27/10/2024
নিজের খুব কাছের এক বন্ধুর ডিভোর্স হল। মনটা খারাপ। সুন্দর একটা পরিবার চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল। কারণ: পরকিয়া ( যেকোন একজন)
প্রেম শব্দটার সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িয়ে থাকে। যেমন ভালোবাসা, শরীর, মায়া, দায়িত্ববোধ, কাণ্ডজ্ঞান, বিশ্বাস, ভরসা, সক্ষমতা। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা প্রেমের শরীর থেকে অন্যান্য উপাদানগুলো যেন ছেটে বাদ দিয়ে দিচ্ছি। প্রেমকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা আর শরীরের মধ্যে আটকে তাকে হালকা করে ফেলছি। এটা একদিকে বেশ হালকা ফুরফুরে একটা ভাব নিয়ে এলেও ভাবুনতো দিনশেষে আপনাকে কী দিচ্ছে? আগে বিয়ের আগে মানুষ প্রেমের কথা ভাবত। এখন বিবাহিত নারী, পুরুষ উভয়েই যে যেখানে প্রেমের আলামত পাচ্ছে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
সবার কথা বলছি না। সবাইতো খুব ভালো, আমি অ ভালোদের কথাই বলছি। পরিবার, সন্তানাদির দায়দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আপনি ছোটোখাটো একটা প্রেম করছেন। হতে পারে সে আপনার সহকর্মী, হতে পারে ফেসবুকে পরিচিত অচেনা কেউ, আবার হতে পারে আপনার প্রাক্তন কোন বন্ধু। আপনি পুরুষ হলে, ভাবছেন স্ত্রীর অগোচরে এটুকু রিফ্রেশমেন্ট আপনি করতেই পারেন। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি এই প্রেমটুকুনি আপনার স্বস্থ্যের জন্য খুব দরকারী। ভাবছেন আপনার স্ত্রী সুলক্ষণা, সংসার নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। মাস শেষে সংসার খরচ পেলেই খুশি। ভুল ভাবছেন নাতো?
যতটুকু , প্রেম, মনযোগ,সময়, ভালোবাসা আপনি অন্য কাউকে দিচ্ছেন তার সবটুকুরই ঘাটতি জমছে আপনার স্ত্রীর ঘটে। জমা হচ্ছে শূন্যতা। মনে রাখবেন জগতে কিছুই শূন্য থাকেনা। কোন না কোন ভাবে সব ঘাটতি পূর্ণতার দিকে ধাবিত হয়। আপনার ঘরের সেই শূন্যতায় হয়ত বাসা বাঁধছে পাশের ফ্ল্যাটের তরুণ, অথবা ফেসবুক থেকে পাওয়া তার কোন বন্ধু, অথবা পরিচিত আপনারই কোন বন্ধু। আপনার সুলক্ষণা স্ত্রীটিও হয়ত আপনার ব্যস্ততা, আপনার সারাদিন পর ক্লান্ত শরীরের পরিচর্যা দিয়ে স্বন্তনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখছে আপনাকে।
সুতরাং আপনি নারী হন বা পুরুষ। নিজেকে অতটাও চালাক ভাববেন না। এই চরম ক্ষতির মাশুল দেবে আপনার সন্তানরা। নিজের পরিবারের প্রতি যত্নশীল হোন। স্ত্রী স্বামীর প্রতি আর স্বামী স্ত্রীর প্রতি মনযোগী হন। দূষিত প্রেম দূর করুন মন থেকে। বিবাহিত জীবনে প্রেমময় করে তুলুন। প্রেমে, সম্পর্কে দায়িত্বশীল হোন। বিশ্বস্ত হোন। নিজের ঘরে নিজেও চুরি করলে দিনশেষে লুজার আপনিই। নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। ব্যভিচারকে ঘৃণা করুন।
আনন্দ নিজের কাছে। পরিবার পরিজনদের নিয়ে আনন্দ করুন। দাম্পত্য জীবনকে প্রেমময় করে তুলুন। একালে, পরকালে আপনি শান্তি পাবেন। বিশ্বাস করুন, পরিবার ভেঙে কাউকে শান্তি পেতে দেখিনি। স্ত্রীর সাথে বেইমানী করে বা স্বামীর সাথে বেইমানী করে কেউই জিততে পারেনি। দিনশেষে বেইমানীই জুটেছে ভাগ্যে। একাকীত্বই হয়েছে সঙ্গী।
সবশেষে বলব, গড়তে সময় লাগে অনেক। ভাঙতে লাগে এক পলক।