21/02/2026
প্রাচীন কালের ঐ যুদ্ধের ঝুলনি ওয়ালা হেলমেট গুলোকে
আরবরা নাম দিয়েছিলো মিগফার
মিগফার শব্দটি এসেছে
গা ফা রা থেকে
গা ফা রা অর্থ কভার করা
অর্থাৎ হেলমেট যেহেতু মাথাকে কভার করছে
তাই আরকি তাকে মিগফার ডাকা।
আর এই রুট থেকেই আমাদের পরিচিত শব্দ মাগফিরাহ যার অর্থ ক্ষমা
কিংবা গাফারা যার অর্থ ক্ষমা করা
এই রুট থেকেই আল্লাহর দুটো নাম
গাফুর এবং গাফ্ফার
গফুর হলো এমপ্লিচুডর সাথে কনেক্টেড
অর্থাৎ আমরা যত বড় গুনাহ করি না কেন
আল্লাহ তা ঢেকে দিতে পারেন
আর গাফ্ফার হলো ফ্রিকোয়েন্সির সাথে কানেক্টেড
অর্থাৎ আমরা যত বারই সেই গুনাহ টা রিপিট করি না কেন
তাও তিনি ঢেকে দিতে পারেন।
তাইতো আমাদের গুনাহ যেন ঢেকে দেয়ার জন্য অনুতপ্ত হয়ে বলি
আস্তাগফিরুল্লাহ!
আস্তাগফিরুল্লাহ বলার এই একশনটাকে এস্তেগফার বলে
আস্তাগফিরুল্লাহ অর্থ
হে আল্লাহ আমায় ক্ষমা করো
আদতে আমরা আসলে বলার চেষ্টা করি যে
হে আল্লাহ
আমার বড় বড় আর রিপিটেড গুনাহ গুলো
আমলনামা থেকে ঢেকে দাও!
তবে এই আস্তাগফিরুল্লাহর ফাংশন শুধু কভারিংয়েই সীমিত নয়
তিনি এই আস্তাগফিরুল্লাহকে অ্যাসোসিয়েট করেছেন রিজিকের সাথে
জি রিজিকের সাথে!
তিনি জানান আমরা যদি সিন্সিয়ারলি এই আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে থাকি
তাহলে তিনি আমাদেরকে বৃষ্টি দিবেন
নদী নালা দিবেন
সন্তানাদি দিবেন এমনকি
সাথে টাকা পয়সাও দিবেন
জি হা সূরা নূহ এর ১০ থেকে ১২ নাম্বার আয়াত পড়লে এমনটাই জানা যায়
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়
কই? এতদিন যে এতবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লাম
রিজিকের পেরেশানিতো এখনো দূর হলো না!
তাই যদি হয়
তাহলে প্রশ্ন তুলতেই পারি যে
এতদিন কি তাহলে ভুল ভাবে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ছি?
ইফ সো তাহলে সঠিক ভাবে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার উপায় টা কি?
কিংবা এর সাইন্সটা কি!
বুঝার জন্যই এই লিখা
১২শ শতাব্দীর বিখ্যাত সুফী সাধক আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বরেণ্য শিক্ষক ইবনে আতাইল্লাহ বলেন
"আমাদের কাছে যা এসেছে
তা আসলে আমাদের চাওয়ার জন্য আসে না
আসে বরং আমাদের স্টেইটের উপর নির্ভর করে
আমরা যেই ষ্টেইটে থাকি সেই স্টেইট অনুপাতে আমরা তা এট্ট্রাক্ট করি"
অর্থাৎ আমাদের রিজিক আমাদের মেন্টাল স্টেইটের উপর ডিপেন্ডেন্ট
আর মেন্টাল স্টেইটের সব থেকে বড় ইনফ্লুয়েন্সিং ফ্যাক্টর হলো আমাদের গুনাহ
খেয়াল করে দেখুন
আমরা যখনই রাতের ডিভাইস বেইসড গুনাহতে আসক্ত হয়ে উঠি
আমাদের দিন হয় বিতৃষ্ণাময় আর গিল্টময়
তখন সারাক্ষণ একটা মনোলগ এক্সপেরিয়েন্স করি
"সিট! কেন করলাম আবার!"
"এই বুঝি একটা অঘটন ঘটল"
“এই বুঝি কেউ বুঝে ফেলবে”.
