Bangla golpo

Bangla golpo Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangla golpo, Grocers, Bangladesh Dinajpur, Dhaka.

জিয়া হলের ফিরোজের সম্পর্ক ছিল বঙ্গমাতা হলের এক মেয়ের সাথে। একসময় ওদের প্রেম দেখলে মনে হবে বেস্ট কাপল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড...
22/09/2023

জিয়া হলের ফিরোজের সম্পর্ক ছিল বঙ্গমাতা হলের এক মেয়ের সাথে। একসময় ওদের প্রেম দেখলে মনে হবে বেস্ট কাপল ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। ফিরোজের পরিবার‌‌ও জানতো বিষয়টা। তারপর মেয়ে তার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে‌। এরপর থেকে বঙ্গমাতা হলের সামনে কতশত রাত দাড়িয়ে থাকতো শুধু একটু দেখা করার জন্য হিসেব নাই।

ফিরোজ তার মাকে কথা দিয়েছিলো, ওই মেয়ের জন্য নিজের ক্ষতি করবে না। সেই কথা রাখতে পারে নি।

বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে নিয়মিত খুঁজ খবর নেয়ার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার(১৫-০৯-২০২৩) সকাল ১১ টায় ফোন দেই। জানতে পারি ওদের সম্পর্ক ঠিক করার জন্য ফিরোজের মা, বড় ভাই, ছোট ভাই ক্যাম্পাসে আসছে। মেয়েটা সবার নম্বর ব্লক লিস্টে রেখেছে। আমি ওদের কাছে যেয়ে আমার ফোন থেকে ফোন দেই। কথা না বলেই আমাকে ব্লক করে দিল!

মা ও পরিবার সুদূর গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা এসেও ব্যার্থ হয়ে বাসায় চলে যায়। ফিরোজকেসহ আমি গাড়িতে তুলে দেই। রবিবার ফিরোজ আবার ক্যাম্পাসে আসে। আমরা সারাদিন একসাথে ছিলাম, রাত ২ টা পর্যন্ত মুহসীন হলের ছাদে আড্ডা দিয়েছি। অনেক আলাপ করেছি। অনেক বুঝিয়েছি। ফিরোজের কষ্টের জায়গাটা হলো, বাসায় যেয়ে ফিরোজের মা মেয়েকে ফোন দিয়েছিল অন্য নম্বর দিয়ে। রিসিভ করার পর ফিরোজের মায়ের পরিচয় জানার সাথে সাথেই ফোন কেটে ব্লক দেয়। অথচ অনেক আগের ভিডিওতে দেখেছি ওর মার সাথে কত মুহাব্বতের সাথে কথা বলেছে। ওর নানার খুঁজ খবর নেয়ার পর ওর বাবার কথা জিজ্ঞেস করার সময় বলেছিল, " আর আমার বাবা কেমন আছে?"
সেই মেয়ে কিভাবে এত অপমান করতে পারলো!

ফিরোজ ওর মাকে কথা দিয়ে এসেছিল মেয়ের জন্য নিজের ক্ষতি করবে না। সেই কথা রাখতে পারেনি।

কতভাবে, কতজনের মাধ্যমে মেয়ের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। একটু দেখা করার জন্য সারারাত বঙ্গমাতা হলের সামনে দাড়িয়ে থাকতো। মেয়ের সাথেও আমাদের পরিচয় ছিল, ওদের প্রেম ভালোবাসা দেখে বেস্ট কাপল মনে হতো।
আহা ওদের প্রেম, বিয়ে...

ফিরোজের মা আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলতো, আজ যাচ্ছি। তবে ফিরোজের লা*শ নিয়ে...

আমি মেয়েদের অনুরোধ করব,কারো হাত ধরে রাখতে না পারলে প্লিজ অভিনয় করে কাউকে মৃ*ত্যুমুখে ঠেলে দিবেন না

সূত্রঃ ফিরোজের ঘনিষ্ট বন্ধু ©

তুমি_অন্য_কারো_সঙ্গে_বেঁধো_ঘর (০৮)সকালে ঘুম থেকে উঠে ফাল্গুনী আর চৈতালী নবনীকে তাদের পাশে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে হেঁড়ে গলায় চ...
13/09/2023

তুমি_অন্য_কারো_সঙ্গে_বেঁধো_ঘর (০৮)

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফাল্গুনী আর চৈতালী নবনীকে তাদের পাশে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে হেঁড়ে গলায় চিৎকার করে উঠলো। সাব্বির নিজের রুমে নামাজ পড়ে সবেমাত্র বিছানা ভাঁজ করে রাখছে এমন সময় বোনদের এমন চিৎকার শুনে আতঙ্কিত হয়ে ছুটলো তাদের রুমে।
দুই বোনের চিৎকারে নবনী ধড়মড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলো।

রাবেয়া বেগম উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে। মেয়েদের চিৎকার শুনে ঝাড়ু ফেলে ছুটে আসলেন।

সাব্বির বড় আপাকে দেখে ফাল্গুনী আর চৈতালীর চাইতে জোরে চিৎকার দিলো।সাব্বিরের সাথে তাল মিলিয়ে ফাল্গুনী আর চৈতালী ও চিৎকার দিলো আবার।
নবনী দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে বসে আছে। রাবেয়া বেগম হাঁফাতে হাঁফাতে ঘরে এলেন।এসে দেখেন ভাইবোন তিনজন মিলে নবনীকে ঝাপটে ধরে আছে।

বিছানার এক পাশ থেকে শলার মুঠো নিয়ে রাবেয়া তিনজনকে মারতে মারতে বললো,"ছাড় আমার মেয়েটাকে,একটু আগে ও ঘুমিয়েছে। তোদের তিনজনের চাপে ও মরে যাবে।"

রাবেয়ার কথাকে কেউ পাত্তা দিলো না।নিজেদের মতো হৈহল্লা করতে লাগলো।
রাবেয়া বেগমের চোখের কোণে জল জমতে লাগলো। কতোদিন পরে নিজের চার ছেলেমেয়েকে একইসাথে দেখতে পাচ্ছেন তিনি।বুকটা আজকে ভীষণ শান্ত লাগছে।নবনীর জন্য এতোদিন মন উচাটন থাকতো তার।
নিজের চোখের সামনে সব ছেলেমেয়েদের একসাথে দেখার মতো সুখ মায়েদের কাছে আর কি হতে পারে!

হাশেম আলী নামাজ পড়ে বাসায় আসার সময় আজকে হোটেল থেকে পরোটা,দুইটা ডিম ভাজি,সবজি এনেছেন। পকেটে যদিও তেমন একটা টাকা ছিলো না তবুও আজকে তার বড় মেয়ে বাড়ি এসেছে।এই আনন্দে তিনি পকেটে কি আছে না আছে তা নিয়ে মাথা ঘামালেন না।প্রতিদিন তো আর ভালো খাওয়াতে পারেন না ছেলেমেয়েদের। আজ না হয় সবাই মিলে একসাথে আনন্দ করে খাবে।

বাড়ি এসে দেখে ছেলেমেয়েরা সবাই বারান্দায় পাটিতে বসে আছে। হাসাহাসি করছে সবাই মিলে।হাসতে হাসতে একে অন্যের গায়ের উপর ঢলে পড়ছে।অনেক দিন পর হাশেম আলীর বুকটা খুশিতে ভরে উঠলো। নয়ন জুড়িয়ে গেলো তার।নিজের অজান্তেই চোখে জল চলে এলো।

গলা পরিস্কার করে হাশেম আলী নবনীকে ডেকে বললো,"তোরা সব কই,আয় সবাই মিলে নাশতা করবো।"

রাবেয়া রান্নাঘর থেকে প্লেট বাটি নিয়ে এলো। গতরাতে নবনীর জন্য ভেজে রাখা ডিমটাও নিয়ে এলো।
গোল হয়ে সবাই মিলে খেতে বসলো।
হাশেম আলীর একটু পর পর চোখ ভিজে উঠছে আনন্দে।খেতে পারছেন না তিনি কিছুতেই। এতো আনন্দ কেনো লাগছে তার কে জানে!

