Tuhfatul Islam

Tuhfatul Islam Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Tuhfatul Islam, Grocers, Dhaka.

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শৃঙ্খলিত ...
23/02/2026

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শৃঙ্খলিত করে দেয়া হয় শয়তানকে।

Narrated Abu Huraira:
Allah’s Messenger (ﷺ) said, "When the month of Ramadan starts, the gates of the heaven are opened and the gates of Hell are closed and the devils are chained."

—সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৮ (আন্তর্জাতিক নং ১৮৯৯)

উপহার​শৈশবেই ছেলেটির মা মারা যান। ছোট ছেলেটির প্রতিপালনের সকল দায়িত্ব এসে পড়ে বাবার ওপর। বাবা ছিলেন একজন স্বনামধন্য ব্যব...
22/02/2026

উপহার
​শৈশবেই ছেলেটির মা মারা যান। ছোট ছেলেটির প্রতিপালনের সকল দায়িত্ব এসে পড়ে বাবার ওপর। বাবা ছিলেন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। ছেলেকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। ছেলে যেন নষ্ট হয়ে না যায়, তাই ব্যস্ততার মাঝেও ছেলেকে তিনি সাধ্যমতো সময় দিতেন।
​দেখতে দেখতে ছেলেটি বড় হয়ে ওঠে। একদিন সে বাবার কাছে একটা দামি গাড়ির আবদার করে বসল।
​বাবা বললেন, ‘ঠিক আছে। এবার যদি তুমি পরীক্ষায় ভালো করো, তাহলে তোমাকে একটা নতুন মডেলের দামি গাড়ি কিনে দেবো, ইন শা আল্লাহ।’
​বাবার কথায় ছেলেটি খুবই অনুপ্রাণিত হলো। সে খুব ভালোমতো পড়াশোনা শুরু করল। সে জানে, বাবা যখন ও’য়াদা করেছেন, তখন তিনি তার ও’য়াদা রাখবেনই। তাই ভালো ফলাফল করার জন্য ছেলেটি আগের চেয়েও কয়েকগুণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা শুরু করল। যেদিন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো, দেখা গেল, সে ক্লাসের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এবার বাবা নিশ্চয়ই তাকে গাড়ি কিনে দেবেন। বাড়ি ফিরে সে বাবাকে তার সার্টিফিকেট দেখাল। বাবাও অত্যন্ত খুশি হলেন। পরদিন একটা বাক্স এনে ছেলের হাতে দিয়ে বললেন, ‘আমার কলিজার টুকরা, এই নাও তোমার উপহার।’
​খুশিতে ছেলেটি চিৎকার দিয়ে উঠল। সে ধরে নিল, বাক্সের মধ্যে নিশ্চয়ই গাড়ির চাবি রাখা আছে; কিন্তু যখন বাক্সটি খুলল, দেখল ভেতরে একটি কুর’আনের কপি। সে খুব অবাক হলো। তার মেজাজ চড়ে গেল। টেবিলের উপর বাক্সটি সশব্দে রেখে তার বাবাকে বলল, ‘তুমি আমাকে গাড়ি কিনে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করোনি? পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি। আর এখন কিনা তুমি আমাকে গাড়ির বদলে একটি কুর’আন দিচ্ছ? তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছ...’
​বাবা ছেলেকে কিছু একটা বলতে চাইলেন; কিন্তু ছেলে বাবার কোনো কথা না শুনে আবারও চটে গেল। বাবার সাথে খারাপ আচরণ করতে লাগল। বাবা নির্বাক হয়ে গেলেন। বুঝতে পারছিলেন না, তার করণীয় কী। ছেলেটি ইতোমধ্যে বাড়ি থেকে ঝড়ের বেগে বেরিয়েও গেল। এক পর্যায়ে, বাবাও দেখতে চাইলেন—ছেলের আচরণ কোথায় গিয়ে ঠেকে। তাই ইচ্ছে করেই ছেলেকে আর বাধা দেননি তিনি।
​অতঃপর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এলো। ছেলে তখনো বাড়ি ফেরেনি। ইতোপূর্বে সে কখনোই এমনটি করেনি। রাগ করে এর আগেও সে বাসা থেকে বের হয়েছে, আবার ঠিকই সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফিরেছে। ছেলের কথা ভেবে বাবা খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি চারদিকে ছেলের খোঁজ করতে লাগলেন। সকল আত্মীয়-স্বজনদের কাছে খোঁজ নেওয়া হলো। হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশন কোনোটাই বাদ নেই; কিন্তু ছেলেকে কোথাও পাওয়া গেল না। বাবার চোখেমুখে শুধুই বিষণ্নতা আর অনুশোচনা। এমনি করেই কেটে যেতে লাগল এক একটি দিন, সপ্তাহ, মাস, এমনকি বছর।
​অন্যদিকে, বাবার ওপর অভিমান করে ছেলেটি দূরের একটি শহরে গিয়ে বসবাস শুরু করল। সে বাড়ির কথা মোটেও চিন্তা করত না। বাবাকে দেখার ইচ্ছেও তার হয়নি কখনো। সে ভাবত, বাবা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। মহাপাপ করেছেন। তার মনে হতো, তাকে তিনি পছন্দ করেন না। এভাবেই প্রায় বিশটি বছর কেটে গেল। একদিন হঠাৎ করেই বাড়ি ফেরার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠল। এতদিন পরে হলেও বাবার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। কেন জানি মনে হচ্ছে—কোথাও একটা ভুল হয়েছে তার। দ্রুত নিজের শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। শহরে পৌঁছে সে জানতে পারল, তার বাবা তার জন্য দুশ্চিন্তা করতে করতেই মারা গেছেন। তার ঘরবাড়ি, সহায় সম্পত্তি সব সেভাবেই পড়ে আছে। বাবা নেই ভাবতেই তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলো।
​সে তার ছোটবেলার ঘরটিতে গেল। অনেকদিন সে ঘরে কেউ পা রাখেনি। সবকিছুতে ধুলা পড়ে আছে। সে একটু একটু করে ঘরটা পরিষ্কার করল। বাবার কাগজপত্রগুলো সব জড়ো করতে গিয়ে হঠাৎ বিশ বছর আগের সেই বাক্সটি তার চোখে পড়ল। বাক্সটি হাতে তুলে নিল সে। খুলে দেখল, এখনো ভেতরে কুর’আনটি সেভাবেই আছে। ভালোভাবে খেয়াল করতে গিয়ে তার নজরে পড়ল পাশে রাখা ছোট চাবিটি। এটাই কি সেই গাড়ির চাবি যা সে বাবার কাছে চেয়েছিল? তার মনে পড়ল, বাবা কিছু বলতে চাচ্ছিলেন সেদিন। এই চাবির কথাই কি বলতে চেয়েছিলেন তিনি? তার ভীষণ খারাপ লাগা শুরু হলো। বুঝতে পারল, খুব বড় একটা ভুল হয়ে গেছে তার জীবনে। খুব সাংঘাতিক একটা ভুল। মুহূর্তেই সে কান্নায় ভেঙে পড়ল। ভীষণ কষ্টে তার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। তার ইচ্ছে হচ্ছিল চিৎকার করে কাঁদতে; কিন্তু তার মুখ থেকে একটি শব্দও বের হলো না।
​আসলে, সন্তানেরা অনেক সময়ই বাবা-মা’কে ভুল বুঝে তাদের আঘাত দেয়; কিন্তু সব বাবা-মা-ই সন্তানকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। সবসময়ই তারা সন্তানের কল্যাণ কামনা করেন। সত্যি বলতে, আমাদের পিতা-মাতা ও শিক্ষকগণই কেবল আমাদের সফলতায় সত্যিকারভাবে খুশি হন।