রাতের এই ডিভাইস বেসড অপরাধ গুলো আমাদের কে শুধু স্পিরিচুয়ালিই ডিস্টার্ব করে না
ডিস্টার্ব করে মেন্টালি, ফিজিক্যালি এবং ফিনান্সিয়ালিও
খেয়াল করে দেখুন
অতীতে আপনি যখনই লম্বা সময় ধরে কোনো গুনাহতে এনগেজ হয়েছিলেন
তখনি আপনার চাকরি জীবনে, দাম্পত্য জীবনে, সুস্থতায় কিংবা আপনার বস্তুগত বিষয়ে বরকত কমে গিয়েছিল
হয়তো সিউর কোনো ডিল মিস হয়ে গিয়েছিলো
নয়তো প্রমোশন আটকে গিয়েছিলো
কেন?
কারণ এই গুনাহ আমাদের চারটা পার্টিকে একসাথে অ্যাটাক করে
মাইন্ড, বডি, হার্ট, আর সৌলকে একসাথে
মাইন্ডের ক্ষেত্রে
সে আমাদের চিন্তা শক্তিকে ঘোলাটে করে তুলে
সেজদায় গিয়ে আর তখন আল্লাহর আরশ কল্পনাতে আসে না
আসে অন্য কিছু
অর্থাৎ সে আমাদের ভিজুয়ালাইজেশন পাওয়ার কে মেস্ড আপ করে ফেলে
হার্টের ক্ষেত্রে
সে সেথায় স্পট ফেলতে থাকে
সেটাকে কলুষিত করতে থাকে
একটা সময় গিয়ে গিল্ট নামক আর অনুভূতিটি ফিল হয় না
স্পিরিচুয়ালিটির ক্ষেত্রে
ডেডলি চিন্তা আমাদের পেয়ে বসে
আমাদের চিন্তা চেতনা একজন ভিকটিমের মতো হয়ে উঠে
ইন্টারনাল মনোলোগ আরো সরব হয়ে উঠে
“আমার রব আমার উপর নারাজ”
“এই বুঝি তিনি আমাকে শাস্তি দিবেন”
“উনার রহমত আর আমার উপর নেই”
“এই বুঝি আমার সাথে একটা খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে”
“এই বুঝি একটা সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে”
অথচ আমরা ভুলে যাই
অবচেতন মনে আমাদের এই নেগেটিভ চাওয়া গুলোও যে এক ধরনের দুয়া
ফলে হাদিসের কুদসীর পলিসি ফলতে থাকে
"আমার বান্দা আমাকে যেমনটা ভাববে
আমাকে তেমনটাই পাবে"
যেহেতু আমরা ভাবা শুরু করি
“আমার রব আমার উপর নারাজ”
ভাবা শুরু করি যে তিনি আমার রিজিক উঠিয়ে নিবেন
ধীরে ধীরে আমাদের রিয়ালিটিও তেমন ভাবেই প্রকাশ পেতে থাকে
আমরা আমাদের গুড লাক চার্ম হারিয়ে ফেলি
একের পর এক খারাপ নিউজ পেতে থাকি
এ এক ডেডলি স্পাইরাল!
বিখ্যাত আলেম ইবনে আরবি বলেন
"গুনাহ আসলে স্রষ্টার থেকে দূরে থাকা নয়
বরং এটা একটা ইলিউশন
ইলিউশন যে আমরা দূরে আছি
আসলে এই ধারণা আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর প্রজেক্ট করে থাকি"
ইস্তেগফার হচ্ছে এই ইলিউশন থেকে জেগে উঠা!
তবে এখন প্রশ্ন আসতেই পারে যে
কই? কত শত মানুষ কত শত খারাপ কাজ করে বেড়াচ্ছে
তাদের তো আর এরকম কিছু হচ্ছে না
আমার ক্ষেত্রেই কেন এমনটা হচ্ছে?
হচ্ছে না দুটো কারণে
১, পলিসি আর
২. হার্ট!