খেতে খেতে নবনীর মনে হলো,ওই বাড়িতে সবাই না জানি এখন কি করছে!
দিশার টাইম টু টাইম নাশতা কে রেডি করে রাখছে?
লুবনার জন্য তার পছন্দের খাবার কে বানিয়েছে আজ?
তাহেরা বেগম মনে করে ইনসুলিন নিয়েছেন তো আজকে?
নামাজ পড়ে আসার পর হামিদুর রহমান আজকে চা খেয়েছেন কি?
তামিমের শার্ট প্যান্ট সব কি আয়রন করে রাখা আছে?
কে জানে!

নবনী সিদ্ধান্ত নিলো খাবার পর হামিদুর রহমানের এনে দেওয়া ব্যাগটা খুলে দেখবে সবাই মিলে।তারপর সে বাবা মা'কে নিজে থেকেই সবকিছু খুলে বলবে।

মুহুর্তেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলো,সাথে ঠান্ডা বাতাস। নবনী বললো,"মা,বৃষ্টির পানি নাও,আজ বৃষ্টির পানি খাবো।"

রাবেয়া প্লাস্টিকের জগটা টিনের চালের নিচে ধরতেই মুহুর্তে জগ ভর্তি হয়ে গেলো।
নবনী এক গ্লস পানি খেলো।সেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো নবনীর।বিয়ের পর বৃষ্টি উপভোগ করার সময় হয় নি তার আর।অথচ বৃষ্টি দেখলেই আগে ভিজতে ছুটে যেতো ভাইবোন সবাই মিলে।
কে বলে বিয়ের পর মেয়েদের জীবনে পরিবর্তন আসে না?

খাবার পর নবনী সাব্বির কে বললো,"যা তো,রুমে গেলে দেখবি একটা বড় ব্যাগ আছে।নিয়ে আয়।"

সাব্বির তড়িৎ গতিতে ছুটে গিয়ে ব্যাগ নিয়ে এলো। ফাল্গুনী দেখে জিজ্ঞেস করলো,"কি রে আপা এটাতে?"

নবনী বললো,"আমি নিজেও জানি না।এখন খুললে দেখবো।"

নবনী ব্যাগের চেইন খুলতেই দেখলো কতোগুলো শপিং ব্যাগ। সাথেসাথে নবনী বুঝে গেলো এখানে বাড়ির সবার জন্য কেনাকাটা করে দিয়েছেন হামিদুর রহমান।
নবনীর ধারণা ভুল হলো না।প্রথমে বের হলো একই ব্যাগে সাদা ও খয়েরী রঙের দুটো পাঞ্জাবি,পাজামা,এক জোড়া লুঙ্গি। ব্যাগের উপরে লিখা,"প্রিয় বেয়াই সাহেবের জন্য"

পরের ব্যাগের উপরে লিখা,"শ্রদ্ধেয় বেয়াইন সাহেবার জন্য।"

ভেতর থেকে বের হলো আরামদায়ক কটনের দুই জোড়া শাড়ি। হাত দিয়ে ধরতেই কেমন আরাম আরাম লাগছে নবনীর।

রাবেয়া বেগম কিছুটা বিব্রত হয়ে বললো,"আমার জন্য এসব নেয়ার কি দরকার ছিলো?"

নবনী বললো,"মা,আমি কি জানতাম নাকি এই ব্যাগের ভেতর কি আছে।আমাকে কাউন্টারে বসিয়ে রেখে আব্বা গিয়ে এসব কিনে এনেছেন।"

পরের ব্যাগের ভেতর একটা আকাশীরং পাঞ্জাবি,দুটো শার্ট একটা লেমন কালার অন্যটি ল্যাভেন্ডার কালার। সাথে নীল দুটো জিন্সের প্যান্ট।একটা হাতের ঘড়ি,একটা ওয়ালেট, দুটো বডি স্প্রে।একটা স্মার্টফোন। ব্যাগের উপরে লিখা আদরের সাব্বির।

সাব্বির আবেগে আপ্লূত হয়ে বললো,"আমার জন্য এতো কিছু আপা!আমার কেমন স্বপ্নের মতো লাগছে।কালার দেখেছিস আপা,এতো স্নিগ্ধ কালার!ফোনটা দেখ,অনেক দামী ফোন মনে হচ্ছে। "

নবনী এরপরে একটা বড় ব্যাগ বের করলো।ব্যাগের উপরে সুন্দর করে লিখা,"দুটো ছোট্ট পরীর জন্য।যাদের দিকে তাকালে মনে হয় এই বুঝি উড়াল দিয়ে পরীরাজ্যে চলে যাবে।"

ফাল্গুনী চৈতালী দুজনেই লজ্জা পেলো এরকম লিখা দেখে।হামিদ আংকেল তাদের ভীষণ আদর করে,সবসময় তাদের পরী বলে ডাকেন।

ব্যাগের ভেতর দুটো শাড়ি,চারটি থ্রিপিস,দুটো স্টাইলিশ সাইড ব্যাগ,১২টি হিজাব।হিজাবের ভেতর হিজাবে লাগানোর জন্য নানা রকম,নানা সাইজের পাথরের সেফটিপিন,কাঁটা।

দুইবোনের মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেলো এসব দেখে।তাদের কে কেউ কখনো এতোকিছু উপহার দেয় নি।এই প্রথম এতো উপহার দেখে দুজনেই বাকরুদ্ধ হয়ে আছে।

এরপর নবনী তার ব্যাগ বের করলো। ব্যাগের ভেতর নবনীর জন্য অনেকগুলো জামা আছে।গুনে দেখলো নবনী ১২টা থ্রিপিস। নবনীর ভীষণ কান্না এলো।নবনী এক কাপড়ে বাসা থেকে বের হয়েছে,হামিদুর রহমান বুঝতে পেরেছেন বাবার বাড়িতে এলে নবনীকে জামা কাপড়ের সমস্যায় পড়তে হবে। নবনীর জন্য একটা সাইড ব্যাগ আছে।নবনী কি ভেবে যেনো ব্যাগটা খুললো।খুলতেই দেখতে পেলো ২ বান্ডিল ১হাজার টাকার নোট ব্যাগের ভেতর। আর সবগুলো গহনা।

নবনী বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো।

হাশেম আলী মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।কান্না থামিয়ে নবনী বললো,"

বিয়ের দুইমাস পর থেকেই আমি একটা বিষয় খুব করে লক্ষ্য করতাম। আমার বোন তানিয়া যখন আমার বাসায় আসতো আমার হাসবেন্ড তখন আমার সাথ...
13/09/2023

বিয়ের দুইমাস পর থেকেই আমি একটা বিষয় খুব করে লক্ষ্য করতাম। আমার বোন তানিয়া যখন আমার বাসায় আসতো আমার হাসবেন্ড তখন আমার সাথে ঘুমাতে চাইতো না। আমার সাথে না ঘুমানোর কারণটা আমি বুঝতাম না। তানিয়াকে যখন বলতাম তুই একা ভয় পেতে পারিস,আমার সাথে ঘুমাবি তুই। তখন সেও আমার সাথে ঘুমাতে চাইতো না। তানিয়া বলতো,ওর পাশে কেউ থাকলে নাকি ওর ঘুম আসে না। তাই আমার সাথে ঘুমাতো না। তানিয়া আসলেই তাকে নিয়ে আমার হাসবেন্ড বাহিরে ঘুরতে যেতো। অথচ আমাকে নিয়ে কখনো নিজের ইচ্ছাতে ঘুরতে যেতো না। আমি বলার পরেও দেখা যেতো না করে বসে আছে। এই বিষয় গুলো আমাকে ইদানীং খুব ভাবাচ্ছে।

আজকে তানিয়া এসেছে। তাঁর আসার খবর পেয়ে আমার হাসবেন্ড হাসান অফিস থেকে অনেক আগেই চলে এসেছে। অথচ কখনো তাকে রাত আটটার আগে আমি বাড়ি ফিরতে দেখিনি। রাতে ডিনারের সময় যখন বললাম,
"আমি কিন্তু একা ঘুমাতে পারবো না। আমার একা ঘুমাতে ভয় লাগে। তুমি না হয় তানিয়া যেকোনো একজনকে আমার সাথে ঘুমাতে হবে।"
তখন তানিয়ার মুখটা আর আমার হাসবেন্ড এর মুখটা কেমন যেনো কালো হয়ে গেলো। তখন আর আমার বুঝতে কোনো কিছু বাকি রইলো না। আমার সন্দেহের চাকাটা আরো জোরালো হতে শুরু করলো।

