19/02/2026
*এবারের রমাদানকে জীবনের শ্রেষ্ঠ রমাদান বানাতে আমরা যেভাবে রমাদান কাটাবো 😗
১) প্রতিদিন ন্যূনতম ৪ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবো এবং কিছু সময় আন্তরিকভাবে দু‘আয় কাটাবো। শেষ রাতের দু‘আ ও ইস্তিগফার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
২) সারা মাসে কমপক্ষে একবার কুরআন পড়ে শেষ করবো। বিশেষভাবে রাতের বেলা কিছু সময় তিলাওয়াত করবো। রাতের তিলাওয়াতের মর্যাদা অনেক বেশি।
৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে (ওয়াক্তের শুরুতেই) পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আদায় করবো। পুরুষরা অবশ্যই জামাতের সাথে পড়তে চেষ্টা করবো। ধীরে-সুস্থে তারাবির নামাজ আদায় করবো। বাসায় তারাবি পড়লে জামাতের সাথে পড়বো এবং নারীদেরকেও শামিল রাখার চেষ্টা করবো। তাঁদের কাতার হবে সবার শেষে। নারীদের কাতারে কোনো পুরুষ থাকবে না।
৪) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো- বিশেষত রোজা অবস্থায় চোখ, কান এবং জিহ্বা দিয়ে কোনো ছোট গুনাহও করবো না। টেলিভিশনে সতর্কতার সাথে ইসলামি অনুষ্ঠানগুলো দেখা যেতে পারে। এর বেশি কিছু অবশ্যই না।
৫) প্রয়োজন ব্যতীত অনলাইনে আসবো না। কারণ অনলাইন হলো গুনাহের মহাসমুদ্র। ইউটিউব, ফেইসবুক, টিকটকে ডুবে যাবো না।
৬) সারা মাসে অন্তত একবার আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করবো অথবা ফোন করে খোঁজ-খবর নেবো। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি।
৭) প্রতিদিন অন্তত তিন ঘণ্টা সময় কুরআনের তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থকরণ এবং কুরআনের অর্থ ও তাফসির পাঠে ব্যয় করবো। সম্ভব হলে সম্মিলিতভাবেও এই কাজটি করা যায়।
৮) সাধ্যানুযায়ী পুরো মাস জুড়ে অসহায় ও দরিদ্রদের দান-সাদাকাহ করবো। এক্ষেত্রে নিজ আত্মীয়দের প্রাধান্য দেবো। এটিই ইসলামের নির্দেশনা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমন অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে আছে, যারা লজ্জায় কারও কাছে হাত পাতে না; তাদেরকে খুঁজে বের করে সাধ্যানুযায়ী হেল্প করবো। এটি বিরাট নেকির কাজ হবে। বিশেষ করে তাদের সাহরি ও ইফতারের ভালো-মন্দ খোঁজ নেবো।
৯) মনের সংকীর্ণতা দূর করে উদারচিত্তে সবাইকে ক্ষমা করে দেবো। বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। কুরআন ও হাদিসে এই ওয়াদা আছে।
১০) রমাদানের শেষ দশকে ইবাদাতে ডুবে যাবো এবং লাইলাতুল কদর তালাশ করবো; শুধু ২৭তম রাতেই নয়, শেষ দশকের পুরোটাতেই। বিশেষত বিজোড় রাতগুলোতে।
১১) সাহরি ও ইফতারে খাবারের অপচয় করবো না এবং খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা, কথা-বার্তা ও হৈ-হুল্লোড় করবো না। খাবার তৈরিতে বাসার নারীদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করবো এবং কোনো খাবার পছন্দ না হলে মেজাজ দেখাবো না। কেউ ইচ্ছা করে খাবার বিস্বাদ করে না। কারণ যে রাঁধে, সে নিজেও খায়।
১২) নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমের আগে-পরের মাসনুন যিকরগুলো গুরুত্বের সাথে পড়বো। বিশেষভাবে চাশতের নামাজে অভ্যস্ত হবো। প্রতিদিন অন্তত ৪ রাকাত পড়বো।
১৩) সারা মাস তাওবাহ এবং ইস্তিগফারে লেগে থাকবো। সাহরি ও ইফতারের সময়ে দু‘আয় কিছু সময় কাটাবো। এ দুটো সময়ে দু‘আ কবুল হয়। মনে রাখতে হবে, রমাদানে মুমিনের প্রধান টার্গেটই হলো, নিজের গুনাহ মাফ করানো।
১৪) আমরা যারা গীবত, গান শোনা, নাটক-মুভি দেখা, প*র্নোগ্রাফি, কুদৃষ্টি, কুধারণা, লালসা, হিংসা, অহংকার এসব গুনাহ থেকে বের হতে পারছি না, বরং এগুলো জীবনের সাথে মিশে গেছে এবং অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তারা রমাদানের দীর্ঘ এক মাসের কঠিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারি। যারা অনলাইনে গেইম খেলায় আসক্ত, তারাও নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারি। খেলা দেখে নিজের মহামূল্যবান সময় ও আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবো না।
১৫) এই রমাদানই হতে পারে আমাদের অনেকের জীবনের শেষ রমাদান। তাই, হাসি-ঠাট্টা, ফূর্তিবাজি ও গতানুগতিক উদ্দেশ্যহীন জীবনযাপন বাদ দিয়ে যথাসাধ্য তাকওয়া, বিনয় ও গাম্ভীর্যের সাথে এমনভাবে এই রামাদান কাটানো, যেন সবাই আমরা মৃ*ত্যুপথযাত্রী। এই অনুভূতি ধারণ করে দিনগুলো কাটাবো।
মহান রব আমাদের এই কাজগুলো সঠিকভাবে করার তাওফিক দিন, আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর মৃ*ত্যু দিয়ে কবরবাসী করুন। আমিন।
সবাইকে রামাদানের শুভেচ্ছা। আল্লাহ্ আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
লেখা : Tamim Hasan