25/03/2026
দৌতলদিয়া ফেরিঘাটের বাসটা একটু আগে পানি থেকে তোলা হয়েছে।
একের পর এক লা*শ বের করা হচ্ছে বাস থেকে।
কোন লা*শের পেট ফুলে আছে, কোনটার চোখমুখ বিকৃত হয়ে লাল হয়ে আছে, কোন লা*শ থেকে আবার পানি পঁচা বিদঘুটে গন্ধ বের হচ্ছে।
সব লা*শের পড়নেই নতুন জামাকাপড় পড়া ছিল অথচ সেগুলোও এতক্ষণ পানিতে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে।
যে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো হাসি হাসি মুখ নিয়ে বাসে উঠেছিল ওদের লা*শের চেহারা এখন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। পানির চাপে কিছু বাচ্চার লা*শের চোখ উল্টে গেছে, চেহারা বীভৎস হয়ে ফুলে আছে।
লা*শের আত্মীয়স্বজনরা একটু দূরেই ফেরিতে বসে আছে। একটা লা*শ পানি থেকে উঠানোর পরপরই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এটা তার পরিবারের কেউ কি-না দেখার জন্যে।
যদি পরিবারের কেউ হয় তাহলে সে শুধু মাথা নেড়ে জানান দিচ্ছে, কান্না করার শক্তিটুকুও নেই আর তাদের মধ্যে। এতক্ষণ কান্না করে করে চোখের পানিও যেন শুকিয়ে ফেলেছে।
আরেকজন অফিসার নোটবুকে নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার টুকে নিচ্ছে। সব ঠিকঠাক হলে লা*শ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।
যেসব পরিবার এখনও লা*শ পায়নি তারা নতুন লা*শ পানি থেকে উঠানোর পরপরই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তাদের পরিবারের কেউ না হলে মুখ গোমড়া করে আবারও আগের জায়গায় এসে বসছে। দেখে মনে হচ্ছে ওদেরকে লাইন ধরিয়ে রিলিফের মালামাল হিসেবে লা*শ দেয়া হচ্ছে।
পরিবারের কেউ এখন আর কাঁদছে না। এতক্ষণ কাঁদতে কাঁদতে সবাই পাথর হয়ে গেছে। একপাশে উদ্ধার কাজ চলছে আরেকপাশে ওরা ঝিম মেরে ঠায় বসে আছে।
এতক্ষণ সবার তাড়া ছিল। উদ্ধারকর্মীদেরকে লা*শের পরিবারের লোকজন তাগাদা দিচ্ছিল তাড়াতাড়ি করতে যদি কোনভাবে কেউ বেঁচে থাকে।
কিন্তু এখন আর কেউ তাগাদা দিচ্ছে না। কারণ জানে পানির নিচে এতক্ষণ বেঁচে থাকা সম্ভব না, ভিতরের সবাই ই মারা গেছে। ওরা এখন অপেক্ষা করছে লা*শের, জীবিত মানুষের আশা আর নেই।
ডুবে যাওয়া লা*শের আত্মীয়স্বজনরা এখনো বসে আছে। ওরা জীবিত মানুষ চায় না, চায় শুধু একটা লা*শ।
এই মানুষগুলোই হয়তো সকালের দিকে ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছিল, পরের বার একসাথে ঈদ করবে বলে আশ্বাসও দিয়ে এসেছিল অথচ তারাই এখন লা*শ হয়ে ডুবে আছে পানিতে।
ডুবে যাওয়া লা*শের আত্মীয় স্বজনগুলো একদম নিশ্চুপ হয়ে ফেরির এককোনায় বসে আছে। ওদের কারো চোখেই আর পানি দেখছি না। এতক্ষণ যে কেঁদেছে সে শুকনো পানির ছাপ চোখে দেখা যাচ্ছে শুধু।
ওরা এখনো চুপচাপ ঠায় বসে আছে। ওরা জীবিত মানুষ চায় না, একটা লাশ চায়