14/03/2026
প্রতিদিনের মতো আজও রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, প্রতিদিনই মসজিদে নামাজ পড়তে যাই, ঘর থেকে বের হলেই এই জায়গাগুলো চোখে পড়ে মসজিদ, স্কুল, পুকুরঘাট সবই তো সবসময় চোখের সামনেই থাকে। তবু প্রতিদিনের ব্যস্ততায় সেভাবে খেয়াল করা হয় না। কিন্তু আজ হঠাৎই যেন স্মৃতিমাখা এক দৃষ্টি এসে পড়ল সেই চিরচেনা জায়গাগুলোর উপর।
মুহূর্তেই মনে ভেসে উঠল কত শত সোনালি স্মৃতি। মনে হলো সময়টা যেন এক পলকেই পেছনে ফিরে গেল। সেই আবেগঘন মুহূর্তটাকে ধরে রাখতেই স্মৃতির করিডরে একটু থেমে দাঁড়িয়ে তুলে নিলাম কয়েকটি ছবি।
এটাই আমার প্রিয় গ্রাম, আমার জন্মভূমি সুনামগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র ধর্মপাশা উপজেলার বগারপাচুর গ্রাম। এই গ্রামের সবুজ মাঠে, নিরিবিলি ঘাটে, গাছপালার ছায়ায় কেটেছে আমার শৈশবের অসংখ্য দিন। এখানেই বড় হয়েছি, এখানেই জমে আছে জীবনের সবচেয়ে নির্মল স্মৃতিগুলো।
আমাদের বাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরেই অবস্থিত জামে মসজিদটি। ছোটবেলায় মা প্রতিদিন আমাকে মক্তবে পাঠাতেন। রোদ হোক, বৃষ্টি হোক, কিংবা কুয়াশায় মোড়া কনকনে শীতের সকাল কোনো অজুহাতই চলত না। মক্তব থেকে ফিরে এলেই মা ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত সামনে এনে দিতেন। সেই ভাত খেয়েই আবার ছুটে যেতাম স্কুলের দিকে। মজার ব্যাপার হলো, স্কুলটাও ছিল মসজিদের ঠিক পাশেই।
স্কুল ছুটি হলেই বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়ে চলে যেতাম পুকুরের ঘাটে। এক লাফে ঝপ করে পানিতে পড়তাম, তারপর শুরু হতো ডুবাডুবি আর জলকেলি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাপাদাপি করার পর চোখ দুটো আগুন গোলার মতো লাল করে বাড়ি ফিরতাম। এমন দুষ্টুমির জন্য প্রায়ই ধরা পড়তাম দুই জায়গায়, একবার মায়ের কাছে, আরেকবার পরদিন সকালে হুজুরের কাছে। তবুও আমাদের সেই দুষ্টুমি কখনো থামেনি।
কারণ আমাদের সময় শৈশব মানেই ছিল খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ আর অফুরন্ত আনন্দ। তখন মোবাইল ফোনের এই নেশা ছিল না, যা আজকের প্রজন্মকে অক্টোপাসের ন্যায় অদৃশ্য শিকলে বেঁধে ফেলেছে।
আমরাই হয়তো শেষ প্রজন্ম, যারা শৈশবকে সত্যিকার অর্থে শৈশবের মতো করে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি। আজও সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে হৃদয়ের ভেতর এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া জেগে ওঠে। মনে হয় আহা! যদি আরেকবার ফিরে পাওয়া যেত সেই নির্ভেজাল, আনন্দে ভরা সোনালি দিনগুলো।