সংগৃহীত:- আরিফ আজাদের "মা মা মা বাবা" বই থেকে।

উপসংহার:- রাগ মানুষের বিবেককে অন্ধ কারে দেয়। তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বা আপনজনের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা ঠিক নয়।

এই ঋণ শোধ হবার নয়!​ছেলেটি খুবই ধার্মিক। সবেমাত্র যৌবনে পদার্পণ করেছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল তার জীবনের প্রধানতম ল...
21/02/2026

এই ঋণ শোধ হবার নয়!
​ছেলেটি খুবই ধার্মিক। সবেমাত্র যৌবনে পদার্পণ করেছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল তার জীবনের প্রধানতম লক্ষ্য। পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব সে বুঝত এবং সেভাবেই সে পিতা-মাতার সাথে আচরণ করত। বলা চলে, বাবা-মায়ের প্রতি তার আচরণ ছিল অন্যদের জন্য আদর্শস্বরূপ। ফলে মানুষের মুখে মুখে তার উত্তম আচরণের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
​কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই ভালো কাজটি তার মধ্যে অহংকারের জন্ম দেয়। সে নিজেকে অনেক বড় আল্লাহভক্ত, পিতা-মাতার অনুগত, বাধ্য ভাবতে শুরু করল এবং আরও মনে করতে লাগল যে, পিতা-মাতার জন্য যে হক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা নির্ধারণ করেছেন, তার সবটাই সে আদায় করে ফেলেছে।
​একদিন সে তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, শৈশবে আমার প্রতি আপনি সহানুভূতি দেখিয়েছেন, আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছেন। তাই প্রতিদানে আমিও আপনার সাথে ভালো আচরণ করতে চাই। তাছাড়া আল্লাহর জন্যই আমি আপনার সাথে সদাচরণ করি, আপনার কঠিন আদেশ পালনেও তৎপর থাকি। আপনার আদেশকে আমি নিজের জন্য সহজ ও উপভোগ্য করে নিই।’
​ছেলেটির বাবা ছিলেন একজন বিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ মানুষ। তিনি মনোযোগ দিয়ে ছেলের কথা শুনলেন; কিন্তু ছেলের অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন একটি শব্দও তিনি উচ্চারণ করলেন না। তিনি বললেন, ‘বাবা আমার, তুমি আমার সাথে সদাচরণ করছ, আমার দেখভাল করছ এজন্য আল্লাহর দরবারে অনেক শুকরিয়া। প্রিয় পুত্র, জীবনে আমার তেমন কোনো শখ আহ্লাদ নেই; শুধু একটি ইচ্ছে বাকী আছে। তুমি কি শুনতে চাও, কী সেই ইচ্ছে?’
​ছেলেটি বলল, ‘অবশ্যই, দয়া করে আপনার সেই ইচ্ছেটার কথা আমাকে বলুন। আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও তা পূরণ করব, ইন শা আল্লাহ।’
​বাবা বললেন, ‘আমার খুব আপেল খেতে ইচ্ছে করছে। পারবে এনে দিতে?’
​কঠিন কোনো দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার জন্য ছেলেটি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল; কিন্তু এ কী, বাবার ইচ্ছে সামান্য আপেল খাওয়া!
​সে বলল, ‘বাবা, এটা তো খুবই সহজ কাজ। আমি ভেবেছিলাম, আপনি হয়তোবা কঠিন কোনো দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করবেন।’
​বাবা হাসিমুখে বললেন, ‘না, এটাই আমার শেষ ইচ্ছে বলতে পার।’
​ছেলেটি তৎক্ষণাৎ অনেকগুলো আপেল নিয়ে এসে বলল, ‘বাবা, এই যে আপেল; আপনি এখান থেকে যতগুলো ইচ্ছে খান। শেষ হয়ে গেলে আরও এনে দেব। আপনার আদেশ পালনে আমি বাধ্য।’
