25/04/2026
যদি কখনো মুসলিমদেরকে সন্ত্রাসী বলা হয় বা বলা হয় যে ইসলাম সহিংসতা প্রচার করে, তাহলে যারা এ কথা বলে তাদের মনে রাখা উচিত—ইরাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতনের শিকার, কাশ্মীর, চেচনিয়া এবং ফিলিপাইনের মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করছে। এভাবে উদাহরণ দিতে থাকলে শেষ হবে না।
এসব বিষয় তুলে ধরলে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, যদি কোনো মুসলিম এমন কিছু করেও যা ন্যায়সঙ্গত নয় বা প্রতিরোধের আওতায় পড়ে না, তবুও তা কখনোই সেই মাত্রার সহিংসতা ও অন্যায়ের সমান হতে পারে না, যা অবিশ্বাসীরা মুসলিমদের ওপর চালিয়েছে। কখনোই সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না। ইরাকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা গেছে—এক মিলিয়নেরও বেশি। তাই বিষয়গুলো সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা দরকার। সরল বা বোকা হয়ে মিডিয়ার কথায় বিশ্বাস করে বসে থাকা উচিত নয়, কারণ মিডিয়া আপনার পক্ষে নয়, আর আল্লাহর শত্রুরা কখনোই আপনার পক্ষে থাকবে না।
তাই একজন মুসলিমের উচিত বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন থাকা। শুধু রেডিও বা টিভিতে যা শোনা যায় তা মেনে নেওয়া নয়, বরং গভীরে গিয়ে কী ঘটছে তা বোঝা। তাহলেই দেখাবে আল্লাহর শত্রুরা কতটা অন্যায় করছে। দেখুন, অতীতে তারা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে কী করেছিল, আর আজ মুসলিমদের সাথে কী করছে। যারা প্রকৃত ইসলাম প্রচার করেন, তাদের অনেককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে বা হুমকির মধ্যে রাখা হচ্ছে। মুসলিমরা যদি সত্যকে তুলে ধরতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয় এবং তাদের সীমাবদ্ধ করা হয়। মুসলিম ভূমি লুটের মাল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে, আর মুসলিমদের সম্পদকে দুধেল গরুর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। মুসলিমদের রক্ত খুব সস্তা হয়ে গেছে—বরং শুধু সস্তাই নয়, তা যেন মূল্যহীন হয়ে গেছে।