11/04/2026
*ছায়া হয়ে থাকা সেই মানুষটি*
লেখকঃ জসিমউদদীন
ধন্য সেই মা হালিমা বেগম, ধন্য পিতা নুরুল ইসলাম,
যাঁদের ঘরে জন্ম নিলো এক এক উজ্জ্বল প্রাণ।
চার ভাই-বোনের মায়ার ভিড়ে আমি যে সবার ছোট,
আমার আকাশ জুড়ে ছিল এক মহীরুহ মস্ত বড়।
তিনি আমার বড় ভাই, আমার প্রিয় মিজানুর রহমান,
পিতার পরেই যাঁর তরে মোর সঁপেছি এই পরাণ।
আঙুল ধরে হাঁটতে শেখা, ব্যবসা আর এই পথ চলা,
সবই তো তাঁর হাতের জাদু, যা যায় না মুখে বলা।
মিজান নামের ধ্বনিটুকু আজ যখন কানে ভাসে,
অঝোর ধারায় দু’চোখে মোর নোনা জল বয়ে আসে।
পিতার চেয়েও বেশি যারে বেসেছিলাম ভালো,
মরণব্যাধি কিডনি রোগ নিভিয়ে দিল সে আলো।
নিজে বাঁচতে চাননি তিনি, চেয়েছিলেন পরিবারে সুখ,
আমি অধম পারলাম না কেন রাখতে হাসি মুখ?
রক্তের বাঁধন সবাই সমান, সবাই আমার আপন,
তবুও মিজান ভাই ছিলেন মোর হৃদয়ের রাজ-সিংহাসন।
ভাই যে আজ নেই রে পাশে, রেখে গেছেন স্মৃতি,
ওমর ফারুক আর লামিয়া আমার পরম প্রীতি।
বাকি সব ভাই, বোন নুপুর—সবার কোলেই বড় হওয়া,
তাঁদের তরেও দোয়া আছে, আছে অন্তরের চাওয়া।
ওমর ফারুক আমার কলিজা, লামিয়া নয়নের মণি,
ভাইয়ের স্মৃতি আগলে রাখব, এই তো মনে গণি।
ওগো দয়াময় আল্লাহ তুমি রেখো আমার ভাইকে ভালো,
যাঁর ছায়াতে পেলাম আমি এই পৃথিবীর আলো।
মা-বাবার সেই কোলটি যেন শান্তিতেই রয়,
ভাই আমার মানুষের মতো মানুষ যেন হয়।
স্মৃতিগুলো বেঁচে থাক এই কবিতার প্রতিটি ছন্দে,
মিজান ভাই অমর হয়ে রইবেন আমার ভালোবাসা আর আনন্দে।