21/12/2025
#গল্প
#হারিয়েছি_তোমাতেই
#ইস্পেশাল
#পর্ব১১
মাহতীন তিথির হাত ধরে বসে আছে।কিছুক্ষণ আগেই তিথি ঘুমিয়েছে আবার।ওষুধের প্রভাব এখনো কাটে নাই।
একটু আগে যদিও জেগে গিয়েছিল তবে মাহতীন এর মনে হচ্ছে ও সজ্ঞানে ছিল না। নইলে তিথি যে মানুষ এত দ্রুত মাহতীনকে মাফ করে দিয়ে বা তার অভিমানের পাহাড় ভেঙ্গে আবার আগের মত আপন করে নেবে না।
মাহতীন তিথির মুখের দিকে তাকাইলো।তার মায়াবতী,তার কতটা কাছে।মাহতীন তিথির হেজাবের উপর দিয়ে মাথায় হাত রাখলো একটু ঝুঁকে গিয়ে পরম আবেশে তিথির কপালে গারো চুম্বন এঁকে দিল। মাহতীন তার প্রেয়সী কে প্রথমবারের মতো চুম্বন করল ভালোবাসাময় চুম্বন।
( বলা হয়ে থাকে কপালে চুমু দিলে নাকি ভালোবাসা প্রকাশ পায়। )
মাহতীন কিছুটা সময় নিয়েই তিথির কপালে ঠোট
ছোঁয়ালো। মাহতীন তিথির হিজাব খোলে নাই কারণ সে চায় না সে ছাড়া অন্য কেউ তার বউয়ের চুল দেখুক।
এরমধ্যেই দরজা খোলার শব্দ হলে মাহতীন তিথির থেকে সরে এসে দাঁড়ালো । মাহতীন দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল আহান খান কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করছে।
মাহতীন অবাক হয়ে:
----- আঙ্কেল আপনি এখানে?? আপনি জানলেন কিভাবে??
রাতুল ভিতরে প্রবেশ করতে করতে বলল :
----- আমি বাবাকে জানিয়েছি।
মাহতীন রাতুলের দিকে তাকালো কিছু না বলেই সরে দাঁড়ালো আহান খানকে বসার জায়গা করে দিল। আহান খান বসতে বসতে মাহতিনের উদ্দেশ্যে বলল :
---- অনেক তো হলো। এবার না হয় আমায় পদোন্নতি করে দাও।আঙ্কেল থেকে বাবা ডাক শোনার জন্য অপেক্ষা করে আছি তোমার মুখ থেকে ।
মাহতীন:
------ আমি চেষ্টা করব আংকেল। তবে হ্যাঁ কথা দিলাম আপনার মেয়ে যেদিন আমাকে মেনে নিবে তারপর থেকে আপনাকে আর অভিযোগ করার সুযোগ দিব না আর আঙ্কেল ডাকবো না।
রাতুল চোখ ছোট ছোট করে মাহতীনের দিকে তাকালো। তিথি ওনার উপর রাগ অভিমান করে আছে।তার উপরে উনি ছয় বছর ধরে ছিল নাহ।কোনো যোগাযোগ রাখেনি এমনকি ফোনেও কন্টাক্ট রাখে নাই। তিথি কোনভাবেই মাহতীন ভাইকে মেনে নেবে না। রাতুলের দৃঢ় বিশ্বাস আছে নিজের সোনা বাচ্চার উপর।
আহান খান:
------ তোমরা তিনজন আমার বাচ্চা।আমার পৃথিবী।আমি তোমাদের তিনজনের ভালো চাই।তোমাদেরকে সুখে দেখতে চাই।
মাহতীন ওনার কথাই সম্মতি দিলেন। রাতুল আবেগী হয়ে আহান খান কে বাবা বলে জড়িয়ে ধরলো ভাব এমন এখন ই কেঁদে দিবে। আহান খান ও হেসে রাতুল কে জড়িয়ে নিলেন। পিঠে থাবা দিয়ে বললেন:
----- আমার দুষ্টু বাচ্চা,তোমাকে দুষ্টুমিতেই মানায় কান্নাতে নয় কখনো কাঁদবে না।
মাহতীন ওদের দুজনকে এভাবে দেখে মৃদু হেসে আহান খানের থেকে পারমিশন নিয়ে কেবিন ত্যাগ করল। বাইরে নীলাকে কাচুমাচু হয়ে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল :
------ নীলা মণি বাইরে একা একা কি করছো?? ভেতরে যাও তোমার বান্ধবীর কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরবে ওর পাশে থেকো।
নীলা বাধ্য মেয়ের মত আচ্ছা বলে কেবিনে প্রবেশ করল।
মাহতীন ফোন বের করে কাউকে কল দিয়ে কিছু বলে চোখমুখ শক্ত করে হসপিটাল ত্যাগ করল।দেখে মনে হচ্ছে অত্যাধিক রেগে আছে।না জানি কে তার রাগের শিকার হবে।
____________________
একটি অন্ধকার ঘরে একটি ছেলের চোখ বেঁধে হাত চেয়ারের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। ছেলেটি চিল্লিয়ে বলছে :
----আমাকে কেন ধরে এনেছো ছেড়ে দাও আমাকে। আমি কি করেছি??আমাকে কেন ধরে এনেছো কার এত বড় সাহস আমাকে ধরে এনেছো??
