05/02/2026
আদর করে মা চুমু দিলো, সেই চুমুতে লুকিয়ে ছিল হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV)। মা নিজেও হয়তো জানতেন না যে তার ঠোঁটে এই ভাইরাস আছে। কোনো ঘা বা ফোসকা ছিল না, তাই বুঝতে পারেননি। কিন্তু ভাইরাসটা চুমুর সঙ্গে ছেলের চোখে চলে গেল।
কয়েকদিন পর ছেলের চোখ লাল হয়ে গেল, ফুলে উঠল, জল পড়তে লাগল, ব্যথায় কাঁদতে লাগল। মা ভাবলেন হয়তো ঠান্ডা লেগেছে। কিন্তু ব্যথা বাড়তে লাগল। ডাক্তার দেখালেন।
পরীক্ষায় ধরা পড়ল—হার্পিস ভাইরাস কর্নিয়ায় ঢুকে সংক্রমণ করেছে। কর্নিয়া এত নরম, এত সংবেদনশীল—ভাইরাস ঢুকে পড়লে আলো চিরকালের জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ডাক্তাররা ওষুধ দিলেন, চিকিৎসা করলেন, কিন্তু একটা চোখের আলো আর ফিরে এলো না।
এখন সেই ছোট্ট বাচ্চা এক চোখে অন্ধকার নিয়ে বড় হচ্ছে। মা প্রতিদিন কাঁদেন—তার ভালোবাসার চুমু তার সন্তানের দুনিয়া অন্ধকার করে দিয়েছে। সে আর কখনো পুরোপুরি মায়ের মুখ দেখতে পাবে না, তার হাসি পুরোপুরি দেখতে পাবে না, তার চোখের আলো দিয়ে পুরো দুনিয়া দেখতে পাবে না। মায়ের বুক ফেটে যায়—যে চুমুতে ছিল তার সব ভালোবাসা, সেই চুমুতেই তার ছেলের আলো চলে গেল।
এই ঘটনা প্রত্যেক মা-বাবার জন্য একটা কান্নার সতর্কবাণী। হার্পিস ভাইরাস খুব সহজে ছড়ায়—চুমু থেকে, হাতের ছোঁয়া থেকে, শেয়ার করা জিনিস থেকে। শিশুর চোখ যখন ছোট, তারা হাত দিয়ে চোখ ঘষে, মুখে হাত দেয়—আর সংক্রমণ হয়ে যায়। ডাক্তাররা বলছেন, মুখে কোনো ঘা বা সন্দেহ হলে শিশুকে চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। শিশুর চোখে লালভাব, ফোলা বা জল পড়লে দেরি না করে চোখের ডাক্তার দেখান।
এই মা এখন প্রতিদিন কাঁদেন—তার ভালোবাসার চুমু তার ছেলের চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে। ছেলেটি এখন এক চোখে অন্ধকার নিয়ে বড় হচ্ছে। সে আর কখনো পুরো দুনিয়া দেখতে পাবে না। এই দৃশ্য কল্পনা করলেই চোখ ভিজে আসে, গলা আটকে যায়।
এই গল্পটা শেয়ার করো... কারণ একটা সতর্কতা হয়তো কারো সন্তানের চোখের আলো বাঁচাতে পারে। প্রত্যেক মা-বাবা, আপনাদের ভালোবাসা যেন কখনো ভুল না করে।