখাপড়া করত একই এলাকায় একই কলোনিতে ভাড়ায় থাকতো ফয়সাল ।তারপর তাকে কৌশলে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় ঘা/ত/ক ফয়সাল।সেখানে তাকে ধ/র্ষ/ণে/র পর চোখ উ'প'রে শ্বা'সরোধ করে হ/ত্যা করে তুলার বস্তার মধ্যে তাকে লুকিয়ে রাখে , ম/রা দে'হ প*চ*ন শুরু করলে, নিখোঁজ হওয়ার ৩দিন পর একটি গোডাউনের ভিতরে তার লা/শ পাওয়া যায়।

অপরিচিত কারো সাথে শিশুদের কখনোই একা যেতে দেবেন না—even যদি পরিচিত মুখ মনে হয় তবুও সতর্ক থাকুন।

অভিযুক্ত খু/নি ধ/র্ষ/ক ফয়সাল এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ফয়সালকে ধ”রি”য়ে দিতে পারলে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকন্দন ইউনিয়নের আমান বাজার এলাকায়।

অসুস্থ থাকার কারনে অনলাইনে আসতে পারিনাই, এই দিকে আমার পেজে লালবাতি জ্বলে উঠছে,...
30/03/2026

অসুস্থ থাকার কারনে অনলাইনে আসতে পারিনাই, এই দিকে আমার পেজে লালবাতি জ্বলে উঠছে,...

24/03/2026

সবাই সবার জন্য দোয়া করি..

#ভাইরাল

ট্রেনে বসে স্বামীর ছবির দিকে তাকাতেই চোখে পানি আসে লতার। সেই মুহূর্তে পাশের সিটের ছেলেটা ঘুমের মধ্যে লতার ঘাড়ে মাথা রাখল...
24/03/2026

ট্রেনে বসে স্বামীর ছবির দিকে তাকাতেই চোখে পানি আসে লতার। সেই মুহূর্তে পাশের সিটের ছেলেটা ঘুমের মধ্যে লতার ঘাড়ে মাথা রাখলো। লতা বেশ বিরক্ত। মনে হচ্ছে লোকটা ইচ্ছে করেই এমনটা করছে।
লতা ছেলেটাকে ধাক্কা দিয়ে বললো,
- দয়া করে বসতে দিয়েছি বলে এখন একদম গায়ে শুয়ে যাচ্ছেন কেন?

ছেলেটা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে তাকালো। চোখের দিকে তাকালে অবশ্য মনে হয় সত্যি সত্যি তার চোখ ভর্তি ঘুম। ছেলেটা বললো,
- স্যরি, সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তাই ট্রেনের ধাক্কায় ধাক্কায় তন্দ্রা লেগে গেছে।

- আপনার নামটা যেন কি?

- রাফসান মাহমুদ।

- মাহমুদ সাহেব, আপনি যদি নিজেকে খুব বেশি চালাক মনে করেন তাহলে কিন্তু ভুল করবেন। কারণ ছেলেদের এসব অভ্যাস আমি জানি বলে একাই দুই সিট নিয়েছি। কিন্তু কেন যে তখন আপনাকে দয়া করে একটা সিট দান করতে গেলাম। প্রতিদানে এখন আমার মাথা চিবিয়ে খাচ্ছেন।

ছেলেটা এই কথা যেন শুনতেই পায়নি। বরং লতার হাতের মোবাইলের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বললো,
- ছেলেটা কে?

- কোন ছেলে?

- মোবাইলের গ্যালারিতে যার ছবির দিকে তাকিয়ে আপনার চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে।

- আমার হাসবেন্ড।

- কবে মারা গেছেন?

- মারা যাবে কেন? আশ্চর্য! আমি কি বলেছি মারা গেছে?

- তাহলে এভাবে মরা কান্নার দরকার কি?

- আপনি কিন্তু আপনার লিমিট ক্রস করছেন। আর একবার ফালতু কথা বললে আমি আপনাকে সিট থেকে উঠিয়ে দিতে বাধ্য হবো।

- আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন যে, কিছুক্ষণ আগেই আমি এই সিটের ভাড়া আপনাকে পরিশোধ করেছি।

- হা হা হা সমস্যা নেই টাকা ফেরত দিয়ে দেবো।

- আচ্ছা ঠিক আছে। আর কোনো কথা বলবো না।

ছেলেটা সত্যি সত্যি চুপ করে রইল। লতা কিছুক্ষণ বাহিরে তাকিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ আগে উত্তরার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সে যখন ট্রেনে উঠে বসে তার কিছুক্ষণ পরেই মাহমুদ এসে তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল,

- কেমন আছেন?

লতা অবাক হয়ে বললো,
- কে আপনি?

- আমাকে আপনি চিনবেন না। আসলে আমার খুব জরুরি কাজে চট্টগ্রামে যেতে হবে। আমি ট্রেনে সিট না পেয়েও উঠলাম। যেভাবে হোক আমাকে এই ট্রেনে চট্টগ্রাম যেতে হবে।

- তো এসব আমাকে কেন বলছেন? আমি তো এই ট্রেনের কেউ নই।

- আমার মনে হচ্ছে আপনার পাশের সিটে কেউ নেই। নিশ্চয়ই আপনি একা দুটো টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

- কীভাবে বুঝলেন?

- খুব স্বাভাবিক, আপনার ব্যাগপত্র এক সিটে রেখেছেন আর নিজে একটাতে বসেছেন। বসার ভঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে দুটো সিটই আপনার। কিন্তু মানুষ আপনি একজন।

- আপনার ধারণা সম্পুর্ণ সত্যি। আপনার বুদ্ধি বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। কিন্তু আপনাকে সেই বুদ্ধির পুরষ্কার হিসেবে আমি আমার সিটে বসতে দিতে পারবো না। স্যরি।

- আপনি কীভাবে বুঝলেন আমি আপনার পাশে বসতে চাই? মেয়ে মানুষ বুদ্ধিতে এতো কাঁচা কেন?

- গায়ে পরা স্বভাব দেখে বুঝতে পারছি।

- দেখুন আমার বোন খুবই অসুস্থ। তাই আমাকে আজ যেভাবেই হোক চট্টগ্রাম যেতে হবে। ট্রেনে তো উঠেছি কিন্তু কোনো সিট ফাঁকা নেই। আমি আপনার এক সিটের ভাড়া আপনাকে পরিশোধ করে দেবো। প্লিজ না করবেন না।

বলাই বাহুল্য, আশেপাশের কিছু যাত্রীর অনুরোধে, এবং মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, অনেক তর্কের পরে লতা তার পাশের সিটটা তাকে দিল। কারণ এতটুকু কথা বলে তাকে ফাজিল মনে হয়েছে ঠিকই কিন্তু খারাপ বলে মনে হচ্ছিল না।

কিন্তু একটু আগে ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ার কারণ বেশ বিরক্ত হয়ে গেছে লতা। ট্রেনের এক স্টাফ কফি নিয়ে এসেছে। মাহমুদ লতার দিকে তাকিয়ে বললো,

- কফি খাবেন?

অনিচ্ছা সত্ত্বেও লতা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো। তারপর কফি হাতে নিয়ে দুজনেই চুপচাপ কফি খেতে লাগলো। কফি খেতে খেতে লতা বললো,

- আপনার বোন কি চট্টগ্রামে থাকে?

- না ঢাকাতেই।

- তাহলে সে চট্টগ্রামে কি বেড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছে নাকি অন্য কিছু।

- আমার বোন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছে এখন।

- তাহলে বললেন যে বোন অসুস্থ তাই আপনাকে চট্টগ্রামে যেতেই হবে।

- হ্যাঁ বোনের জন্যই যাবো। আমার বোনের অবস্থা ভালো না। যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু তার একটা শেষ ইচ্ছে আছে। আমিও তাকে কথা দিয়েছি।

- কি কথা দিয়েছেন?

- বলেছি যেভাবেই হোক তার ওই ইচ্ছেটা আমি পূরণ করবো। কিছুদিন আগে আমার বোন সুইসাইড করার চেষ্টা করেছে। বিষাক্ত একটা কেমিক্যাল খেয়েছে যেন মৃত্যু হয়। কেমিক্যাল কোত্থেকে যোগাড় করেছে জানি না। এখন তার পেটের মধ্যে পঁচন ধরতে শুরু করেছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার। কিন্তু সুস্থ হবার সম্ভাবনা মাত্র টেন পারসেন্ট।

ছেলেটার সঙ্গে এতক্ষন ফাজলামো জাতীয় কথা হলেও এখন মোটামুটি করুণা হচ্ছে লতার। খুব ভয়ঙ্কর একটা ঘটনা কত স্বাভাবিক ভাবে বর্ননা করছে মাহমুদ নামের এই ছেলে।

লতা ছেলেটাকে বললো,
- আপনার বোনের বিয়ে হয়েছে?