একটু আগে
আরহামের রাতুল আর রবিনের থেকে মার খেয়ে মুখ কিছুটা ব্যথা হয়ে গেছে ও একটি দোকান থেকে মুখে বরফ লাগাচ্ছিল সেই সময় কিছু ছেলেপেলে এসে জিজ্ঞাসা করে:
---- আপনি কি আরহাম????
---- হ্যাঁ আমি আরহাম কিছু বলবেন??
ছেলেপেলেগুলো আর কিছু না বলে পারাপারি করে আরহামকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল জোর করে।
বর্তমান
আরহাম চিল্লাপাল্লা করছে যাতে ওকে ছেড়ে দেয়।
আগন্তুক :
------ তোর কলিজায় জোর আছে বলতে হবে।না হলে তুই আমার জানের গায়ে হাত দিস এত সাহস তোর ।
আরহাম:
----- দেখুন আপনার ভুল হচ্ছে আমি আপনার জান কে চিনি না। না আমি আপনার জানের গায়ে হাত দিয়েছি।আমাকে ছেড়ে দেন।
আগন্তক রেগে গেল:
------ ন্যাকা সাজা হচ্ছে?? তোকে ছেড়ে দেবো বলে ধরে নিয়ে আসি নাই।তুই আমার জানের গায়ে হাত দিয়েছিস এর পরিণাম তো তোকে ভুগতেই হবে।
আরহাম কিছু বলার আগেই নিজের গালে শক্ত পোক্ত হাতের থাপ্পর অনুভব করল। আগন্তুক আরহামকে একের পর এক থাপ্পড় মেরে যাচ্ছে দুই চারটে নয় দশ বিশটা নয় গুনে গুনে ১০১ টা থাপ্পড় পড়েছে আরহামের গালে। আরহামের মনে হচ্ছে তার গাল ছিড়ে যাচ্ছে গাল ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে। তার পরেও যেন আগন্তকের রাগ মেটে নাই। আগন্তকের হাত রক্তিম আভা ধারণ করেছে। গায়ের জোরে থাপ্পর মারার কারণে তারও হাত জ্বলছে। তারপরও তাকে দেখে মনে হচ্ছে না তার রাগ ক্ষান্ত হয়েছে।
আগন্তুক :
------ আমাদের চিনে রাখ। আমরা ডেঞ্জারাস ডেভিল বয়েস।
তোর যম।
আরহাম কথা বলতে পারছে না মনে হচ্ছে কথা বললে গাল খুলে পড়ে যাবে। আগন্তুক আবার আরহাম এর ডান হাতটি ধরে চিল্লিয়ে বলে উঠলো :
----- এই হাত দিয়েই তুই থাপ্পড় মেরে ছিলে তাই না। এই সিয়াম একটা ধারালো কিছু নিয়ে আয় তো। ওর এই হাত আমি আজ কেটে ফেলবো।এত বড় সাহস আমার জানের গায়ে হাত তোলে।না থাকবে হাত না থাকবে ঝামেলা।
আরহামের ভয় এ গা ছ্যানাৎ করে উঠলো । কি বলছে এই লোক আরহামের হাত কেটে ফেলবে। আরহাম চিল্লিয়ে উঠলো :
------ না প্লিজ আমার হাত কাটবেন না আমি আর কখনো কাউকে মারবো না।
আরহাম এতক্ষণে বুঝে গেছে ও যে তিথিকে মেরেছে তারই শাস্তি ভোগ করছে।কিন্তু কে ওকে মারছে?চোখ বাঁধা থাকাই না দেখতে পাচ্ছে না বুঝতে পারছে। তবে এটা বুঝতে পেরেছে যে তিথির গায়ে হাত তোলা ওর ভুল হয়ে গেছে। ফার্স্টে রাতুল তারপরে রবিন এখন এই আগন্তক। তিথি কি আসলেই জাদু জানে। একবার ওর গায়ে হাত তোলায় এখন আরহামকে এত শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।
আগন্তক পাগলের মত করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে আরহামের হাত কাটতে গেলে সিয়াম চিল্লিয়ে উঠে জোর করে তাকে ধরে সেখান থেকে নিয়ে গেল এবং ইশারায় ছেলেপেলেদের বলল ওকে ছেড়ে দিতে। যথেষ্ট হয়েছে ট্রিটমেন্ট করানোর জন্যও বলে গেল।