আমি যাদেরকে অনেক বিশ্বাস করি,অনেক সম্মান করি,অনেক ভালোবাসি। সেই মানুষগুলোই কি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে? আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে? অবশ্য এখন সবচেয়ে কাছের মানুষ গুলো যেমন খুব যত্ন করে কষ্ট দিতে পারে,তেমনি অতি বিশ্বাস প্রবণ মানুষগুলোই খুব সুন্দর করে বিশ্বাসঘাতকতা করার অপরিসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। দেখা যাবে আমরা যাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে বুকের খুব গভীরে আশ্রয় দিয়েছি একসময় সেই মানুষগুলোই বুকে ছুড়ি মেরে বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে যাবে। সেজন্যই হয়তো আমার মনে ভয় কাজ করছে। সত্যি যদি আমার সন্দেহটা সত্য হয় তাহলে হয়তো আমার বেঁচে থাকাটাই হবে না। যে দুজন মানুষকে ভালোবেসে আমি বেঁচে আছি তারাই যদি আমাকে ধোঁকা দেয় তাহলে হয়তো আমার থেকে হতভাগা মানুষ আর কেউ থাকবে না।

আমার সাথে তানিয়া ঘুমালো। আমার হাসবেন্ড অন্য রুমে ঘুমালো। তবুও আমার মনে শুধু একটা ভয়ই কাজ করছে আমার ধারণাটা বুঝি সত্যি হয়ে যায়। তাইতো ঘুমানোর পরে যখন তানিয়াকে বিছানায় দেখলাম না,তখন বুকের ভিতরটা কেমন জানি করে উঠলো। আমার সন্দেহটায় সত্যি হলো। আমি তখন আস্তে আস্তে কচ্ছপের চেয়েও ধীর গতিতে বিছানা থেকে উঠে আমার হাসবেন্ড এর রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। যখন দেখলাম হাসানের রুমের বাতিটা জ্বালানো তখন আমার সন্দেহট সত্য বলে মনে হলো। আমি দরজার কাছে গিয়েই দেখলাম দরজা লাগানো। ঠিক তখনই তানিয়া আমার গায়ে হাত রাখলে আমি কিছুটা কেপে উঠি। বুঝতে পারলাম তানিয়া বাথরুমে গিয়েছিলো। আমি শুধু শুধুই তাকে নিয়ে খারাপ চিন্তা করেছি। হাসানও হয়তো ভুল করে বাতিটা নিভাতে ভুলে গিয়েছে। আমি আর তানিয়া সেদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ি।

পরের দিন সকালে তানিয়া আর হাসান বাসা থেকে একসাথেই বের হয়। হাসান তাঁর অফিসে চলে যায়। আর তানিয়া তাঁর একটা বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। আমি মনে করতে পারলাম না এখানে তানিয়ার কোন বান্ধবীর বাসা। যদিও আমি তাঁর প্রায় সব বান্ধবীকেই চিনি,কিন্তু এখানে কার বাসা সেটা জানি না। যখন জিগ্যেস করলাম কার বাসায় যাবি তখন সে এমন একটা মেয়ের নাম বলল যেটা এর আগে কোনোদিন তানিয়ার মুখ থেকে শুনেছি বলে আমার মনে হয় না। আমি একা বাসায় বসে থাকি। আর অদ্ভূত সব চিন্তা করতে থাকি। নিজের প্রতি কেমন জানি ঘৃণা হতে লাগলো। কি সব চিন্তা করছি আমি। আর কেনোই বা এমন চিন্তা আমার মাথায় আসছে বুঝতে পারছি না। দুনিয়ায় এতো চিন্তা থাকতে আমার মাথায় কেনো ওই চিন্তাটায় আসতে হবে? নিজেই নিজের কাছে উত্তর চাইলাম কিন্তু কোনো উত্তর পেলাম না।

বিকেল তিনটার সময় তানিয়া বাসায় আসলো। যখন জানতে চাইলাম এতো দেরি করলি কেনো? তখন সে বলল অনেকদিন পর দেখা হয়েছে তাই আসতে দিতে চাইলো না। জোর করে চলে এসেছি। আমিও আর বেশি কিছু জিগ্যেস করলাম না।

কিছুসময় পর দেখলাম তানিয়া গোসল করার জন্য বাথরুমে গেলো। যে মেয়েটা শীতের কারণে ঠিকমতো গোসলই করতো না সেই মেয়েটা এতো শীতের মাঝেও আজ গোসল করছে এটা ভাবতেই কেমন জানি অবাক লাগছে। আবার মনে হলো মেয়ে মানুষ যেহেতু,সেহুত কোনো সমস্যা হতে পারে,সে কারণেই হয়তো গোসল করছে। কিন্তু তার ত্রিশ কিংবা চল্লিশ মিনিট পরে যখন আমার হাসবেন্ড হাসান বাসায় আসলো এবং সেও তানিয়ার মতো গোসল করার জন্য বাথরুমে ঢুকলো তখন আমার মনের সন্দেহটা ভূমিকম্প এর মতো জেগে উঠলো। মনে হলো বুকের ভিতর থেকে কোনো সন্দেহের প্রকান্ড একটা জলোচ্ছ্বাস বের হয়ে আসতে চাচ্ছে। যেটা আমার জীবনটাকে দুমড়ে মুচড়ে গুড়িয়ে দিবে। আমার সংসারটা ভেঙে তসনস করে দিবে। আমি কাকে কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছি না। তানিয়াকে বলবো? কিভাবে তাকে বলবো তুই কি আমার হাসবেন্ড এর সাথে? ছি! এটা আমি জীবনেও বলতে পারবো না। নিজের ছোট বোনকে কখনোই আমি এ কথা বলতে পারবো না। কিন্তু হাসানকে তো বলতে পারি। শুধু সন্দেহের বশে এই কথাটাও তো কাউকে বলা যায় না। তবে আমি হাসানকে বলবো কথাটা।

হাসানকে যখন রাতে জিগ্যেস করলাম,
"তুমি কি আমার থেকে দূরে যেতে চাইছো?"
তখন সে আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলল,
"এমনটা মনে হওয়ার কারণ কি? অফিসে একটু কাজের চাপ। তাই তোমাকে সময় দিতে পারছি না। এজন্য কেউ রাগ করে? তুমি ছাড়া আর কাকে ভালোবাসবো বলো?"

কথাগুলো যখন হাসানের মুখ থেকে শুনলাম তখন আমার ভিতরটা কেনো জানি জুড়িয়ে গেলো। আমি তাকে যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম সেই কথাটা আর বলতে পারলাম না।

সকালে একটা কাজের জন্য বাহিরে যেতে হলো। যাওয়ার আগে যখন তানিয়াকে বললাম,
"তুই চল আমার সাথে। একা একা বাসায় বসে কি করবি? আমার আসতে অনেক দেরি হবে। বিকেলের আগে আসতে পারবো না। হাসানও তো সন্ধ্যার আগে আসবে না।"

তখন তানিয়া বলল,তাঁর নাকি প্রচন্ড মাথাব্যথা তাই সে আমার সাথে যেতে পারবে না। আমিও তাকে আর জোর করলাম না।

আমার বিকেলে আসার কথা থাকলেও আমি দুপরের কিছুটা আগে বাসায় চলে আসি। বাসায় এসে দেখলাম মেইন গেট খোলা। অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি গেটটা লাগিয়ে বাহিরে গিয়েছিলাম। বাসায় ঢুকেই যে জিনিসটা দেখলাম সেটা দেখে খুব একটা অবাক হলাম না। তবে নিজের অজান্তেই দুচোখ

সত্যি ঘটনা👈ভালো লাগলো তাইদুপুর আনুমানিক ২.৩০ হবে.. রাস্তার পাশের চেনা দোকানে চা খাচ্ছি.. একটি মেয়ে, বয়স ২৩ কি ২৪ হবে, ইত...
08/09/2023

সত্যি ঘটনা👈
ভালো লাগলো তাই
দুপুর আনুমানিক ২.৩০ হবে.. রাস্তার পাশের চেনা দোকানে চা খাচ্ছি.. একটি মেয়ে, বয়স ২৩ কি ২৪ হবে, ইতস্তত করতে করতে দোকানে ঢুকলো.. হাতে একটা স্বচ্ছ ফাইল.. ভিতরে কিছু মার্কশিট, সার্টিফিকেট এসব দেখা যাচ্ছে... সারা শরীরে প্রসাধনের বিন্দুমাত্র চিহ্ন না থাকলেও ঘাম আর রোদমাখা মুখটা বেশ সপ্রতিভ... দোকানদারের সাথে কিছু কথোপকথনের ছিটেফোঁটা..

মেয়ে- ভাই, এখানে ভাত বা রুটি কিছু পাওয়া যাবে?

দোকানী- হ্যাঁ, ভাত পাবেন, বলুন কি কি খাবেন? ডাল, ডিম, সব্জি, রুই মাছ, পাবদা মাছ, বয়লার মুরগীর মাংস।

মেয়ে- এমনি শুধু ডাল আর ভাত কত ভাই?

দোকানী - ভাত, ডাল, সব্জি ৩৫ টাকা।

মেয়ে - আমার সব্জি চাই না, আমায় শুধু ভাত আর ডাল দিন..

৩০ টাকায় হয়ে যাবে তো?

দোকানী - আচ্ছা বসুন দিচ্ছি...

এরপর একটা ফোন আসে..

মেয়ে -

" হ্যাঁ মা বলো......
......…...... হ্যাঁ...............হ্যাঁ ব্যাংকে ইন্টারভিউ ভালো দিয়েছি..... হ্যাঁ খেয়েছি......ভাত মাছ.... তুমি ওষুধগুলো খেয়েছ?..... হ্যাঁ আমি ৫ টার ট্রেনটা ধরবো... আচ্ছা ভাইকে টিউশান থেকে ফেরার সময় স্টেশনে দাঁড়াতে বলবে......আচ্ছা রাখো।"

ফোনটা রেখে কয়েকটা সেকেন্ড বাইরের দিকে আনমনে তাকিয়ে থাকলো..... হয়তো অসুস্থ মা.. স্কুল পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের সুদিন এনে দেওয়ার সাজানো দিনের ছবিগুলো চোখে ভিড় করছিলো...

দেখে কি রকম যেন একটা শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা ভাব চলে এলো... একটা অজানা অচেনা মেয়ের জন্য.. কি যেন বলে এই বয়সটাকে... বালিকার চেয়ে বড়.. যুবতীর চেয়ে ছোট।

নারী স্বাধীনতা কি- ওর কাছ থেকে একবার শুনতে খুব ইচ্ছে করছিলো, মনে মনে শুভকামনা জানালাম..

এই চাকরির আকালের যুগে হে বালিকা তুমি যে বাইরে এসে আগুন রোদের তলায়.. শক্ত মাটিতে নেমে এসেছ যুদ্ধের জন্য, এখানেই তুমি যুদ্ধটা অর্ধেক জিতেছো.. আর বাকী অর্ধেক নিজের চাকরির টাকায় সত্যি সত্যি মাছ ভাত খাওয়ার পর জিতবে.... এ পর্যন্ত ঘটনাটা হয়তো সাধারণ ছিলো.. যদিও "মেয়ে" তুমি মন জিতে নিলে..

কিন্তু ঘটনাটা আরও বাকী..

দোকানী..ভাতের থালাটা সাজিয়ে..

মেয়েটির সামনে রেখে বললো..

দোকানী - আপা আমি ভুল করে সব্জিটা দিয়ে ফেলেছি, আপনি খেয়ে নিন প্লিজ.........

ওই তিরিশ টাকাই দিয়েন।

মেয়ে -কিন্তু আমি তো শুধু ডালভাতই....

দোকানী - আমি একদম ভুলে সব্জিটা দিয়ে ফেলেছি.. আপনি প্লিজ খেয়ে নিন.. তিরিশ টাকায় নেবো আমি...আমার ভুল.. আপনি না খেলে এতোটা খাবার নষ্ট হবে আমার..

ওদের মতো আমিও ভেবেছিলাম নিছকই ভুল...

কিন্তু চেনা দোকানী.. কানের কাছে এসে বললো.. "শুধু ব্যবসায় লাভ খুঁজলে হবে ভাই... এরকম ভুলগুলো করার সুযোগও খুঁজতে হবে... ওর খুব খিদে পেয়েছে.. দেশের বাড়িতে আমারও বোনটার বয়স এরকমই..." বলে আবার নির্লিপ্ত মুখে চা, সিগারেট, ভাত, তরকারির রাজ্যে হারিয়ে যায়।

আমি খুঁজে পেলাম না... কার জন্য বেশী ভালো লাগা উচিৎ..মেয়েটা নাকি দোকানিটা..

হয়তো একটা কথা বলা যেতে পারে..

যে যুদ্ধ জিনিসটা বোঝে, সেই যোদ্ধার ঘাম, ক্ষুধার মূল্য দিতে জানে। ধন্যবাদ সবাইকে,
👇
পেইজটা ফলো করে দিবেন সবাই
👉ভালোবেসে শুধু কষ্ট পেলাম 👈

07/09/2023

তিন বছর পর দেশে এসে জানতে পারি যে, আমার পরী'র দুইটা জমজ বাচ্চা হয়েছে। এবং সে আবারও প্রেগন্যান্ট। এবারেও তার দুইটা জমজ বাচ্চা হবে।

একথা শুনে আমি বেশ অবাক হলাম। আমার মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছিলো না। তবুও খালাতো ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম বাচ্চার বাবা কে? আমার খালাতো ভাই ইনিয়েবিনিয়ে যা বলল তার সারমর্ম এমন যে,
"আমি দেশে থাকাকালীন পরী যেমন শান্তশিষ্ট ছিলো, কখনও বাসা থেকে বের হতো না। কিন্তু আমি বিদেশে চলে যাওয়ার কিছুদিন পরেই সে একদম পালটে যায়। সকালে বাসা থেকে বের হতো। সারাদিন এলাকার ভোলা আর রামুর সঙ্গে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়াতো। তবে ভোলার সঙ্গেই তাকে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত। আমাদের গ্রামটা চারপাশে গাছপালায় ভরপুর। ভোলার সঙ্গে আমার পরী সারাক্ষণ ঘুরে বেড়াতে। বাড়িতে ফিরতো সন্ধ্যার দিকে। তাকে এতোসময় বাইরে থাকার জন্য কিছু বললে সে উল্টো রেগে গিয়ে ফোসফোস করতো। সবসময় তো ওকে পাশের বাড়ির ভোলার সাথেই দেখা যেত। মনে হয় বাচ্চার বাবা ভোলাই হবে। ভোলা যেভাবে বাচ্চাগুলোকে আদর করে... "

আমি সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে বুক ভরে ধোঁয়া নিলাম। তারপর জিজ্ঞাসা করলাম,
- পরী এখন কেমন আছে? সুস্থ আছে তো? কিছুদিন পরেই তো ওর আবারও জমজ বাচ্চা হবে। খাওয়া দাওয়া ঠিকঠাক করছে তো?

- পরী সুস্থ আছে। খাওয়া দাওয়া ঠিক মতোই করছে। খালা সবসময় ওর খেয়াল রাখে। যাতে ওর কোন সমস্যা না হয়।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
- পরী এখন কোথায় আছে? আমাদের বাড়িতেই না-কি আবারও ভোলার সঙ্গে বের হয়েছে?