- না, বিয়ে হয়নি।

- বোনের শেষ ইচ্ছে রাখার জন্য আরও আগে কেন চট্টগ্রামে গেলেন না? তাছাড়া কি এমন ইচ্ছে যেটা চট্টগ্রামে গিয়ে পূরণ করতে হবে।

- ট্রেন থেকে নামার সময় আপনাকে বলবো। আপাতত ওর প্রসঙ্গটা বাদ দেন।

- বোনের জন্য কষ্ট হচ্ছে তাই না?

- হুম। মা-বাবা কেউ নেই, একমাত্র বোন সে-ও চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে। কষ্ট তো হবেই।

- আপনি বিয়ে করেননি?

- না।

লতা আর কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছে না। সান্ত্বনা দিবে সেরকম পরিস্থিতি নেই। অপরিচিত একটা যুবক ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়াও কেমন বেমানান।
চুপচাপ বসে থেকে কিছুক্ষণ পর বললো,
- আপনার বোনের চিকিৎসার জন্য কত টাকার দরকার?

- অনেক টাকা।

- যদি আমি টাকা দিতে চাই তাহলে আপনার কি সেই টাকায় তার চিকিৎসা করাতে পারবেন?

- না, প্রথমত টাকায় কোনো কাজ হবে না। তাহলে আমি আগেই টাকা ব্যবস্থা করতাম। তাছাড়া এই স্বল্প পরিচয়ে আপনি কেন টাকার প্রসঙ্গে চলে গেলেন বুঝতে পারছি না।

- দেখুন টাকাটা যদি আমি দেই তাহলে অবশ্যই ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে দেবো। আমার বাবা সারাজীবন শুধু টাকা আয় করেছেন আর আমি খরচ করেছি।

- এতো টাকা আপনার তাহলে আমার কাছ থেকে টিকিটের টাকা নিলেন কেন? আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমান আছে। বিমানে নিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতো ট্রেনে কেন?

- টিকেটের টাকা, সেটা তো আপনি জোর করে দিলেন। আর বিমানে চড়তে আমার ভালো লাগে না। সময় কম লাগে ঠিকই। কিন্তু…

-কিন্তু কি?

-নাহ কিছু না।

-রাগ করছেন? আমি তো ঠাট্টা করলাম। আপনি চট্টগ্রামে কেন যাচ্ছেন?

- খুঁজতে।

- আপনার হাসবেন্ডকে খুঁজতে যাচ্ছেন?

- হ্যাঁ। আপনি কীভাবে বুঝলেন?

- চোখ দেখে। যেখানে ভালোবাসা থাকে না সেখানে খুঁজে বের করে কি লাভ বলেন? তারচেয়ে আপনার উচিৎ যে ছেড়ে চলে গেছে তাকে তার মতো থাকতে দিয়ে তার উপকার করা।

- সে চলে যাক আপত্তি নেই। আমি তার সামনে একটা বার মুখোমুখি দাঁড়াতে চাই। আমি চাইলে তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশ করতে পারি। সামান্য কিছু টাকা খরচ করলে তাকে দুদিনের মধ্যে আমি চোখের সামনে পাবো৷ কিন্তু আমি সেটা চাই না।

মাহমুদ আর কিছু বললো না। সিট থেকে উঠে বগি থেকে বের হয়ে গেল। লতা ভাবলো হয়তো সে ওয়াশরুমে গেছে। কিন্তু রাফসান মাহমুদের মনের মধ্যে যে খুব নোংরা নিকৃষ্ট একটা পরিকল্পনা আছে সেটা মাহমুদ ছাড়া কেউ জানে না।
মাহমুদ কি করতে ট্রেনে উঠেছে আর তার মনের মধ্যে কি আছে সেটা যদি লতা জানতো তাহলে সে এতক্ষণে কি করতো সেটা ধারণার বাইরে।

ট্রেনের ওয়াশরুমের সামনে ফাঁকা জায়গায় এসে মাহমুদ তার পরিচিত একটা নাম্বার কল দিল।
সবকিছু ঠিক আছে কিনা আরেকবার নিশ্চিত হয়ে মোবাইল কল কেটে দিয়ে সিটে চলে গেল।

★★

ফেনি স্টেশন পার হয়ে লতা ঘুমিয়ে গেল। লতা ঘুমিয়ে যাবার পরে বেশ সুবিধা হলো মাহমুদের। পকেট থেকে কাগজ-কলম বের করে লতার জন্য একটা চিরকুট লিখে শেষ করলো। চিরকুট নয় চিঠি। পরবর্তী স্টেশন চট্টগ্রাম। ট্রেন চট্টগ্রাম পৌঁছানোর আগেই তাকে খুব সাবধানে কাজটা করতে হবে। লতার সঙ্গে আর দেখা হবে কি-না বোঝা যাচ্ছে না।
ট্রেনের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা রয়েছে সেটা শেষ করে অনেক আগেই রাফসান নেমে যেতে পারতো। কিন্তু তাকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। বাকি কাজটা করতে হবে চট্টগ্রামে। তাই ট্রেন থেকে নামার আগ মুহূর্তে সে ট্রেনের কাজটা শেষ করবে।

চিরকুট লিখে আবারও ওয়াশরুমে গেল মাহমুদ। তার হাতে একটা ছোট্ট শিশিতে বিষাক্ত কেমিক্যাল। খুব ভয়ঙ্কর এই বিষ৷ সিরিঞ্জ ভর্তি কেমিক্যাল বিষ ভর্তি করে সেটা সাবধানে পকেটে ভরে নিল। আরেকবার পাশের বগিতে গিয়ে শিকারকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে তাকিয়ে থাকে। তারপর আবার লতার পাশে গিয়ে বসে রাফসান৷

সীতাকুন্ড স্টেশন থ্রু পাস হবার পরে মাহমুদ লতাকে ঘুম থেকে জাগ্রত করলো। লতা নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে বললো,

- চট্টগ্রাম চলে এসেছে?

- হুম কাছাকাছি। আপনি যদি ওয়াশরুমে যেতে চান তাই আগেই ডেকে তুললাম।

- আচ্ছা।

আরও খানিকক্ষণ কাটলো। এরমধ্যে মাহমুদ উঠে গেল। তারপর মিনিট দশেক পরে আবার ফিরে এসে বসে। একটু পরে পকেট থেকে চিরকুট বের করে লতার হাতে দিয়ে বললো,

- ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট পরে আপনি এটা পড়া শুরু করবেন।

লতা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল। মাহমুদ তার ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে লতার গাল স্পর্শ করে বললো,

- যদি চান তাহলে আপনার সঙ্গে আবারও দেখা হবে। আজকের এই দেখা কাকতালীয় নয় এটা আমার অনেকদিনের পরিকল্পনা। আপনি আমাকে না চিনলেও আমি আপনাকে চিনি। নিজের প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে আমি যোগাযোগ করবো। সামনে আপনার ভয়ঙ্কর বিপদ। চিরকুটে সব লেখা আছে। সাবধানে থাকবেন।

মাহমুদ চলে গেল। তার কথাবার্তা কিছুই লতার মাথায় ঢুকলো না। আগ্রহ মেটাতে লতা অপেক্ষা না করে তাড়াতাড়ি চিরকুট পড়তে লাগলো।

ম্যাডাম,
আমি একজন কন্ট্রাক্ট কিলার। টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করা হচ্ছে আমার পেশা। জীবনে কতগুলো খুন করেছি তার হিসাব অনেক লম্বা। আপনি যাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, আপনার সেই স্বামীকে খুন করার জন্য আমি ট্রেনে উঠেছি। তবে এটা কোনো কন্ট্রাক্ট নয় এটা একটা ওয়াদা। আমি জানি আপনি প্রেগন্যান্ট। আপনার গর্ভে স্বামীর সন্তান। সবকিছুই আমি জানি তবুও তাকে খুন করা ছাড়া আমার উপায় ছিল না।

আমার যে বোনটা মৃত্যুর মুখে আছে সে আমার আপন বোন নয়। তার মৃত্যুর জন্য আপনার স্বামী দায়ী। আপনি আপনার স্বামীর আসল পরিচয় জানেন না। জানলে হয়তো তার জন্য এভাবে আপনি ছোটাছুটি করতেন না।
সতেরো দিন ধরে আমি আপনাদের দুজনকে ফলো করেছি। মাঝখানে সপ্তাহ খানিক ধরে সে আমার চোখের আড়াল হয়েছিল। তারপর থেকে পুরোপুরি আপনাকে নজরে রাখতাম কারণ আমি জানি আপনার মাধ্যমে তাকে পাবো।