​বাবা বললেন, ‘না না। এগুলোই যথেষ্ট। আর প্রয়োজন নেই; তবে এই আপেলগুলো এখানে বসে খেতে ইচ্ছে করছে না। ওই যে সামনের পাহাড়টি দেখছ, আমি তার চূড়ায় উঠে এই আপেলগুলো খাব। সুতরাং তুমি যদি সত্যি সত্যি আমার প্রতি সদয় হয়ে থাকো, আমাকে পাহাড়টার চূড়ায় নিয়ে চলো।’
​বাবার এমন অদ্ভুত আবদারে ছেলেটি বেশ অবাকই হলো; তবুও সে বাবাকে খুশি করার জন্য তার আদেশ পালন করল। এক হাতে আপেলের ঝুড়ি আর পিঠে বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় উঠল। বাবাকে একটা জায়গায় বসিয়ে আপেলগুলো তার সামনে রাখল। এরপর বিনয়ের সাথে আপেলগুলো খাওয়ার জন্য বাবাকে অনুরোধ করল; কিন্তু তিনি ঝুড়ি থেকে একটি একটি করে আপেল নিয়ে সেগুলো পাহাড়ের ঢালের দিকে ছুড়ে ফেলতে লাগলেন। অতঃপর ঝুড়িটি সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেলে বাবা ছেলেকে বললেন, ‘যাও, নিচ থেকে আপেলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে আসো।’
​বাবা ঠিক কী চাচ্ছেন, ছেলেটা এর কিছুই বুঝতে পারল না। বাবা আবার বললেন, ‘কই, যাও নিচে। কুড়িয়ে নিয়ে এসো।’
​সন্তান আদেশ পালন করল। আপেলগুলো নিচ থেকে কুড়িয়ে এনে বাবার হাতে দিল। বাবা আপেলগুলো হাতে নিয়ে একটুপর আবার আপেলগুলো পাহাড় থেকে নিচে ছুড়ে ফেলতে লাগলেন। ছেলেটি অবাক হলো। বাবা বললেন, ‘যাও, আপেলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে এসো।’
​ছেলেটি আবার নিচে নামল এবং আপেলগুলো কুড়িয়ে বাবার কাছে এনে দিল। এবারও বৃদ্ধ বাবা আপেলগুলো হাতে নিয়ে নিচে ছুড়ে মারলেন এবং আদেশ করলেন আপেলগুলো কুড়িয়ে আনতে। এবার ছেলেটি কিছুটা বিরক্ত হলো; কিন্তু রাগ সংবরণ করে সে এবারও নিচ থেকে আপেলগুলো কুড়িয়ে এনে বাবাকে দিল।
​আপেলগুলো হাতে পেয়ে চতুর্থবারও বাবা আপেলগুলো নিচে ছুড়তে লাগল। এবার ছেলের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তার চেহারায় প্রচণ্ড রাগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। বাবা ছেলের এরকম চেহারা দেখে তার অবস্থা বুঝতে পারলেন। তিনি আলতোভাবে সন্তানের কাঁধের উপর তার হাত রেখে বললেন, ‘আমার সন্তান, রাগ করো না। এটাই সেই জায়গা। শৈশবে তুমি বার বার তোমার খেলার বলকে এই পাহাড়ের ঢাল দিয়ে গড়িয়ে ফেলতে। আর আমি কী করতাম জানো? বার বার সেটাকে কুড়িয়ে এনে তোমার ছোট হাতে তুলে দিতাম। তোমার সেই আচরণ কখনো আমাকে বিন্দু পরিমাণ বিরক্ত বা ক্লান্ত করেনি; বরং এভাবে খেলা করে তুমি মজা পেতে দেখে আমারও খুব ভালো লাগত। তোমাকে খুশি করার জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি ছিলাম। অথচ প্রায় একই কাজ তোমাকে কতটা রাগান্বিত করল!’
​হৃদয়ের গভীর থেকে অনুভব করা প্রয়োজন যে, আমাদের প্রতি পিতা-মাতার অবদান অতুলনীয়। আমরা তাদের জন্য যত কিছুই করি না কেন; তাদের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। তাই আমাদের উচিত, যথাসাধ্য তাদের সম্মান করা, সেবাযত্ন করা, এবং ভালোবাসা। তাদের জন্য দু‘আ করা, ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের নেক আমলকে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা।