- সকালবেলা তো দেখেছিলাম ভোলার সঙ্গে বের হয়ে ছিলো। এতোক্ষণে বোধহয় বাড়িতে চলে আসছে।

আমি আর এক মুহূর্ত দেরী না করে ছুটে গেলাম বাড়ির দিকে। বাড়ির উঠানে পা রাখতেই দেখি ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা উঠানে খেলা করছে। আমি একবার দেখেই বুঝে গিয়েছি বাচ্চা দুটো পরীরই। পরী যেমন ফর্সা, বাচ্চা দুটিও ওর মতোই ফর্সা হয়েছে। আমি কাছে গিয়ে বাচ্চা দুটোকে আদর করতে যেতে তারা ভয় পেয়ে উঠানের অন্য দিকে চলে গেল। আমি রুমে যেতেই দেখি পরী আমার বিছানায় আরাম করে শুয়ে আছে। আমাকে দেখে প্রথমে একটু অভিমান করে দূরে থাকলেও কিছুক্ষণ পরেই আবার ছুটে এসেছে আমার কাছে। পরী বেশ চালাক। আমি বিদেশ থেকে যে বড় লাগেজ নিয়ে এসেছি, এটা দেখেই সে ছুটে এসেছে। সে বুঝে গিয়েছে এর ভেতর অনেক কিছু আছে। তবুও পরী আমার কাছে আসতেই আমি তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলাম। ও চুপচাপ আমার বুকের সঙ্গে লেপ্টে আছে। কোনো নড়াচড়া করছে না। কিছুক্ষণ পরে আমার মা রুমে আসতেই পরী আমার কোল থেকে নেমে গেল

লাগেজ খুলে সবকিছু মা'কে বুঝিয়ে দিলাম। ততক্ষণে পরীর বাচ্চা দুইটা রুমে চলে এসেছে। আমি ওর বাচ্চাদের আদর করতে যাবো, তখন মা রাগ করে বলল,
- তোকে নিয়ে আমি আর পারি না। বিদেশে যাওয়ার আগে কোথা থেকে পরীকে নিয়ে এলি। ওর খেয়াল রাখতে বললি। কিন্তু সে তো কারো কোনো কথাই শোনে না।

আমি পরীর দিকে তাকাতেই সে লেজ নাড়াতে নাড়াতে মিউ মিউ করে ডেকে আমার কোলে এসে উঠলো। ততক্ষণে পরীর দুই বাচ্চা আর ভোলাও লেজ নাড়াতে নাড়াতে আমার কাছে এলো আদর নিতে। ভাবতেছি এবার পরী আর ভোলার বিয়েটা দিয়েই দিবো। আচ্ছা ওদের বাচ্চাগুলোর নাম কী রাখা যায়?
কপি

বেশ্যা মেয়েটা নিজের পুরো শরীরটাকে ৭ টা সমান ক্ষেত্রফলের এক একটা আয়তক্ষেত্রে ভাগ করে নিয়েছিল, এক সুদক্ষ গনিতজ্ঞের চরম ...
05/09/2023

বেশ্যা মেয়েটা নিজের পুরো শরীরটাকে ৭ টা সমান ক্ষেত্রফলের এক একটা আয়তক্ষেত্রে ভাগ করে নিয়েছিল, এক সুদক্ষ গনিতজ্ঞের চরম নিপুনতার মাধ্যমে।ওর শরীরটাকে উপভোগ করার জন্য পুরুষকে অনেকটা বেশি মূল্য দিতে হতো, এবং প্রতিদিন মাত্র একজন পুরুষকে সুযোগ দেওয়া হতো।আর ওই পুরুষকে ওই মেয়েই বেছে নিতো। মেয়েটা এতটাই সুন্দরী যে এত বেশি টাকা দিয়েও অনেক পুরুষ ওকে ভোগ করতে চাইতো।
তবে শর্ত ছিল, প্রতি দিন শরীরের আলাদা আলাদা আয়তক্ষেত্রের অংশটুকুই ওই পুরুষ ভোগ করতে পারবে। আর ওই আয়তক্ষেত্র, শরীরের কোন অংশে অঙ্কিত, তা দিনের শুরুতেই বাড়ির দরজার উপর এঁকে রাখতো ওই মেয়ে।
প্রায় সকালেই দরজার সামনে বিভিন্ন ধরনের পুরুষ এসে জড়ো হতো। বুকটাকে রাখা হয়েছিল আলাদা আয়তক্ষেত্রের মধ্যে। পিঠ, যোনি, নাভি, নিতম্ব, পা এরা আলাদা আলাদা আয়তক্ষেত্রের মধ্যে পড়তো। বুক আর যোনির অংশ যেদিন দরজার বুকে একটা মেয়েলি হাতের তুলিতে আঁকা থাকতো, সেদিন ভিড় হত অনেক। কিছু মানুষ তো নিজেদের মধ্যে লড়াই ও করত ওই অংশ ভোগের তীব্র লালসায়। শুধু একটা আয়তক্ষেত্র এমন ছিল, যেটা দুটো ছোট আয়তক্ষেত্রে বিভক্ত। মেয়েটার কপাল, কেশ আর দুই পায়ের দশটা আঙুল ওই অংশটুকু অধিকার করে থাকতো। এই অংশ যেদিন দরজায় আঁকা থাকতো, সেদিন শুধু একটা মানুষ আসতো, প্রত্যেকবার। দরজায় সেদিন ভিড় থাকতো না।
প্রথম যেদিন ওই আয়তক্ষেত্রের অংশটুকু রঙিন পেন্সিলের কারুকার্যে এঁকে দিল মেয়েটা,
ঘন্টাখানেক পর কালো ফ্রেমের চশমা পরা একজন দরজার একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ও। কাঁধের শান্তিনিকেতনী ব্যাগ আর গায়ে হালকা সুতির পাঞ্জাবি মিলিয়ে বেশ বড় ঘরের মানুষ বলে মনে হয়। প্রথম দিন মেয়েটা এটাই বুঝতে পারেনি এত বড় ঘরের মানুষ এই পাড়ায় এলো কীসের আশায়!
মেয়েটা এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করে," আপনি সব শর্ত জানেন তো?"
-" হ্যাঁ জানি।"
-" আপনাকে দেখে তো বড়ো ঘরের মনে হয়। এরকম জায়গায় আসতে অস্বস্তি বোধ করেন না?"
-" তা একটু করে বইকি।"
লোকটা আর কোন কথা না বলে চুপ করে থাকে। মেয়েটা তাকে একটা ঘরে এনে বসতে বলে, আর কিছুটা পর, ও নিজেও এসে শুয়ে পড়ে বিছানায়, লোকটার দিকে মুখ করে। লোকটা এখনও বসে আছে একটা চেয়ারের উপর।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর কথা বললো লোকটা," কতদিন থেকে এইসব করছো?"
- " বেশিদিন না।"
- " শরীর খারাপ করে না তোমার?"
-" তা করে, ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যায়। সত্যি বলতে কি, বড়ো ক্ষত তো মনের ভিতরে হয়, শরীরে তো শুধু একটা ঝাপটা লাগে মাত্র।"
-" এইসব কাজ না করলেই পারতে, আরো কত ভালো ভালো কাজ আছে।"
- " ভালো মন্দ ব্যাপার টা আপেক্ষিক। শরীরে আভরণ থাকলেও, তা ভেদ করে চোখের দৃষ্টি চলে যায় অনেকের। তাই নিজের হাতে আভরণ সরিয়ে দিলে অস্বস্তিভাব টা কেটে যায়।"
মানুষটা উঠে পড়ল এবার, কাঁধে শান্তিনিকেতনী ব্যাগটা যত্ন করে রেখে মেয়েটার দিকে ফিরে বললে,
" আসি আজ। পরের সপ্তাহে আবার আসবো।"
-" কিন্তু!" এই বলে চুপ করে রইল মেয়েটা।
-" তোমার সাথে আলাপ করবো বলে এসেছিলাম।"
দরজার ছিটকিনি খুলে বেরিয়ে গেল মানুষটা, মেয়েটা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল খোলা দরজাটার দিকে। শান্তিনিকেতনী ব্যাগটা একটা নরম ছন্দে দুলছে ওই মানুষটার কাঁধ থেকে। হাঁটার গতি সুসংগত, মাথাটা একটু ঝুঁকে বারান্দার দরজার ওপাড়ে চলে গেল সে।
বুকের ওপর থেকে খসে পড়া আঁচলটা ঠিক করে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটা, চাঁদটা আজ বেশ সুন্দর, চোখের পাতায় ওর উষ্ণতা অনুভব করা যায়। আসলে এই সময়ে ও কখনো চাঁদ দেখার সময় পায়নি, কোন এক পুরুষের জিভের রসে ওর শরীরের একটা নির্দিষ্ট আয়তক্ষেত্র স্নান করেছে বারবার, শরীরটা এক একবার কেঁপে উঠেছে। ভয় হয়েছে, এই বুঝি অন্য আয়তক্ষেত্রের লোমকূপেরা বুঝি কামুক হয়ে পড়ে ওই জিভের রসে নিজেদের ভিজিয়ে নিতে। কিন্তু ওর সংযম অনেক, কামুকতা হার মেনেছে ওর মনের জোরের কাছে। কিন্তু আজ পুরো শরীরটা যেন আবিষ্ট হয়ে আছে কোন এক অপরিচিত ভালোবাসার চাহিদায়, যে ভালোবাসার স্পর্শ খুব কাছের মানুষ ই দিতে পারে। কলঙ্কমাখা চাঁদ ওর চোখদুটোয় নরম আবেগ ছুঁইয়ে দেয়। ওর চোখ বুজে আসে, চেয়ারটা টেনে এনে জানলার ধারে বসে। কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে, শান্ত বাতাসে এলেমেলো কয়েক গোছা চুল মাঝে মাঝে উড়তে থাকে। চাঁদের আলো ওর মুখটা ছুঁয়ে দের বারবার, মেঘের উপর রাগ করে ওকে আড়াল করে বলে। ঘুমন্ত মেয়েটাকে পরীর মতন লাগে।
সকালে ঘুম ভাঙতেই একটু অবাক হয়, বিছানা ছেড়ে এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে ও। আগে কখনো হয়নি, এই প্রথম।
মুখটা ধুয়ে বাইরে আসে, নিপুণ হাতে এঁকে দেয় যোনি আবৃত করে রাখা আয়তক্ষেত্রের ছবি। পুরুষের ভিড় জমলো বলে। অনেক পুরুষের মাঝে একজনকে পছন্দ করে নেয়। অপরিচিত ওই পুরুষ, নিজের পৌরুষত্ব জাহির করার তীব্র চেষ্টা করে। মেয়েটা কিন্তু চুপ করে থাকে, আগের রাতের চাঁদের স্পর্শ এখনও মনটাকে ভারী করে আছে,ওই অনুভব চোখের পাতায় জাল বিস্তার করতে চায় বারবার। মেয়েটা বারবার প্রেমে পড়ে ওই অনুভবের, ওই স্নিগ্ধতার। আচ্ছা ওই কালো ফ্রেমের চশমা আর শান্তিনিকেতনী ব্যাগ নেওয়া মানুষটা কী প্রেমে পড়তে শেখালো ওকে? হতেও পারে।
একটু পরে পৌরষত্ব দেখানোর চেষ্টা শেষ হয়ে যায়, হাঁপিয়ে ওঠে ওই ঠুনকো পুরুষ।
মেয়েটা নিজের অজান্তেই হেসে ফেলে।
পরের সপ্তাহে আবার সেই নির্দিষ্ট দিনে কালো ফ্রেমের চশমা পড়া মানুষটা আসে, মেয়েটা ওকে বিছানায় বসতে বলে আজ।
মানুষটা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে বিছানার পাশে, একটু ইতস্তত করে বলে," শরীর কেমন আছে তোমার?"
- " ভালো। আপনি কেমন আছেন?"
- " ভালো আছি। আচ্ছা একটা কবিতা শুনবে তুমি?"
- " আপনি লিখেছেন?"
- " হ্যাঁ। তোমার পাশে একটু বসি?"
- " হ্যাঁ, এখানেই বসুন।"
মেয়েটা একটু সরে গিয়ে বিছানায় বসতে বলে ওকে। মানুষটা কবিতা বলে, মেয়েটা চুপ করে শোনে। কবিতা শেষ হলে মেয়েটা বলে,
-" আচ্ছা, আপনি সেদিন চলে গেলেন। আজ কবিতা শোনালেন। আপনি কী আমার শরীর স্পর্শ করবেন না?"
- " স্পর্শ করার অধিকার নেই আমার। ও অধিকার অর্জন করতে হয়।"
- " নারীর শরীরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন না?"
- " সংযম শিখেছি অল্পবয়স থেকেই।তাই লোভ নেই, আকর্ষন যেটুকু প্রকৃতিদত্ত স

