03/10/2022
পর্দার করার মূল উদ্দেশ্য কি?
পর্দার উদ্দেশ্য হল সম্পূর্ণ শরীরকে পরপুরুষ থেকে আড়ালে বা ঢেকে রাখা, যাতে পরপুরুষের মনে নারীদের সৌন্দর্য দেখে কু-কামনা-বাসনা সৃষ্টি না হয়। এ উদ্দেশে সফলতা লাভের জন্য নিম্নে পর্দার কয়েকটি শর্ত প্রদত্ত হলঃ
(১) মহিলাদের এ ধরনের কাপড় পড়া উচিত, যা সম্পূর্ণ শরীরকে আবৃত করে নেয়, যাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত কোন অংশই দৃষ্টিগোচর হয় না। হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আসমা রা.-কে পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখে বলেছিলেন, হে আসমা! মহিলারা বালিগ হওয়ার পর শরীরের কোন অংশ দৃষ্টিগোচর না হওয়াই সমীচীন। (আবু দাউদ,২/৫৬৭)
(২) পর্দার কাপড় বা বোরকা ইত্যাদি ডিজাইন ও ফ্যাশন সম্পন্ন না হওয়া।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ﻭﻻ ﻳﺒﺪﻳﻦ ﺯﻳﻨﺘﻬﻦ
অর্থ:মহিলারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (সূরা নূর-৩১)
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে- ﻭﻗﺮﻥ ﻓﻰ ﺑﻴﻮﺗﻜﻦ ﺍﻟﺦ
অর্থ:মহিলারা যেন নিজ গৃহে অবস্থান করে, বর্বর যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করে চলাফেরা না করে। (সূরা নূর-৩৩)
(৩) তাদের পরিহিত কাপড় মোটা হওয়া চাই। পাতলা না হওয়া চাই যেন শরীরের গঠন আকৃতি দৃষ্টিগোচর হয়ে উঠে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের শেষপর্বে কিছু মহিলার আবির্ভাব হবে, যারা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকবে। তাদের মস্তক উটের পিঠের কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। (মুসলিম শরীফ-২/ ২০৫)
(৪) কাপড় বা বোরকা ঢিলা-ঢালা হওয়া উচিত। শরীরের সাথে আঁটসাঁট হয়ে লেগে থাকার দরুন শরীর কাঠামো প্রদর্শিত হয় এমন কাপড় পরা নিষেধ। (আহসানুল ফাতাওয়া-৮/ ২৮)
(৫) কোন আতর, সেন্ট, লিপস্টিক মেখে, অলংকার ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক ব্যবহার করে বের হওয়া নিষেধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মহিলারা যখন সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করে কোন সমাবেশের নিকট দিয়া যাতায়াত করে, তখন সে ব্যভিচারিণী মহিলা বলে বিবেচিত হয়। (তিরমিযী ২/ ১০৭)
(৬) মহিলারা পুরুষ সাদৃশ্য পোশাক পরিধান করবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ঐ সব পুরুষ আমার দলভুক্ত নয়, যারা মহিলা সাদৃশ্য পোশাক পরে এবং ঐ সব মহিলা আমার দলভুক্ত নয়, যারা পুরুষ সাদৃশ্য পোশাক ব্যবহার করে। (বুখারী শরীফ-২/ ৮৭৪)
(৭) মু‘মিন মহিলারা কাফের মহিলাদের আকার আকৃতি বা তাদের গঠন প্রকৃতির অনুগামী না হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলা