20/10/2025
“ভয় পেওনা ! এই সুদর্শন রায় চৌধুরী বহু নারী সঙ্গে আসক্ত ঠিকই কিন্তু কাউকে নিজের কাছে আসার জন্য জোর করে না কখনোই । তবে এই ভুল ধারনায় থেকো না যে এখানে থেকে বেরোতে পারলেই তুমি সুখের সন্ধান পাবে, তোমার স্বামীর থেকে ভালোবাসা পাবে । আজ শোভন তোমাকে আমার কাছে বিক্রি করেছে, কাল অন্য কারোর কাছে করবে । আর সবাই কিন্তু সুদর্শন হবে না । চিল শকুনের মত ছিঁড়ে খাবে তোমাকে।”
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার বলা কথাগুলোতে যে একটুও মিথ্যে নেই সেটা খুব ভালো করে জানে শ্বেতা নিজেও ।
কলকাতার বাসিন্দা শ্বেতা ভীষণ গরীব পরিবারের মেয়ে । সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পরিচয় দেওয়া শোভনের সাথে বিয়ের সম্বন্ধ টা আসতেই রাজি হয়ে যায় শ্বেতার বাবা । আসলে মেয়ে বস্তি থেকে বেরিয়ে একটা সম্মানের জীবন বাঁচবে, ভালো থাকবে, দুবেলা দুমুঠো ভালো খাবে সেই লোভ টাই হয়ত ছাড়তে পারে নি শ্বেতার বাবা মা । আজ বিয়ের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শোভন ওকে নিয়ে এসেছিল এই রিসর্টে কিন্তু এখন চোখের সামনে যেটা হচ্ছে সেটা দেখে তো শ্বেতার মাথায় রীতিমত আকাশ ভেঙে পড়ছে ।
সামনে দাড়িয়ে থাকা অজ্ঞাত পরিচয় সম্পন্ন ব্যক্তি টি কি আদৌ বিশ্বাস যোগ্য? জানে না শ্বেতা কারণ কিছুক্ষণ আগেই ওর সাথে যেটা হলো……………
“ক……কে আপনি? এ….এই ঘরে কি করছেন? একি? দরজা বন্ধ করছেন কেন? দেখুন আমার স্বামী বাইরে আছে, আমি কিন্তু চিৎকার করব !”
রিসর্টের একা রুমে হঠাৎ করেই এক পরপুরুষের উপস্থিতিতে চমকে ওঠে শ্বেতা । চোখের সামনে লোলুপ দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষটিকে দেখে ভয়ার্ত আওয়াজে কথা গুলো বললো ও ।
“আচ্ছা? চিৎকার করবে? করো ! তবে তোমার সুবিধার্থে বলে দি, তোমার স্বামী শোভন চ্যাটার্জী স্বয়ং তোমাকে একরাতের জন্য আমার কাছে নিজের প্রমোশনের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়ে গেছে ।”
শোভনের পরিবারের মতো একটা আর্থিক সচ্ছল পরিবার ওর মতো একটা নিম্নশিক্ষিত বস্তির মেয়ের মধ্যে বাড়ির বউ করার জন্য এমন কি দেখেছিল সেটা কোনদিনই বুঝে উঠতে পারেনি শ্বেতা কিন্তু বিয়ের পরের এই একটা বছরে হওয়া অকথ্য অত্যাচারে নিজের সব প্রশ্নের উত্তর এমনি পেয়ে গেছিল ও । শরীরের কালশিটে দাগ গুলো আজও ওর প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর বহন করে চলেছে স্পষ্ট ।
সুদর্শনের কথা শুনে শ্বেতার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি টাই সরে গেছিল এক ঝটকায় ।
“বিক্রি করে দিয়ে গেছে মানে? আমি রক্ত মাংসের তৈরি মানুষ একটা ! কোন জিনিস নই যে বিক্রি করে দিয়ে যাবে আমাকে ।”
“সেটা তো আমার থেকে ভালো তুমিই জানবে মিসেস শ্বেতা।”
শোভনের মনে ওর প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা নেই সেটা জানতো শ্বেতা কিন্তু তাই বলে সে যে এতটা নিচে নেমে যাবে ভাবতে পারে নি ও । কিন্তু এখন? এখন কি করবে ও? নিজেকে বাঁচানোর জন্য মুক্তি ভিক্ষা চাইতেই লোকটা অদ্ভুত ভাবে ওকে আশ্বস্ত করতে শুরু করলো । কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না শ্বেতা ।
“তাহলে…………. আ…. আমাকে বাঁচান প্লিজ । নিজের আত্মমর্যাদা আর আত্মসম্মান ব্যতীত আর কিছুই নেই আমার কাছে । দয়া করে এটা কেড়ে নেবেন না । আমাকে মুক্তি পেতে সাহায্য করুন !”
মুক্তি কি আদৌ পাবে শ্বেতা? সুদর্শন ওকে মুক্তি পেতে সাহায্য করলেও এরপর কোথায় যাবে শ্বেতা? কি হবে যখন শোভন জানতে পারবে শ্বেতার মুক্তির পরিকল্পনা? জানতে হলে ক্লিক করুন নিচে দেওয়া লিংকে আর পড়তে থাকুন “অন্য প্রেমের চুক্তি” ।