03/09/2023

#আমার_হয়েও_আর_হইলোনা
#পর্বঃ২
দিশা_মনি

বাসর ঘরে গুটিশুটি হয়ে বসে আছে তৃণা। একটু আগেই তৃষ্ণা এসে তাকে বাসর ঘরে বসিয়ে দিয়ে গেছে। তৃণা তৃষ্ণার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তৃষ্ণা তৃণাকে এখানে বসিয়ে দিয়ে কোন কথা না বলেই চলে গেছে। তৃণার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেছে। তৃষ্ণা তার নিজের বড় বোন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে কত আদর যত্ন করে বড় করেছে। অথচ আজ তৃণার জন্য তাকে অনেক কষ্ট পেতে হলো। তৃণার একটু খারাপ লাগলেও সে ভাবল এমনটা হওয়ারই ছিল। তবে সে আশাবাদী একসময় সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

এরমধ্যে সময় এগিয়ে যেতে লাগল। তবে ঈশানের আসার কোন নামগন্ধ নেই। এতে করে তৃণার যেমন কষ্ট হচ্ছে তেমন একটু স্বস্তিও হচ্ছে। কারণ তৃণা খুব ভালো করেই জানে তার এই বাসর রাত অন্য আর পাঁচটা মেয়ের মতো সুখকর হবে না। অনেক কিছুর মোকাবিলা করতে হবে তাকে। ঈশান এসেই হয়তো তাকে বাজেভাবে অপমান করবে।

তৃণা ফোস করে নিঃশ্বাস ছাড়ল৷ দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ১২ টা বাজতে চলেছে। তৃণার মুখে আমাবস্যার অন্ধকার নেমে এলো।

আর কিছু সময় অপেক্ষা করার পর তৃণা ভাবল ঈশান বোধহয় আজ রাতে আর আসবে না। তাই সে শুয়ে পড়ল। তার চোখে ঘুমও নেমে এলো। সবেমাত্র দুচোখ বন্ধ করেছে তৃণা এমন সময় রাগে ক্রোধে উন্মাদ হয়ে ঈশান বাসর ঘরে প্রবেশ করল। তৃণাকে বাসর ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে দেখে ঈশানের রাগের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সে দাঁত কটমট করতে করতে বলল,
"আমার জীবনের সব শান্তি নষ্ট করে তুই এখানে শান্তিতে ঘুমাচ্ছিস। দাড়া তোর ঘুম আমি বের করছি।"

বলেই ঈশান ছুটে গেল তৃণার দিকে। তৃণার কাছে গিয়ে তাকে টেনে তুলল। সবেমাত্র তৃণার চোখ লেগে গিয়েছিল। ঈশান এভাবে অতর্কিত ভাবে টেনে তোলায় থতমত খেয়ে গেল তৃণা। পিটপিট করে তাকিয়ে রইল ঈশানের দিকে। ঈশান তৃণাকে টেনে তুলেই ক্ষান্ত হয়না। তৃণাকে টেনে হিচড়ে বাইরে নিয়ে যেতে থাকে।

তৃণার অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে। তৃণা আর্তনাদ করে বলে ওঠে,
"ঈশান ভাই ছাড়ুন আমার লা'গছে।"

ঈশান ক্ষেপে গিয়ে বলে,
"একদম চুপ। তুই এটাই ডিজার্ভ করিস। আমার জীবন নষ্ট করে তুই শান্তিতে থাকবি সেটা তো হতে পারে না।"

"আমি কিভাবে তোমার জীবন নষ্ট করলাম ঈশান ভাই?"

