11/10/2026
৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের সেদিনের স্মৃতিচারণ : ওবাইদুল ইসলাম মাহমুদ
(গুজব মুক্ত সংবাদ পেতে এবং সঠিক তথ্য প্রচার করতে নিউজ পেজটির সাথে থাকুন :https://www.facebook.com/campustoday1971)
৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের সেদিনের স্মৃতিচারণ : ওবাইদুল ইসলাম মাহবুব সভাপতি জেহাদ স্মৃতি পরিষদ উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ শাখা
শহীদ কে. এম. নাজির উদ্দিন জেহাদ হলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান বীর। তৎকালীন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তার এই আত্মত্যাগ সে সময়ের গণআন্দোলনকে তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয় এবং শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসকের পতন ঘটায়।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
• জন্ম: তিনি ১৯৬৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নবগ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• রাজনৈতিক দল ও পদবি: জেহাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ও নেতা ছিলেন। তিনি উল্লাপাড়ার সরকারি আকবর আলী কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
• মৃত্যু: ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ৭-দলীয় জোটের ডাকা সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বিকাল আনুমানিক ৪:০০ টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলি বর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুলিবদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
আন্দোলনের প্রভাব ও গুরুত্ব
নাজির উদ্দিন জেহাদের শাহাদত তৎকালীন ছাত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:
• সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের গঠন: তার মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসের সমস্ত প্রগতিশীল ও সক্রিয় ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে মিলে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন করে, যা এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ধাক্কা দেয়।
• স্বৈরাচারের পতন: জেহাদের রক্তস্রোতের ওপর ভর করে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তীব্র গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠে এবং ৪ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। এর মাধ্যমে দেশে পুনরায় বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়।
স্মরণ ও সম্মাননা
• শহীদ জেহাদ দিবস: প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বাংলাদেশে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে 'শহীদ জেহাদ দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
• জেহাদ স্মৃতিস্তম্ভ: ঢাকার যে দৈনিক বাংলা মোড়ে তিনি পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেখানে তার স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
• স্মারক ডাকটিকিট: বাংলাদেশ সরকার ১৯৯১ সালে তার স্মরণে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।