shukur Mahmud

shukur Mahmud poems

11/02/2026

১৯৯৬ সালের ১৩ ই মার্চ সোমবার দিন বিকালে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার উপর দিয়ে বয়ে চলে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়।ঐ দিন আমি বাড়িতেই ছিলাম। আকাশে প্রচন্ড মেঘ করে চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসলো। আমি ঘরের দরজায় দাঁড়িয়েছিলাম। আমার মা ঘরের বাহিরে কাজ করতে ছিল। এমন সময় প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়ে যায়। জ্বরের মধ্যেই সে উঠোনে কাজ করতে থাকে। গাছপালা মনে হয় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে গাছের ডালপালাগুলো যেন মাটিতে সিজদার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চারিদিকে বিজলি চমকাচ্ছে। বজ্রপাত হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি দৌড়ে বাহিরে আছি মাকে টেনে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসি। আমার বাবা ভাইয়েরা ধান কাটতে চড়াই গিয়েছিল। এজন্য আমরা ছিনতায় মগ্ন ছিলাম। চারদিকে টিনের ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার শব্দ বয়ে আসতে ছিল। বাহিরে প্রচন্ড ঝড় ভিতর ঘরের ভিতর থেকে বাবা এবং ভাইদের জন্য চিন্তা করতেছিলাম। অনেক ভয়-ভীতির ভিতরে সময় অতিবাহিত করতে ছিলাম ‌ নিয়তি সহায় ছিল আমাদের গ্রামের উপর দিয়ে তেমন কোনো ভয়াবহতার সৃষ্টি করতে পারেনি। আমাদের পাশের গ্রাম বড়শিলা,বড়ভিটা, আরো কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বেগে প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। ওই সময় আমি ছিলাম ছোট। বয়স হয়তো সাত আট হবে। ওই গ্রাম দেখতে একা যাইতে সাহস পাইনি। পরের দিন আমার চাচতো ভাই উল্লাসের সাথে হেঁটে হেঁটে যাই সে গ্রামগুলো দেখতে। ওই সময় ছিল জ্যৈষ্ঠ মাস। দেখলাম ধান ক্ষেতগুলোতে ধান গাছ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সে ধান গাছের মধ্যে কোন একটা ধানও নেই মনে হয় ধানগুলো থেকে ধানগুলো চুষে নিয়ে গেছে কিন্তু খেতেও একটা দান পড়ে নাই।

24/01/2026

বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় আজও অমানবিকতা নীরবে টিকে আছে। সবাই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায় না—অনেকে জন্মায় চরম দারিদ্র্যের ভেতর। সেই দারিদ্র্যের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে অসংখ্য মেধাবী ও প্রতিভাবান মানুষ। সামান্য পরিচর্যা ও সহানুভূতির অভাবে তাদের প্রতিভা সমাজে প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যায়। সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি পরিবারও অনেক সময় তাদের পাশে দাঁড়ায় না; বরং বিরুদ্ধতাই হয়ে ওঠে নিয়তি।

নিজের মেধা দিয়ে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন তারা দেখলেও, অবমূল্যায়ন ও অবহেলার আঘাতে একসময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ বোঝে না তাদের যন্ত্রণা। ধীরে ধীরে তারা একাকীত্ব বেছে নেয়, আর সামান্য শান্তির খোঁজে জীবনের পরিচিত বৃত্ত ছেড়ে অজানার পথে পা বাড়ায়।

স্বপ্নদাহ সেই অবহেলিত মেধা, দগ্ধ স্বপ্ন আর নীরব নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষগুলোরই এক করুণ প্রতিফলন।