পলিসি দু ধরনের
একটা হচ্ছে গুড বয় পলিসি
আর একটা হচ্ছে বেড বয় পলিসি
উপরের কথা বার্তা গুলো কেবল গুড বয়দের জন্যই বর্তায়
বেড বয় পলিসি হলো
"আল্লাহ ছাড় দিয়ে রেখেছেন
যেদিন ধরবে সেদিন খবর আছে"
আমলের উপর ডিপেন্ড করবে যে
তিনি কি দুনিয়াতেই ধরবেন
নাকি পরের জন্য উঠিয়ে রাখছেন।
আর হার্ট এর ব্যাপার হলো যে
এটা একটা ফিল্টার
আমরা যখনি কোনো কাজ করি বা করার ইন্টেন্ড করি
সে তা অডিট করে
ভালো হলে ব্রেইনকে সেই সব হরমোন রিলিস করার আদেশ দেয়
যা আমাদেরকে হ্যাপিনেস ফিল করায়
সে তখন একটা পিসফুল স্টেইটে প্রবেশ করে
ইসলামিক পরিভাষায় এই স্টেইটকে নাফ্সে মুতমাইন্না বলে
আর খারাপ কোনো কাজ করলে
সে ব্রেইন সেই সব হরমোন রিলিস করার নির্দেশ দেয়
যা আমাদেরকে গিল্ট ফিল করায়
সে তখন একটা ডিস্টার্বড স্টেইটে প্রবেশ করে
ইসলামিক পরিভাষায় এই স্টেইটকে নাফ্সে লাওয়ামা বলে.
আসলে বলতে পারেন
আমাদের গুনাহ গুলো হলো একটা ফ্রিকশন
আমাদের নাফ্স এবং রুহ এর মধ্যে ফ্রিকশন
মনে রাখবেন
ফ্রিকশন হিট জেনারেট করে
আর সেই হিট আমাদের হার্ট ফিল করে.
আল্লাহ সূরা শামসের ৭ থেকে ১০ নাম্বার আয়াতে জানান
"আমি নাফ্স বানিয়েছি এবং সেটাকে
গুনাহ এবং তাকওয়ার ইলহাম দিয়েছি
সে ই সফল যে এটাকে পরিশুদ্ধ রেখেছে
সে ই বিফল যে এটাকে গুনাহতে দাবিয়ে রাখে"
অর্থাৎ আমরা জন্মগত ভাবেই ভালো না মন্দ এই জ্ঞান নিয়ে এসেছি
গিল্ট হচ্ছে হার্টের একটা সিগন্যাল
যখন আমাদের বডি রূহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গুনাহতে লিপ্ত থাকে
তখন হার্ট এই সিগন্যাল জেনারেট করে
আবারো বলি
কোরান এই গিল্ট ওয়ালা নাফ্সকে নাফ্সে লাওয়ামা বলে সম্বোধন করে.
ভাবছেন হয়ত নাফ্স, রুহ আর বডি এসব আবার কি?
সব তো একই, তাই না?
না, পার্থক্য আছে.
পার্থক্যটা একটু বুঝা দরকার তাই সংক্ষেপে বলছি
রুহ হচ্ছে আমাদের লাইফ ফোর্স
এটাই আমাদের অরিজিনাল সেলফ
এটা পিউর এবং ডিভাইন
যখন সেটা আমাদের বডি নামক ভেসেলের সাথে জুড়ে যায়
তখন সেটা হয় নাফ্স।
তাইতো দেখবেন আল্লাহ বলেন
কুল্লু নাফসিন যায়কাতুল মাউত
প্রতিটা নাফ্স মৃত্যুর স্বাদ টেস্ট করবে
বলেননি
কুল্লু রুহিন যায়কাতুল মাউত
কারণ রুহ পেইন ফিল করে না
ফিল করে বডি.
কোরানে সূরা ইস্রার ৮৫ নাম্বার আয়াতে আল্লাহর বলেন
"রূহ হচ্ছে আল্লাহর হুকুম"
আমরা যা কিছু করছি
সবই তো আল্লাহর হুকুমেই করছি
বিশ্বাস হচ্ছে না?