"একদম নাটক করবি না। তুই আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমায় বিয়ে করেছিস। আজ এই ঘরে তৃষ্ণার থাকার কথা ছিল। কিন্তু তুই সেটা হতে দিস নি। আমার থেকে আলাদা করে দিয়েছিস তৃষ্ণাকে। কেন এমন করলি তুই তৃণা? তুই জানতি না আমি তৃষ্ণাকে কত ভালোবাসি? তুই যেদিন আমায় তোর মনের কথা বলেছিলি সেদিনই তো আমি স্পষ্ট অনেক তোকে এটা বলে দেই যে আমি শুধু আর শুধুমাত্র তৃষ্ণাকে ভালোবাসি।"

"আমি নিরুপায় ছিলাম ঈশান ভাই। আমার নিজের জন্য নয়, আমার সন্তানের জন্যই আমি এই বিয়েটা করতে বাধ্য হয়েছি।"

ঈশানের মাথা আরো বেশি গরম হয়ে যেতে থাকে। সে এবার চিৎকার করে বলে,
"নিকুচি করেছে তোর বাচ্চার। আমি জানি এই সব তোর মিথ্যা নাটক। আর আজ আমি সেটা প্রমাণ করে দেব।"

বলেই ঈশান তৃণাকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকে। তৃণা তখন বলে ওঠে,
"ঈশান ভাই আস্তে,আমাদের বাচ্চার কোন ক্ষতি হয়ে যাবে।"

তৃণার কথা শুনে ঈশানের রাগ আরো বেড়ে যায়। সে আরো জোরে জোরে টানতে টানতে নিয়ে যায় তৃণাকে।

তৃণাকে টানতে টানতে তৃষ্ণার ঘরে নিয়ে যায় ঈশান। তৃষ্ণা অনেক রাত অব্দি জাগে। আজ দরজাটা খোলা রেখেই বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল তৃষ্ণা। নিজের আপন জনদের থেকে কষ্ট পেয়ে তার মনটা একদম বিষিয়ে গেছে। এমন সময় রুমের মধ্যে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে রুমে চলে আসে তৃষ্ণা। তৃণা আর ঈশানকে দেখে তার ভ্রু কুচকে যায়। সাথে রাগও হয় খুব। তৃষ্ণা বেশ রাগী স্বরে বলল,
"তোমরা কেন এসেছ এখানে? আজকে না তোমাদের দুজনের জীবনের সবথেকে সুন্দর রাত। আমার এখানে এসে সেই রাতটাকে নষ্ট করো না।"

ঈশান তৃণাকে ধাক্কা দিয়ে তৃষ্ণার সামনে ফেলে দিয়ে বলে,
"তোর বোনের আসল রূপ তোর সামনে তুলে ধরার জন্য এখানে নিয়ে এসেছি। তুই না একজন ডাক্তার। তোর কাছে নিশ্চয়ই প্রেগ্ন্যাসির কিট আছে। তখন ও যেই রিপোর্ট দিয়েছিল তার উপর আমার কোন বিশ্বাস নেই। তুই এখন ওকে আরেকটা কিট দে। দেখি এবার কি রিপোর্ট আসে।"

তৃষ্ণা তাই করে তৃণাকে একটা প্রেগ্ন্যাসির কিট দেয়। তৃণা আমতাআমতা করে বলে,
"তখন তো টেস্টের রেজাল্ট দিলামই। আর কতবার টেস্ট করতে হবে।"

তৃষ্ণা সন্দেহভাজন স্বরে বলল,
"তুই যদি সত্যি বলে থাকিস তাহলে তো টেস্ট করতে অসুবিধা নেই। আরেকবার টেস্ট করলে নিশ্চয়ই রিপোর্ট বদলে যাবে না।"

তৃণা কাপাকাপা হাতে টেস্ট কিটটা হাতে তুলে নেয়। অতঃপর চলে যায় ওয়াশরুমে। অনেকক্ষণ পরও যখন সে বেরিয়ে আসে না তখন ঈশান বাইরে থেকে চিৎকার করে বলে,
"কি হলো? এত সময় কেন লাগছে তোর?"

তৃণা একটু পরেই বেরিয়ে এলো। এসে কিটটা তৃষ্ণার হাতে তুলে দিল। ঈশান তৃষ্ণাকে শুধালো,
"রিপোর্ট কি এসেছে?"

"নিজেই দেখে নাও।"

ঈশান কিটটা হাতে নিয়ে দেখে রিপোর্ট পজেটিভ। তার নিজের চোখকেই বিশ্বাস হতে চায় না। সে বলে ওঠে,
"এটা হতে পারে না। তৃণা নিশ্চয়ই কোন কারসাজি করেছে।"

এরমধ্যে তৃণার হঠাৎ করে খুব বমি পায়। সে মুখে হাত দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে ছোটে। গলগল করে বমি করে দেয়। তৃষ্ণা ঈশানের উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"তুমি কি এরপরেও সত্যটা অস্বীকার করবে ঈশান ভাই?"

"হ্যাঁ, কারণ আমি জানি আমি নির্দোষ। এসব প্রেগ্ন্যাসির কিটে আমার কোন বিশ্বাস নেই। কাল আমি ওকে নিয়ে তোর হাসপাতালে যাব। ওর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করাবো। তারপরই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।"

তৃষ্ণা বিরক্তির সাথে বলে ওঠে,
"তোমার যা করার তুমি করো। কিন্তু প্লিজ এখন তোমার ওয়াইফকে নিয়ে এই রুম থেকে বেরিয়ে যাও। আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দাও প্লিজ।"

ঈশান রুম থেকে চলে যায়। তৃণা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ঈশানকে না দেখে তৃষ্ণাকে শুধায়,
"আপি ঈশান ভাইয়া কোথায়?"

"জানিনা আমি। তুই এই রুম থেকে এক্ষুনি বের হ। তোকে সহ্য হচ্ছে না আমার।"

"বিশ্বাস করো, আমি সত্যিই প্রেগন্যান্ট।"

"তুই কি বা***- ল হবি হ। আমার রুম থেকে বের হ বলছি। জাস্ট লিভ।"

তৃণা মাথা নিচু করে বের হয়ে যায়।

★★★
পরের দিন ঈশান বেশ দ্রুতই অফিস থেকে চলে আসে। উদ্দ্যেশ যে করেই হোক তৃণার সব ষড়যন্ত্র সবার সামনে আনা। বাড়িতে এসেই সে তৃণার নাম ধরে ডাকতে থাক

আমি বাসর ঘরে ঢুকেই দরজা, জানালা  লাগিয়ে দিলাম। গা থেকে শার্টটা খুলতে খুলতে  মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলাম। মেয়েটা তার স্বামীর ...
03/09/2023

আমি বাসর ঘরে ঢুকেই দরজা, জানালা লাগিয়ে দিলাম। গা থেকে শার্টটা খুলতে খুলতে মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলাম। মেয়েটা তার স্বামীর জায়গায়! আমাকে দেখে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো" কে আপনি? দরজা লাগিয়ে দিলেন কেন?"