24/01/2026

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় এখনো অমানবিক কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়। সমাজ ব্যবস্থায় সকল মানুষই সোনার চামিজ মুখে নিয়ে জন্মায় না। কিছু মানুষ অত্যন্ত দারিদ্র সীমার নিচের পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। এদের মধ্যে অনেকেই অনেক মেধাবী, প্রতিভাবান ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করে থাকে। সামান্য পরিচর্চার অভাবে এই মানুষগুলো তার প্রতিভা গুলো সমাজে প্রস্ফুটিত করতে পারে না। অকালেই ঝরে যায় তাদের মেধা তাদের প্রতিভা গুলো। এই সকল মানুষের জন্য সমাজ এগিয়ে আসে না। এখানে সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা নিজ পরিবার দ্বারাও বিরুদ্ধচারিত হতে থাকে। এসব প্রতিভাবান মানুষ তার মেধা দিয়ে সমাজব্যবস্থাকে পরিচালিত করা ইচ্ছা পোষণ করলেও নিজ মানুষদের দ্বারা তারা বারবারই ব্যাহত হতে থাকে। কেউ তার কথা মূল্যায়ন করে না । যার ফলশ্রুতিতে এক সময় তাদের মানসিক অবস্থা বিপন্ন হতে থাকে। মানুষ গুলো একসময় একাকীত্ব গ্রহণ করে। তাদের মানসিক অবস্থা কেউ না বুঝার কারণে তারা একসময় সামান্য শান্তির সুখের জন্য জীবনের বৃত্ত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ঘর থেকে বাহির হয়ে নিরুদ্দেশের পথে হাঁটতে থাকে। এই উপন্যাসে তারই প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।

13/01/2026

উৎসর্গ
আমার এই উপন্যাসটি সৌরভের মতো ভাগ্যহারা, স্বপ্নহারাদের প্রতি উৎসর্গ করলাম।

11/01/2026

বানী

*** প্রত্যেক মানুষ যদি, অন্যের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় ,তাহলে পুরো বিশ্ব পুণ্যভূমিতে রূপান্তরিত হবে।

*** নিজের বিবেককে বিকৃত করো না তাহলে প্রশান্তি হ্রাস পাবে।

*** প্রার্থনা যেহেতু ধ্যানের বিষয়ে আর ধ্যান নির্জনতায় পূর্ণতা পায় সুতরাং রাত্রির স্তব্ধতাই প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ সময়।

*** দেহ যেহেতু মাটির তৈরি সেহেতু অহংকার করো না কারণ মাটি সর্বদাই ধূলিময়।

*** মানুষ যেহেতু সৃষ্টির সেরা জীব তাই সৃষ্টি কুলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি তারাই করতে পারে।

*** প্রত্যেক প্রাণীর চলার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যু আমরা যে যাই করি দিনশেষে মৃত্যুর দিকেই ধাবিত হই।

***যেহেতু আত্মার মৃত্যু হয় না স্থানান্তরিত হয় সেহেতু আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখো যেন পর জনমে শ্রদ্ধা সন্তুষ্ট হয়।

*** মৃত্যু যেহেতু অপেক্ষমান সেহেতু মৃত্যুকে ভয় করো না আলিঙ্গন করতে শিখ হয়তো এতে নাজাতের ফয়সালা হতে পারে।

*** মাটির মানুষ যদি মাটির আদর্শ অনুসরণ করতো ,তাহলে মানুষ এতটা সংঘাতময় হতো না।

*** প্রত্যেকটা মানুষ যদি অন্যের নিকট হতে প্রাপ্ত আঘাত পেয়ে নিজের ভুলটুকু শুধরে নিতো ,তাহলে পৃথিবী এতটা সংঘাত পূর্ণ হতো না।

*** মানুষ যদি তার চিন্তার মধ্যে থেকে শুধু সত্যটুকু গ্রহণ করত তাহলে পুরো পৃথিবীটাই পূণ্যভূমিতে পরিণত হতো।

*** পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই রস প্রিয় তাই তারা রসালো মিথ্যাকে প্রাধান্য দেয় আর তেতো সত্যকে অনর্থক বিসর্জন দেয়।

*** বীর্য যেহেতু নাপাক, আর নাপাক থেকেই প্রাণের সৃষ্টি সেহেতু নিজেকে পবিত্র করো তবেই স্রষ্টার অস্তিত্ব খুঁজে পাবে।

11/01/2026

কবি পরিচিতি

শুকুর মাহমুদ এর জন্ম ৩ এপ্রিল ১৯৯০ সালে টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত ভুয়াপুর থানার ফলদা গ্রামের ঘোনাপাড়ায়। পিতা মোঃ মোকাদ্দেস আলী এবং মাতা সূর্যভানুর ঘরে। ফলদা রামসুন্দর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ফলদা শেহাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কর্মজীবনে দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে ডিগ্রী পাস করেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তার কর্মের পাশাপাশি কবিতা এবং গল্প লিখে থাকেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ "দাবানল"২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। তার ছোট গল্প "প্রবল রোদন" প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। ২০২১ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ "শ্রেষ্ঠ বাঙালি"।তার প্রথম উপন্যাস "স্বপ্নদাহ" যা ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। সকলের কাছেই তিনি দোয়া প্রার্থী।

