11/05/2026
কোলেস্টেরল কমাতে চান❓
কোলেস্টেরল বাড়লে রক্তনালীর ভেতরে আস্তে আস্তে চর্বি জমতে থাকে। নালী সরু হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোকের পথ তৈরি হয় নীরবে, কোনো ব্যথা ছাড়াই। তাই এটাকে বলা হয় সাইলেন্ট কিলার।
এখন কথা হলো — কমাবেন কীভাবে?
প্রথমেই খাবার বদলান।
ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, ঘি-মাখন-ডালডা — এগুলো হলো কোলেস্টেরলের সবচেয়ে বড় বন্ধু। আপনি যত বেশি এগুলো খাবেন, রক্তে তত বেশি খারাপ কোলেস্টেরল জমবে। লাল মাংস মানে গরু-খাসি সপ্তাহে একবারের বেশি না খাওয়াই ভালো। বরং মাছ খান বেশি করে, বিশেষত সামুদ্রিক মাছ। মাছের ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড খারাপ কোলেস্টেরল কমায় আর ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়।
শাকসবজি আর ফলমূল বেশি খান। ওটস, ডাল, বার্লি — এই ধরনের খাবারে যে ফাইবার থাকে সেটা অন্ত্র থেকে কোলেস্টেরল শুষে নিয়ে শরীরের বাইরে বের করে দেয়। রান্নায় সয়াবিন তেলের বদলে অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল ব্যবহার করুন।
এরপর আসে হাঁটা।
অনেকে ভাবেন ওষুধ খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে। ওষুধ কাজ করে ঠিকই, কিন্তু হাঁটা ছাড়া পুরো ফল পাওয়া যায় না। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে HDL মানে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে। ভালো কোলেস্টেরল হলো শরীরের ঝাড়ুদার — এটা রক্তনালী থেকে খারাপ কোলেস্টেরল সরিয়ে লিভারে নিয়ে যায়।
ওজন কমান।
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে স্বাভাবিকভাবেই কোলেস্টেরল বাড়ে। বিশেষত পেটের চর্বি সবচেয়ে বিপজ্জনক। মাত্র পাঁচ থেকে দশ শতাংশ ওজন কমালেও কোলেস্টেরলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
ধূমপান ছাড়ুন।
সিগারেট HDL মানে ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। আর রক্তনালীর ভেতরের দেয়াল দুর্বল করে ফেলে, ফলে চর্বি আরও সহজে জমে। ধূমপান ছাড়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই HDL বাড়তে শুরু করে।
কখন ওষুধ লাগবে?
যদি জীবনযাত্রা বদলানোর পরেও তিন থেকে ছয় মাসে কোলেস্টেরল না কমে, অথবা LDL অনেক বেশি থাকে, বা আগে থেকেই হার্টের সমস্যা থাকে — তাহলে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। এই ওষুধ লিভারে কোলেস্টেরল তৈরি কমিয়ে দেয়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ কোনো কঠিন বিষয় না। শুধু দরকার একটু সচেতনতা আর একটু শৃঙ্খলা।