আরহামকে একটি হসপিটালের সামনে নিয়ে এসে ছেড়ে দেওয়া হল। আরহাম ছাড়া পেয়ে নিজের চোখের কাপড় সরিয়ে দেখলো সে হসপিটালের সামনে। তার আপাতত ট্রিটমেন্ট দরকার এজন্য সে হসপিটালের ভিতরে ঢুকে গেল।
__________________
অন্যদিকে
সিয়াম মাহতীন কে টেনে ছাদে নিয়ে আসলো।একমাত্র সিয়ামই জানে তিথির বিষয় উঠলে মাহতীন কেমন অন্যরকম হয়ে যায়।নিজের মধ্যে থাকে না।শান্ত সৃষ্ট ছেলেটি রাগের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাই।
সিয়াম:
-------মাহতীন পাগল হয়েছিস তুই??? কি করতে যাচ্ছিলি আমি না আটকালে তো জেলের ভাত খাওয়া লাগত তোর।
মাহতীন রাগী সুরে বলল :
------ হ্যাঁ হ্যাঁ আমি পাগলই হয়েছি। তুই ভাবতে পারছিস সিয়াম ওই ছেলেটার জন্য আমার মায়াবতী আমার জান বাচ্চাটা আজকে কতটা কষ্ট পেয়েছে।আমি ওর সাথে থেকেও কিছু করতে পারি নাই। যার জন্য আমি ছয়টা বছর ওর থেকে দূরে ছিলাম।ওর গায়ে একটা ফুলের টোকাও আমি করতে দেই নাই।আর আজ ওই ছেলে কি করলো??
মাহতীন নিজের বুকে হাত দিয়ে দেখালো :
-----ও আমার এই জায়গায় কষ্ট দিয়েছে সিয়াম।ও আমার এই জায়গায় খুব করে কষ্ট দিয়েছে।
সিয়াম ওর বন্ধুর পাগলামি এর আগেও দেখেছে ও মাহতীন কে সামলানোর জন্য বলল :
------- কেন এত পাগল তুই ওই মেয়েতে? কি আছে ওই মেয়ের মাঝে??
মাহতীন এর যেন প্রশ্নটা পছন্দ হলো না :
----মায়া। ভীষণ ভীষণ মায়া।
সিয়াম:
----- ওর থেকেও আরো সুন্দর আর ভালো মেয়ে আছে। তুই.....
সিয়াম কে কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে মাহতীন বলল :
------ আমার সুন্দর চাই না।আমার ওকেই চাই।
"হাজারো সুন্দর নারীর মাঝে
আমি শুধু আমার মায়াবতীতেই আটকায়।
সবাই তো সৌন্দর্য এ আটকায়
আমি আটকে গেছি মায়ায়।"
সিয়াম আর কিছু বলল না।সে জানে এই পাগলকে কিছু বলেও লাভ নেই। তার পাগলামি গত ছয় বছর ধরে দেখে আসছে সে।
মাহতীন :
-------সিয়াম।
সিয়াম:
---- হা বল।
মাহতীন:
---- জানি আমার কথা তোর ভালো লাগছে না।
তবে নির্দিষ্ট কারোর মায়ায় আটকে গেলে পৃথিবীর কাউকে আর ভালো লাগবে না।মিলিয়ে নিস।
সিয়াম:
------ ঠিক আছে প্রেম গুরু তুমিই ঠিক আমিই ভুল প্লিজ এবার শান্ত হও।
সিয়াম কে পরাজিত হতে দেখে মাহতীন নীরবে হাসলো।
মাহতীন আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল:
----- জানিস সিয়াম আজকে আমার মায়াবতী আমাকে
মুনসাইন বলে ডেকেছে। তার দেওয়া ফার্স্ট ডাকনাম। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ও বলেছে আমি ওর মুনসাইন।
সিয়াম:
------- মামা তোর প্রেম দেখে আমার মনে হয় আমি প্রেম নয় কিস্তি টানি। এত প্রেম তোর মধ্যে কেমনে আসে???