সংগৃহীত:- আরিফ আজাদের "মা মা মা বাবা" নামক বই থেকে।

উপসংহার:- পিতা-মাতা আমাদের জন্য যা করেছেন, তা কেবল দায়িত্ব নয়, বরং অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাই তাঁদের বৃদ্ধ বয়সে আমাদের সেবা যেন যান্ত্রিক না হয়, বরং তা যেন হয় গভীর শ্রদ্ধা ও অসীম ধৈর্যের বহিঃপ্রকাশ।

Islam

বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসুন!​সমুদ্রের পাড়ে একটা ত্রিকোণ চাদরের ওপর বসে আছেন এক বৃদ্ধা। দূরে উপচে পড়া সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে অপ...
28/01/2026

বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসুন!
​সমুদ্রের পাড়ে একটা ত্রিকোণ চাদরের ওপর বসে আছেন এক বৃদ্ধা। দূরে উপচে পড়া সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তিনি। সূর্যাস্ত দেখছেন। দেখছেন সাগরের ঢেউয়ের ওপর বেলা শেষের আলোর খেলা। না জানি, কত হৃদয়ভাঙা কাহিনী, কত অবিস্মরণীয় ঘটনা, কত মন-ভোলানো স্মৃতি এই সাগরের অতলে চাপা পড়ে আছে। তার নিজের জীবনটাও যেন অনেকটা সাগরের মতোই।
​সৈকতে সেদিন অনেক পরিবারই বেড়াতে এসেছিল। বৃদ্ধার কাছেই বসেছিল এমন একটি পরিবার। ছোটরা চারপাশে খেলা করছে। বড়রা উচ্ছ্বসিত গলায় নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, চা খাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে—অনেক দিন পরে পরিবারের সবাই একসাথে হয়েছে। রাত গভীর হতে হতে প্রায় একটা বাজল। বাড়ি ফেরার জন্য গোছগাছ প্রায় শেষ। সৈকত ছেড়ে যাওয়ার আগে বেড়াতে আসা পরিবার থেকে মাঝবয়সী একজন লোক বেরিয়ে এলো। বৃদ্ধা তখনো একাকী বসে ছিলেন। চোখ সাগরের উপচে পড়া ঢেউয়ের দিকে স্থির। লোকটি বৃদ্ধার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘খালাম্মা, আপনি কি কারও জন্য অপেক্ষা করছেন? সেই সন্ধ্যা থেকেই দেখছি এখানে একা একা বসে আছেন। অনুমতি দিলে আমি আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারি।’
​বৃদ্ধা বললেন : ‘না বাবা, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আসলে আমার ছেলের জন্য অপেক্ষা করছি। সে দ্রুতই চলে আসবে। সম্ভবত রাস্তায় খুব জ্যাম। এজন্যই হয়তোবা দেরি হচ্ছে।’
​‘রাত প্রায় দেড়টা বাজে। এ সময় কে আসবে?’—লোকটা জিজ্ঞেস করল।
​বৃদ্ধা বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ, বাবা; কিন্তু আমি আমার ছেলের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কী করতে পারি, বলো? এই চিঠিটাই দেখো। আমার ছেলে এখানে রেখে যাওয়ার সময় আমার হাতে দিয়ে গেছে; কিন্তু আমি তো পড়তে পারি না। তুমি একটু পড়ে দেখবে, বাবা?’—এই বলে বৃদ্ধা ছেলের রেখে যাওয়া একটা ছোট্ট চিরকুট লোকটির দিকে বাড়িয়ে দিলেন।
​ভদ্রলোক সেটি পড়তে শুরু করলেন—
​‘এই চিরকুট যিনি পড়বেন তাঁকে অনুরোধ করছি, যেন তিনি চিরকুট বহনকারী বৃদ্ধাকে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসেন।’
​চিঠিখানা পড়ে ভদ্রলোক কিছুক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলেন। পৃথিবী যেন কিছুক্ষণের জন্য স্তিমিত হয়ে পড়েছে। সাগরের গর্জন থেমে গেছে। ঢেউগুলোও মনে হচ্ছে আর পাড় ভাঙছে না। সবখানে যেন একটা নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে এই মুহূর্তে। নির্বাক ভদ্রলোক চিঠিটা নিয়ে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে এলেন। তাঁর পরিবারের একে একে সবাই এই চিঠিটা পড়লেন এবং পড়া শেষে কেউই নিজের চোখের অশ্রু সংবরণ করতে পারলেন না। এরকম হতভাগা বৃদ্ধা মায়ের জন্য সবার প্রচণ্ড মন খারাপ হয়ে গেল। এই চিঠি যে পাষণ্ড লিখেছে তাকে তার মা গর্ভে ধারণ করেছেন নয় মাস। দু’বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করিয়েছেন। কত রাত তিনি নির্ঘুম কাটিয়েছেন—যেন সন্তান আরামে ঘুমাতে পারে। এত কিছুর প্রতিদানে পেলেন একটা পাষণ্ড, অকৃতজ্ঞ সন্তান। একটা কুকুরও তার বৃদ্ধ অসহায় মনিবকে একা ফেলে চলে যায় না। কুকুরও এতটা অকৃতজ্ঞ, হৃদয়হীন হয় না, কিন্তু মানুষ কীভাবে হয়!

সংগৃহীত:- আরিফ আজাদের "মা মা মা এবং বাবা" বই থেকে।

উপসংহার:- এই মর্মস্পর্শী গল্পটি আমাদের সমাজের একটি চরম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। গল্পটি থেকে আমরা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি:
* পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও নৈতিকতা: সন্তান হিসেবে বাবা-মায়ের প্রতি আমাদের যে নৈতিক দায়িত্ব আছে, তা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা যে ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের বড় করেন, বৃদ্ধ বয়সে তাদের একা ফেলে দেওয়া চরম অমানবিকতা।
* অকৃতজ্ঞতার ভয়াবহতা: একজন মানুষ সব হারিয়েও তার কৃতজ্ঞতাবোধ হারানো উচিত নয়। মা-বাবার মতো নিঃস্বার্থ আশ্রয়কে যারা বোঝা মনে করে, তারা পশুর চেয়েও অধম—গল্পে কুকুরের সাথে তুলনা দিয়ে লেখক এই বার্তাই দিয়েছেন।
* মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: অপরিচিত ভদ্রলোক যেভাবে বৃদ্ধার খোঁজ নিয়েছেন, তা আমাদের শেখায় যে সমাজে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।

Islam

সহানুভূতির সত্য রূপ!​আটপৌরে জীবনে অভ্যস্ত একটা মেয়ে। পেশায় একজন নার্স। জীবনটাকে নিজের মতো করেই দেখতে ভালোবাসে। নিজেকে ধর...
26/01/2026