আপনার প্রতি নজরদারি করতে গিয়ে আমি আপনার তিনজন শত্রু সনাক্ত করেছি। প্রতিনিয়ত তারা আপনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতেছে। শুধু সময় সুযোগের অপেক্ষা। আপনাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাবার জন্য তো আপনার স্বামী দায়ী তাই না?
আপনার স্বামীই আপনাকে বলেছে চট্টগ্রামে গেলে তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন তাই না?
কিন্তু এটা আপনার জন্য একটা ফাঁদ পাতা হয়েছে। ভয়ঙ্কর ফাঁদ। আপনি ফাঁদে পা দিয়ে মোটামুটি বিপদে পড়েছেন। কিন্তু আপনার স্বামীর মৃত্যুর কারণে বিপদ খানিকটা পিছিয়ে যেতে পারে। তবে সেই সম্ভবনা খুবই সামান্য।
আমি চেষ্টা করবো আপনাকে সাহায্য করতে। কিন্তু আপনার স্বামীকে খুন করার পর আপনি আমাকে বিশ্বাস করবেন কিনা সেটাই ভাবনার বিষয়। যদি বিশ্বাস করেন তাহলে সাহায্য করতে সহজ হবে।

আমার গোলাপি চাদরটা রেখে গেলাম। যদি দেখা করতে ইচ্ছে করে তাহলে সন্ধ্যা বেলা নিমতলা বিশ্বরোড অপেক্ষা করবেন। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন আপনার জন্য বিপজ্জনক। স্টেশনে নেমেই আপনি পুলিশের সহোযোগিতা নিবেন।
আপনার স্বামী আমাদের পিছনের বগিতে C-43 নাম্বার সিটে বসে আছে। এতক্ষণে হয়তো ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হয়ে গেছে। সেই কৃতিত্ব আমার।

সাবধানে থাকবেন।
এখনো পৃথিবীতে না আসা আপনার সন্তানের পিতাকে হত্যা করার জন্য ক্ষমা করবেন। আমার বোনের শেষ ইচ্ছার জন্য এটা করতেই হতো। বাকি কিছু জানার যদি ইচ্ছে থাকে তাহলে দেখা করিয়েন।

ইতি,
রাফসান মাহমুদ।

ট্রেন থেমে গেছে। সেই সঙ্গে থেমে গেছে লতা। তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না এই চিঠি। অনেকেই ততক্ষণে ট্রেন থেকে নেমে গেছে। লতা তার ব্যাগটা নিয়ে পিছনের বগিতে গেল। মাহমুদের বলা সিটের কাছে গিয়ে হতবাক হয়ে গেল লতা। তার স্বামী চোখ বন্ধ করে সিটে বসে আছে। মাস্ক পরা হলেও চিনতে অসুবিধা হয়নি লতার।

লতা হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করে ধাক্কা দিতেই স্বামী ফিরোজের মৃত শরীরটা একদিকে ঢলে পড়ে গেল।

চলবে....

পর্বঃ- ০১
লেখাঃ-
মো: সাইফুল ইসলাম

অভিজ্ঞ দের পরামর্শ চাই, কি করলে সবুজ হবে,😔
24/03/2026

অভিজ্ঞ দের পরামর্শ চাই, কি করলে সবুজ হবে,😔

কলেজ শেষে বাসায় যাচ্ছি। মেট্রোরেলে একটা ছেলেকে দেখে খুব পছন্দ হলো। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। তারপর ভাবলাম, সাহস করে মোব...
14/03/2026

কলেজ শেষে বাসায় যাচ্ছি। মেট্রোরেলে একটা ছেলেকে দেখে খুব পছন্দ হলো। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম।
তারপর ভাবলাম, সাহস করে মোবাইল নাম্বার চেয়ে দেখি। আজকের পর আর যদি কোনদিন দেখা না হয়।

যেই ভাবনা সেই কাজ।
আমি তার কাছে গিয়ে বললাম,
" আপনার নামটা জানতে পারি? "

" কেন? "

" কারণ আপনাকে আমার ভালো লেগেছে, আমি তো প্রথম দেখেই মুগ্ধ হয়ে গেছি। "

ছেলেটা খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। আশেপাশে ভালো করে তাকিয়ে আবার আমার দিকে তাকালো।
বললো,
" তুমি কিসে পড়ো? "

" ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। "

" নিউটনের সূত্র তিনটা জানো? "

" জানতাম ভুলে গেছি। "

" সামান্য তিনটি সূত্র মনে রাখতে পারো না, আবার রাস্তায় ছেলেদের পছন্দ করো। "

আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। আমাদের কাছে এক আঙ্কেল গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি আরো লজ্জা পেলাম।

এরপর ছেলেটা তার কলম বের করলো। তারপর একটা কাগজে কি যেন লিখলো। লেখা শেষ করে সেই কাগজটা আমাকে দিয়ে বললো,

" বাসায় যাবার সময় সূত্র তিনটা মুখস্থ করতে করতে বাসায় যাবে। এখন হচ্ছে পড়াশোনা করার বয়স, এসব প্রেম ভালো লাগা অনুভব করার বয়স নয়। "

আমি কাগজটা নিয়ে অপমানিত হয়ে চলে এলাম। বেশ খারাপ লাগছে, একটু পরে বাস আসে আর আমি তখন বাসে উঠে বসি।

বাসে বসে বসে কাগজটা বের করলাম। কি ঘোড়ার আন্ডা সূত্র লিখেছে দেখতে ইচ্ছে হলো। কাগজটা বের করে আমি বোকা হয়ে বসে রইলাম।
সেখানে লেখা ছিল,

" আমার পাশে আমার বাবা দাঁড়িয়ে আছে। চাইলেও তোমার সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারবো না। তুমি কিছু মনে করো না, আমার মোবাইল নাম্বার দিলাম। বাসায় গিয়ে কল দিও। তোমাকেও আমার খুব পছন্দ হয়েছে। "

😂😂😂

"চাচি,ফ্রিজ থেকে আমগো তেলাপিয়া মাছের পোটলাটা একটু দিন তো। দাদি আসছে গ্রাম থেকে।সেহরিতে আজ উনি মাছ ভাজা খেতে চেয়েছে।""তোম...
14/03/2026

"চাচি,ফ্রিজ থেকে আমগো তেলাপিয়া মাছের পোটলাটা একটু দিন তো। দাদি আসছে গ্রাম থেকে।সেহরিতে আজ উনি মাছ ভাজা খেতে চেয়েছে।"

"তোমাদের যা-যা লাগে একসাথ নিতে পারো না? বারবার ফ্রিজ খুললে ফ্রিজে সমস্যা হয়,বিল বেশি হয়। তাছাড়া, আমিতো আর সারাক্ষণ ফ্রিজের কাছে বসে থাকি না। রোজার দিন। বিকেল বেলা কত কাজ থাকে হাতে!"

প্রতীবেশী আন্টির শক্ত কথায় চোখ টলমল করে উঠলো, ষোড়শী রুপার। মা তাকে শেষ বিকেলে এই বাসার ফ্রিজ থেকে মাছ নিতে পাঠিয়েছে। তাদের ঘরে ফ্রিজ নেই। টুকটাক জিনিস গুলো এখানেই রাখে ওরা। একটু আগেও টুকটাক জিনিস নিয়েছে, রুপা। প্রতিবারই এই আন্টি আড় চোখে তাকায়। কিছু নিতে এলে বা রাখতে এলে ব্যস্ততা দেখিয়ে কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখে।
উনি হয়তো চক্ষু লজ্জায় মুখে কিছু বলতে পারছে, কিন্তু আন্টির এ আচরণ বুঝিয়ে দিচ্ছে তাদের ফ্রিজে জিনিসপত্র রাখা আন্টির পছন্দ নয়। তবুও মা তাকে এটা সেটা রাখতে পাঠায়।
রুপার মন খারাপ করে আন্টির দরজায় দাঁড়িয়ে রইলো, মিনিট দশেক। তবেই আন্টি মুখ কুঁচকে মাছের পোটলাটা দিলো।

বারান্দায় চেয়ারে বসে কোরআন তিলাওয়াত করছিলো, মোরশেদ। মেয়েকে মুখ গোমড়া করে বাসায় ঢুকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

"কি-রে মা, কি হয়েছে তোর? মুখটা ওমন কালো করে রাখছিস কেন?"

"বাবা আমাদের বাসায় একটা ফ্রিজ দরকার। তুমি তাড়াতাড়ি একটা ফ্রিজের ব্যবস্হা করো।"

"হ্যাঁ মা, ঠিক বলছিস তুই। আমাদের একটা ফ্রিজ খুব দরকার। আগামী মাসের বেতনটা পেলেই একটা ফ্রিজ আমরাও কিনবো।"

বাবা'র কথা শুনে মুখ বিকৃত করলো, রুপা। এ নিয়ে বাবা হাজারবার বলেছে," আগামী মাসের বেতনটা পেলেই ফ্রিজ কিনবো।" বাবা বেতন পায় ঠিকই, কিন্তু ফ্রিজ আর কেনা হয় না। ততক্ষণাৎ রুপা মন খারাপ করে জবাব দিলো ,

"তোমার কবে যে আগামী মাস পূর্ণ হবে, বাবা!"

