G FOOD BAZAR BD

G FOOD BAZAR BD We are always ready to provide organic food items.

08/06/2025
01/05/2025

মুসলমান হওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ জীবন যাপনের অপরিহার্যতা

আল্লাহপাক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য এবং ইবাদত করার পদ্ধতি শিক্ষা দানের জন্য কিতাব ও রসুল প্রেরণ করেছেন। হজরত আদম (আ.) প্রথম মানুষ হওয়ার সাথে সাথে ছিলেন প্রথম নবী। বাবা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর আদিবাস ছিল জান্নাত। আল্লাহপাক যখন তাঁদেরকে পৃথিবীতে পাঠান সে সময়ে তাঁরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে অভয় বাণী শোনানো হয় যে তাঁর পক্ষ থেকে প্রদত্ত হেদায়াত যারা অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় নেই। আল্লাহপাকের বাণী, ‘আমরা বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোনো হেদায়াত যাবে তখন যারা আমার সেই হেদায়াত অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় ও দুঃখ-বেদনা থাকবে না’- সূরা বাকারা ৩৮।

মানুষের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অসংখ্য নবী ও রসূল প্রেরণ করা হয় এবং সর্বশেষ রসূল হলেন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সা.)। সকল নবী ও রসূলের একই দাওয়াত ছিল- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)। এটা ছিল এক বিপ্লাত্মক ঘোষণা। এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে সকল রাজা-বাদশা ও তাদের উচ্ছিষ্টভোগী আমলা, পুরোহিত ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী সবাই প্রচণ্ড বাধা প্রদান করেছে। শাসকবর্গ সবাই ছিল আল্লাহপাকের প্রতিদ্বন্দ্বী এক একজন তাগুত। আল্লাহপাকের আহবান ছিল তাগুতকে অস্বীকার করে কেবল তাঁকেই ইলাহ হিসেবে মেনে নেয়া এবং তাঁরই আনুগত্য করার। আল্লাহর বাণী, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাগুতকে অস্বীকার করো’- সুরা নহল ৩৬। তাগুতকে অস্বীকার করে কেবল আল্লাহকে মেনে চলা তখনই সম্ভব যখন জমিনে আল্লাহপাক প্রদত্ত দীন কায়েম থাকে।

আল্লাহপাক সর্বশেষ নবী ও রসূল মুহাম্মদ (সা.) -এর জন্য এক পূর্ণাঙ্গ দীন (জীবনব্যবস্থা) হিসেবে ইসলামকে (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন হলো ইসলাম- আলে ইমরান ১৯) মনোনীত করেছেন এবং আল্লাহপাকের দাবি তাঁর বান্দারা জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম মেনে চলবে। তাঁর বাণী, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা পুরোপুরি ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন’- সূরা বাকারা ২০৮।
পুরোপুরি ইসলাম মানা তখনই সম্ভব যখন আল্লাহর জমিনে তাঁর দীন প্রতিষ্ঠিত থাকে। সকল নবী-রসূলের জীবনের মিশন ছিল জমিনে আল্লাহর দীন কায়েম করা এবং এই একটি উদ্দেশ্যেই আল্লাহপাক এতো নবী-রসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি তোমাদের জন্য দীনের সেসব নিয়ম-কানুন নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নুহকে দিয়েছিলেন এবং (হে মুহাম্মদ) যা এখন আমি তোমার কাছে ওহির মাধ্যমে পাঠিয়েছি। আর যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ইসাকে। তার সাথে তাগিদ করেছিলাম এই বলে যে, দীন কায়েম করো এবং এ ব্যাপারে মতপার্থক্য সৃষ্টি করো না’- সুরা শুরা ১৩। দীন কায়েমের প্রশ্নে কোনো মতপার্থক্য আল্লাহপাক মেনে নেবেন না। দীন কায়েমের পন্থা-প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে কিন্তু দীন কায়েমের প্রচেষ্টা থেকে গাফেল থাকার কোনো সুযোগ নেই। সর্বশেষ নবী ও রসুল মুহাম্মদ সা.- কেও একই দায়িত্ব অর্থাৎ দীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই পাঠানো হয়েছে এবং রসুল সা.-এর সকল কর্ম-প্রচেষ্টা ছিল দীন কায়েমের উদ্দেশ্যে। আল্লাহপাক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কুরআন মজিদের তিন জায়গায় সূরা তওবা (৩৩ নং), সূরা ফাতাহ্ (২৮ নং) ও সূরা সফে (৯ নং) উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর বাণী, ‘তিনি আপন রসূলকে হেদায়াত ও সত্য-সঠিক জীবনব্যবস্থা (দীনে হক) দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে সকল জীবনব্যবস্থার ওপর একে বিজয়ী করে দিতে পারেন, মুশরিকদের কাছে তা যতই অসহনীয় হোক’- সূরা সফ ৯।

