04/09/2026
#হৃদয়_জুড়ে_তুমি
#আফসারা_আফরিন
হৃদয় জুড়ে তুমি
*লেখিকা - আফসারা আফরিন*
*পর্ব: ১*
রাত ১০ টা। চৌধুরী ম্যানশন।
ড্রয়িং রুমে সবাই এক সাথে।
আরাফ চৌধুরী, তার ওয়াইফ ফারিয়া চৌধুরী।
বড় ছেলে শেহজাদ চৌধুরী, ছোট ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী।
ছোট কাকু আনাফ চৌধুরী, ওনার ওয়াইফ আলিয়া চৌধুরী, ছেলে তন্ময় চৌধুরী, মেয়ে আনিলা চৌধুরী ও আনিশা চৌধুরী।
সবাই চুপ।
আরাফ চৌধুরী শেহজাদ, কাল বিকেলে আমার সাথে তোমার গ্রামে যেতে হবে।
শেহজাদ চৌধুরী কেনো ডেড?
তোমার মা তোমার জন্য একটা মেয়ে দেখেছে। আর ওনাদের কথা ও দিয়ে রাখছি। মেয়ে এখন ছোট, ক্লাস 9 এ পড়ে। আমরা কাল কাবিন করে রাখবো। বয়স হলে ওকে এ বাড়ির বউ করে আনবো।
পুরো রুমে বাজ পড়ার মতো অবস্থা।
শেহজাদ ডেড! আমি বিয়ে করবো না এখন। আর একটা বাচ্চা কে বিয়ে করবো? শেহজাদ চৌধুরী এটা অসম্ভব!
ফারিয়া তুমি তোমার ছেলেকে বুঝিয়ে বলো, আমার ডিসিশন এর বাহিরে কেউ যেন কথা না বলে।
তাহলে তোমরা ও শুনে রাখো, আমি কিছুতে এই বিয়ে করবো না।
ফারিয়া বাবা শান্ত হও। অনেক আগে আমি কথা দিয়ে রাখছি। গ্রামের মানুষ নানা কথা বলবে। মেয়েটা ছোট, কলঙ্ক লেগে যাবে। বুঝো বাবা।শেহজাদ নো আম্মু।
আরাফ চৌধুরী রেগে উঠে দাঁড়ালেন।
ওকে। তুমি এ বিয়েতে রাজি না হলে আমার মরা মুখ দেখবে। আনাফ চৌধুরী কি বলছো ভাই এসব? যাবে কাল শেহজাদ। আমি নিয়ে যাবো ওকে।
রাত ১২ টা।
শেহজাদ কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। ফারিয়া, আলিয়া ও আনাফ চৌধুরী কেউ বিয়েতে রাজি করাতে পারছে না।
টেনশনে ফারিয়া চৌধুরীর প্রেসার বেড়ে যায়। সবাই মাথায় পানি দিচ্ছে।
শাহরিয়ার ভাইয়া তুমি রাজি হও। দেখো আম্মুর অবস্থা ভালো না। কিছু হলে নিজেকে মাফ করতে পারবে কোনোদিন? দেখো তোমার ইচ্ছা ভাইয়া।
শেহজাদ নিশ্চুপ। ৫ মিনিট পর...
চোখে পানি নিয়ে ফারিয়ার হাত ধরে,
শেহজাদ আম্মু আমি বিয়ে করবো। চোখ খুলো আম্মু।
আরাফের দিকে তাকিয়ে ডেড আমি বিয়ে করবো। ফোনে। আমি ওখানে যাবো না।আরাফ এটা অসম্ভব। আমি কি বলবো ওনাদের? তোমার ওই জায়গায় থাকতে হবে।আনাফ চৌধুরী থাক ভাই, ওর যেতে হবে না। রাজি হইছে তাই অনেক। আমরা বলে দিবো ব্যবসায়িক কাজে ইমার্জেন্সি দেশের বাহিরে গেছে।
*পরদিন। সকাল ১০টা।*
সবাই ঢাকা থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কাবিনের জন্য।বাড়িতে একা শেহজাদ। পুরো বাড়ি ফাঁকা।শেহজাদ বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। রাগে, কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে।একটা ক্লাস 9 এর মেয়ে! আমার বউ হবে? অসম্ভব। আমি কোনোদিন ওকে বউ হিসেবে মানবো না।"
এদিকে গাজীপুরে...