সহানুভূতির সত্য রূপ!
​আটপৌরে জীবনে অভ্যস্ত একটা মেয়ে। পেশায় একজন নার্স। জীবনটাকে নিজের মতো করেই দেখতে ভালোবাসে। নিজেকে ধরাবাঁধা জীবনের বাইরের বাসিন্দা ভাবতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অন্য ধর্মের হওয়ায় ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানত না সে।
​সারাদিন হাসপাতালের কাজ শেষ করে বাসায় এসে টিভি দেখা, গান শোনা—এই গণ্ডিতেই আবদ্ধ তার জীবন। গান যেন তার জীবনের সবটা জুড়ে। একদিন টিভি দেখার সময় চ্যানেল বদলাতে বদলাতে হঠাৎ চোখ আটকে যায় একটি অনুষ্ঠানে। ইসলাম নামের একটি ধর্ম নিয়ে কিছু বলা হচ্ছে সেখানে। মেয়েটি মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকল ঠিকই, কিন্তু আকর্ষণীয় কিছুই পেল না সেদিন; বরং অনেক কিছুই অর্থহীন মনে হলো তার কাছে। টিভি বন্ধ করে উঠে গেল সে।
​কিছুদিন পরের কথা। এক মুসলিম দম্পতি অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে নিয়ে হাসপাতালে এলো। বৃদ্ধার দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ল মেয়েটির ওপর। সে আশ্চর্য হয়ে দেখল, বৃদ্ধার অসুস্থতার ব্যাপারে দম্পতিটি খুবই স্পর্শকাতর। অসুস্থ শাশুড়ির পাশে সারাদিন ভদ্রলোকটির স্ত্রী মনখারাপ করে বসে থাকেন। কখনো কখনো তার গাল বেয়ে অশ্রুও গড়িয়ে পড়ে। নার্সটি মনে মনে ভাবে—অনর্থক কান্না। কথা বলার কোনো ইচ্ছে না থাকলেও, কাঁদতে দেখে সে একদিন জিজ্ঞেসই করে বসল :
​‘কাঁদছেন কেন? মানুষ রোগাক্রান্ত হবে। আবার সুস্থ হবে। এটাই তো স্বাভাবিক।’
​‘আমার শাশুড়ি মা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় আমরা তার চিকিৎসার জন্য দেশ ছেড়েছি। দেশে তাকে অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে—লাভ হয়নি। তাই আমেরিকায় আসা। তিনি আমার মায়ের মতোই। তার অসুস্থতা আমাকেও বেশ কষ্ট দিচ্ছে। এ ব্যর্থতাই আমাকে কাঁদাচ্ছে যে, আমরা আমাদের সাধ্যের সব চেষ্টা করেও তার কষ্ট কমাতে পারছি না।’
​এ কথাগুলো নার্স মেয়েটিকে ভীষণ ধাক্কা দিল। সে অবাক হয়ে ভাবতে লাগল মেয়েটিকে নিয়ে—কেবলমাত্র শাশুড়ির সুচিকিৎসার জন্য সে স্বামীর সাথে বিদেশে এসেছে, প্রতি মুহূর্ত জেগে আছে, পাশে বসে আছে। অথচ আমি আমার নিজের মায়ের জন্যেও এতকিছু করার কল্পনা করতে পারি না। এমনকি মা এখন কেমন আছেন, তাও আমার জানা নেই। আমি আমার গর্ভধারিণী মায়ের প্রতিই এতটা উদাসীন, আর শাশুড়ি হলে কী করতাম!’
​সে মনে মনে হিংসা করতে শুরু করল বৃদ্ধাকে। পরিবারের কাছ থেকে কী অপূর্ব ব্যবহার পাচ্ছে সে। আমি যদি ওই বৃদ্ধা হতাম, তবে আমার পরিজনরাও কি এভাবেই আমার যত্ন নিত? বৃদ্ধা একজন মুসলিম। মুসলিমরা কি পরিবারের সদস্যদের প্রতি এতটাই সহানুভূতিশীল? কিছুটা কৌতূহলী হয়ে উঠল সে।
​হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর থেকেই বার বার দেশ থেকে ফোন আসে। স্বজনেরা তাদের সাথে সারাক্ষণ যোগাযোগ রাখছে। অসুস্থ বৃদ্ধার সুস্থতার খবর নিচ্ছে। সহানুভূতি জানাচ্ছে, দু’আ করছে।
​একদিন নার্স মেয়েটি দেখে, ভদ্রলোকের স্ত্রী একা বসে আছেন। কেন যেন আজ মেয়েটির সাথে বড্ড কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে তার। বিনয়ের সাথে তাকে কাছে ডাকল সে। জানতে চাইল তার নানা বিষয়ে। কথায় কথায় অনেক কিছু জানতে চাইল সে—ইসলাম সম্পর্কে, পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কে। ইসলামের অমীয় বাণীর সাথে ভালো লাগার সম্পর্কের সেটিই তার প্রথম দিন।
​সে নিজ চোখে দেখতে লাগল—কীভাবে দম্পতিটি বৃদ্ধার সেবা করছেন। তার পাশে তারা সারা রাত কাটিয়ে দিচ্ছেন। মায়ের অবস্থার উন্নতি হলে তাদের মুখ খুশিতে জ্বলজ্বল করত। আবার অবস্থার অবনতি হলে তারা বিষণ্ণ হয়ে যেতেন। একদিন সেই বৃদ্ধা মারা গেলেন। এতে ছেলে ও তার স্ত্রী দু’জনই কান্নায় ভেঙে পড়লেন। দীর্ঘক্ষণ তারা শিশুর মতো কাঁদছিলেন।
​এই ঘটনার পর ইসলাম সম্পর্কে নার্স মেয়েটির দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি পাল্টে যায়। সে ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা শুরু করে এবং পরিশেষে ইসলাম গ্রহণ করে। তার ভাষায় :
​‘পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনা ও বৃদ্ধার প্রতি দম্পতিটির যত্নই আমাকে ইসলামের নিকটবর্তী করেছে। একটি ইসলামী কেন্দ্র থেকে পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কিত একটি বই সংগ্রহ করেছিলাম। আমি যতই পড়েছি, ততই ইসলামের নিকটবর্তী হয়েছি। পড়ার সময় আমি নিজেকে এক বৃদ্ধা মা হিসেবে কল্পনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, চারদিকে সন্তানেরা আমার সেবা করছে, আমাকে ভালোবাসছে। আমি ইসলামের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করতে লাগলাম। অতঃপর আমি ইসলামে দীক্ষিত হলাম। প্রজ্ঞাময় ইসলামী শিক্ষার পূর্ণ ভাণ্ডার না দেখে শুধু পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কে জেনেই আমি মুসলিম হয়েছি।’

সংগৃহীত:- আরিফ আজাদের মা মা মা এবং বাবা বই থেকে।

উপসংহার:-​ আমাদের ব্যক্তিগত আচরণ এবং পরিবারের প্রতি আমাদের কর্তব্যপরায়ণতা যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়। মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সেবা প্রদর্শনই প্রকৃত মনুষ্যত্ব।
Islam

মায়ের চিঠি​প্রিয় খোকা,​বেশ কিছুদিন ধরে তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। ঘুরেফিরে কেবল পুরনো দিনের স্মৃতিগুলোই চোখের সামনে ভেসে উঠ...
24/01/2026