বাসর রাতে দরজা বন্ধ করে যা করে। তাই করবো। তাই লাগিয়ে দিলাম।

মেয়েটা ভয়ে জড়োসরো হয়ে বললো" কি বলছেন এসব! আমার স্বামী কোথায়? '

মেয়েটার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ দেখতে পেলাম। আমি পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললাম -আমি ঠিকই বলছি। আপনার স্বামী আপনাকে আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ! আর হ্যাঁ, এখন ন্যাকা কান্না-কাটি করবে না। কান্না-কাটি একদম পছন্দ না আমার ।

-বাসর রাতে অন্য পুরুষের মুখে এমন কথা শুনে কথার বুকঁটা ছ্যাঁত করে উঠলো! নাহ্ এ হতে পারে না। উনি আমাকে বিক্রি করে দিতে পারে না। উনি না আমায় ভালবাসতো। আমার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করেছিল কোনদিন ছেড়ে যাবে না । ( কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললো কথা)

মিঃ রাফি একটু রুমে আসেন তো। ফোন করে বললাম।

- আমি মেয়েটার সামনে বসে আছি, শরীরে ভাঁজ গুলো দেখে নিচ্ছি। গ্রামের মেয়ে, লালগুড়া সুন্দর। দেখে যে কোন ছেলেরই কাম- তারণা জন্ম নিবে। মনে হচ্ছে স্বর্গের পরীটা আমার সামনে বসে আছে। মেয়েটার কাঁদছে ভয়ে বিছানায় এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। চোখ থেকে মুক্তার দানায় মতো চোখের পানি টপ-টপ করর পড়ছে। আমার সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠলো। আমি মৃদু হেসে দরজা খুলে দিলাম।

- মিঃ রাফি রুম এসে বললো, 'স্যার টাকা'টা পড়ে দিলেও পারতেন। আর মাল ঠিক আছে তো? একদম ট্রসটসা! আমি দু'মাস প্রেম করলেই একটা বার ছুঁয়ে দেখেনি। একদম ভার্জিন। আপনি আমার জীবনের প্রথম কাস্টমার। আপনার বিশ্বাস ঠিক রাখতে পেয়েছি আমি মনে করি!

- আমি মৃদু হেসে বললাম" হে মিঃ রাফি আমি জানি! আপনার সম্পর্কে মিঃ নাজমুলের কাছে সব শুনেছি। '

- "ধন্যবাদ স্যার অধমকে এতটা বিশ্বাস করার জন্য"কথাটা শেষ করার আগেই, ঠাস! ঠাস! করে মেয়েটা রাফির গালে চড় বসিয়ে দিল।

- ছিঃ তোর লজ্জা করে না, আমাকে মিথ্যা ভালবাসার প্রতিশ্রুতি দিতে। কেন এই কষ্টের বুকে ভালবাসার ফুল ফুটিয়ে ছিলি। তোর কোন দিন ভালো হবে না। আমি মা- বাবা হারা এতিম মেয়ে তোকে অভিশাপ দিচ্ছি। ( কাঁদতে কাঁদতে কথা গুলো বললো)

- রাফি চলে গেল! চলে যাওয়ার আগে মেয়েটার দিকে কেমন করে তাঁকালো।

- আমি রাফি সাহেবের অদ্ভূত ধৈর্য ক্ষমতা দেখে হতবাক!এই জন্যই এই সব ধান্দা করতে পারে।

- মেয়েটা আমাকে অবাক করে দিয়ে যখন নিজেই দরজা লাগিয়ে দিলো!তখন বিস্ময়ের দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকালাম।
চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে এখনো । সত্যি মেয়েটাকে আল্লাহ্ তায়ালা বিশেষ সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছে। যতই দেখছি মেয়েটার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি।

- মেয়েটা তার শাড়ির আচলটা বুক থেকে টান মেরে খুলে ফেলে দিয়ে, কাঁদতে কাঁদতে বললো" এই নেন শুরু করেন "। ভোগ করেন আমাকে। শাড়ির নিচে নরম কিছু মাংস পেশীতে হাত রেখে, লজ্জাস্হানটাকে পশুদের মতো উপভোগ করে। আপনি পুরুষ তার পরিচয় দেন। আপনারা পুরুষরা ভুলে গেছেন,বাম স্তনের দু'আঙুল নিচে একটা ছোট্ট মাংসের টুকরা আছে যা সব পুরুষরাই দখল করে নিতে জানে না। তারা জানে শরীরটা চিঁড়ে ফুঁড়ে খেতে। কি হলো শাড়ির আচল ফেলে দিয়েছি, আপনার কষ্ট হলে আমি সবকিছু খুলে দেয়? জানেন কাল হয়তো আমার পরিচয় হবে আমি একজন নষ্টা মেয়ে। তবে হাশরের দিন আমি আমার ইজ্জতের হারানোর বিচার চাইবো মহান আল্লাহর কাছে। একটা বার পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালার কাছে বলবো কেন আমাকে এতো কষ্ট দিয়েছে। ছোট বেলায় মা-বাবাকে কেড়ে নিয়েছে তখন কেন আমাকে নিয়ে নেয়নি। কি হলো কাঁদছেন কেন? কাঁদবো তো আমি।


- ফ্লরে পড়ে থাকা শাড়ির আচলটা তুলে মাথায় ঘুমটা দিয়ে দিলাম! মেয়েটা করুণ দৃষ্টিতে একবার তাকালো আমার দিকে ।

- ভয় পাবেন না, আপনি নিরাপদ। পৃথিবীর সব পুরুষরা যেমন ভালো না তেমনি সব পুরুষরাও খারাপ না। আপনি এখানে কিভাবে এলেন? আর কেমন করে আপনাকে দালালটা বিয়ে করলো?

- মেয়েটা চোখের পানি মুঁছতে মুঁছতে বললো " আমি পালিয়ে এসেছি!
- মানে! কেমন করে?

- তাহলে শুনেন, সাতবছর বয়সেই মা-বাবা মারা যায় গাড়ি একসিডেন্টে! তারপর মামা- মামীর কাছে বড় হয়। মামী আমাকে দু'চোখে দেখতে পারতো না! আমার বয়স যখন ১৫ বছর তখন, ক্লাস টেনে থাকাকালীন মামা প্যারালাইজ হয়ে যায়। মামা অসুস্থ হওয়ার পর, মামীর অত্যাচার আরো বেড়ে গেল। সারা বাড়ির কাজ আমি একাই করতাম। প্রতিদিন বাসি - পান্তা ভাত দিতো। কোনদিন কোন অভিযোগ করিনি। মনকে এ বলে স্বান্ত্বণা দিতাম যে তারা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন এতেই অনেক! একদিন কাঁচের একটা গ্লাস হাত থেকে পরে যায়! মামী রান্নাঘরে রান্না করতেছিল। রান্নাঘরে থাকা ভাজা -কাটি দিয়ে মাছ উল্টাতে ছিল। তিনি যখন দেখলেন ভাঙা গ্লাসের টুকরাগুলো মাটি থেকে তুলতেছিলাম তখনি, পিছন থেকে আমার পিঠে গরম ভাজা-কাটি চেঁপে ধরে। মাগো বলে এক চিৎকারে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পড়ে যখন হুশ হয় তখন দেখি আমি ফ্লরেই পড়ে আছি। কেউ একফোটা পানিও মাথায় দেয়নি! পিঠে হাত দিয়ে দেখি, জামা পুড়ে পিঠের চামড়াগুলো ক্ষত হয়ে গেছে। সেদিন রাতে অনেক কেঁদেছিলাম। মাঝরাতে উঠে দু'রাকাত নামায শেষ করে আল্লাহর কাছে কান্না করে দিয়ে বললাম" হে পরুম করুণাময় আল্লাহ সারাজাহানের অধিপতি আর কত কষ্ট দিবেন আমায়। আমি যে আর সইতে পারছি না। আমাকে আপনার কাছে নিয়ে নেন। কেউ ভালোবাসে না আমায়। তুমি তো তোমার বান্দীকে ভালবাসো। ওগো, আল্লাহ্ আমার চোখের পানি কি তুমি দেখতে পাও না? প্রতিদিন ফজরের নামায শেষ করে, জায়নামায থেকে উঠতাম।


তার একবছর পর যখন কলেজে উঠলাম। তখন টিউশনি করে মামীকে টাকা দিতাম। রাতে দর্জি কাজ করে নিজের পড়াশোনা চালাইতাম। একদিন রাতে একটা রং নাম্বার খেকে ফোন আসে। সালাম দিয়ে পরিচয় জানার পর ফোনটা কেটে দেই রং নাম্বার বলে।

- কিন্তু লোকটি প্রায়ই ফোন দিতে। প্রথমে বকা-ঝকা করলেও পরে আর পারিনি। তারপর বন্ধত্ব। আবার বন্ধুত্ব থেকে কখন যে, নিজের অজান্তেই ভালবেসে ফেলেছিলাম বুঝিবার । প্রথম যেদিন মিট করেছিলাম, ওই আমাকে ছুঁয়েও দ

Address

Bangladesh Dinajpur
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangla golpo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category