আমাদের দেখার শক্তি শুনার শক্তি এ সব কিছুই তো উনার হুকুমেই হচ্ছে
মালাকাউল মাউত যখন এসে রুহ কে নিয়ে যায়
আমরা কি আর অপারেট করতে পারি
আমাদের অর্গান গুলো তখন সেই হুকুম থেকে বঞ্চিত
তাইতো আমরা তখন সব কিছুর দেখার বা করার শক্তি হারিয়ে ফেলি।
এই রুহু ফুঁকে দেয়ার কারণে হজরত ঈসা আ কে আমরা রুহুল্লাহ ডেকে থাকি
আর এই লাইফ ফোর্স কেরি করার জন্য জিব্রাইল আমিন কে তো সূরা কদরে সরাসরি রুহ বলেই সম্বোধন করা হয়েছে।
ফিরে আসি আলোচনায়
এই হার্টেরও কিন্তু একটা লিমিট আছে
আমরা যখন মাত্রাতিক আর রিপিটেডলি খারাপ কাজ করতে থাকি
তখন এর চেক এন্ড বেলেন্সের ফ্যাকশনালিটি লুস হতে থাকে
অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলেন
মানুষ যখন প্রথম কোনো অপরাধের সংস্পর্শে আসে
তখন তা সে ঘৃণা করে
আর অনুশোচনায় ভোগে
কিছু কাল সেই অপরাধে জড়িত থাকলে সে তা সহ্য করতে থাকে
এক পর্যায়ে তাতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠে
আর লম্বা সময়ে তার সান্নিধ্যে থাকলে,
তা তখন সে এম্ব্রেইস করে
অতঃপর তা দ্বারা ইনফ্লুএন্সড হতে থাকে!"
কুরআন এই ধরনের গিল্ট মুক্ত স্টেইটকে নামসে আম্মারা বলে সম্বোধন করে
বিজ্ঞানীর সেই স্পিরিচুয়াল ভার্সন অবশ্য আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সহি তিরমিযী ৩৩৩৪ হাদিসে বলে গিয়েছেন
তিনি আমাদের জানান
"আমরা যখন প্রথম কোনো অপরাধের সংস্পর্শে আসি
তখন আমাদের হৃদয়ে একটি কালো স্পট পরে থাকে
আমরা যখন সেই অপরাধ কন্টিনিউ করি
তখন কালো স্পটটি বাড়তে থাকে এবং
একটা পর্যায়ে পুরো হৃদয়কে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে!"
এটা সেই হৃদয়ে পরে যাওয়া পর্দা
যার কথা কুরআনে বারবার এসেছে
এই পর্দার কারণে আমরা তখন আর গিল্ট ফিল করি না
তবে আমরা যখন এই গুনাহ থেকে সরে দাঁড়াই,
অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাই,
সেই স্পট গুলো দূর হতে থাকে!"
আস্তাগফিরুল্লাহ আমাদের এই স্পট দূর করতে সাহায্য করে
বলা যায় আস্তাগফিরুল্লাহ আমাদের নাফ্স কে অরিজিনাল রূহর কাছাকাছি নেয়ার তদবির করে.
সূরা নূরের বিখ্যাত আয়াত থেকে আমরা জানি
আমাদের রুহ হচ্ছে আলো আর কাল্ব হচ্ছে আয়নার রূপক
সেই আয়নায় যদি ময়লা থাকে
তাহলে তো আলো ছড়াতে বাধা পড়বেই।
আপনার আসে পাশে এব্যানডেন্স আছে
কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না
পাই না দুটো কারণে
এক সঠিক জ্ঞানের অভাবে আর
দুই পাই না কুলষিত হৃদয়ের কারণে
ইস্তেগফার সেই কুলষিত হৃদয় কে পরিচ্ছন্ন করে তুলে
আর যখন তা পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়
তখন আসে পাশের এব্যান্ডেন্স আমাদের চোখে ধরা দিতে শুরু করে
আর যেহেতু আমরা তা দেখতে শুরু করি
তা আমাদের কাছে আসাও শুরু করে।
ফাইনাল কথা
চাঁদ যেমন নিজের আলো তৈরি করে না
সূর্যের আলো রিফ্লেক্ট করে
তেমনি আমরাও রিজিক তৈরি করি না
বরং আসে পাশের ডিভাইন রিজিক যা আছে তা রিফ্লেক্ট করি
এখন ভাবুন তো,
আমাদের হার্টে যদি ময়লা থাকে
তাহলে সেটা ঠিক ভাবে রিফ্লেক্ট হবে কি করে?
