17/09/2025
বাচ্চাদের মোবাইল/ডিভাইস কেন দেবেন না?
- দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে দূরের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চোখে চাপ পড়ে, চোখ ড্রাই হয়, মাথাব্যথা করে।
– মোবাইল গেমস, রিলসের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল ভিডিও বাচ্চাদের ধৈর্য ও কনসেন্ট্রেশন নষ্ট করে, মনোযোগ কমায়।
– শিশুদের নড়াচড়া/ ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কমে যায়, ফলে শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
- সরাসরি মানুষের সাথে ইন্টারএকশন কম হয়, ফলে শিশুদের ভেতর সোশ্যাল স্কিল ও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ডেভেলপ করে না। ফলে পরবর্তীতে চাকরিক্ষেত্রে, বন্ধু বা জীবনসঙ্গীর সাথে সম্পর্ক নিয়ে স্ট্রাগল করে।
- মোবাইলে শিশু শুধু দেখে আর শোনে, এই one way communication এর কারণে ইন্টারএকশনের সুযোগ না থাকায় স্পিচ ডিলে হতে পারে।
– অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে বাচ্চাদের মধ্যে জেদ বাড়ে, ধৈর্য কমে। ফলে তারা সহজে রেগে যায় বা বিরক্ত হয়।
– ছোট বয়সে মোবাইল ব্যবহারের ফলে ডোপামিন হিটের কারণে বাচ্চারা দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়ে।
- ঘাড়ে tech neck এর সমস্যা হয়, এতে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি নার্ভের সমস্যা হতে পারে।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করে ভায়োলেন্স, এডাল্ট কনটেন্ট সামনে আসার ঝুঁকি থাকে।
- ভিডিগুলো রেডিমেইড হওয়ায় শিশুর শুধু দেখা ছাড়া আর কোন কাজ নেই, যা ওদের কল্পনাশক্তি বিকাশে বাধা দেয়, ক্রিয়েটিভিটি কমিয়ে দেয়।
- স্ক্রিন দেখে খাবার খেলে শিশুর নানা শারীরিক, মানসিক সমস্যা হতে পারে এবং ওদের খাবারের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। এ নিয়ে বিস্তারিত ভিডিও লিংক (https://www.facebook.com/share/v/17KUqZ5Hjh/?mibextid=wwXIfr)
তাহলে বদলে কী দেয়া যায়?
- বয়স উপযোগী বিভিন্ন এঙ্গেজিং এবং ক্রিয়েটিভ খেলা, যেমন- puzzle solving, coloring, building blocks, crafting clay, হাড়ি-পাতিল, পুতুল খেলা ইত্যাদি
- যদি কিছুক্ষণের জন্য তাকে স্ক্রিন দিয়ে বসিয়ে রাখতেই হয়, মোবাইল না দিয়ে টিভি দিন, কারণ- ১. টিভি মোবাইলের মতো চোখের কাছে নিয়ে দেখার সুযোগ পাবে না, ২. রিমোট হাতে দেবেন না, তাহলে বাচ্চা চাইলেই চ্যানেল চেইঞ্জ করতে পারবে না। এতো শিশুর অনুপযোগী কন্টেন্ট সামনে আসবে না, সে কী দেখবে সেটা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
- টিভি দিনে ১৫-৩০ মিনিটের বেশি দেয়া উচিত না।
- বাড়িতে টিভি না থাকলে বা স্ক্রিন না দেয়ার আরেকটা বিকল্প উলায় হল মোবাইলে গান শোনানো। সুস্থ গান শুনলে শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ভালো হয়।
- সুযোগ থাকলে খেলাধুলা, দৌঁড়ানো ইত্যাদি শারীরিক পরিশ্রম করতে দিন। এতে ওদের ক্ষুধাও লাগবে, ঘুমও ভালো হবে, সেই সাথে শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ ভালো হবে।
Fariha Rashid
Health Coach
Parenting Page: The Cycle Breaker Mom