মায়ের চিঠি
​প্রিয় খোকা,
​বেশ কিছুদিন ধরে তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। ঘুরেফিরে কেবল পুরনো দিনের স্মৃতিগুলোই চোখের সামনে ভেসে উঠছে বার বার। তখন সময়টা ছিল বিয়ের প্রায় বছর দেড়েক পর। একজন নারী তার জীবনে সবচেয়ে প্রিয় যে সংবাদ পেতে পারে, সেই সংবাদ আমিও পেয়েছিলাম। তুমি জানো, কী ছিল সেই সংবাদ—যা আমাকে জীবনের পরম আনন্দে ভাসিয়েছিল? সেটা ছিল তোমার অস্তিত্বের সংবাদ। আমাকে বলা হয়েছিল, আমার গর্ভে তুমি এসেছ। বাবা আমার, আমি তোমাকে কোনোভাবেই সেই মুহূর্তের কথা বলে বোঝাতে পারব না। আমার গর্ভে তোমার অস্তিত্বের সংবাদ যে আমাকে কী রকম আনন্দের প্লাবনে ভাসিয়েছে—সেটা তুমি কোনোদিনও বুঝবে না।
​তারপর অনেকগুলো সপ্তাহ কেটে গেল। আমার শরীরে আস্তে আস্তে পরিবর্তন আসতে লাগল। শরীরের এই পরিবর্তনের সাথে সাথে আমি ভয়ও পাচ্ছিলাম। কারণ, আমি যা-ই খেতাম তা-ই বমি হয়ে যেত। প্রচণ্ড দুর্বলতা এসে আমার শরীরে ভর করতে লাগল। তুমি বড় হওয়ার সাথে সাথে আমার শরীরও দিন দিন বড় হতে লাগল। আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, তুমি গর্ভে আসার পর আমার শারীরিক দুর্বলতা, অসহনীয় ব্যথা, খেতে বা ঘুমোতে না পারা সত্ত্বেও যতই দিন গড়াচ্ছিল, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা ততই বেড়ে চলছিল।
​আমার ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্নে সবখানে শুধু তুমি আর তুমি। এভাবে দিনগুলো সপ্তাহ আর সপ্তাহগুলো মাসে পরিণত হতে লাগল। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আমিও যেন ভারী হয়ে গেলাম। আমি এত বেশিই ভারী হয়ে উঠলাম যে, কোথাও বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। বেশিক্ষণ হাঁটতে পারতাম না। এরপর এমন একটা সময় এলো যখন আমি চিৎ হয়ে ঘুমাতেও পারতাম না। কেন জানো? কারণ, তোমার ওজন আমার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা তৈরি করত। তাই আমি পাশ ফিরে ঘুমাতাম। তবুও আমার ভেতরে একটা ভয় কাজ করত। ভাবতাম, পাশ ফিরে ঘুমাতে গিয়ে আবার তোমার গায়ে কোনো আঘাত লাগে কি না! তোমার কোনো ক্ষতি হয়ে যায় কি না সারাক্ষণ এই ভয় আমার ভেতরে কাজ করত। এই আশঙ্কা নিয়েই কত রাত আমার নির্ঘুম কেটে গেছে—তুমি জানো না। কত বিচিত্র আর ভালোলাগার ছিল সেই প্রহরগুলো।
​এভাবেই দিন যত যাচ্ছিল, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা তত বাড়ছিল। তোমার প্রতি আমি আরও বেশি মনোযোগী, আরও বেশি যত্নশীল হয়ে উঠছিলাম। তোমাকে একটু ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে আমার তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগল। আমি নীরবে কান পেতে শুনতাম। তুমি কোনো শব্দ করছ কি না, নড়াচড়া করছ কি না। যখনই তুমি নড়ে উঠতে, আল্লাহর কসম, মনে হতো—আমি যেন তখনই মারা যাবো। প্রচণ্ড ব্যথায় আমি কুঁকড়ে উঠতাম। আমি যেন নিজের ভেতর নিজেই গুটিয়ে যেতাম। বিশ্বাস করো, মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে সেই ব্যথা আমি কত শত বার নিজের ভেতরে চাপা দিয়ে দিয়েছি। কাউকে জানতেও দিইনি। কেন জানো? শুধু তোমার জন্য।
​এরপর... একদিন সেই সময়টা এলো। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! সেদিন আমি এমন এক ব্যথা অনুভব করলাম—যা আমি এর আগে কখনো অনুভব করিনি। এমন এক ব্যথা—যার কারণে আমার মনে হচ্ছিল, আমি বুঝি মারাই যাব। ব্যথার পর ব্যথা! চাপের পর চাপ! সেকেন্ডের পর সেকেন্ড! মিনিটের পর মিনিট! আল্লাহর কসম, সেই সময়টাকে আমার সারা জীবনের মতো দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। সেই মৃত্যুসম যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম; বিশ্বাস করো, তখনও একটি বারের জন্য আমি তোমাকে অভিশাপ দিইনি। এক মুহূর্তের জন্যও আমি তোমাকে দোষারোপ করিনি; বরং সে সময়েও আমি এক অন্যরকম আশা, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তোমাকে একটু ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছের কাছে জগতের সকল যন্ত্রণা, সকল ব্যথা যেন পরাজিত হয়ে গেল। অপরিসীম ভালোবাসা, আদর আর মায়াভর্তি এক হৃদয় নিয়ে আমি তোমার জন্য প্রহর গুনছিলাম।
