16/10/2023
মধু জমে যাওয়া প্রাকৃতিক বিষয়। প্রকৃতি যেভাবে আমাদের দেয় ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত তাহলেই উক্ত পন্য থেকে সর্বোচ্চ বেনিফিট বা সুবিধা আপনি নিতে পারবেন। মধু কেন জমে যায় সেটা বিজ্ঞানের ছাত্ররা ভালোই জানেন। আন্তঃআণবিক দুরত্ব ও আন্তঃআনবিক শক্তি, দ্রবন ও দ্রাবক পড়ে নাই এমন কেউ আছেন?? তবুও জমা মধু দেখলেই আমরা কুসংস্কারকেই বিশ্বাস করি। এইটা খুবই দুঃক্ষজনক।
মধু কেন জমে যায় সেটা নিয়ে অনেক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে আমাদের দেশের বিভিন্ন মৌ গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারদের। আমার নিজেরও লেখা আছে চাইলে পুর্বের পোস্ট দেখে নিতে পারেন।
আজ আলোচনা করব আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ও পরিচিত সরিষা ফুলের মধু নিয়ে। এই মধুটি শীতকালেই হয় এবং এই সময়ের যাবতীয় রোগ বালাইয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী অর্থাৎ ঠান্ডা, কাশি, এজমা ইত্যাদি। তবে গ্লুকোজ এর পরিমাণ অন্যান্য মধুর চেয়ে বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের পরিহার কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা যেতে পারে।
এই যে গ্লুকোজ এর কথা বললাম আসলে গ্লুকোজ এর পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকার ফলেই এই মধুটি তাড়াতাড়ি জমে যায়। গলে গিয়ে মধুটি কখনো ঘীয়ের মতো মিহি হয়, কখনো তাল মিছরির মতো হয় আবার কখনো দানা দানা হয় যা অনেকে চিনি মনে করে ভেজাল মধু ভাবেন যা সত্যি তো নয়ই বরং বিজ্ঞান বিরোধী।
আমাদের দেশে মধু নিয়ে ভুল ধারনা থাকলেও উন্নত দেশে এর কদর মারাত্মক। তারা জমে যাওয়া মধুকে ক্রিম হানি বলে এবং অন্যান্য মধু থেকে এর দাম বেশি। হায় আফসোস যত খারাপ দিক আমরা তাদের ফলো করি কিন্ত ভাল জিনিস এর বেলায় উল্টো 😭
যাইহোক আবারও সরিষা সীজন চলে এসেছে। আমি বিনীতভাবে সবাইকে অনুরোধ করব যারা নিয়মিত বা অনিয়মিত সবাইকে এই মধুটি খাবার জন্য। এতে অনেক উপকার হবে তার মোটা দাগে যে তিনটা উপকার হবে তা হল....
১. সীজনাল রোগ বালাই থেকে বেঁচে থাকবেন ইনশাআল্লাহ
২. দেশের মধুর চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সেক্টর টা দাঁড়িয়ে যাবে পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে ইনশাআল্লাহ,
৩. লাখো যুবকের কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা হবে যা কিনা আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা
আসুন মধু জমে গেলে ভেজাল এই কুসংস্কার থেকে বের হয়ে আসি, জমা মধু খাই এবং অপরকে খেতে উৎসাহিত করি, দেশিয় মধু শিল্পকে বাচাই...
জমা মধু কিভাবে খাবেনঃ
১. সকালে পাউরুটি বা রুটির সাথে জ্যালির পরিবর্তে খেতে পারেন।
২. চায়ে চিনির পরিবর্তে খেতে পারেন।
৩. বিভিন্ন মিস্টান্ন তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন তবে সঠিক নিয়ম জেনে নিবেন।
৪. শীতে বিভিন্ন পিঠার সাথে খেতে পারেন।
৫. এক কথায় চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
বিঃদ্রঃ ১ বছর নিচের বাবুদের ও ডায়াবেটিস রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত খাবেন না।