30/04/2023
–কবি...
–হুম।
–একখান কতা জিগাইবার পারি?
–হু।
–আইচ্ছা,সব মাইনষের নাকি ব্যক্তিগত মেলা দুঃখ থাকে!তয় তোমার ব্যক্তিগত দুঃখডা কি?
–হাহাহা,আর কোনো প্রশ্ন খুঁইজা পাইলি না?
–ক্যান?প্রশ্নডা কি মেলা কঠিন অইয়া গেল?
–নাহ,কঠিন অয় নাই।তয় যে প্রশ্নডা করলি,তার উত্তর কি দিমু ভাবতেছি।
–কোনো জোর নাই।মন চাইলে উত্তর দেও,মন না চাইলে দেওন লাগবো না।
–আকাশরে কহনো কাঁন্দতে দেখছোস?
–আকাশ আবার কান্দে ক্যামনে?
–আকাশের যহন মেলা মন খারাপ থাহে,তখন তার বুকের মধ্যি মেঘ জমে। আর সেই মেঘ বৃষ্টি অইয়া মাটিতে গড়াইয়া পড়ে!ক্যান পড়ে জানোস?
–ক্যান?
–আকাশের কোনো ব্যক্তিগত দুঃখ নাই।আকাশ যহন কান্দে,তহন তার চোখের পানি হগ্গলেই দেখবার পারে।আর যার ব্যক্তিগত দুঃখ আছে,সে আকাশের থাইকাও মেলা কান্দে।তবে সেই কান্দন কেউ দ্যাহে না–দেখবার পারে না!
–এত কঠিন কতা বুঝি না।সহজ কইরা কও....
–মাইঝ রাইতে ডাহুক পাখির কান্দোন হুনছোস কহনো?
–হুম,মাঝে মাঝে মাইজ রাইতে তো বাড়ির জঙ্গলার পাশে হুনি।ক্যান কবি?
–ডাহুক পাখিরও দুঃখ আছে,তয় ব্যক্তিগত না।তার কান্দোনও হগ্গলেই হুনবার পারে।
–হু,বুঝলাম।তয় আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু তুমি অহনো দিলা না।
–আমারে কহনো কান্দতে দেখছোস?
–না,তয় মাঝে মাঝে তোমার মুখটা মেলা ভার অইয়া থাহে!বুঝবার পারি,তোমার মনডা ভালা নাই।
–যে বুকের মধ্যি ব্যক্তিগত দুঃখ পুইষা রাহে,হেই কহনো সবার সামনে কান্দে না–কান্দিবার পারে না।হগ্গল সময় মেলা হাসি-খুশি থাহে।কিন্তু দিনশেষে যহন রাইত আহে,তহন তার চোখের পানিতে দুনিয়াডা ভাইস্যা যায়!তয় উপরওয়ালা ছাড়া আর কেউ দ্যাহে না তার কান্দোন!
–কবি!তুমি এত কঠিন কইরা ক্যান কও?
–ব্যক্তিগত দুঃখ হগ্গলেরই আছে,কিন্তু কেউ কহনো জানবার পারে না।
–কবি,তোমার ব্যক্তিগত দুঃখডা কি আমারে কওন যায় না?
–না!যে দুঃখ মাইনষে কইয়া বেড়ায়,অইডা আর ব্যক্তিগত থাহে না রে –থাহে না।