18/02/2026
আসসালামু আলাইকুম,, ওপাশ থেকে সালামের আওয়াজ পেয়ে মাথাটা উপরে তুল্লো রাফসান, তারা সওদাগর ভিলায় এসেছে অনেক আগে কিন্তু সে কারো কথায় কান না দিয়ে একধ্যানে ফোন স্ক্রল করছিলো,,আরিফের সালামের আওয়াজে তার ধ্যান ভাংলো,গম্ভীর কন্ঠে কোনোমতে সালামের উত্তর টা দিলো, ওয়ালাইকুম সালাম, তারপর আবার আগের ন্যায় ফোন স্ক্রল করতে লাগলো, আরিফ কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো,তার বাবার ইশারায়।
______________________________
ফারাজ চৌধুরী এবং আরাফ সওদাগর ভার্সিটির বন্ধু, তখন থেকে আজ অবদি তাদের সম্পর্ক আছে, ভার্সিটির জীবন শেষ করে যখন তারা নিজের নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেও ওদের বন্ধুত্বটা আগের মতোই ছিলো একসময় দুই বন্ধু বিয়ে করার পর রাফসান, এবং আরিফ দুজনের জন্ম হয়, এর বছর ৬ পর নুপুরের জন্ম হয় এবং তারা তখনই ঠিক করে নুপুরের সাথে রাফসানের বিয়ে দিবে এখন তারা প্রাপ্ত বয়স্ক তাই তাদের বিয়ের জন্য আজ এখানে আসা। ফারাজ চৌধুরী তার পুএবধু কোনো প্রকার অনুষ্ঠান ছারাই ঘরে তুলতে চায় একদম সাদামাটা ভাবে বিয়েটা দিবে বলে ঠিক করলো দুই বন্ধু। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলো এখন বাড়িতে কাজি এসেছে নুপুরকে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে পরনে তার লাল রঙের বেনারসি, অধর দুটো জুরে হালকা লিপস্টিক, হাতে চুরি তার হাটু ছুই ছুই চুলগুলো হাত কোপা করে ছোট ছোট ক্লিপ দিয়ে আটকানো খোপার চারিপাশ, এতেই অসম্ভব সুন্দরী লাগছে নুপুরকে, এক পলক তাকিয়ে চোখ সরাতে পারলো না রাফসান, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিলো, নিজেকে নিজে বকতে লাগলো সে তো রিয়াকে ভালোবাসে তো এই মেয়েকে দেখে এমন অনুভুতি হচ্ছে কেন, এসব হাবিজাবি ভাবছিলো তারমধ্যে কাজি সাহেব বলে উঠলেন, আরাফ সওদাগরের মেয়ে নুসরাত সওদাগর নুপুরকে একলক্ষ এক টাকার দেনমহরে বিবাহ করতে রাজি থাকলে বলো কবুল, রাফসান হাবিজাবি চিন্তা করতে করতেই এক প্রকার ঘোরের মধ্যেই তিন কবুল বলে দিল, নুপুরের কিছু তেই কবুল বলতে মন চাইছে না, সে যে এখনো অনেক পড়তে চায়এসব চিন্তার মধ্যে তার বাবার ধমক ভেসে এলো তার কানে, সে ঘোরের মধ্যে থেকেই তিনবার কবুল বলে দিল, বিয়ে সম্পুর্ন হওয়ার পর নতুন বউকে চৌধুরী পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় তখনই নুপুরের কান্নার রোল পরে সাথে তার মা চাচি এবং ওর থেকে বয়সে ৩ বছরের ছোট কাজিন তিন্নির ও, কাঁদতে কাঁদতে একেক করে সবার থেকে বিদায় নিলো নুপুর কিন্তু তার ছোট বোন তিন্নির সামনে সে কিছু বলতে পারলো না তার আগে তাকে জরিয়ে ধরে তিন্নি হু হু শব্দ করে কেঁদে বল্লো আপা আমার কি হবে.? আমাকে রেখে যেও না তুমিই তো বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলে, আমিতো তোমাকে ছারা থাকতে পারবে না, নুপুর তিন্নির মুখটা তার দুই হাতের আজলায় নিয়ে আদুরে স্বরে বল্লো কাঁদে না বনু আমি আবার আসবো ,
নুপুরের এসব কান্নার মাঝে গাড়ির হর্ন ভেসে আসলো সবাই নুপুরকে নিয়ে গিয়ে রাফসানের পাশে বসিয়ে দিলো সাথে নুপুরের বাবা তার কন্যার দ্বায়িত্ব ও রাফসান কে দিলো যদিও এসব কিছু খুব বিরক্ত লাগছে রাফসানের কাছে তবুও তার মায়ের জন্য সবকিছু মেনে নিচ্ছে।
_______________________________________________
বেশ অনেকক্ষণ পরে ব্লাক মারসিটিজটা তার গন্তব্যে চলতে লাগলো, বাসা থেকে অনেকটা দুরে চলে আসছে ওরা তবুও নুপুরের কান্না থামেনি, নুপুরের কান্নার আওয়াজ রাফসানের খুব অসহ্য লাগছে, থাকতে না পেরে একটা ধমক দিলো নুপুরকে এই মেয়ে চুপ করো..কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে গেলো নুপুরের কান্না থামলো না বরং আরো জোর দিয়ে শুরু হলো,ওদের এসব কান্ড দেখে ড্রাইভিং সিট থেকে নিশব্দে হাসছে আরিয়ান, ফারাজ চৌধুরীরা চলে গেছে বাসায়। কিন্তু রাস্তায় মধ্যে নুপুরের শরীরটা খারাপ হয়ে যায় তাই রাফসান রা এখনো বাসায় যেতে পারেনি।
_______________________________________________
সন্ধ্যা ৭ টা চৌধুরী বাড়ির গেটে প্রবেশ করলো ব্ল্যাক মার্সিটিজ টা, গাড়ি থেকে সবাই নামছে একে একে কিন্তু নুপুর এখনো নামেনি, তার এক অন্য রকম ভয় কাজ করছে, একে তো নতুন জায়গা তার উপর ওর সাথেও কেউ আসেনি, এসব ভাবনার মাঝে মেয়েলি কন্ঠে ডেকে উঠলো ভাবি নেমে আসেন, নুপুর মেয়েটার দিকে একপলক তাকালো, মেয়েটার গায়ের রং ফর্সা চুলগুলো একপাশে দুইটা ক্লিপ লাগানো খোলা ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক কানে ছোট একটা দুল,সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দরী, নুপুর মনে মনে ভাবছে মেয়েটা কে.? তার জানা মতে রাফসানের তো কোনো বোন নেই. তাহলে এই মেয়েটা কে.? ঠিক তখনই তার ভাবনার বিপরীতে আয়েশা চৌধুরী বলে উঠল ও তাসমিন আমার মেয়ে, নুপুর অনেকটা চমকে গেলো, আয়েশা চৌধুরী মুচকি একটা হাসি দিয়ে বল্লো কি ভাবছো আমার মেয়ে আছে আর তুমি জানতে না, নুপুর এদিক ওদিক মাথা নেরে সায় দেয়।
_______________________________________________
(কি ভাবছো তাসমিন কে জানতে হলে পাশে থেকো)
সবার কাছে একটা করে অনুরোধ গল্পটা ভালো লাগলে শেয়ার করে দিবেন প্লিজ..! 😊🫶
#ফিরে_এসো_তুমি
#রাকিব_হাসান
্ব_২