মেয়ের কথায় মোরশেদ গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক, মোরশেদ। একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কেরানি পদে চাকরি করছে, লোকটা। মাস শেষে, আঠারো হাজার টাকা বেতন পায়। স্ত্রী- তিন সন্তানের লেখাপড়া থাকা খাওয়া সব এরমধ্যে। টানাটানির সংসার। তাছাড়া, আজকাল নিত্যপণ্যের যে দাম! রাতারাতি পণ্যের দাম বাড়ে হুড়মুড়িয়ে, কিন্তু বেতন আর বাড়ে না।
মধ্যবিত্তদের থাকা-খাওয়াই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। সেখানে ঘর সাজানো , বিলাসবহুল জীবন চালানো তো বিলাসিতা মাত্র। মোরশেদও ইচ্ছে হয় একটা ফ্রিজ কিনতে, কিন্তু বেতন যা পায় মাস শেষে চলতেই কষ্ট হয়।
এরিমধ্যে মোরশেদের স্ত্রী এসে বললো,

"হ্যাঁ গো। ঘরের বাজার-সদাই সব শেষ হয়ে গেছে। তুমি যদি আজ একটু বাজারে যেতে। আম্মা আসছে কতদিন পর, একটু ভালোমন্দ পারলে আনো।"

"জরুরী কি কি সদাই লাগবে সেগুলো বলো? পকেটের অবস্থা খুব একটা ভালো না, নাজমা।"

স্ত্রী প্রয়োজনী জিনিস গুলোর একে-একে লিস্ট দিলো। তাতেও লম্বা লিস্ট। মোরশেদ পকেটে হাত রাখলো,একটা চকচকে হাজার টাকার নোটই রয়েছে। সেটা নিয়েই বাজারে গেলো। দুই লিটার সয়াবিন তেল, পিঁয়াজ-রসুন টুকটাক কিছু সদাই কিনতেই লেগেছে সাড়ে সাতশো টাকা। অবশিষ্ট রইলো, আড়াইশো টাকা। আম্মা আসছে একটু মাছ-মাংস কেনা দরকার। মোরশেদ মাছের বাজারে গেলো। পাশ থেকে পরিচিত এক জেলে ডাক দিয়ে বললো,

"মোরশেদ ভাই! নদীর তাজা ইলিশ আনছি। লইয়া যান একটা, খুব কম দাম। একদাম, বারশো কেজি।"

মোরশেদ ইলিশ মাছের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো। তার খুব পছন্দের মাছ। আগে বছরে সুযোগ মতো পেলে, দুই-একবার কিনতো।
এখন ইলিশে এতো দাম, বছরেও একবার খাওয়া হয় না। পকেটে পয়সা নেই। মোরশেদ মিথ্যা করে বললো,

"বাচ্চাদের এলার্জির সমস্যা আছে! ইলিশ আর বাসায় কিনি না ভাই। তুমি অন্য কাস্টমার দেখাও।"

বলেই দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লো লোকটা। বেছে বেছে সচতার কয়েকটা দোকানে মাছের দরদাম করলো। দুইশো টাকার মধ্যে নেই কোনো মাছ। আশাহত মনটা নিয়ে বেড়িয়ে উনি মুরগির দোকানে গেলো। আম্মা মুরগীর মাংস পছন্দ করে। একটা পোলট্রি মুরগী নেওয়া যাক। দোকানদার কে জিজ্ঞেস করলো,

"মুরগীর কেজি কতো করে ভাই?"

"একদাম,২৩০।"

"কি বলেন, এতো দাম? গতকালই তো কেজি ছিলো ২০০।"

"দামতো প্রতিদিনই বাড়ে। গতকাল ছিলো ২০০, আজ ২৩০। আপনার বিশ্বাস না হইলে অন্য সব দোকানে গিয়া দেখেন। একদাম।"

"আচ্ছা ঠিক আছে, এক কেজির একটা মুরগী দেন আমাকে।"

"এক কেজির কোনো মুরগী নাই। সব দেড় কেজির উপরে।"

"ভাই,একটু দেখেন এক কেজি পাওয়া যায় কি-না।"

দোকানদার বাধ্য হয়ে কয়েকটা মুরগী মেপে জানালো, "এক কেজি ৪০০ গ্রাম আছে।"

মোরশেদ মনেমনে হিসাব করলো, পকেটে মাত্র আড়াইশ টাকা। মুরগী দাম দেওয়ার মতো বাড়তি টাকা নেই। বাধ্য হয়ে বললো,

"তাহলে থাক, ভাই। রেখে দিন।"

দোকানদার তখন বিকৃত মুখে বললো, "একটা মুরগী কেনার মুরদ নেই, আবার শার্ট-প্যান্ট পড়ে ভাব দেখাইতে আইছে। রোজা-রমজানের দিন শুধু শুধু সময় নষ্ট। যত্তসব!"

মোরশেদ সেসব শুনেও শুনলো না যেন। ততক্ষণাৎ আশেপাশে তাকালো একবার। কেউ শুনলো না তো? বড় মেয়েটার বিয়ে কিছুদিন পর, এসব লোক জানাজানি হলে ইজ্জত যাবে। নাহ কেউ শুনেনি। অস্বস্তির মাঝেও স্বস্তি পেলো এক মধ্যবিত্ত বাবা। চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে, শূন্য বাজারে থলে নিয়ে দ্রুত ওখান থেকে সরে গেলো মোরশেদ। বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাসারের সঙ্গে মধ্যবিত্তদের কপালে জুটছে এমনই অপমান- কটূকথা। এই মানুষগুলোর কেবল চুপচাপ হজম করে যায়, লোক-লজ্জার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারে না।

আধহাত খালি বাজার ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে পড়লো, মোরশেদ। সঙ্গে রয়েছে, হাট থেকে কুড়িয়ে আনা চাপা কষ্ট। সেই কষ্ট সঙ্গে নিয়ে আনমনে হাঁটছে মোরশেদ।
এরিমধ্যে পরিচিত এক বড়ভাইয়ের সাথে দেখা। ভাই অতি আন্তরিকতার সঙ্গে বললো,

"আরে মোরশেদ! কি খবর ভালো? কেমন আছো, ভাই?"

মোরশেদ সকল ব্যথা চেপে গিয়ে মুচকি হেসে বললো, "এই তো ভালো আছি ভাই।"

আসলেই কি ভালো আছে, মোরশেদ? নেই ভালো নেই, মধ্যবিত্ত হাজারো মোরশেদ ভালো নেই। তবুও তারা লোকলজ্জা কিংবা আত্মসম্মানের জন্য প্রকাশ করতে পারে না, আমরা ভালো নেই। বরং শত ব্যথা লুকিয়ে এই লোকগুলো মুচকি হেসে বলে যায়, আমি/আমরা ভালো আছি। তাদের এই ভালো আছির ভিতরে লুকিয়ে থাকে, চাপা কষ্ট আর ভারী কিছু দীর্ঘশ্বাস!

(সমাপ্ত)

#মধ্যবিত্তের_নিত্যদিন

[ঘটনাটির আংশিক প্রকাশিত এক নিউজ থেকে অনুপ্রেরিত ।]

(রি-পোস্ট)
Ritu Aktar Fariya Aktar

পঞ্চগড় থেকে বাসে ঢাকা যাচ্ছি। পাশের সিটে একটা মেয়ে বসেছে। নাক হালকা লম্বা, কিন্তু চোখ দুটো খুব সুন্দর। সিটের পাশে মেয়ে প...
13/03/2026

পঞ্চগড় থেকে বাসে ঢাকা যাচ্ছি। পাশের সিটে একটা মেয়ে বসেছে। নাক হালকা লম্বা, কিন্তু চোখ দুটো খুব সুন্দর। সিটের পাশে মেয়ে পেয়ে মনে মনে ভাবলাম ভাগ্য আজকে ডানদিকে ধরা দিচ্ছে কেন?
নির্দিষ্ট সময়ের কুড়ি মিনিট পরে বাস ছাড়লো।
বাস ছাড়ার পর খুব বিরক্ত লাগলো কারণ যখন তখন বাস দাঁড় করিয়ে লোকাল যাত্রী তুলছে।

তিনবার যাত্রী তোলার পর আমি সুপারভাইজারকে বললাম "আর একবার যদি কাউন্টার ছাড়া লোক তুলেন তাহলে আমি হেড অফিসে অভিযোগ করবো। "

