05/09/2023
বেশ্যা মেয়েটা নিজের পুরো শরীরটাকে ৭ টা সমান ক্ষেত্রফলের এক একটা আয়তক্ষেত্রে ভাগ করে নিয়েছিল, এক সুদক্ষ গনিতজ্ঞের চরম নিপুনতার মাধ্যমে।ওর শরীরটাকে উপভোগ করার জন্য পুরুষকে অনেকটা বেশি মূল্য দিতে হতো, এবং প্রতিদিন মাত্র একজন পুরুষকে সুযোগ দেওয়া হতো।আর ওই পুরুষকে ওই মেয়েই বেছে নিতো। মেয়েটা এতটাই সুন্দরী যে এত বেশি টাকা দিয়েও অনেক পুরুষ ওকে ভোগ করতে চাইতো।
তবে শর্ত ছিল, প্রতি দিন শরীরের আলাদা আলাদা আয়তক্ষেত্রের অংশটুকুই ওই পুরুষ ভোগ করতে পারবে। আর ওই আয়তক্ষেত্র, শরীরের কোন অংশে অঙ্কিত, তা দিনের শুরুতেই বাড়ির দরজার উপর এঁকে রাখতো ওই মেয়ে।
প্রায় সকালেই দরজার সামনে বিভিন্ন ধরনের পুরুষ এসে জড়ো হতো। বুকটাকে রাখা হয়েছিল আলাদা আয়তক্ষেত্রের মধ্যে। পিঠ, যোনি, নাভি, নিতম্ব, পা এরা আলাদা আলাদা আয়তক্ষেত্রের মধ্যে পড়তো। বুক আর যোনির অংশ যেদিন দরজার বুকে একটা মেয়েলি হাতের তুলিতে আঁকা থাকতো, সেদিন ভিড় হত অনেক। কিছু মানুষ তো নিজেদের মধ্যে লড়াই ও করত ওই অংশ ভোগের তীব্র লালসায়। শুধু একটা আয়তক্ষেত্র এমন ছিল, যেটা দুটো ছোট আয়তক্ষেত্রে বিভক্ত। মেয়েটার কপাল, কেশ আর দুই পায়ের দশটা আঙুল ওই অংশটুকু অধিকার করে থাকতো। এই অংশ যেদিন দরজায় আঁকা থাকতো, সেদিন শুধু একটা মানুষ আসতো, প্রত্যেকবার। দরজায় সেদিন ভিড় থাকতো না।
প্রথম যেদিন ওই আয়তক্ষেত্রের অংশটুকু রঙিন পেন্সিলের কারুকার্যে এঁকে দিল মেয়েটা,
ঘন্টাখানেক পর কালো ফ্রেমের চশমা পরা একজন দরজার একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ও। কাঁধের শান্তিনিকেতনী ব্যাগ আর গায়ে হালকা সুতির পাঞ্জাবি মিলিয়ে বেশ বড় ঘরের মানুষ বলে মনে হয়। প্রথম দিন মেয়েটা এটাই বুঝতে পারেনি এত বড় ঘরের মানুষ এই পাড়ায় এলো কীসের আশায়!
মেয়েটা এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করে," আপনি সব শর্ত জানেন তো?"
-" হ্যাঁ জানি।"
-" আপনাকে দেখে তো বড়ো ঘরের মনে হয়। এরকম জায়গায় আসতে অস্বস্তি বোধ করেন না?"
-" তা একটু করে বইকি।"
লোকটা আর কোন কথা না বলে চুপ করে থাকে। মেয়েটা তাকে একটা ঘরে এনে বসতে বলে, আর কিছুটা পর, ও নিজেও এসে শুয়ে পড়ে বিছানায়, লোকটার দিকে মুখ করে। লোকটা এখনও বসে আছে একটা চেয়ারের উপর।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর কথা বললো লোকটা," কতদিন থেকে এইসব করছো?"
- " বেশিদিন না।"
- " শরীর খারাপ করে না তোমার?"