মাহতীন রেগে গিয়ে:
---- সিয়ামের বাচ্চা তোকে কতবার বলবো যে আমাকে মামা ডাকবি না।
সিয়াম হাসিমুখে দৌড়াতে দৌড়াতে বলল:
----- মামা মামা মামা তোকে 100 বার মামা ডাকবো।(বলে দৌড় লাগালো। ওকে যদি মাহতীন একবার পাই তাইলে আর রক্ষে নাই। মাহতীন এর হাতে পড়াই যাবে না )
_____________________
তিথির জ্ঞান ফিরেছে চোখ পিটপিট করে তাকালো সামনে আহান খানকে বসে থাকতে দেখে বলল :
----- আব্বু তুমি এখানে কখন এলে??
আহান খান মেয়ের গালে আদুরী হাত রেখে বলল :
------ আম্মু এখন কেমন ফিল করছো??
তিথি বাবার হাতের উপর নিজের হাত রেখে মুচকি হেসে বলল :
------ আমার আব্বু থাকতে আমি খারাপ ফিল করতে পারি তোমাকে দেখেই আমার সব খারাপ দূর হয়ে গেছে।
আহান খান মেয়ের কথায় হাসলো। তিথি চোখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাতেই দেখল রাতুল ওর দিকে চোখ পাকায় এ তাকায় আছে। পাশে নীলা মায়াবী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তিথির দিকে।:
-------- নীলা তোর বাঁদর কি আমাকে কিছু বলবে? বললে বলতে বল ওভাবে চোখ দিয়ে গিলে খাওয়ার মানে কি??
নীলা হাসলো তিথির কথা শুনে তিথি কখনো রাতুলকে বাঁদর বলে না। রাতুল তিথির কথা শুনে তেঁতে উঠে বলল :
---- তুই কি এর পরেও বলবি আরহামকে তোর পছন্দ??
তিথির হাসি মুখটা ক্ষণিক এই নিভে গেল। একবার নীলা একবার আহান খান এর দিকে তাকালো। তার কাছের মানুষ।যারা একান্তই তিথির কথা ভাবে। মাহতীন ভাই!!
আচ্ছা মাহতীন ভাই ও কি তার একান্তই কাছের মানুষ?? তিথি যতটুকু মনে আছে মাহতীন ভাই বিচলিত হয়ে তিথিকে পড়ে যাওয়া থেকে ধরেছিল এর পরে আর মনে নাই। যদি মাহতীন ভাই তিথির আপন হবে তাহলে তিনি কোথায়??সবাই আছে মাহতীন ভাইকে কেন দেখা যাচ্ছে না। তিথির অভিমান হল মাহতীন কে না দেখতে পেয়ে।
শেষে রাতুলের দিকে তাকিয়ে বলল:
------ যে ছেলে একজন অধিকারহীন নারীর গায়ে হাত তুলতে পারে, সে আর যাই হোক ভালবাসতে পারে না, সম্মান দিতে পারেনা, ভাল রাখতে পারেনা।আমি ওকে পছন্দ করতাম,বাট একতরফা।একতরফা ভালোবাসা হয় না। শুধু মোহ হয়, যা ছিল আমার বয়সের ভুল।
আহান খান যেন তিথির এমন কথা শোনারই অপেক্ষা করছিলেন।উনি আর দেরি করবেন না পদক্ষেপ নিবেন। এতদিন তার মেয়ের দুর্বলতার জন্য কিছু করতে পারেন নাই তারপরও আড়ালে যতটুকু পেরেছেন চেষ্টা করেছেন।
আহান খান তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল :
----- আম্মু নিজের যত্ন নিও। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করবা। আমার একটু কাজ পড়েছে আমি আসছি তোমার সাথে পরে দেখা করব।
তিথি লক্ষী বাচ্চার ন্যায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। আহান খান সম্মতি পেয়ে কেবিন ছাড়লেন। আহান খান যেতেই রাতুল আর নীলা তিথির কাছে এগিয়ে আসলো।এতক্ষন আহান খান ছিল বলে নীলা একটু সংকোচ বোধ করছিল। নীলা তিথির মাথার কাছে বেড সাইডে বসে কপালে হাত দিয়ে চেক করে বলল :
------- তোর গা তো একটু গরম লাগছে। (রাতুলের দিকে তাকিয়ে) আমরা তিথিকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবো কখন মাহতীন ভাই কিছু বলেছে??