ব্যাস, এতেই কাজ হয়ে গেল।
সিরাজগঞ্জের হোটেল "ফুড ভিলেজে" আসার আগ পর্যন্ত তারা আর যাত্রী তুলে নাই। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক কাজটা করেছে ড্রাইভার সাহেব।
গাড়ি এমনভাবে চালিয়েছে যে ছোটখাটো গাড়ি সব আমাদের ওভারটেক করে সামনে উঠে গেছে। পরিবহন বাসের এরকম রূপ সচারাচর সামনে পড়ে না। হোটেল পর্যন্ত আসতে আসতে পাশের মেয়েটার সঙ্গে বেশ ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। মেয়েটা বেশ কথা বলতে পছন্দ করে। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে গাড়ির স্পিডের দিকে নজর ছিল না।

তখন রমজান মাস ছিল। হোটেলে যখন নামলাম তখন সাহরির সময় হয়ে গেছে। সবাই মিলে সাহরির জন্য কিংবা ফ্রেশ হতে হোটেলে গেলাম।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি সুপারভাইজার দাঁড়িয়ে আছে।
তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে আমার পাশের সিটে বসা মেয়েটা।

আমাকে দেখে সুপারভাইজার বললো,
- ভাইজান সাহরির খাবার খাবেন না?
- হ্যাঁ খাবো।
- তাহলে চলেন আমাদের সঙ্গে। একসঙ্গে নাহয় খেলাম।

ভাবলাম একসঙ্গে খেতে সমস্যা কি? এক টেবিলে বসে তো খাওয়াই যায়।
খাবার শেষ করে বিল দিতে পারলাম না। আমার আর মেয়েটার বিলও সুপারভাইজার দিয়ে দিল। জোর করলাম কিন্তু হোটেলের ক্যাশিয়ার আমার টাকা গ্রহণ করলেন না।

বাস ছাড়লো আবারও। আবারও সেই ধীরগতির চলাচল। যমুনা সেতু যখন পার হচ্ছি তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার কাছাকাছি আসার সময় সুপারভাইজার আমাদের কাছে এলেন। তারপর দু একটা কথা বলেই জিজ্ঞেস করলেন,

- ভাইজান হোটেলের গরুর মাংসটা খেতে কেমন লাগছিল?

মেয়েটা বললো, খুবই ভালো লেগেছে।

- রুই মাছের ভুনা কিন্তু বেশ ছিল তাই না আপা? গরুর মাংস তো জিভে লেগে যাবার মতো। আহ্ কি স্বাদ।

- হ্যাঁ হ্যাঁ, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। অবশ্য আপনি এভাবে বিল দিবেন আমরা বুঝতে পারিনি।

সুপারভাইজার সামনে চলে যাবার সময় বললো,
- ভাইজান! আশা করি এতো সুন্দর খাবারের কথা সহজে ভুলবেন না। মনে রাইখেন তার কথা। সবসময় তো এমন খাবার খাওয়া যায় না।

আমি চুপচাপ বসে রইলাম। এলেঙ্গা এসে বাস দাড়ঁ করানো হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে যতগুলো সিট ফাঁকা ছিল সবগুলো সিট ভর্তি যাত্রী ওঠানো হলো। আর তখনই আমার কানের মধ্যে শুধু একটা কথা বাজতে লাগলো,

" ভাইজান আশা করি এতো সুন্দর খাবারের কথা সহজে ভুলবেন না। মনে রাইখেন তার কথা। সবসময় তো এমন খাবার খাওয়া যায় না। "

দুজনের খাবারের জন্য ৫০০/৭০০ টাকা খরচ করে সুপারভাইজার প্রায় ২৫০০/৩০০০ টাকার যাত্রী তুলে নিলেন। আমার পাশে বসে মেয়েটা বললো,

- আপনি কিছু বলছেন না কেন? রাতে তো ঠিকই প্রতিবাদ করেছিলেন।

- আমি বললাম, সাহরির সময় যে ঘুষ খেয়েছেন সেজন্য এখন মুখ বন্ধ রাখতে হবে। আমাদের সুপারভাইজার তো চালাক। সে জানতো এলেঙ্গা থেকে ভোরবেলা ঢাকার যাত্রী পাওয়া যাবে তাই হোটেলে বসে কৌশলে খাইয়ে দিয়েছে। এখন আর প্রতিবাদ করি কীভাবে বলেন?

রিপোস্ট!
২০২১ সালে লেখা গল্প।
মোঃ সাইফুল ইসলাম।

13/03/2026

দুনিয়া ও আখিরাত লাভের দোয়া 🌸

ঘড়িতে তখন রাত তিনটা। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি ঘরে একজন মহিলা হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠলেন। পরিবারের সবাই ছুটে এল। তিনি বিছান...
13/03/2026

ঘড়িতে তখন রাত তিনটা। সৌদি আরবের রিয়াদের একটি ঘরে একজন মহিলা হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠলেন। পরিবারের সবাই ছুটে এল। তিনি বিছানায় ছটফট করছেন, তার চোখ উল্টে গেছে, গলার স্বর পুরুষের মতো হয়ে গেছে, এবং সেই কণ্ঠে এমন একটি ভাষায় কথা বলছে যেটা পরিবারের কেউ চেনে না। পরদিন সকালে রাক্বি এলেন এবং প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ শেষ করে তিনি সূরা বাক্বারা তেলাওয়াত শুরু করলেন। এরপর মহিলার শরীর আরো বেশি ছটফট করতে লাগল। একসময় সেই পুরুষ কণ্ঠ বলে উঠল, "আমি যাব না। আমি এখানে ৩০ বছর ধরে আছি।"

২০০৯ সাল। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের একটি ছোট শহর।
একটি মেয়ে তিন বছর ধরে কথা বলছে না। ডাক্তার বলেছেন neurological কোনো সমস্যা নেই। Psychiatrist বলেছেন mental illness এর কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু মেয়েটি কথা বলছে না, খাচ্ছে না, শুধু তাকিয়ে আছে দেয়ালের দিকে। মেয়েটির পরিবার শেষ পর্যন্ত একজন রাক্বির কাছে গেল। রাক্বি এসে মেয়েটির পাশে বসলেন। একইভাবে তিনি treatment শুরু করলেন। প্রথম কয়েক মিনিটেই মেয়েটি চিৎকার করে উঠল আরবিতে একটি পুরুষের কণ্ঠে। সেই কণ্ঠ বলে উঠল, "এই ঘর আমার। তুমি চলে যাও।"

রাক্বি থামলেন না।

তার দুই ঘণ্টা পরে মেয়েটি জ্ঞান হারাল। এবং যখন উঠল, দেখা গেলো তিন বছর পরে সে প্রথমবারের মতো নিজের মায়ের নাম ধরে ডাকল।

এই ঘটনা একটি দুটি না। পাকিস্তান, মিশর, মরক্কো, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া। প্রতিটি দেশে প্রতিটি সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটছে। এবং প্রতিটি ঘটনায় এমন একজন মানুষ থাকেন যিনি সেই অন্ধকারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তার নাম রাক্বি।

কিন্তু একজন রাক্বি ঠিক কী করেন? কোন হাতিয়ার দিয়ে লড়েন? এই যুদ্ধে নিজে কীভাবে আহত হন? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা, আপনি কীভাবে এমন একটা জীবন তৈরি করবেন যেখানে কামাখ্যার সমস্ত তান্ত্রিক একসাথে মিলেও আপনার দিকে তাকাতে পারবে না?

আজকের পর্বে সেই সম্পূর্ণ গল্পটা বলব।

প্রথমে শত্রুকে চিনতে হবে,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অনুসারে জিন তিন প্রকার। এক প্রকার উড়ে বেড়ায়, এক প্রকার সাপ ও কুকুরের রূপ নেয়, এবং এক প্রকার মানুষের সাথে বাস করে। ইমাম তাবারানি এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শক্তির দিক থেকে জিনের পাঁচটি স্তর আছে এবং প্রতিটি স্তরে লড়াইয়ের পদ্ধতি আলাদা।

১/ সবচেয়ে দুর্বল স্তরে আছে যাদের বলা হয় হিন্ন বা জান। এরা ছোট, অস্থির, বড় ক্ষতি করতে পারে না। কোনো জায়গায় অদ্ভুত অনুভূতি, রাতে কিছু দেখার মনে হওয়া, এগুলো সাধারণত এদের কাজ। সাধারণ আমলেই এরা চলে যায়।

২/এর উপরে আছে সাধারণ জিন যারা মানুষের পাশে বাস করে এবং মাঝারি শক্তিতে প্রভাবিত করে।

৩/ তৃতীয় স্তরে আছে শয়তান শ্রেণির জিন। এরা ইবলিসের সরাসরি অনুগত এবং সক্রিয়ভাবে মানুষকে গুমরাহ করার মিশনে আছে। তান্ত্রিকরা যখন জিনকে বশ করার চেষ্টা করে, এই শ্রেণিকেই বশ করতে চায়। কারণ এরা বুদ্ধিমান, মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