দীন কায়েম কোনো একক ব্যক্তি বিশেষের কাজ নয় বা কারো পক্ষে সম্ভবও নয়, এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। পৃথিবীতে কোনকিছুই একক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়নি। জমিনে যেসব মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে তার পেছনে আছে দলবদ্ধ শক্তি। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন দলবদ্ধ প্রচেষ্টা। দীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা-প্রচেষ্টাকে কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে ‘জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’। আল্লাহপাক তাঁর পথে জিহাদকারীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাঁর বাণী, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহপাক তাদেরই ভালোবাসেন যারা সীসাঢালা প্রাচীরের মতো জামাতবদ্ধভাবে লড়াই করে’- সূরা সফ ৪। আল্লাহর পথে জিহাদকারী বান্দাকে সুস্পষ্ট ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে (সূরা সফ ১২।

আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে দায়সারাভাবে নয় বরং হক আদায় করে করার জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে (সূরা হজ ৭৮)। কুরআন মজিদে নানাভাবে আল্লাহর পথে জিহাদের আহবান জানানো হয়েছে। জিহাদের প্রশ্নে আল্লাহপাক মুমিন, কাফের ও মুনাফিক চিহ্নিত করেছেন। তাঁর বাণী, ‘যারা ঈমানের পথ অবলম্বন করেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে। আর যারা কুফরির পথ অবলম্বন করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। কাজেই শয়তানের সঙ্গী- সাথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করো আর বিশ্বাস রেখো, শয়তানের ষড়যন্ত্র আসলেই দুর্বল’- সূরা নেসা ৭৬। এখানে পক্ষ দু’টি- মুমিন ও কাফের। মুমিন মাত্রই আল্লাহর পথে লড়াকু সৈনিক আর কাফের তার বিপরীত তাগুতের পথে প্রচেষ্টাকারী। মাঝামাঝি যদি কিছু থাকে তারা হলো, যারা তামাশা দেখতে চায় যে কে বিজয়ী হয়? এদেরকে মুনাফিক হিসেবে আল্লাহপাক উল্লেখ করেছেন। এ কথা স্পষ্ট যে, কোনো ঈমানদার ব্যক্তি দীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা থেকে কখনই নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখতে পারে না। দীন প্রতিষ্ঠার তাগিদে জামাতবদ্ধ জিন্দেগি যাপনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে এবং মুসলমান হওয়াটা নির্ভর করে জামাতবদ্ধ জীবন যাপনের উপর। তাঁর বাণী, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ভয় করার মতো এবং মুসলমান না হয়ে মরো না। তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না- সূরা আলে ইমরান ১০২-১০৩।