ছোট্ট একটা গ্রামের বাড়ি। উঠানে প্যান্ডেল।এক কোণে বোরকা পরা একটা মেয়ে বসে আছে। ক্লাস 9 এর *সাবিহা*।সে জানেও না আজ তার কাবিন।
কাজী সাহেব ডাকলেন, "মা, কবুল বলো।"
সাবিহা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
ওর মা ফিসফিস করে বলে, "বল মা, কবুল।"
সাবিহা কিছু না বুঝেই বলে দিলো - "কবুল।"
ঢাকায় শেহজাদ ফোনে...
কাজী: "বাবা, কবুল বলো।"
শেহজাদ দাঁতে দাঁত চেপে: "কবুল।"
দুই প্রান্তে দুইজন। একজন কাঁদছে, আরেকজন রাগে ফেটে পড়ছে।
কাবিন শেষ। শেহজাদ ফোন ছুঁড়ে মারে।
আর গাজীপুরে সাবিহা এখনো জানে না, আজ থেকে সে চৌধুরী বাড়ির বড় বউ।রাত ১০ টা। চৌধুরী ম্যানশন। শেহজাদের রুম সবাই গাজীপুর থেকে ফিরেছে। কাবিন শেষ। মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে নিচে। শুধু শেহজাদের রুমে অন্ধকার।তন্ময় দেখ শেহজাদ, বিয়ে হয়ে গেছে। কি করবি? মেনে নে।শেহজাদ কি করে মেনে নেবো এই বাচ্চা মেয়েকে? আমি তো কিউটপাইকে ভালোবাসি।
তন্ময় তো ওরে ভুলে যা। ও জানেও না তুই ওকে ভালোবাসিস।শেহজাদ জানালার গ্রিল শক্ত করে ধরে, চোখ লাল।পারবো না ভুলতে। পারবো না এই বাচ্চাকে বউ হিসেবে মানতে। আমি ওই মেয়েটার মুখও দেখিনি। আর ওকে বউ? অসম্ভব।তো কি করবি?চলে যাবো।মানে?আজ রাতেই। দেশ ছেড়ে। সবাইকে দেখে রাখিস। নিজের খেয়াল রাখিস। তন্ময় পাগল হয়ে গেছিস? বাবা জানলে?শেহজাদ জানুক। আমি এই বিয়ে মানি না।
রাত ২ টা।
পুরো বাড়ি ঘুম।
শেহজাদ চৌধুরী একটা কালো ট্রলি নিয়ে আস্তে আস্তে নিচে নামছে। পরনে হুডি
বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে। এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে।
ভিতরটা কাউকে বলে বোঝানো যাবে না কেমন লাগছে।
প্রিয় বন্ধু, ভাই-বোন, মা-বাবা সবাইকে রেখে চলে যাচ্ছে। একটা নাম না জানা, মুখ না দেখা বাচ্চা বউয়ের জন্য।
বিমানবন্দর। রাত ৩টা।
ভেতরে কেউ যেতে পারবে না। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ৪ জন।তন্ময়, সায়েম, রাফি, ফাহাদ।সবাই চুপ। চোখ লাল।শেহজাদ ট্রলি নিয়ে দাঁড়িয়ে। বোর্ডিং পাস হাতে। কানাডার ফ্লাইট।ফাহাদ ভাই, যাইস না। প্লিজ।
তন্ময় জড়িয়ে ধরলো।তন্ময় নিজের খেয়াল রাখিস। আর ফিরে আসিস।শেহজাদ সবাইকে এক এক করে জড়িয়ে ধরলো।
শেহজাদ ভিতরের দিকে হাঁটা দিলো।
ইমিগ্রেশনের গেটে গিয়ে একবার পেছনে তাকালো। বন্ধুরা এখনো দাঁড়িয়ে। হাত নাড়ছে।
শেহজাদ চোখের পানি মুছলো। কেউ যেন না দেখে।
মনে মনে বললো,
আমার না হওয়া মহারানী... আমি তোর না তো, কারো না। চলে যাচ্ছি অনেক দূরে। কষ্ট হচ্ছে হোক। আমি অন্য কারো মুখে জামাই ডাক না শোনা লোক।
আর তার ফোনের গ্যালারিতে লক করা একটা ফোল্ডার। নাম - *CutePie*
সেখানে একটা মেয়ের ছবি। স্কুল ড্রেস পরা, দুই বেণী, হাসছে। গাজীপুরের এক মেলায় তোলা।
যাকে সে ২ বছর আগে দেখেছিল। নাম জানতো না। শুধু ভালোবেসেছিল।