​অতঃপর তুমি পৃথিবীতে এলে। শপথ সেই সত্তার—যার হাতে আমার প্রাণ, তোমার চেহারা দেখামাত্রই সকল যন্ত্রণা, সকল দুঃখ-ব্যথা যেন নিমিষেই মিলিয়ে গেল। এতক্ষণ যে ব্যথা আমার কাছে মৃত্যুসম মনে হচ্ছিল, সেটা যেন কপূরের মতো কোথায় উবে গেল এবং আমার দু'চোখে ব্যথা আর যন্ত্রণার যে অশ্রু ছিল, মুহূর্তেই সেটা আনন্দের অশ্রুতে পরিণত হলো। যখন আমি তোমাকে ধরলাম এবং বুকে টেনে নিলাম, আমি হাসলাম আর বললাম,—‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা!’ আল্লাহ্ আমাদের এক মহা আশীর্বাদ দান করেছেন। এক মহা নি'য়ামাত দান করেছেন।
​প্রিয় সন্তান, এরপর সেই নির্ঘুম রাতগুলোর গল্প কি তুমি শুনবে না? তুমি জানো, কেন সেই রাতগুলো আমার নির্ঘুম কেটেছিল? তোমার জন্যে। কারণ, আমি সহ্য করতে পারতাম না তোমার এতটুকু কান্নাও। তোমাকে কোলে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কত রজনী আমি কাটিয়ে দিয়েছি—সে হিসেব আর নাইবা দিলাম তোমায়। দিনের বেলায় তোমার দেখাশোনা করে আমি এত ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, আমি এতই ভেঙে পড়তাম যে, মন না চাইতেই শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিতাম; কিন্তু যখনই তুমি আমার পাশ থেকে শব্দ করে উঠতে, আমি হুড়মুড় করে উঠে যেতাম। আমি দিগ্বিদিক শূন্য নয়নে তোমাকে খুঁজে নিতাম।
​আস্তে আস্তে তুমি বড় হতে লাগলে। যখন তুমি হামাগুড়ি দিতে, আমি সেই দৃশ্য দেখে হেসে কুটি কুটি হতাম। যখন তুমি আমার আঙুল ধরে ধরে হাঁটতে শিখছিলে, তখন আমি মনের ভেতর কি যে এক পুলক অনুভব করতাম—তা তুমি বুঝবে না। এবং তারপর... তারপর এমন একটা দিন এলো—যা আমার জন্য সত্যিই কঠিন ছিল। এটা ছিল সেই দিন যেদিন তোমাকে প্রথম স্কুলে দিয়ে আসলাম। তোমাকে যখন স্কুলে রেখে আসছিলাম, তখন তুমি হাউমাউ করে কাঁদছিলে। এই প্রথম আমার চোখের আড়াল হলে তুমি। বিশ্বাস করো, তোমার সাথে সাথে আমিও সেদিন কেঁদেছিলাম; তবুও সেই কান্নাকে আমি বাস্তবতার উপর প্রাধান্য দিইনি। আমি জানতাম, এখানে তোমাকে পড়তেই হবে। কষ্ট হলেও থাকতেই হবে, এবং এটাই তোমার জন্য উত্তম। তোমার কল্যাণের কথা ভেবে আমি সেদিন আমার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম।
​এরপর, বছরগুলো দ্রুতই কেটে গেল এবং তুমি সেই স্কুলে বড় হয়ে উঠলে। পড়াশোনা শেষে তুমি স্বনির্ভর হলে। নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে শিখলে। নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে শিখে গেলে।
​এরপর... এরপর তোমার জীবনে এমন এক দিন এলো—যেদিন আমি তোমার জন্য অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম, আবার একইসাথে আমার প্রচুর দুঃখবোধও হচ্ছিল। যখন তুমি বিয়ে করার মতো কাউকে খুঁজে পেলে, তোমার খুশি দেখে আমার কি যে আনন্দ হচ্ছিল—তা লিখে বোঝাতে পারব না; কিন্তু বাবা, একইসাথে আমার অনেক খারাপও লাগছিল সেদিন। এই ভেবে, অল্প যে কয়েকটা জিনিস এতদিন আমি তোমার জন্য করতে ভালোবাসতাম, এখন থেকে সেগুলি অন্য কেউ তোমার জন্য করে দেবে। তবুও তোমাকে খুশি থাকতে দেখলে জগতে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হই। তোমার আনন্দ, তোমার ভালোলাগা আমাকে অন্যরকম শিহরণ দেয়। আমি তোমার মা! তোমাকে আমি দশটা মাস গর্ভে ধারণ করেছি। এক মৃত্যুসম ব্যথা-যন্ত্রণা আর কষ্ট নিয়ে আমি তোমাকে দুনিয়ার আলো দেখিয়েছি। বুকের দুধ খাইয়ে তোমাকে বড় করেছি। সমস্ত বিপদের সময় তোমাকে বুকে আগলে রেখেছি। পরম যত্নে। পরম মমতায়।
​কিন্তু বাবা, যখন তোমার কাছে নতুন কেউ এলো, যখন তুমি সঙ্গী হিসেবে নতুন কাউকে পেয়ে গেলে, আমি তোমার কাছে কেমন যেন অবহেলার বস্তু হয়ে গেলাম। ছোটবেলায় খেলতে গিয়ে ব্যথা পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে যখন তুমি আমার কাছে আসতে, আমি আমার আঁচল দিয়ে তোমার চোখের জল মুছে দিতাম। বুকে জড়িয়ে ধরে ব্যথার জায়গায় মালিশ করে দিতাম। আজ যখন তুমি বড় হয়ে উঠলে, তোমার ব্যথার কথা তুমি আর আমাকে শোনাও না, কান্নাভেজা চোখে আমার কাছে ছুটে আসো না, আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমার আঁচলে মুখ লুকাও না। তোমার আনন্দের খবরগুলোও আমি আর জানতে পারি না।
​বাবা, ভেবো না আমি আজ অভিযোগের ঝুলি নিয়ে বসেছি। ওয়াল্লাহি, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি তোমার মা। পৃথিবীর কোনো মা-ই তার সন্তানের প্রতি অভিযোগ জমা রাখতে পারে না। আমিও পারিনি। শুধু চাই, তুমি ভালো থাকো। অনেক ভালো। শুভ কামনা তোমার জন্য।