রাতুল বেড সাইড চেয়ারে বসেছিল ও বলে উঠলো :
------ ভাইয়া তো আমাকে কিছু বলে নাই শুধু বলল একটা খুবই ইম্পর্টেন্ট কাজে যাচ্ছে।
তিথির এই কথা শুনে আরো অভিমান হল।তিথি অসুস্থ অথচ তার বর তাকে ফেলে কাজে গেছে।তার থেকেও বেশি ইম্পর্টেন্ট কি হতে পারে। তিথি নিজের ভাবনায় অবাক হল সে কি মাত্রই মাহতীন ভাইকে বর ভাবলো??
________________
আহান খান মাহতীন কে ফোন করল মাহতীন জানালো সে কিছুক্ষণের মধ্যেই আহান খানের সাথে দেখা করছে ভার্সিটিতে।
অফিস রুমে আহান খান কিছু টিচার মাহতীন বসে আছে। তাদের সামনে অপরাধীর ন্যায় বসে আছে আরহাম।
মহিউদ্দিন রেজা :
-------সরি আরহাম তোমাকে আমরা আর এই ভার্সিটিতে রাখতে পারবো না।তোমাকে ভার্সিটি থেকে বের করে দেওয়া হল।
আরহাম:
----- স্যার আমার ভুল কি জানতে পারি??
আরহামের এমন কথায় মাহতীন রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করল। আহান খান মাহতীন এর হাতের উপর হাত রেখে ওকে শান্ত হতে বলল ইশারাই।
আহান খান:
---- তুমি ভার্সিটির মালিকের মেয়ের গায়ে হাত তোলার মতো ভুল করেছো। তোমার বিরুদ্ধে যে স্টেপ নেওয়া হয়নি এটা তোমার সৌভাগ্য।তোমাকে শুধু ভার্সিটি থেকে বের করে দেওয়া হলো।
আরহাম অবাকের চরম সীমানায় পৌছে গেল তিথি আহান খানের মেয়ে!!আরহামতো জানতোই না,তিথিকে দেখে বলার উপায় নেই যে সে এত বড় মানের মানুষ। তার চলাফেরা অত্যন্ত সাধারণ। আরহাম তিথিকে কতই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে।কতই বলেছে যে তিথি আরহামের যোগ্য নয়।আরহাম এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে আরহাম কোনোভাবেই তিথির যোগ্য নয়,একাংশ নয়। এখন বুঝছে ও ভুল মানুষের গায়ে হাত তুলে ফেলেছে।এক হাত তোলার পরিণামে তার আজ এই অবস্থা।মার তো খেলোই। বেচারার অবস্থা তো খারাপ তার উপরে ভার্সিটি ত্যাগ করতে হচ্ছে। ভাগ্য ভালো কেস করে নাই তার নামে।
আরহাম সবাইকে সরি বলে স্থান ত্যাগ করল।
______________________
কেবিনে
মাহতীন কেবিনে প্রবেশ করে দেখে বেডের উপর রাতুল বসে তিথি কে গল্প শোনাচ্ছে আজগুবি। তিথিকে হাসানোর চেষ্টা করছে। নীলা ওদের দুজনার কান্ড দেখছে।
রাতুল:
------- জানিস তিথি কি হয়েছে আমি একদিন মাছ ধরতে গেছি পুকুরে সিপ মারছি।ওই সিপে এত বড় মাছ উঠেছে আমি ওইটা তুলতে যাই স্লিপ কেটে পুকুরের ধপাশ করে পড়ে গেছি।
রাতুলের আজগুবি কথা শুনে নীলা হেসে উঠলো। তিথিকেও প্রফুল্ল দেখা যাচ্ছে।মাহতীন এসে রাতুলের কান টেনে ধরল।
রাতুল:
---- কোন হতচ্ছাড়া রে।
পিছনে ঘুরে দেখে মাহতীন।
------ ভাইয়া তুমি?? আমার কান ধরে টানছো কেন??আমার কান ছিড়ে গেলে তুমি লাগিয়ে দিতে পারবা??