কুরআনের পাশাপাশি হাদিসেও মুসলমান হওয়ার জন্য জামাতবদ্ধ জীবন যাপনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। হজরত হারেস আল আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের পাঁচটি কাজের আদেশ করছি (অন্য রেওয়াতে আছে, আমার আল্লাহ আমাকে পাঁচটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন) (১) জামাতবদ্ধ হবে (২) নেতার আদেশ মন দিয়ে শুনবে (৩) নেতার আদেশ মেনে চলবে (৪) আল্লাহর পথে হিজরত করবে (আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ বর্জন করবে) (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। আর তোমাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি সংগঠন থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে যাবে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলবে, তবে যদি সংগঠনে প্রত্যাবর্তন করে তো স্বতন্ত্র কথা। আর যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের দিকে লোকদের আহবান জানাবে সে জাহান্নামে যাবে। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল (সা.), সালাত কায়েম ও ছিয়াম পালন করা সত্ত্বেও? আল্লাহর রসূল (সা.) বললেন, সালাত কায়েম ও ছিয়াম পালন এবং নিজেকে মুসলিম দাবি করা সত্ত্বেও’ -আহমদ ও তিরমিজি। তিনি আরো বলেছেন, ‘জামায়াতের উপর রয়েছে আল্লাহর রহমত। যে ব্যক্তি জামাত ছাড়া একা চলে, সে তো একাকী দোযখের পথেই ধাবিত হয়’- তিরমিজি। রসূলুল্লাহ (সা.) বড়ো শক্ত কথা বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আনুগত্য পরিত্যাগ করে এবং জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু’ - মুসলিম।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মুসলমান হওয়ার জন্য সবাই মিলে কি একটি দল হতে হবে? জবাবে বলবো, না। রসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে একাধিক দলের কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ রসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য শর্তহীনভাবে ফরজ ছিল। দীন কায়েমের প্রক্রিয়া ও উপায় নিয়ে ভিন্নতা থাকা খুবই স্বাভাবিক। ফলে একাধিক দল বা সংগঠন থাকতেই পারে। তবে দলসমূহের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ থাকা স্বাভাবিক নয় বরং যারা হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহপাকের কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে। আল্লাহর বাণী, ‘তোমরা যেন তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য হেদায়াত পাওয়ার পরও মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। যারা এ নীতি অবলম্বন করেছে তারা সেদিন কঠিন শাস্তি পাবে। যেদিন কিছু লোকের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এবং কিছু লোকের মুখ কালো হয়ে যাবে। তাদেরকে বলা হবে, ঈমানের নেয়ামত লাভ করার পরও তোমরা কুফরি নীতি অবলম্বন করলে? ঠিক আছে, তাহলে এখন এ নেয়ামত অস্বীকৃতির বিনিময়ে আজাবের স্বাদ গ্রহণ করো। আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের আশ্রয় লাভ করবে এবং চিরকাল তারা এ অবস্থায় থাকবে’- আলে ইমরান ১০৫-১০৭।

একামতে দীনের চেতনা না থাকার কারণে আমরা দীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছি এবং আংশিক দীন পালনের মধ্যে আখেরাতের নাজাত তালাশ করছি। বেনামাজি, ঘুষখোর, সুদখোর, অনর্গল মিথ্যা রচনাকারী, খেয়ানতকারী, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী নিরেট মুনাফিক ও পর্দার মতো ফরজ বিধান লঙ্ঘনকারী নারী-পুরুষ সবাই আশা করে যে তারাও জান্নাতে যাবে। অথচ আল্লাহপাকের দাবি আংশিক নয় পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়ার। তাঁর বাণী, ‘তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশ মানবে এবং কিছু অংশ অমান্য করবে, তাহলে দুনিয়ার জীবনে রয়েছে জিল্লতি ও আখিরাতে রয়েছে ভয়াবহ আজাব’- সূরা বাকারা ৮৫। হ্যাঁ, আমরা বিশ্বব্যাপী এখন মান-সম্মান নিয়ে নয় বরং জিল্লতির জীবন যাপন করছি। আল্লাহপাক আমাদেরকে শ্রেষ্ঠতম জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর বাণী, ‘তোমরা শ্রেষ্ঠতম জাতি, তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য, তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে’- সূরা আলে ইমরান ১১০। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব যাদের হাতে মূলত মান-সম্মান সব তাদেরই এবং ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা তাদের পক্ষেই সম্ভব। আল্লাহপাক শুধুমাত্র একটি ভূখণ্ডের নেতৃত্বে ঈমানদারদেরকে দেখতে চান না বরং বিশ্বনেতৃত্বে মুসলমানদের সমাসীন দেখতে চান যাতে সকল অনাচার দূর করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

