06/05/2026
🛑আমাদের কিডনি শরীরের ছাঁকনি বা ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, যা প্রতিদিন রক্ত ছেঁকে শরীরের বর্জ্য বের করে দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায়, শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বের হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু যখন কিডনির এই ফিল্টার কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে, তখন সেই প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে আসতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় Proteinuria (প্রোটিনুরিয়া)। মূলত প্রস্রাবে এই প্রোটিনের উপস্থিতির কারণেই অস্বাভাবিক ফেনা তৈরি হয়।
আমরা অনেকেই বিষয়টা খেয়াল করি না। টয়লেট ফ্লাশ করেই দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যাই। যদি এই ফেনা মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে না গিয়ে কিছুক্ষণ পরেও থেকে যায়, তবে তাকে নিছক "স্বাভাবিক" ভেবে অবহেলা করাটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
💧সব ফেনা কি বিপদের লক্ষণ?
অবশ্যই না। সবসময় এই ফেনা মানেই বড় কোনো রোগ নয়। কিছু সাধারণ কারণেও এটি হতে পারে:
১ কম পানি পান করা বা ডিহাইড্রেশন।
২ খুব দ্রুত বা বেগে প্রস্রাব করা।
৩ সাময়িক কোনো শারীরিক পরিবর্তন।
তবে, এটি যদি বারবার বা নিয়মিত হতে থাকে, তবে বিষয়টি আর এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।
যে লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করবেন না
যদি প্রস্রাবে ফেনার পাশাপাশি আপনার শরীরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:
১ প্রায়ই প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া।
২ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ-মুখ বা পায়ে ফোলা ভাব দেখা যাওয়া।
৩ কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বল লাগা।
৪ উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) থাকা।
৫ ডায়াবেটিস (Diabetes) থাকা।
আপনার করণীয় কী?
বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাদের কিডনির ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শে খুব সাধারণ কিছু পরীক্ষা আপনার কিডনির অবস্থা জানাতে পারে:
১. একটি সাধারণ প্রস্রাবের পরীক্ষা বা Urine R/E।
২. কিডনির একটি আল্ট্রাসাউন্ড (Ultrasound)।
এই সাধারণ পরীক্ষাগুলো অনেক সময় বড় কোনো রোগের পূর্বাভাস একদম প্রাথমিক পর্যায়েই ধরে ফেলতে পারে।
আর এঁর পাশাপাশি আপনার খাবার নিয়ে সচেতন থাকুন। বিশেষ করে আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হন তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে আনুন।
মনে রাখবেন, কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা হলো, একেবারে শেষ পর্যায়ে যাওয়ার আগে অনেকেই এটি টেরই পান না। যখন লক্ষণ প্রকট হয়, তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যায়।
তাই নিজে সচেতন হোন এবং সময় থাকতে ব্যবস্থা নিন। লেখাটি শেয়ার করে আপনার পরিচিতদেরও সচেতন করুন, হয়তো আপনার এই ছোট পদক্ষেপটি কাউকে বড় কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করবে।