মাহতীন ওর কান ধরে টেনেই বেড থেকে নামিয়ে দিয়ে বলল :
----- হয়েছে তোর যত আজগুবি গল্প।বাসায় যেতে হবে চল। আর তিথির রেস্ট নিতে হবে ওকে জ্বালানো যাবে না এখন।
রাতুল কান ডলতে ডলতে বলল :
-----আমি কই জ্বালাচ্ছি ওকে?? আমি তো আর ও ওকে প্রফুল্ল করার চেষ্টা করছি ।
মাহতীন:
----- হয়েছে নীলাকে নিয়ে বাসায় যা।
এতক্ষণ তিথি মাহতীন এর দিকেই তাকিয়ে ছিল অবাক হয়ে বলল:
------আমি যাবো নাহ???
মাহতীন তিথির বোকা বোকা কথায় ওর দিকে তাকালো :
------- তুই আমার সাথে যাবি তোকে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসার দায়িত্ব আমার। ভুলে গেলি সকালে কি বললাম।
তিথির মনে পড়ে গেল সেই ১০ কোটির কথা।
তার বড় ভাইয়ের প্রেমে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে তার নিজেরই আপন ছোট ভাই। রাতুল বাধা দিয়ে বলল :
------ না না তিথি আমার সাথে যাবে। আমি আমার সোনা বাচ্চাকে নিয়ে যাব। তুমি তোমার মত যাও।
মাহতীন এবার চটে গেল।এই রাতুল সবসময় বেশি বেশি করে।সব সময় ওর আর তিথির মাঝে বাঁধা হয়ে আসে।
-------- তোর ওকে নিয়ে ভাবতে হবে না ওর জন্য আমি আছি।
রাতুল:
----- কোন অধিকারে???
মাহতীন:
---- তোর কি অধিকার আছে??
রাতুল ভাব নিয়ে:
------ আমি ওর ছোট পাপা ও আমার সোনা বাচ্চা।
নীলা আর তিথি নিরব দর্শকের মত রাতুলের আর মাহতীন এর ঝগড়া দেখছে। নীলা আর তিথি দুজন দুজনের মুখ চাওয়া চাওয়ী করছে। এরই মাঝে দুম করে মাহতীন এক অবিশ্বাস্য কান্ড ঘটিয়ে বসলো। সবার সামনে তিথিকে কোলে নিয়ে হাটা ধরল। রাতুল তেরে ওদের দিকে যেতে গেলে নীলা রাতুলকে টেনে ধরল বাধা দিয়ে বলল :
---- সমস্যা কিরে তোর?? ওদের কে ওদের মতো ছেড়ে দে। আমার তো ওদের দুজনকে খুব ভালো লাগে একসাথে।মনে হয় মেড ফর ইচ আদার।
রাতুল ঘোর বিরোধিতা করে বলল :
----- মেড ফর ইচ আদার না ছাই।
নীলা কপোট রাগ দেখিয়ে:
----- তোর কেন জলে???
------ কারণ আমি ওর ছোট পাপা আমার মেয়ের বিষয় ভাবার পুরো অধিকার আছে আমার।
------ ওকে যা ভাবার ভাবিস পরে চল এখন আমরা বাসায় যাই।
________________________
তিথি এতক্ষণ ভ্রমে ছিল।মাহতীন ওকে কোলে নিয়েছে মাথায় আসতেই বলে উঠলো :
------আমাকে নামাই দেন। আমি আপনার সাথে যাব না। আপনি আমাকে কোলে কেন নিয়েছেন???