আমাদের মাঝে এক বিরাট জনগোষ্ঠী মনে মনে প্রশান্তি খুঁজে যে তারা রাজনীতি করে না। অথচ সকল নবি-রসুলের সাথে শাসকগোষ্ঠীর শত্রুতার মূলে ছিল রাজনীতি। শাসকগোষ্ঠী স্পষ্ট বলেছে, নবী-রসূল দাবিদাররা তাদের সমাজব্যবস্থা পরিবর্তন করে দিতে চায় অর্থাৎ সমাজের নেতৃত্ব থেকে তাদেরকে উৎখাত করতে চায়। মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় যাওয়ার প্রাক্কালে আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাঁর নবিকে দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন, ‘তোমার পক্ষ থেকে একটি কর্তৃত্বশীল পরাক্রান্ত শক্তিকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও (সুলতানান নাসিরাহ)’- সুরা বনি ইসরাইল ৮০। সমাজে যতো অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন সবকিছুর মূলে রয়েছে অসৎ নেতৃত্ব এবং রসুলের আগমন ছিল অসৎ নেতৃত্ব দূর করে সেখানে সৎ নেতৃত্ব কায়েম করা। একটি সমাজে তখনই সুবিচার কায়েম করা সম্ভব যখন সেই সমাজে আল্লাহর আইনের পাশাপাশি সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়।

দলবদ্ধ জীবন যাপনের হাতে-কলমে অনুশীলন হলো জামাতে নামাজ। ঈমান আনার পরে একজন ব্যক্তির প্রথম দায়িত্ব হয় নামাজের জামাতে হাজির হওয়া। আল্লাহপাক নামাজ জামাতের সাথেই ফরজ করেছেন। ওজর ছাড়া একাকী নামাজের কোনো সুযোগ নেই। রসূলুল্লাহ (সা.) একজন অন্ধ সাহাবিকেও একাকী নামাজ আদায়ের অনুমতি দেননি। জামাতে নামাজ আদায় করলে ইমামের অধীন মুসল্লিদের নামাজে কোনো ভুল নেই; ভুল হবে তখনই যখন ইমামের আনুগত্যের ক্ষেত্রে ত্রুটি হয়। ইমামের আনুগত্যের একটি সীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ইমাম ফরজ লঙ্ঘন করলে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হয়; ওয়াজিব ভুল করলে সহু সেজদা দিতে হয় এবং এর নিচে সুন্নাত- মুস্তাহাবের ভুল বিবেচনা যোগ্য নয়। দৈনিক পাঁচবার জামাতবদ্ধভাবে নামাজ এবং নেতার (ইমাম) আনুগত্যের জীবনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রত্যেক মুসলমান নিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের কোনো চেতনা নেই। না আছে নিজেদের মাঝে কোনো ভ্রাতৃত্ববোধ, আর না আছে ইমামকে মেনে চলার কোনো অনুভূতি, আর না আছে সমাজ থেকে অন্যায় দূর করার কোনো পরিকল্পনা। অথচ মহল্লায় কয়েকজন যুবক সপ্তাহে একদিন একত্রিত হলে মানুষ তাদের সমীহ করে চলে। বলাবলি হয়, ঐ যুবকগুলো সংঘবদ্ধ, ওদের একজন লিডার আছে এবং প্রতি সপ্তাহে ওরা একত্রিত হয়। আর আমরা আল্লাহর ঘরে প্রতিদিন পাঁচবার মিলিত হই এবং আমাদের নেতার (ইমামের) আনুগত্যের একটি মহড়া দেই। সাথে সাথে নেতা আমাদের কাছ থেকে মহান আল্লাহপাকের গোলামি (ইবাদত) করার প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। ইমাম সাহেবের সূরা ফাতেহা পাঠ শেষে আমরা মুসল্লিরা সমস্বরে বলে উঠি ‘আমিন’। অথচ মসজিদ থেকে বের হয়েই প্রতিশ্রুতি ভুলে আমরা দাসত্ব করি নিজের নফস, আল্লাহ ছাড়া দেয়া অন্য কোনো নিয়ম বা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের।