সংগৃহীত:- আরিফ আজাদের "মা মা মা এবং বাবা" নামক বই থোে নেওয়া হয়েছে।

উপসংহার:- ​মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ: একজন মা তার সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে এবং বড় করতে যে অবর্ণনীয় শারীরিক কষ্ট ও মানসিক ত্যাগ স্বীকার করেন, তার কোনো তুলনা হয় না।
​কৃতজ্ঞতাবোধ: সন্তান বড় হয়ে নিজের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও, শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা এবং মায়ের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
​অবিচল ভালোবাসা: শত অবহেলা বা দূরত্ব তৈরি হলেও সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা ও দোয়ায় কখনো কোনো কমতি আসে না।
Islam

মায়ের সাথে অবাধ্যতার ফল!অবাধ্যতার শেষ সীমা যাকে বলে, ছেলেটা ছিল তাই। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাদের অত্যধিক ভালো...
21/01/2026

মায়ের সাথে অবাধ্যতার ফল!
অবাধ্যতার শেষ সীমা যাকে বলে, ছেলেটা ছিল তাই। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাদের অত্যধিক ভালোবাসা তাকে নষ্ট করে দিয়েছিল। বাবা-মা'কে কোনো গুরুত্বই দিত না সে। প্রায়ই তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করত। তাদের অসম্মান বা কষ্ট দেওয়াকে সে কোনো অপরাধই মনে করত না। বড় হওয়ার পরও তার আচরণের কোনো পরিবর্তন ঘটল না। দিন দিন তার দুর্ব্যবহার চরম হতে থাকল।
​আপন সন্তানের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত এই ব্যবহার সহ্য করতে করতে একদিন বাবা মারা গেলেন। একাকী মা এখন দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে থাকেন সন্তানের অবাধ্যতা। মায়েরা বোধহয় অন্য প্রজাতির মানুষ হয়ে থাকেন। সন্তান অবাধ্য হলেও তাদের অন্তরে থাকে অপরিসীম ভালোবাসা। তারা অনেক ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেন। সবসময় সন্তানের সাথে ভালো আচরণ করেন।
​স্বামীর মৃত্যুর পর মা সন্তানের কাছ থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছেন। তাও তিনি সবসময় তাকে সদুপদেশ দিতেন। ছেলেটা কোনো কিছুই পাত্তা দিত না। ইসলামের মূল্যবোধকে সে দুই পয়সারও দাম দিত না; বরং তার মা কিছু বললে সে উল্টো আরও বেশি খারাপ ব্যবহার করত। অবস্থা খারাপ হতে হতে তার দুর্ব্যবহার সীমা অতিক্রম করে। করুণাময়ী মা একদিন বলেই ফেললেন, 'তোমার অভদ্রতা সব সীমা অতিক্রম করেছে। নিজেকে পরিবর্তন করো। সঠিক পথে ফিরে এসো। এভাবে চলতে থাকলে আমার ভাইয়ের কাছে আমি অভিযোগ দিতে বাধ্য হব। তিনি তোমাকে ভদ্র হতে বাধ্য করবেন।'
সদুপদেশ আর মমতাভরা স্পর্শে যখন কাজ হচ্ছিল না, মা ভেবেছিলেন, একটু শাসালে হয়তোবা সে শুধরাবে। একটু সংযত হবে; কিন্তু হায়, তাতেও কোনো লাভ হলো না। উল্টো তার মামাকেও সে যাচ্ছেতাই ভাষায় অপমান করল এবং ক্ষতি করার হুমকি দিল।
​ছেলেটির বয়স চব্বিশ। উপচে পড়া তারুণ্যের এ ভরা মৌসুমে মানুষ দৈহিক শক্তির বলে 'ধরাকে সরা জ্ঞান করে'। কেউ ছেলেটির ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে সে তার উপর চড়াও হতো। একদিন মা ছেলেটিকে ছোট্ট একটা উপদেশ দিল। নিজের তারুণ্য, শক্তি আর ঔদ্ধত্যের মোহে অন্ধ হয়ে থাকা ছেলেটি তাতে রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেল। এক পর্যায়ে নিজের পায়ের জুতো খুলে তার মায়ের দিকে ছুঁড়ে মারল। জুতোটা গিয়ে লাগল মায়ের পিঠে। অপমানে বিধ্বস্ত মা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। কীভাবে এমন ছেলেকে পেটে ধরেছেন তিনি! গভীর দুঃখ ও প্রচণ্ড শোকে তার মুখ দিয়ে অভিশাপ চলে এলো।
​মাকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখেই ছেলেটা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। তার এই আচরণের জন্য সে বিন্দুমাত্রও লজ্জিত না। প্রতিদিনকার মতো অনেক রাত পর্যন্ত সে তার বখাটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিল। মদ, সিগারেট আর নেশা করে টলতে টলতে বাসায় ফিরল। একটিবারের জন্যও সে তার মায়ের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। বাসায় ফিরেই সোজা নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দিল। নেশাখোরদের ক্ষেত্রে যা হয়। শোয়ামাত্রই সে অঘোর ঘুমে তলিয়ে গেল। আর অন্যদিকে দুখিনী মা অপমানে তখনো ছটফট ছটফট করছেন। আত্মহত্যা নেহাৎ পাপ বলে, নয়তো এতক্ষণে তিনি নিজেকে এই জঞ্জালময় পৃথিবী থেকে মুক্ত করে নিতেন।
​পরদিন সকালে ঘুম ভাঙার পরে ছেলেটি ভয়ে-আতঙ্কে কাঠ হয়ে গেল। যে হাত দিয়ে সে মায়ের দিকে জুতো ছুঁড়ে মেরেছে সে হাতটা আর নড়ছে না। কোনোভাবেই যেন সে হাত নাড়াতে পারছে না। মনে হচ্ছে খুব ভারী কিছু তার হাতের উপর উঠে এসেছে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা আর ব্যথায় সে কাতর হয়ে পড়ল। অচল হাত ধরে সে কাঁদতে শুরু করল। মমতাময়ী মায়ের জন্য সেটি ছিল নতুন একটা দিন। সকালে উঠে তিনি ঘরের কাজ করেছেন। ছেলের জন্য নাস্তা তৈরি করেছেন। গোসলখানায় ছেলের গোসলের জন্য পানি, সাবান ইত্যাদি রেখে এসেছেন। এমন সময় ছেলের চিৎকার শুনে তিনি ছেলের ঘরে ছুটে এলেন। চরম অত্যাচারী সন্তানের এরকম অবস্থা দেখে তিনি বুঝতে পারলেন—এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি।
এমন হতভাগা সন্তানের জন্যও মায়ের অন্তরে মায়া থাকে, তাঁর চোখ জুড়ে নামে অশ্রুধারা। সন্তানের অক্ষম হাতের জন্য দু'আ করা ছাড়া মায়ের এখন আর কিছুই করার নেই। সন্তানের নির্দয় আচরণের কথা ভুলে গেলেন তিনি, উপরের দিকে হাত তুলে আল্লাহর সাহায্যের জন্য অনুনয়-বিনয় করলেন; কিন্তু ইতোমধ্যেই আল্লাহর হুকুম কার্যকর হয়ে গেছে। আল্লাহর বিচার তো এমনই হয়।

(আরিফ আজাদের "মা মা মা এবং বাবা" বই থেকে সংগৃহিত)

উপসংহার:- মা-বাবার সঙ্গে অনুচিত আচারন করলে, তার পরিনতি এমনই হয়। আল্লাহ তাআলা এবং মাতা পিতার দোয়ার মাঝে কোন পর্দা থাকেনা, তাই মা-বাবার বদ দোয়া থেকে বেঁচে থাকা চাই।
Islam

02/11/2025

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ সাঃ এর শানে!
Islam

"আলহামদুলিল্লাহ" এর ক্যালিগ্রাফি
28/10/2025

"আলহামদুলিল্লাহ" এর ক্যালিগ্রাফি

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tuhfatul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category