20/09/2026
আমরা যারা নিজের আভিজাত্য প্রকাশের জন্য সন্তানের হাতে আইফোন তুলে দেই, তাদের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ :-
এই আইফোনের ঝিলিক কিংবা বিলাসী জীবনের মোহ কি একটি তাজা প্রাণের চেয়েও দামী হতে পারে ..? আভিজাত্য আর সামাজিক মর্যাদার যে কৃত্রিম দৌড়ে আমরা মেতেছি, গতকাল কুমিল্লার বুক চিরে ঘটে যাওয়া করুণ ঘটনাটি সেই দৌড়ের মুখে এক নির্মম চড় বসিয়ে দিল।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের কোল আজ খালি হলো। গতকালও যে ১৩ বছরের অপ্রতীম কিশোরটি আইফোন হাতে বন্ধুদের সাথে হেসে-খেলে ছবি তুলতে বেরিয়েছিল, আজ সে নিথর, স্তব্ধ। স্রেফ একটা দামী ফোন, আর সেটা নিয়ে ছবি তোলার লোভ—যার মাশুল তাকে দিতে হলো এই আইফোনের লোভে দুর্বৃত্তদের হাতে নিজের মাথার ক্ষত আর অকালমৃত্যু দিয়ে।
নিখোঁজ হওয়ার পরদিন যখন তার রক্তাক্ত নিচ্ছল দেহটি উদ্ধার হলো, তখন হয়তো নিঃশব্দে চুরমার হয়ে গেল একটি পরিবার,অন্ধকার হয়ে গেল একটি মায়ের পৃথিবী। কুমিল্লা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক মায়ের আই ফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের আইফোন লোভের বলি হলো ১৩ বছর বয়সী অবুঝ ছেলেটি,নির্মম ভাবে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে আইফোন ছিনিয়ে নিয়ে ছেলেটিকে
পাশের জঙ্গলে ফেলে রাখা হলো।
আমরা যারা সন্তানকে আভিজাত্যের মোহে দামী সব জিনিস
পত্র তুলে দিয়ে নিজেদের সামাজিক অবস্থান জানান দিতেই ভালোবাসি, তাদের জন্য এটা শুধুই একটা খবরই নয়, বরং রক্তক্ষরণকারী এক শিক্ষা।আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই বাহ্যিক চকচকে বস্তুগুলো আমাদের নিষ্পাপ সন্তানদের কতটা হিংসা, লোভ আর বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে .....?
একটা ফোনের ঝলকানি নিভে যায়, সামাজিক মিডিয়ার বাহবা হারিয়ে যায়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সন্তান আর কোনো দিন ফিরে আসে না।এই আভিজাত্য আর বিলাসিতার চেয়ে সন্তানের নিরাপত্তার মূল্য অনেক বেশি। সময় এসেছে এই অন্ধ প্রতিযোগিতা থেকে থমকে দাঁড়ানোর, অন্যথায় এমন নিঃশব্দ হাহাকার হয়তো আরও অনেক মায়ের বুক খালি করে দেবে।
#শিশু #কুমিল্লা