সমাজে হাজারো অন্যায়-অবিচার, জুলুম- নির্যাতন ও অশান্তির মূলে রয়েছে অসৎ, খোদাবিমুখ ও দুষ্টু প্রকৃতির লোকের কর্তৃত্ব। দীন কায়েমের অর্থ হলো আল্লাহপাক প্রদত্ত আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। রসূলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ তেরোটি বছর মক্কায় নিরলসভাবে মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর ও তাঁর সাহাবিদের মক্কায় অবস্থানে সমাজের পাপাচার ও জুলুম-নির্যাতন দূর হয়নি কারণ সে সময়ে মক্কার কর্তৃত্ব ছিল আবু জেহেল ও আবু লাহাবের মতো দুর্বৃত্তদের হাতে। কিন্তু যেদিন বিজয়ীর বেশে মুহাম্মদ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করলেন সেদিন দূরীভূত হলো কাবা থেকে সমস্ত মূর্তি এবং সমাজ মুক্ত হলো সকল জুলুম-নির্যাতন ও পাপাচার থেকে। আল্লাহপাকের ঘোষণা, যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসলো তখন দেখলে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনের মধ্যে শামিল হচ্ছে (সূরা নসর)। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ছাড়া কখনো কোনো আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় না ঠিক তেমনি ইসলামও তার অনুসারীদের কাছে দাবি করে সকল মতাদর্শের উপর তাকে বিজয়ী করার। দীনকে বিজয়ী করার প্রচেষ্টা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয় প্রয়োজন দলবদ্ধ প্রচেষ্টা। আল্লাহপাক মুসলিম উম্মাহকে উপলব্ধি দান করুন এবং সকল ভয়-ভীতি, দুর্বলতা ও দুনিয়াপ্রীতি উপেক্ষা করে জামাতবদ্ধ হয়ে প্রচেষ্টা চালনার তৌফিক দান করুন।

27/04/2025

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ড. ইউনূস সরকারকে অপ্রিয় করবে

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনে অতটা সক্রিয় না হলেও কুরআন-হাদিসের বিরুদ্ধে কেহ কোনো কিছু বললে বা করতে চাইলে তারা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে এবং ঈমানের দাবি অনুসারেই তারা সেটি করে। দেশ মাত্র স্বাধীন হয়েছে এমন সময়ে দাউদ হায়দার কবিতায় একই সাথে গৌতম বুদ্ধ, যিশুখৃষ্ট ও মুহাম্মদ (সা.)-কে গালি দিলে বাংলাদেশ ফুঁসে উঠে এবং সমগ্র বাংলাদেশ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে। আমরা তখন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র। কী বিশাল মিছিল! শেখ মুজিব দ্রুত তাকে দেশ থেকে বের করে দেন। তসলিমা নাসরিনও ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে টিকতে পারেনি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন মাত্র তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এই কমিশন জেনা-ব্যাভিচারকে একটি কর্ম হিসেবে উল্লেখ করে যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে যৌনকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দানের কথা বলেছেন। ইসলামের উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন করে নারী ও পুরুষের সমতা আনয়নের কথা বলেছেন। আরো অনেক বিষয়ে অবান্তর কথাবার্তা বলেছেন। যারা সরাসরি কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন তাদের মুসলমান থাকার কোনো অধিকার নেই।

ইসলাম নারীকে যতখানি সুরক্ষা দান করেছে তা অতীতে কখনো কেহ দিতে পারেনি এবং সম্ভবও না। পাশ্চাত্য যা করেছে তা নারীকে ভোগের সামগ্রীই মাত্র করেছে এবং তাদের পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়েছে। পাশ্চাত্যে ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষ অপেক্ষা নারী অগ্রগামী। তারা সুখ -শান্তি খুঁজছে ইসলামের মাঝে। ইসলাম নারীকে মা, কন্যা, বোন ও স্ত্রী হিসেবে যে মর্যাদা দান করেছে তা অতুলনীয়। আল্লাহর রসুল মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত, পিতা অপেক্ষা মায়ের মর্যাদা তিনগুণ; যে নারীর প্রথম সন্তান কন্যা সে নারী ভাগ্যবতী, তিনি আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি, দু’টি বা একটি কন্যাকে যত্নের সাথে লালন-পালন করবে এবং সুপাত্রে পাত্রস্থ করবে কেয়ামতের দিন তার ও আমার অবস্থান হবে একসাথে (একথা বলতে গিয়ে তিনি দুটি আঙুল একত্রিত করে দেখান)। একজন নারী পিতার সংসারে পূর্ণ নিরাপদ, ভাইয়ের সংসারে-স্বামীর সংসারে ও সন্তানের কাছেও সম্পূর্ণ নিরাপদ। অনিরাপদ একজন জাহেলের কাছে (যে ইসলাম মানে না) হোক সে পিতা, ভাই, স্বামী ও সন্তান। সদাচরণের শিক্ষা ইসলাম যতটা দিয়েছে তা আর কেহ দিতে পারেনি। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। তিনি আরো বলেছেন, কিয়ামতের দিন স্ত্রীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। একজন মুসলিম কোনভাবেই মানুষের প্রতি জুলুম করতে পারে না। ইসলামে সদাচরণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিজের পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনকে অগ্রাধিকার দান করা হয়েছে।

