13/05/2026
সম্প্রতি প্রফেসর ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া স্যার তাঁর একটি ফতোয়ায় বলেছেন, “যারা বলে, ‘কুরআনের আয়াত দিয়ে তাবিজ বানানো কিংবা তাবিজ দেওয়া হারাম না’—তারা পথভ্রষ্ট।”
প্রকৃতপক্ষে, স্যারের এই কথা বড়ো ধরনের ভুল। কারণ কুরআনি তাবিজ হারাম, না ‘হারাম না’—তা নিয়ে সালাফদের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত মতভেদ ছিল। একদল সালাফ হারাম বলেছেন, আরেকদল সালাফ হারাম বলেননি। অর্থাৎ, এটি একটি পরিষ্কার ইজতিহাদনির্ভর মাসআলা। এই মাসআলায় কোনো একটি মতকে ‘ভ্রষ্টতা’ আখ্যা দেওয়া কিংবা কোনো একটি মত গ্রহণ করার কারণে প্রতিপক্ষকে ‘পথভ্রষ্ট’ বলা—চরম বাড়াবাড়ি।
·
শাইখ ইবনু উসাইমিন রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১৪২১ হি.) উল্লেখ করেছেন, যেসব সালাফি দাবিদার ব্যক্তি ইজতিহাদনির্ভর মাসআলায় প্রতিপক্ষকে ‘পথভ্রষ্ট’ বলে, তারা নিজেরাই ‘সালাফি’ নয়।
মদিনার ফাকিহ ও উসুলবিদ শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলি হাফিজাহুল্লাহ (জ. ১৩৮৬ হি.) উল্লেখ করেছেন, সুন্নাহপন্থি গ্রহণযোগ্য উলামাদের কথাকে যারা অবলীলায় ‘ভ্রষ্ট কথা’ বলে দেয় এবং সেসব কথা যারা প্রচার করে, তাদেরকে সালাফিয়াত থেকে খারিজ করে দেয়—তারা জাহিল মুরাক্কাব (ডাবল ইগনোরেন্ট) এবং নিকৃষ্ট-জুলুমকারী; উম্মতের মধ্যে এদের অনিষ্ট অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপজ্জনক।
·
শাইখুল ইসলাম ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আন-নাজদি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ১২০৬ হি.) তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘কিতাবুত তাওহিদে’ কুরআনি তাবিজের ব্যাপারে সালাফদের ইখতিলাফ বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন :
«التَّمَائِمُ: شَيْءٌ يُعَلَّقُ عَلَى الأَوْلَادِ عَنِ العَيْنِ، لَكِنْ إِذَا كَانَ مِنَ القُرْآنِ؛ فَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ السَّلَفِ. وَبَعْضُهُمْ لَمْ يُرَخِّصْ فِيهِ، وَيَجْعَلُهُ مِنَ المَنْهِيِّ عَنْهُ؛ مِنْهُمُ: ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه».
“‘তামাইম’ তথা ‘তাবিজ-কবচ’ হলো এমন কিছু—যা বদনজর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে শিশুদের শরীরে ঝুলানো হয়। কিন্তু সেই তাবিজ যদি কুরআনের আয়াত দিয়ে লেখা হয়, তাহলে সালাফদের একদল এতে অনুমতি দিয়েছেন। আর অন্য একদল এতে অনুমতি দেননি; বরং কুরআনি তাবিজকেও নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।” [আন-নাজদি, কিতাবুত তাওহিদ, তাহকিক : আব্দুল মুহসিন আল-কাসিম, পৃ. ১৪৪।]
বিস্তারিত আলোচনা পড়তে কমেন্টবক্স দেখুন।