আল্লাহর রাসূল প্রচুর এস্তেগফার করতেন
এই কারণে করতেন না যে তিনি গুনাহগার ছিলেন
কারণ তাঁর তো কোনো গুনাহই ছিল না
করতেন কারণ তিনি জানতেন যে
এস্তেগফার শুধু অতীতের গুনাহর মাফ করার জন্য নয়
বরং এটা প্রেসেন্টেরও বিষয়
কারণ তিনি জানতেন এস্তেগফার আমাদের হার্টকে নরম করে
এস্তেগফার আমাদের অরিজিনল সোর্স কে এলাইন করে
এস্তাগফের আমাদের ফ্রিকোয়েন্সিকে টিউন করে
এস্তেগফার আমাদের ভিতর শূন্যতা সৃষ্টি করে
যেন স্রষ্টা সেই শূন্যতায় ঢেলে দিতে পারে
একবার ভাবুন
আল্লাহর রাসূল, যার আয়না সব থেকে পরিচ্ছন্ন
তিনি যদি সেটা ঘন ঘন পালিশ করায় বেস্ত থাকতে পারেন
আমি আপনি কেন করবো না?
সো একটা জিনিস ক্লিয়ার
রিজিক এই জন্য আসে না কারণ আমরা চেয়ে বেড়াচ্ছি
বরং আসে তখনি যখন আমরা নেগেটিভ ইমোশন ছেড়ে তা ধারণ করার জন্য প্রস্তুত থাকি।
আস্তাগফিরুল্লাহ আমাদেরকে সেই প্রস্তুতিতে সাহায্য করে
আস্তাগফিরুল্লাহ আমাদের মেন্টাল স্টেইট ইম্প্রুভ করে
আমরা তখন বিস্বাস করা শুরু করি যে
আমরা ওর্দি
আমরা পাওয়ার যোগ্য
আর আমরা যখন এই ধরনের ফ্রিকোয়েন্সিতে অপারেট করতে থাকি
তখন রিজিকের সাথে টিউনেড হতে থাকি
টিউনেড হতে থাকি এই ভেবে যে
তিনি তো গণী
তিনি তো রাজ্জাক
তিনি তো ওয়াহ্হাব
তিনি না দিলে আর কে দিবে!
সো আবার বলি
আস্তাগফিরুল্লাহ কাজ করে
আমার আপনার ক্ষেত্রে কাজ করে না
কারণ হয়ত আমরা একে ঠিক মতো এতদিন প্রয়োগ করিনি।
আমাদের যখন কোনো জখম হয়
আমরা তা বেনডাইজ দিয়ে ঢেকে দেই
যেন তা নিজে নিজে হিল হতে পারে
এস্তেগফার হলো সেরকম ঢেকে দেওয়া ব্যান্ডেজ
যা আমাদের হার্ট কে হিল করে
তবে হিল হতে সময় লাগে
কারণ আমাদের বডি ন্যাচারাল লো ফলো করে।
তাই বলছি
আগামী ৪০ দিনের অন্তত গুনাহের অ্যাক্টিভিটি গুলো পরিহার করুন
হার্টকে হিল হতে সময় দিন
প্রতিদিন মাইন্ডফুলি এস্তেগফার করা স্টার্ট করুন
হুড়মুড়িয়ে হড়বড়িয়ে শুধু আঙ্গুল টিপে টিপে না
ধীরে ধীরে ৩ সেকেন্ড পস দিয়ে।
বলতে থাকুন
আস্তাগফিরুল্লাহ ---- আস্তাগফিরুল্লাহ ---- আস্তাগফিরুল্লাহ
বলার সময় চোখ বন্ধ করে ফিল করুন
আপনার হার্টের ছোট্ট ছোট ডট গুলো মুছে যাচ্ছে
ফিল করুন যে এক অসীম দোয়ার সাগরে আপনার চার পাশে ভেসে বেড়াচ্ছে
আপনি তা এতদিন দেখতে পাচ্ছিলেন না
আজ তা আপনার উপর ধীরে ধীরে এসে পড়ছে
দেখবেন ভিতরে একটা কনফিডেন্স বিল্ড আপ হচ্ছে
একটা ক্লেরিটি চলে আসছে
তখন নিজেই ফিল করবেন যে
দুর্ভাগ্যের গিঁট গুলো আস্তে আস্তে সব খুলে যাচ্ছে
নতুন নতুন স্বভাবনার দাঁড় উন্মোচন হচ্ছে!
রিজিক সন্নিকটে!
রিজিক আসছে!
Samiul Huq