কিছু মানুষ সে পুরুষ হোক বা নারী হোক সুযোগ পেলেই ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এরা আসলে বাম চিন্তাধারার এক একজন নাস্তিক। তারা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে সাধারণ নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন না। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম সেসময়ে আমাদের অনেক সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধবকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট দেখতাম। ছাত্র ইউনিয়ন দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল- মস্কোপন্থী ও পিকিংপন্থী। মস্কোপন্থী যারা তারা ছিল ভারতঘেষা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার এক রুমমেট ছিল ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতা। জুমার নামাজ পড়তো। আসলে ইসলামের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ ছিল না এবং কথাবার্তায় ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ পেত। আমরা তাদেরকে নাস্তিক হিসেবেই জানতাম। তাদের দলে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি এবং তাদের মাঝে অবাধ মেলামেশা ছিল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদের পদচারণা বেশি থাকতো। ক্যাফেটারিয়ায় তাদের নিয়মিত আড্ডা হতো এবং সংস্কৃতি চর্চার (কবিতা-গান-বিতর্ক) পাশাপাশি জ্ঞানচর্চাও তাদের মাঝে ছিল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় তাদের ঝোঁক ছিল। ক্যারিয়ার গঠনে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়ার কারণে রাজনীতির অঙ্গনে তাদের অবস্থান কখনই ভালো ছিল না বরং সবসময় বড়ো দলের উপর ভর করে চলতো এবং তাতে বড়ো দলগুলোকে মাশুলও দিতে হয়েছে।

স্বাধীনতাত্তোর শেখ মুজিবকে বাকশাল গঠন এবং ভারতঘেষা হয়ে উঠার ক্ষেত্রে বামপন্থীদের বড়ো ভূমিকা ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন গণতন্ত্রী এবং জনগণের ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে তিনি তাঁর দলকে দ্রুত সাধারণ জনগণের কাছে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক। বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব বাম চিন্তাধারার লোকদের হাতে এবং তারা ক্রমান্বয়ে ভারতপ্রেমী হয়ে পড়ছেন। এগুলো ঘটে বিশ্বাস থেকে। বিএনপির বাইরে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। বিএনপির কর্মীদের কোনো নৈতিক প্রশিক্ষণ না থাকায় ৫ই আগস্ট বিপ্লবের পর নিজেদেরকে আর নীতি নৈতিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখতে পারেনি। তাই নানা অপকর্মে তারা জড়িয়ে পড়ে এবং দল অনেককে বহিষ্কারসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কর্মীদের ধরে রাখা এবং জনগণের মাঝে তাদের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ভয়েই বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চায়। কিন্তু জন আকাঙ্ক্ষা নির্বাচনের পক্ষে নয়। দেশে যে বিশাল বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা কাজে লাগানো এবং পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে জনগণ ড. ইউনূস সরকারকে আরো কিছুদিন চায়।

শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ এতটা ইসলাম বিদ্বেষী ছিল না। আওয়ামী লীগের কর্মীদের দাবি তাদের নেত্রী নিয়মিত কুরআন পড়েন ও তিনি তাহাজ্জুদ গুজার। যাদের নামাজ ও কুরআন পাঠ পাপাচার ও জুলুম থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না তাদের নামাজ ও কুরআন পাঠ স্রেফ ধোকা এবং এটি মুনাফিকের চরিত্র। এরা আখেরাত অপেক্ষা দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দান করে। দুনিয়াকে অধিকভাবে পাওয়ার লোভে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ফলে এক একজন দানবে পরিণত হয়। ১৯৯৬-এর আওয়ামী লীগ এবং পরবর্তী সময়ের আওয়ামী লীগ এক নয়। এর পেছনে কারণ হলো চারদলীয় জোট সরকার এবং চার দলে জামায়াতের অবস্থান। সেসময়ে ঘাদানির তৎপরতা এবং এটি ছিল ভারত ও বামদের প্রচেষ্টার ফল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সকল বামের একই তৎপরতা যে ইসলাম ঠেকাও। আমার মনে পড়ে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিজয় লাভের পরে চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিকরা শেখ হাসিনাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা হেসে বলেন, জনগণ তাঁকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে জবাব দিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা এড়িয়ে যেতে চাইলেও ভারত ও বামরা (তাদের হাতে প্রচার যন্ত্র) তাঁকে বাধ্য করেছে এক ভূয়া বিচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে এক নিকৃষ্টতম শাসকে পরিণত করতে। এতো গুম-খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সম্পদ পাচার হয়তো বর্তমান সময়ে দ্বিতীয়টি নেই।

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট স্পষ্টত বামদের চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশ। ইসলামের উত্তরাধিকার আইন স্বয়ং আল্লাহপাক প্রদত্ত। এখানে রসুল (সা.)-এর কোনো অংশ নেই। আল্লাহপাক সবিস্তারে কুরআনে উল্লেখ করেছেন। একজন পুরুষ দুইজন নারীর সমান- এতটুকু প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই কঠিন। নানা ছলেবলে নারীদের বঞ্চিত করা হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নারীকে আল্লাহপাক প্রদত্ত অধিকারটুকু নিশ্চিত করা। আমরা যদি বলি কমিশনে যারা ছিলেন সবাই ইসলাম বিদ্বেষী ও নাস্তিক সেটি কি ভুল হবে? নাস্তিক না হলে মহান আল্লাহপাকের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। এই রিপোর্টের পক্ষে সব বামরা একাট্টা হয়ে নানা যুক্তি দেখাবে ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জোর দাবি জানাবে। অন্যদিকে সকল ইসলামপন্থী দল ও জনতা একযোগে রুখে দাঁড়াবে এবং এটিই স্বাভাবিক ও ঈমানের দাবি। সরকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার সাথে সাথে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সরকারের জনপ্রিয়তার ভীত হলো ইসলামপন্থী জনতা এবং এই জনতা প্রকাশ্যে কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থানকে কোনভাবেই মেনে নেবে না। যেমন মেনে নেয়নি দাউদ হায়দার ও তসলিমা নাসরিনকে।

জেনা-ব্যাভিচার অত্যন্ত ঘৃণ্য ও লজ্জাজনক- তা সকল ধর্ম-লিঙ্গ নির্বিশেষে মনে করে। পাশ্চাত্য সমাজ ও আমাদের সমাজ এক নয়। হিন্দু ও মুসলিম সমাজে নগ্নতা-অশ্লীলতা পছন্দনীয় নয়। জেনা-ব্যাভিচারকে একটি কর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দান কোনো সভ্য, ভদ্র, রুচিশীল ও বিবেকবান মানুষ কখনই মেনে নিতে পারে না। শতকরা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে এ রকম একটি রিপোর্ট কখনই বিবেচনাযোগ্য হতে পারে না। এই সরকারকে অপ্রিয় করা প্রতিবেশী দেশ ও বাম ঘরনার বুদ্ধিজীবীদের এক কৌশল হতে পারে। এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত রয়েছে কি না সরকারকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। দেশ-বিদেশে ড. ইউনূসের ইমেজের কারণে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ড. ইউনূসের পক্ষে ছাত্র-জনতা দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায় এমন রিপোর্ট দিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করা দেশপ্রেমিক কারো কাম্য হতে পারে না। এই রিপোর্ট বাতিল বা প্রয়োজনীয় সংশোধনের লক্ষ্যে ইসলামিক স্কোলারদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