10/01/2026

✦ লেখকের কিছু কথা
উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। প্রায় প্রত্যেক লেখকেরই মনে এক সময় উপন্যাস লেখার স্বপ্ন জাগে। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ করা এতটা সহজ নয়। একটি উপন্যাস সম্পন্ন করতে প্রয়োজন দীর্ঘসময়, শ্রম, অধ্যবসায় এবং মানুষের চরিত্র, সমাজ ও জীবনের গভীর উপলব্ধি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই—এই সব গুণ একসাথে আমার মধ্যে ছিল না। তবু ছোটবেলা থেকেই একটি আকাঙ্ক্ষা আমাকে পথ দেখিয়েছে—একটি উপন্যাস লেখার চেষ্টায় নামা।
একটি সাধারণ উপলব্ধিই আমার সাহস জুগিয়েছে:
কোনো কাজ একবার শুরু করলে তা একদিন শেষ হবেই।
এই বিশ্বাস থেকেই ‘স্বপ্নদাহ’ উপন্যাসের যাত্রা শুরু।
২০০৫ সালে এর প্রথম শব্দ কাগজে আসে। ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে মাত্র চারটি অধ্যায় লিখতে পেরেছি। এরপর কর্মজীবনে প্রবেশ—লেখালেখির গতি থেমে যায়।
২০২০ সালে, বিশ্ব যখন মহামারিতে থমকে, আমি গৃহবন্দী সময়ে সেই পুরনো খাতাটি খুঁজে পাই। দেখি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেলাপোকা অনেকটা পাতা খেয়ে ফেলেছে—যেন গল্পটিও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। তবুও আমি হার মানিনি। যতটুকু অবশিষ্ট ছিল, নতুন খাতায় নকল করে আবার সংরক্ষণ করি। কিন্তু এরপরও নতুন করে লেখার স্রোত ফেরেনি।
২০২৫ সালে এসে লেখক শ্রাবণ শিকদার হিমুর উৎসাহ আমার হাতকে আবার সচল করে। তাঁর অনুপ্রেরণা আমাকে নতুন শক্তি দেয়। তাঁর কল্যাণেই উপন্যাসটির নির্মাণ পুনরায় শুরু হয় এবং অবশেষে সম্পন্ন হয়। তাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা আমার অন্তরের গভীরতা থেকে।
এই উপন্যাসের চরিত্র ও গল্প সম্পূর্ণভাবেই আমার নিজস্ব সৃষ্টির ফল। বাস্তব জীবনের সঙ্গে কারও মিল থাকলে তা নিছকই সমাপতন—লেখক হিসেবে আমি তার দায় নেব না।
আমি চেষ্টা করেছি ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণনায় যথাসম্ভব শুদ্ধতা বজায় রাখতে। তবুও ত্রুটি থাকতেই পারে। সম্মানিত পাঠক যদি কোনো ভুল বা পরামর্শ উদারভাবে আমাকে জানান, তা পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করতে আনন্দিত হবো।
— লেখক
শুকুর মাহমুদ