৪/ চতুর্থ স্তরে আছে ইফরিত। কুরআনে সূরা নামলের ৩৯ নম্বর আয়াতে এদের উল্লেখ আছে। সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে একজন ইফরিত বলেছিল, আনা আতিকা বিহি কাবলা আন তাকুমা মিন মাকামিক, অর্থাৎ আপনি আপনার আসন থেকে ওঠার আগেই আমি বিলকিসের সিংহাসন নিয়ে আসব। এই একটি বাক্যে ইফরিতের শক্তির পরিমাপ বোঝা যায়। এরা অত্যন্ত দ্রুত এবং শক্তিশালী। এদের বিরুদ্ধে রুকইয়াহ কাজ করে কিন্তু অনেক সময় নেয়।

৫/ সবচেয়ে উপরে আছে মারিদ। এরা সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে শক্তিশালী। পানির সাথে এদের বিশেষ সম্পর্ক আছে। মারিদ যখন কারো মধ্যে প্রবেশ করে, রোগীর কণ্ঠস্বর সম্পূর্ণ বদলে যায়, অস্বাভাবিক শারীরিক শক্তি দেখা যায়, এবং রুকইয়াহ শুনলে প্রচণ্ড হিংস্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কামাখ্যার তান্ত্রিকরা যে জিনদের বশ করার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে অনেক সময় এই মারিদ শ্রেণি থাকে।

এই পাঁচটি স্তর ছাড়াও ধর্মীয় পার্থক্য আছে। মুসলিম জিন, কাফির জিন এবং মুশরিক জিন। যারা তান্ত্রিকদের সাথে কাজ করে তারা অবশ্যই কাফির বা মুশরিক এবং ইবলিসের অনুগত।

এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া দরকার। রুকইয়াহর সময় অভিজ্ঞ রাক্বিরা বারবার রিপোর্ট করেছেন জিনরা নিজেদের পরিচয় দেয়। কামাখ্যার জাদুতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে জিন হিন্দি, সংস্কৃত বা অসমিয়া ভাষায় কথা বলে, যে ভাষা রোগী জীবনে কখনো শেখেননি। এই একটি ঘটনা বিজ্ঞানের কোনো framework এ ব্যাখ্যা করার পথ নেই।

একটা ভুল ধারণা আছে যে, অনেকে ভাবেন রাক্বি মানে এক ধরনের জাদুকর বা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী কেউ। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

একজন রাক্বি আসলে একজন সাধারণ মুসলিম যার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ঈমান, তার আমল এবং কুরআনের সাথে তার সম্পর্ক। আধুনিক রুকইয়াহ শাস্ত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী স্কলার ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালি, যার কিতাব আলওয়িকায়াহ মিনাল জিন ওয়াস সিহর চল্লিশটির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, তিনি স্পষ্ট বলেছেন, একজন রাক্বির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার শুধু কুরআন নয়, তার আমল ও তাকওয়াপূর্ণ হাতও।

কথাটার গভীরতা বুঝেন। কুরআনের আয়াত তখনই সর্বোচ্চ শক্তিতে কাজ করে যখন যিনি পড়ছেন তার ভেতরে গুনাহের অন্ধকার নাই। জিন এই জিনিসটা বোঝে। রাক্বির মধ্যে যদি বড় গুনাহ থাকে, রাক্বি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়েন, তাহলে জিন তাকে দেখে উপহাস করে, ভয় পায় না। একজন দুর্বল সৈনিকের হাতে শক্তিশালী অস্ত্র দিলেও সে ঠিকমতো চালাতে পারে না। রাক্বির বিষয়টাও এরকম।

তাই একজন রাক্বিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট আমল করতেই হয়। ফজরের পরে আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস তিনবার করে। সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দুআগুলো। এবং সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা। রাক্বির মানসিক অবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। Quantum physics এ একটি ধারণা আছে যাকে বলা হয় Observer Effect, পর্যবেক্ষকের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। আধ্যাত্মিক জগতে এই প্রভাব আরো বেশি প্রত্যক্ষ। জিন মানুষের ভয় অনুভব করতে পারে। রাক্বির মনে যদি একটুও ভয় থাকে, জিন সেটা টের পেয়ে সুযোগ নেয়। তাই রাক্বিকে এমন একটা অবস্থায় থাকতে হয় যেখানে ভয় শুধু আল্লাহকে এবং ভরসা শুধু আল্লাহর উপর।

প্রতিটি রুকইয়াহ সেশনের আগে রাক্বি অজু করেন, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন, তারপর পড়েন,

আউযু বিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম। ইংরেজিতে, তারপর তিনি তার কাজ শুরু করেন।

রুকইয়াহ মানে শুধু মুখে কুরআনের আয়াত পড়া না। এটা একটা সম্পূর্ণ চিকিৎসাপদ্ধতি যার বিভিন্ন স্তর আছে এবং বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার হয়।

সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো পানির রুকইয়াহ। একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি নেওয়া হয়। রাক্বি পানির দিকে মুখ করে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং চার কুল পড়েন এবং প্রতিটির পরে পানিতে ফুঁ দেন। এই পানি তিনভাবে ব্যবহার হয়। রোগী পান করে, রোগীকে গোসল করানো হয়, এবং বাড়ির প্রতিটি কোণে ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

এখানে বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। আমাদের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি। পানির অণু তার রাসায়নিক গঠনের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল। Biophysics দেখিয়েছে নির্দিষ্ট sound frequency পানির molecular structure কে প্রভাবিত করতে পারে। কুরআনের তেলাওয়াতের acoustic frequency, বিশেষত আরবি হরফের মাখরাজ থেকে নির্গত কম্পন, পানির উপর একটি নির্দিষ্ট প্রভাব ফেলে। কিন্তু এটা শুধু physics না, এই কালামের সাথে আল্লাহর অনুমতি যুক্ত। আরবিতে এই পানিকে বলা হয়, Maa ur-Ruqyah।

আবার তেলের রুকইয়াহও আছে। এটা একটু বেশি উন্নত পদ্ধতি। জলপাই তেলে একইভাবে কুরআন পড়ে ফুঁ দেওয়া হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।কুলুয যাইতা ওয়াদ্দাহিনু বিহি ফাইন্নাহু মিন শাজারাতিম মুবারাকাহ। অর্থ, জলপাই খাও এবং এটা দিয়ে মালিশ করো কারণ এটা বরকতপূর্ণ গাছ থেকে আসে। এই তেল রোগীর মাথায়, বুকে, পিঠে এবং ব্যথার জায়গায় মালিশ করা হয়।

আবার, কালোজিরার তেল এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আলাইকুম বিহাযিহিল হাব্বাতিস সাওদা ফাইন্না ফিহা শিফাআম মিন কুল্লি দা-ইন ইল্লাস সাম। অর্থ, তোমরা এই কালো বস্তু ব্যবহার করো কারণ এতে মৃত্যু ছাড়া প্রতিটি রোগের শিফা আছে। বুখারি ও মুসলিম উভয়তেই আছে এই হাদিস। কালোজিরার তেলে রুকইয়াহ পড়ে রোগীকে খাওয়ানো এবং মালিশ করা বিশেষভাবে কার্যকর যখন জিন শরীরে ঢুকে গেছে এবং তার শারীরিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

সিদর বা কুলপাতার রুকইয়াহ হলো সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতিগুলোর একটি, বিশেষত যখন জাদুর বস্তু খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সাতটি কুলপাতা নিন এবং পাথরে বা মর্টারে গুঁড়া করুন। পরিমাণমতো পানিতে মিশান। রাক্বি সেই পানিতে নির্দিষ্ট আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দেন। রোগী এই পানি পান করেন এবং গোসল করেন। ওয়াহিদ বালি তার কিতাবে এই পদ্ধতির অনেক সফল কেস ডকুমেন্ট করেছেন।

সরাসরি তেলাওয়াতের পদ্ধতি হলো সবচেয়ে মৌলিক। রাক্বি রোগীর মাথায় ডান হাত রাখেন বা কাছে বসেন এবং সরাসরি কুরআন পড়তে থাকেন, মাঝে মাঝে রোগীর উপর ফুঁ দেন। এই সময় তিনি গভীরভাবে রোগীর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। রোগী কাঁদলে এটা সাধারণত ভালো লক্ষণ, হৃদয় নরম হচ্ছে। ঘুমিয়ে পড়লে শিফার লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু রোগী চিৎকার করলে, শরীর কাঁপলে, কণ্ঠস্বর বদলে গেলে বুঝতে হবে জিন আছে এবং বের হতে চাইছে না।

একজন রাক্বি শুধু আয়াতই পড়েন না। তিনি জিনের সাথে কথা বলেন। এটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা বাস্তব এবং ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ নিজেই এটা করেছেন এবং তার নিজের লেখায় উল্লেখ করেছেন।

রুকইয়াহ চলাকালে যখন জিন সক্রিয় হয়, অর্থাৎ রোগী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, তখন রাক্বি কথা বলা শুরু করেন। প্রথম প্রশ্ন হয় তার নাম কী। নাম জানলে জিন সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যায়। দ্বিতীয় প্রশ্ন হয় সে মুসলিম না কাফির। মুসলিম জিন হলে তাকে ইসলামের দোহাই দিয়ে বের হয়ে যেতে বলা হয়। কাফির জিন হলে আল্লাহর আজাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলা হয়। তৃতীয় প্রশ্ন হয় সে শরীরের কোথায় আছে। চতুর্থ প্রশ্ন হয় সে কীভাবে এসেছে, জাদুর মাধ্যমে না নিজে থেকে। পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, জাদুর বস্তু কোথায় আছে।

কিন্তু এখানে একটা বিশাল সতর্কতা আছে। জিন মিথ্যাবাদী। তারা রাক্বিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তারা বলে চলে গেছি কিন্তু আসলে যায় না। নাম ভুল বলে। বলে তাবিজ অমুক জায়গায় আছে, কিন্তু সেটা আসলে ভিন্ন জায়গায় থাকে। তাই ওয়াহিদ বালি বলেছেন জিনের তিনটি দাবি কখনো বিশ্বাস করবেন না। এক, সে চলে গেছে। দুই, সে রোগীকে ভালোবাসে। তিন, সে রোগীকে রক্ষা করছে। এই তিনটি দাবি করে জিন রোগীকে মানসিকভাবে নিজের উপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করে। একজন দক্ষ রাক্বি কখনো শুধু জিনের কথার উপর নির্ভর করেন না।

এরই মধ্যে রয়েছে কামাখ্যার দলবদ্ধ জিন, আর এটাই সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ। কখনো কখনো একটি জিনের জায়গায় দলবদ্ধ জিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়, এখানে একটি পুরো দল কাজ করে, এখানেই যুদ্ধের প্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

ওয়াহিদ বালি তার কিতাবে লিখেছেন কিছু ক্ষেত্রে তিনি একজন রোগীর মধ্যে বারো থেকে পনেরোটি জিন পেয়েছেন। একটি বের হওয়ার পরে আরেকটি সামনে আসে। এটা একটি সংগঠিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ঠিক যেভাবে একটি সামরিক দল স্তরে স্তরে প্রতিরক্ষা সাজায়, এই জিনরাও তেমনি সংগঠিত।

এই ধরনের কেসে একক রাক্বি দিয়ে কাজ হয় না। দুই বা তিনজন রাক্বির দল একসাথে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। একজন তেলাওয়াত করেন, একজন রোগীকে সামলান, একজন একটানা দুআ করতে থাকেন। এই ধরনের সেশন এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি হয়। এখানে একটি সেশনে কাজ শেষ হয় না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস চলতে পারে।

কামাখ্যার জাদুর বিশেষত্ব হলো সেখানে যে জিনরা কাজ করে তারা দীর্ঘদিনের শিরকি ritual এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত। পঞ্চমকার সাধনা, মৎস্য, মাংস, মদিরা, মুদ্রা এবং মৈথুন ব্যবহার করে যে শক্তি অর্জন করা হয়, সেটা সরাসরি ইবলিসের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি পদ্ধতি। ইসলামি দৃষ্টিতে এটা স্পষ্ট শিরক এবং এই পথে যে শক্তি আসে সেটা শয়তানি শক্তি।

কিন্তু এই শক্তির একটি দুর্বলতা আছে। এবং এই দুর্বলতাই একজন সত্যিকারের মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেটা কী সেটা একটু পরে বিস্তারিত বলব। আগে জানেন রাক্বিরা কীভাবে আহত হয়।

সৌদি আরবের একজন বিখ্যাত রাক্বি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন একবার একটি অত্যন্ত কঠিন কেস সামলানোর পরে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা অনুভব করলেন। পরের কয়েক রাত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলেন। তিনি বুঝতে পারলেন জিন তার উপর পালটা আঘাত করেছে।

জিনরা রাক্বিকে কয়েকটি উপায়ে আক্রমণ করে। প্রথম পদ্ধতি হলো মানসিক আক্রমণ। রুকইয়াহ সেশনে রাক্বি যখন তেলাওয়াত করছেন তখন জিনরা তার মনে ওয়াসওয়াসা তৈরি করে। রাক্বীদের হঠাৎ মনে হয় আমি কি ঠিকমতো পড়ছি? এই কেসে কাজ হবে তো? এই সংশয় জিনের তৈরি করা ফাঁদ। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো শারীরিক আক্রমণ। রোগীর শরীরে থাকা জিন রোগীর হাত বা পা ব্যবহার করে রাক্বিকে আঘাত করে। এটা রোগীর ইচ্ছায় হয় না, জিন রোগীর শরীরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

তৃতীয় পদ্ধতি সবচেয়ে বিপজ্জনক। জিন রাক্বিকে অনুসরণ করে তার বাড়িতে ফিরে যায়। বিশেষত যখন রাক্বি সেশনের পরে সঠিক আমল করে না। তখন রাক্বির পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হতে পারে।

রাক্বি নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন? প্রতিটি সেশনের আগে তিনবার পড়তে হবে, আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন্ শাররি মা খলাক্ব। অর্থ, আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের আশ্রয় চাইছি তাঁর সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে। এবং সেশনের পরে অজু করতে হবে এবং চার কুল পড়তে হবে।

তান্ত্রিক শক্তির দুর্বলতা এবং মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ,

এখন সেই কথায় আসি। ধরেন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্যুৎকেন্দ্র। হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কিন্তু সেই কেন্দ্রের একটাই নিয়ম। সে শুধু সেই ঘরে আলো জ্বালাতে পারে যে ঘরের সুইচ কেউ ON করে দিয়েছে। সুইচ বন্ধ থাকলে? সেই কেন্দ্র কিছুই করতে পারে না।

তান্ত্রিক শক্তি ঠিক এইরকম।

কামাখ্যার সবচেয়ে শক্তিশালী তান্ত্রিক, বছরের পর বছর সাধনা করা সিদ্ধ পুরুষ, তার বশে থাকা ইফরিত বা মারিদ শ্রেণির জিন, এই সবকিছু মিলেও একটি কাজ করতে পারে না। সে নিজে থেকে একজন মানুষের ভেতরে ঢুকতে পারে না। তাকে অপেক্ষা করতে হয়। কোনো একটা দরজা খোলার জন্য।

আর এটাই আমাদের সেই দুর্বলতা। আমরাই সেই দরজা খুলে রাখি।

আল্লাহ সূরা ইসরার ৬৫ নম্বর আয়াতে বললেন, ইন্না ইবাদি লাইসা লাকা আলাইহিম সুলতান। অর্থ, আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই।

এই আয়াতটা শুধু একটা সান্ত্বনার বাক্য না। এটা একটা cosmic law। মহাবিশ্বের নিয়ম। যে নিয়ম ইবলিস নিজে জানে এবং মানতে বাধ্য। আর কিয়ামতের দিন শয়তান নিজে দাঁড়িয়ে স্বীকার করবে। সূরা ইব্রাহিমের ২২ নম্বর আয়াতে আছে সে বলবে, ওয়ামা কানা লিয়া আলাইকুম মিন সুলতানিন ইল্লা আন দাআওতুকুম ফাসতাজাবতুম লি। অর্থ, তোমাদের উপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না। আমি শুধু ডেকেছিলাম। তোমরা সাড়া দিয়েছ।

শুনেন এটা। শয়তান নিজে বলছে তার কোনো ক্ষমতা নেই, সে শুধু invitation পাঠায়। কিন্তু মানুষ নিজে তার দরজা না খুললে সে ঢুকতে পারে না।

তাহলে দরজাগুলো কী? গুনাহ। আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকা। হারাম খাওয়া। অপবিত্রতায় থাকা। নামাজ ছেড়ে দেওয়া। এই প্রতিটি জিনিস একটি করে দরজা খুলে দেয়। এবং তান্ত্রিক সেই দরজা দিয়ে জিনকে পাঠায়।

বিপরীতে, যে মানুষ তার সমস্ত দরজা বন্ধ রেখেছে, অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, সকাল-সন্ধ্যার আমল করে, কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখে, হারাম থেকে দূরে থাকে, সে মানুষের দিকে পৃথিবীর সমস্ত তান্ত্রিক তাদের সমস্ত জিন পাঠালেও তারা বাইরে দাঁড়িয়ে ঘুরতে থাকবে। ভেতরে ঢোকার পথ তারা পাবে না। আবারো স্মরণ করিয়ে দেই সেই আয়াত, আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই। এটাই সেই দুর্বলতা যেটা মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। তারা শুধু তখনই ক্ষতি করতে পারে যখন আমরা নিজের্ দরজা খুলে দেন।

এবার আলোচনা করি শক্তিশালী সেলফ রুকইয়াহ নিয়ে, এই প্রতিটি আমল কামাখ্যার সামনেও অজেয়!