মাহতীন তিথির কথায় প্রতি উত্তর করল না।ওর দিকে একবার তাকালো তারপর ডেকে উঠলো :
-----মেহেরিবান।
তিথি চমকালো তাকে এই নামে শুধু মাহতীন ভাই ডাকত আগে।6 বছর এই নাম তার কানে বাজে নাই। অনেকদিন পরে আবারও সেই মিষ্টি কন্ঠে তার নাম শুনে তিথির হার্টবিট বেড়ে গেল।এতক্ষণ পরে খেয়াল করল সে মাহতীনের কোলে জায়গা করে নিয়েছে। মাহতীন এর হাত তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রেখেছে।সে মাহতীন ভাইয়ের কোলে উঠেছে ভাবতেই তার কেমন লজ্জা পেল। মুখ খিচে নামিয়ে ফেলল।
মাহতীন তিথিকে লজ্জা পেতে দেখে মজা পেল। আরো লজ্জা দিতে বলে উঠলো :
------- ম্যাম এত লজ্জা পেলে হবে??লজ্জা পাওয়ার মত তো কিছুই করলাম না।
তিথি এবার চোখ তুলে মাহতীনের দিকে তাকালো। মাহতীনের চোখে মুখে দুষ্টু হাসি।তিথি মাহতীন এর চোখে চোখ রাখতে পারল না চোখ নামিয়ে নিল। মাহতীন তিথির এমন কাণ্ড দেখে নিরবে হাসল।
বাইকের কাছে গিয়ে তিথিকে নামিয়ে দিয়ে বাইক স্টার্ট করে তিথিতে উঠতে বলে বলল :
------ ধরে বস পড়ে যাবি।আমি চাইনা আমার জন্য তোর বিন্দুমাত্র কোন ক্ষতি হোক।
তিথি মনে মনে ভাবল মাহতিন ভাই কি সত্যি তার এতটা কেয়ার করে।
-----মাহতীন ভাই।
------হু
------আপনি আমাকে ভালোবাসেন???
মাহতীন ব্রেক কসলো।ভ্রু কুঁচকে বলল:
----- হঠাৎ এমন প্রশ্ন মাথায় আসার কারণ??
----- আপনি আমাকে ভালো না বাসলে বিয়ে কেন করেছেন?? আর যদি ভালবাসেন তাহলে আমার থেকে দূরে কেন ছিলেন এতগুলা বছর??
মাহতীন পাল্টা প্রশ্ন করল :
----- তুই কি আরহাম কে ভালোবাসিস??
----- আমি কি বলছি আর আপনি কি বলছেন??
----- আমার প্রশ্নের অ্যানসার দে হ্যাঁ অথবা না।
------- আরহাম আমার মোহ ছিল।প্লাস বয়সের ভুল।সাথে আপনারও ভুল।আপনি কেন 6 বছর আমার সাথে যোগাযোগ রাখেন নাই??আমি আপনার উপর অভিমান করেছি।
মাহতীন তিথিকে আবেগী গলায় ডেকে উঠলো:
------মেহেরিবান
ডাকটা তিথির কর্ণকুহর হতেই শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল হাওয়া বয়ে গেল।
------হু
------- সব প্রশ্নের অ্যানসার হয় না মেহেরিবান। আজ তোর প্রশ্নের অ্যানসার দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই।তবে আশা করি একদিন তুই তোর সব প্রশ্নের অ্যানসার পেয়ে যাবি। একটু অপেক্ষা কর, আমাকে একটু সময় দে। আমি সব ঠিক করে দিব বিশ্বাস রাখ আমার উপরে।
তিথি আর কিছু বলল না।সে বুঝে গেছে সে তার প্রশ্নের অ্যানসার পাবে না।তিথিকে চুপ করে থাকতে দেখে মাহতীন বাইক স্টার্ট দিল। তিথি আনমনে ভাবা শুরু করল :
----- আচ্ছা তিথিকে কি সেদিন জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল??তিথির থেকে উত্তর আসলো না।কারণ তিথিকে জোর করে কিছু করানো যায় না।কিন্তু সেদিন সে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গিয়েছিল।এটা কি আচমকিক হয়েছিল নাকি রবের কোন ইশারা ছিল সুন্দর জীবনের জন্য??অবশ্যই তাই।আল্লাহতালা তাকে সুন্দর একটা জীবন দেওয়ার জন্য আরহামের থেকে দূরে করে তার মাহতীন ভাইয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।যাতে সে তার জীবনে যে ভালোবাসা পেতে চেয়েছিল সেই ভালোবাসাটা পাই। জীবনে সুখী হতে পারে। সে তো সেদিন তার রবের দরবারে নামাজ পড়ে চেয়েছিল রব যেন তাকে পথ দেখায়।আরহাম তার জন্য ঠিক হলেও বলে দেয় ভুল হলেও বলে দেয়। তাইলে ওইটা রবের ইশারাই ছিল যে আরহাম তার জন্য ঠিক নয়।