23/04/2025

৫৩১০. আবদুল্লাহ ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। উমার (রা) সিরিয়া যাত্রা করলেন। 'সারগ' নামক স্থানে পৌঁছে তিনি খবর পেলেন যে, সিরিয়ায় মহামারী দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) বলেন, রসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন: যখন তোমরা শোন যে, কোন জায়গায় মহামারীর প্রাদুর্ভাব হয়েছে তোমরা সেখানে যেও না। আর কোন জায়গায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটলে এবং তোমরা সেখানে থেকে থাকলে সেখান থেকে পালিয়ে যেও না।
সহীহ আল বুখারী - ৫৩১০

21/04/2025

"যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।" — সহীহ বুখারী: ২৪৪২।

আমরা তো কেউই ফেরেশতা নই। নিজেদের কাঁধেই অসীম গুনাহের গুরুভার নিয়ে বসে আছি। এমতবস্থায় যখন আমাদের সামনে অন্যের কোনো দোষত্রুটি হাজির হয়ে যায়, আমরা কি এই হাদিসটির কথা স্মরণ করি? সেসময় কি মনে করি যে তার এই দোষটা প্রচার না করে গোপন রাখাটা আমার জন্য একটি সুসংবাদ হতে পারে? এ যাবত না করলেও এখন থেকে করি এই ছোট্ট আকারের মহৎ কাজটি। অন্যের কথা ভেবে না-ই করলাম। অন্ততঃ নিজেদের আখিরাতের প্রতিদানের আশা রেখে করি।

দুনিয়া নেহাৎই প্রতিযোগিতার জায়গা। তবে আমরা যেভাবে নিজেরা আপ্রাণ চেষ্টা নিয়ে উপরে ওঠার আর অন্যদের টেনে হিঁচড়ে নিচে নামানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত আছি, এই প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের দুনিয়াতে পাঠানো হয়নি। পাঠানো হয়েছে সৎকাজের প্রতিযোগিতা করতে (সূরা বাক্বারা: ১৪৮/সূরা আল-ইমরান: ১৩৩)।

19/04/2025

তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আলে ইমরান-১০৩)
۱ - وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلاَ تَفَرَّق

উচ্চারণঃ (ওয়া'তাছিমু বিহাবলিল্লাহি জামিআঁও ওয়ালা তাফাররাক্।)

আসসালামু আলাইকুম। আপনি কি আপনার বাবা-মাকে সুস্থ রাখতে শতভাগ খাঁটি চাকের মধু খাওয়াতে চান?আপনি কি আপনার আদরের ছোট্ট সন্তান...
03/04/2025

আসসালামু আলাইকুম।
আপনি কি আপনার বাবা-মাকে সুস্থ রাখতে শতভাগ খাঁটি চাকের মধু খাওয়াতে চান?
আপনি কি আপনার আদরের ছোট্ট সন্তানের মুখে হাসি ☺ ফোটাতে শতভাগ খাঁটি চাকের মধু খাওয়াতে চান?

তাহলে নিশ্চিন্তে আমাদের নিজের ভাংগা চাকের এই মধু নিতে পারবেন ইং-শা-আল্লাহ।

১ কেজি: ১৫৫০/-
২ কেজি: ২৮৫০/-
৩ কেজি: ৪০৫০/-

ডেলিভারি চার্জঃ
ঢাকার মধ্যে প্রথম কেজি: ৬০/-
পরবর্তী প্রতি কেজি: ২০/-

ঘি প্রতি কেজি ১৬০০ এর পরিবর্তে এখন পাচ্ছেন মাত্র ১৪০০ টাকায়।

ঢাকার বাহিরে ডেলিভারি চার্জঃ
প্রথম কেজি: ১০০/-
পরবর্তী প্রতি কেজি: ২০/-

আমাদের যেকোনো প্রডাক্ট হাতে পাওয়ার পরে খুলে খাবেন। খেতে ভালো লাগলে তবেই ডেলিভারি ম্যানের হাতে টাকা দেবেন এবং আপনার কাংখিত মানের প্রডাক্ট রেখে দিবেন।

যোগাযোগ:
G Food Bazar
Mirpur, Dhaka-1216
Mobile: 01984264694

Address

Shop No-04, Road No-05, Block-A, Mirpur-01, Dhaka
Mirpur
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when G FOOD BAZAR BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to G FOOD BAZAR BD:

Share