আয়াতুল কুরসি,

এই একটি আয়াত আল্লাহর সর্বোচ্চ গুণাবলির বর্ণনা। আল্লাহর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিন ঘিরে আছে। এই আয়াত পড়লে পাঠকের চারদিকে একটি আধ্যাত্মিক বলয় তৈরি হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো একটি শত্রু নিজে এই কথা বলেছে। বুখারিতে আছে শয়তান নিজে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছে, যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমায় সকাল পর্যন্ত তার পাশে আল্লাহর একজন রক্ষক থাকে এবং শয়তান তার কাছে ঘেঁষতে পারে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথাকে সত্য বললেন, যদিও সেই শয়তান ছিল মিথ্যাবাদী।

একটা শত্রু নিজে স্বীকার করছে কোন অস্ত্র তাকে আটকায়। এর চেয়ে বড় প্রমাণ কী হতে পারে?

বাংলা উচ্চারণে আয়াতুল কুরসিটা লিখে দিলাম। এটা মুখস্ত করে পরবর্তীতে ইউটিউব বা কোনো আলেমের কাছ থেকে শুদ্ধ উচ্চারণসহ শিখে নিবেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুম, লা তা'খুযুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম, লাহু মা—ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ, মান্ যাল্লাযি ইয়াশফা'উ ইন্দাহু ইল্লা বি-ইযনিহ, ইয়া'লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউহিতু—না বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ, ওয়াসি'আ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়াউ-দুহু হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আযিম।

এটা তিনবার পড়েন। তারপর দুই হাতে ফুঁ দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে হাত বুলান।

সূরা ফালাক এবং নাস, এই দুইটা সূরা দুইটা আলাদা কাজ করে।

সূরা ফালাক বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, গাঁটে ফুঁ দেওয়া জাদু থেকে, হিংসুকের চোখ থেকে। লক্ষ্য করুন,গাঁটে ফুঁ দেওয়া। জাদুর এই একটি সরাসরি পদ্ধতির কথা আল্লাহ নিজে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আশ্রয় নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। সূরা নাস ভেতরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ওয়াসওয়াসা থেকে, মনের মধ্যে ঢুকে পড়া সংশয় এবং ভয় থেকে। জিন যখন শরীরে ঢুকে তখন প্রথম কাজই করে মনকে দুর্বল করা। সূরা নাস সেই পথ বন্ধ করে।

দুটো সূরা মিলিয়ে বাইরের ঢাল এবং ভেতরের ঢাল। একসাথে তিনবার পড়লে এবং হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলালে একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন রাসূল ﷺ নিজে রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরাগুলো পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করতেন এবং মাথা থেকে শুরু করতেন।

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতের সবচেয়ে বড় ঢাল!

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে এটা তার জন্য কাফি হয়ে যাবে। বুখারি ও মুসলিম উভয়তে আছে। কাফি মানে সমস্ত আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় যথেষ্ট, সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষায় যথেষ্ট। এই একটা শব্দের মধ্যে একটা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি আছে।

সূরা বক্বারার শেষ দুই আয়াত, আমানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মু'মিনুন, কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহ, লা নুফার্রিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া কালু সামিনা ওয়া আতানা, গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা, লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাক্তাসাবাত, রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখতা'না, রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযিনা মিন কাবলিনা, রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহ, ওয়া'ফু আন্না ওয়াগফির লানা ওয়ারহামনা, আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় যেখানে সূরা বাকারা পড়া হয়। সহিহ মুসলিম। ঘরের প্রতিটি কোণ এই তেলাওয়াতে পরিপূর্ণ হলে সেই ঘর একটি দুর্গে পরিণত হয়। কামাখ্যার তান্ত্রিক বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে পারে, ভেতরে ঢোকার পথ পাবে না, ইনশাআল্লাহ।

বাথরুমের দুআ,

হাদিসে আছে বাথরুম এবং অন্যান্য নোংরা জায়গায় জিনরা বেশি থাকে। প্রতিদিন আমরা যতবার বাথরুমে যাই সুরক্ষা ছাড়া গেলে ততবারই একটি অরক্ষিত মুহূর্ত তৈরি হয়। একটি সুরক্ষিত দুর্গের দেয়ালে একটি ছোট ফাটল থাকলে সেই ফাটল দিয়েই শত্রু ঢোকার পথ খোঁজে।

বাথরুমের দু'আ, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস। অর্থ, হে আল্লাহ আমি পুরুষ ও মহিলা উভয় শয়তান থেকেই আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।

খাবারে বিসমিল্লাহ,

বাংলাদেশে জাদুর সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো খাবারের মাধ্যমে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে খাবারে বিসমিল্লাহ বলা হয় না সেই খাবারে শয়তান অংশ নেয়। এর উল্টো মানে হলো বিসমিল্লাহ বলে খেলে শয়তান সেই খাবারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কেউ যদি জাদুমিশ্রিত খাবার আপনাকে দেয় এবং আপনি বিসমিল্লাহ বলে খান, সেই জাদু কাজ করার সম্ভাবনা আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক কমে যায়।

এখন সব কিছু একসাথে দেখেন। সকালের আমল থেকে শুরু করে রাতের ঘুম পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে দরজা বন্ধ হচ্ছে। ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত যদি এই রুটিন মেনে চলা হয়, তাহলে কোনো দরজা খোলা থাকে না। এবং দরজা বন্ধ থাকলে তান্ত্রিকসহ তার জিন বাইরেই দাঁড়িয়ে থাককে পারবে বড়জোর।

এটাই সেই জিনদের সেই দুর্বলতা যেটা মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আপনি যদি এই সম্পদ আগলে রাখতে জানেন তাহলে কামাখ্যার সমস্ত শক্তিও আপনার কাছে অসহায়।

সেলফ রুকইয়াহর মূল পয়েন্ট সমূহ,

ফজরের পর প্রতিদিন করুন, আয়াতুল কুরসি তিনবার, সূরা ইখলাস তিনবার, সূরা ফালাক তিনবার, সূরা নাস তিনবার, প্রতিটির পরে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করুন।

সারাদিন করণীয়, বাথরুমে ঢোকার আগে বাথরুমের দুআ, প্রতিটি খাবারে বিসমিল্লাহ, ঘরে ঢোকার সময় সালাম ও বিসমিল্লাহ।

রাতে ঘুমানোর আগে, আয়াতুল কুরসি একবার, চার কুল তিনবার করে হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, তারপর ডান কাতে শুয়ে পড়ুন, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।

সাপ্তাহিক করণীয়, সূরা বাকারা একবার সম্পূর্ণ পড়েন বা অডিও তেলাওয়াত চালু রাখেন। (প্রতিদিন করলে তবে অন্তত সপ্তাহে একদিন মাস্ট বি ডান)

সর্বদা বজায় রাখবেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, হালাল জীবিকা, ছোট বড় গুনাহগুলো থেকে দূরে থাকা।

এই হলো সেই সুরক্ষা যেটার কথা শুরুতেই বলছিলাম। এখানে জটিল কিছু নেই। কোনো খরচ নেই। কোনো পির মুরশিদের কাছে যাওয়ার ব্যাপার নেই। শুধু আল্লাহর দেওয়া পথে নিজেকে রাখা। ব্যাস, এটুকু করলে পৃথিবীর কোনো তান্ত্রিক, কোনো জিন, কোনো অন্ধকার শক্তি আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।

আবারো সেই আয়াত মনে করিয়ে দিচ্ছি, ইন্না ঈবাদি লাইসা লাকা আলাইহিম সুলতান। আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই।

এটা কোনো মানুষের কথা না। এটা আল্লাহর কথা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই বান্দাদের দলে রাখুন যাদের উপর শয়তানের কোনো কর্তৃত্ব নেই। আমিন।

(১/এখানে সকলের বুঝার সুবিধার্থে কুরআনের অনেক আয়াত বাংলায় লিখেছি যা পরিপূর্ণ শুদ্ধভাবে লেখা যায় নি। তাই যারা শিখবেন তারা অবশ্যই আরবিতে শুদ্ধভাবে শিখবেন।
২/ আমি নিজে রাক্বী বা আলেম না। তথ্যগুলো বিভিন্ন রাক্বী ও রাক্বীদের প্রকাশনা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি অলরেডি কেউ গুরুতরভাবে কালো জাদুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, আমার সাজেশন হলো দ্রুত একজন বিশ্বস্ত রাক্বীর শরণাপন্ন হন। তবে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নিবেন। )

Address

Araihazar, Kalibari
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fateha lifestyle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category