-" তা করে, ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যায়। সত্যি বলতে কি, বড়ো ক্ষত তো মনের ভিতরে হয়, শরীরে তো শুধু একটা ঝাপটা লাগে মাত্র।"
-" এইসব কাজ না করলেই পারতে, আরো কত ভালো ভালো কাজ আছে।"
- " ভালো মন্দ ব্যাপার টা আপেক্ষিক। শরীরে আভরণ থাকলেও, তা ভেদ করে চোখের দৃষ্টি চলে যায় অনেকের। তাই নিজের হাতে আভরণ সরিয়ে দিলে অস্বস্তিভাব টা কেটে যায়।"
মানুষটা উঠে পড়ল এবার, কাঁধে শান্তিনিকেতনী ব্যাগটা যত্ন করে রেখে মেয়েটার দিকে ফিরে বললে,
" আসি আজ। পরের সপ্তাহে আবার আসবো।"
-" কিন্তু!" এই বলে চুপ করে রইল মেয়েটা।
-" তোমার সাথে আলাপ করবো বলে এসেছিলাম।"
দরজার ছিটকিনি খুলে বেরিয়ে গেল মানুষটা, মেয়েটা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল খোলা দরজাটার দিকে। শান্তিনিকেতনী ব্যাগটা একটা নরম ছন্দে দুলছে ওই মানুষটার কাঁধ থেকে। হাঁটার গতি সুসংগত, মাথাটা একটু ঝুঁকে বারান্দার দরজার ওপাড়ে চলে গেল সে।
বুকের ওপর থেকে খসে পড়া আঁচলটা ঠিক করে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটা, চাঁদটা আজ বেশ সুন্দর, চোখের পাতায় ওর উষ্ণতা অনুভব করা যায়। আসলে এই সময়ে ও কখনো চাঁদ দেখার সময় পায়নি, কোন এক পুরুষের জিভের রসে ওর শরীরের একটা নির্দিষ্ট আয়তক্ষেত্র স্নান করেছে বারবার, শরীরটা এক একবার কেঁপে উঠেছে। ভয় হয়েছে, এই বুঝি অন্য আয়তক্ষেত্রের লোমকূপেরা বুঝি কামুক হয়ে পড়ে ওই জিভের রসে নিজেদের ভিজিয়ে নিতে। কিন্তু ওর সংযম অনেক, কামুকতা হার মেনেছে ওর মনের জোরের কাছে। কিন্তু আজ পুরো শরীরটা যেন আবিষ্ট হয়ে আছে কোন এক অপরিচিত ভালোবাসার চাহিদায়, যে ভালোবাসার স্পর্শ খুব কাছের মানুষ ই দিতে পারে। কলঙ্কমাখা চাঁদ ওর চোখদুটোয় নরম আবেগ ছুঁইয়ে দেয়। ওর চোখ বুজে আসে, চেয়ারটা টেনে এনে জানলার ধারে বসে। কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে, শান্ত বাতাসে এলেমেলো কয়েক গোছা চুল মাঝে মাঝে উড়তে থাকে। চাঁদের আলো ওর মুখটা ছুঁয়ে দের বারবার, মেঘের উপর রাগ করে ওকে আড়াল করে বলে। ঘুমন্ত মেয়েটাকে পরীর মতন লাগে।
সকালে ঘুম ভাঙতেই একটু অবাক হয়, বিছানা ছেড়ে এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে ও। আগে কখনো হয়নি, এই প্রথম।
মুখটা ধুয়ে বাইরে আসে, নিপুণ হাতে এঁকে দেয় যোনি আবৃত করে রাখা আয়তক্ষেত্রের ছবি। পুরুষের ভিড় জমলো বলে। অনেক পুরুষের মাঝে একজনকে পছন্দ করে নেয়। অপরিচিত ওই পুরুষ, নিজের পৌরুষত্ব জাহির করার তীব্র চেষ্টা করে। মেয়েটা কিন্তু চুপ করে থাকে, আগের রাতের চাঁদের স্পর্শ এখনও মনটাকে ভারী করে আছে,ওই অনুভব চোখের পাতায় জাল বিস্তার করতে চায় বারবার। মেয়েটা বারবার প্রেমে পড়ে ওই অনুভবের, ওই স্নিগ্ধতার। আচ্ছা ওই কালো ফ্রেমের চশমা আর শান্তিনিকেতনী ব্যাগ নেওয়া মানুষটা কী প্রেমে পড়তে শেখালো ওকে? হতেও পারে।
একটু পরে পৌরষত্ব দেখানোর চেষ্টা শেষ হয়ে যায়, হাঁপিয়ে ওঠে ওই ঠুনকো পুরুষ।
মেয়েটা নিজের অজান্তেই হেসে ফেলে।
পরের সপ্তাহে আবার সেই নির্দিষ্ট দিনে কালো ফ্রেমের চশমা পড়া মানুষটা আসে, মেয়েটা ওকে বিছানায় বসতে বলে আজ।
মানুষটা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে বিছানার পাশে, একটু ইতস্তত করে বলে," শরীর কেমন আছে তোমার?"
- " ভালো। আপনি কেমন আছেন?"
- " ভালো আছি। আচ্ছা একটা কবিতা শুনবে তুমি?"
- " আপনি লিখেছেন?"
- " হ্যাঁ। তোমার পাশে একটু বসি?"
- " হ্যাঁ, এখানেই বসুন।"
মেয়েটা একটু সরে গিয়ে বিছানায় বসতে বলে ওকে। মানুষটা কবিতা বলে, মেয়েটা চুপ করে শোনে। কবিতা শেষ হলে মেয়েটা বলে,
-" আচ্ছা, আপনি সেদিন চলে গেলেন। আজ কবিতা শোনালেন। আপনি কী আমার শরীর স্পর্শ করবেন না?"
- " স্পর্শ করার অধিকার নেই আমার। ও অধিকার অর্জন করতে হয়।"
- " নারীর শরীরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন না?"
- " সংযম শিখেছি অল্পবয়স থেকেই।তাই লোভ নেই, আকর্ষন যেটুকু প্রকৃতিদত্ত স