10/04/2024
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় যেভাবে করা উচিত
মুসলিম পরস্পরে সাক্ষাৎ হলে একে-অপরকে সালাম দেবে- এটাই তো উত্তম আদর্শ। এরচেয়ে উত্তম আর কোনো অভিবাদন হতে পারে না। সালামের অর্থের দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণের দুআ করা হয়।
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهْ.
আপনাদের প্রতি বর্ষিত হোক সালাম ও শান্তি এবং বর্ষিত হোক আল্লাহর রহম ও বরকত।
তাছাড়া সালামের রয়েছে আরো অনেক ফযীলত। যেমন, হাদীস শরীফে এসেছে, সালামের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে মিল-মহব্বত পয়দা হয়, ঈমানের পূর্ণতা লাভ হয় এবং জান্নাতে দাখেল হওয়ার পথ সুগম হয়। (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৯৩)
অতএব আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম শুভেচ্ছা ও আদর্শ অভিনন্দন হল সালাম। এটাকে আমরা আঁকড়ে ধরব। সালামের বেশি বেশি প্রচলন ঘটাব, বিশেষ করে ঈদ ও অন্যান্য আনন্দের মুহূর্তগুলোতে।
সালামের পর আমরা একে-অপরের জন্য দুআ করতে পারি। ঈদের দিন সাক্ষাৎ হলে রাসূলের সাহাবীগণ যে শব্দ-বাক্যের মাধ্যমে একে-অপরের জন্য দুআ করতেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয়। এতেই নিহীত আছে- মুসলিমের প্রকৃত ঈদ ও খুশি কী এবং কীসের মাধ্যমে ঈদ-আনন্দ পূর্ণতা লাভ করে এবং কীসে সফলতা ও কল্যাণ। আর তা হল, আল্লাহর কবুলিয়াত; তাঁর দরবারে আমাদের আমল কবুল হওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভ হওয়া। তাই তো সাহাবীগণ সবাই সবার জন্য এই কবুলিয়াতের দুআই করতেন। সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহ. বলেন-
كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إذا التقوا يوم العيد يقول بعضهم لبعض : تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ.
ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম মিলিত হলে একে-অপরের উদ্দেশে বলতেন-
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ.
আল্লাহ কবুল করুন আমাদের থেকে এবং
আপনাদের থেকে (সকল আমল)। -ফাতহুল বারী ২/৪৪৯; আলজাওহারুন্নাকী ৩/৩২০