10/01/2026

ভূমিকা
স্বপ্নদাহের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৌরভ—একটি গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তান, যার জীবনের গল্প দারিদ্র্যের অন্ধকারে আলো খোঁজার নিরন্তর সাধনার নাম। পরিবারে অভাব, ক্ষুধা, অসহায় মুখ, এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে থেকেও সৌরভের বুক ভরা স্বপ্ন—পড়াশোনা করে নিজের ভাগ্য গড়ে তোলা।
কিন্তু দারিদ্র্য সেই অক্টোপাস, যার লোভী বাহু ক্রমে তাকে গ্রাস করে ফেলে। একসময় তাকে ভাগ্যের কাছে মাথা নত করতে হয়। পরিবারকে বাঁচাতে সে স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে শহরে রওনা হয়।
শহর সৌরভকে দেয় অভিজ্ঞতা, কষ্ট, জীবনযুদ্ধ এবং একসময়ের গভীর প্রেম কলিকে হারানোর বেদনাদায়ক স্মৃতি। কলির অন্যত্র বিয়ে, তারপর সনি নামের আরেক নারীর সঙ্গে ক্ষণিক মানসিক আশ্রয়—সব মিলিয়ে সৌরভের জীবন যেন ক্রমাগত ভাঙনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে।
পরিবার পরে তাকে বিশ্বাসঘাতকতার চোখে দেখে। অন্যায় চাপের মুখে জমি কেনা, একাকীত্ব, এবং সম্পর্কের দহন তাকে আরও ক্ষতবিক্ষত করে। মনে-প্রাণে ক্লান্ত হয়ে সে ভেবেছিল বিবাহ হয়তো তাকে শান্তি দেবে—কিন্তু সেখানেও হতাশা, অবিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতা।
সৌরভের শত্রু ছিল না কোনো ব্যক্তি—ছিল সময়, ভাগ্য, আর অনবরত জীবনযুদ্ধের দহন। অবশেষে একদিন সমস্ত সম্পর্ক, সম্পদ, দায়িত্ব ও পরিচয়ের বৃত্ত থেকে মুক্ত হয়ে সে বেরিয়ে পড়ে অজানা পথে—হারিয়ে যায় অনন্তের গভীরতায়। কেউ তার সন্ধান আর পায় না—কেবল স্রষ্টাই জানেন তার চূড়ান্ত গন্তব্য।
স্বপ্নদাহ তাই এক সাধারণ মানুষের না বলা দুঃখ, ভগ্ন স্বপ্ন, হারানো ভালবাসা এবং নিয়তির নির্মমতার গল্প। এটি দহনময় জীবনের কণ্ঠস্বর—যা আমাদের শেখায় যে কখনো কখনো সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ মানুষ তার নিজের অন্তরের ভিতরেই লড়ে যায়।

29/11/2025

**উপন্যাস: স্বপ্নদাহ

চতুর্থ অধ্যায়

প্রায় মাস খানেক পরে একদিন সৌরভ তার ঘরে পড়তে বসেছে। বিকাল বেলা সমস্ত বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। সকল মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করার পর ক্লান্ত দেহে ঘরে ফেরা শুরু করেছে। পাখিরও কলরব থেমে গেছে। মসজিদে মুয়াজ্জিনের আযান দেওয়া শেষ হয়েছে। চারদিকে রাতের কালো আভা ছড়িয়ে পড়ছে।
সৌরভ ঘরের ভেতরে পড়েই যাচ্ছে—কারণ সামনে তার বার্ষিক পরীক্ষা। পড়ার চাপের কারণে পুরো বিকাল ঘরের ভিতরে কাটাতে হলো তাকে। বাহিরে আসার সময়টুকুও সে পায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাত্রির কালো ছায়া সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লো ।

এর মধ্যে কলি ও তার বান্ধবী রাশিদা এসে হাজির। কলিকে দেখে সৌরভ স্তম্ভিত হয়ে গেল। কলিও রাশিদাকে নিয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়ে রইলো। প্রদীপের আলোয় কলির মুখে যেন সোনালি রঙের ছটা পড়েছে—চোখে এক অদ্ভুত কোমলতা।

কলি দু’কদম সরে জানালার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইলো। ফিসফিস করে রাশিদাকে কিছু বলল, কিন্তু কথাটা বোঝার উপায় ছিল না। খানিক পরে রাশিদা সৌরভের ঘরে প্রবেশ করল—দরজা খোলা ছিল বলে নক করার প্রয়োজন হলো না।

রাশিদাকে দেখে সৌরভ একটু অপ্রস্তুত স্বরে বলল,
— “কিরে রাশিদা, কেমন আছিস?”
— “ভালো, আপনি কেমন আছেন সৌরভ ভাই?”
— “ভালো তো… কিন্তু এই আগমন? কিছু বলবি?”

রাশিদা হেসে উঠল—হাসিটা যেন একটু ব্যঙ্গাত্মক, আবার মিশে আছে কিশোরী দুষ্টামি।
— “আপনি তো বই পড়তে গা ঢাকা দিয়েছেন! প্রেমের আবার সময়-অসময় আছে নাকি ভাই? নদীর স্রোত যেমন চলতেই থাকে, প্রেমের স্রোতও তেমনি অস্থির, চির বহমান।”

তারপর সে নিজের মত করেই বলতে লাগল,
— “সাগর-নদীর মিলন না হলে জোয়ার আসে? নদীর জল সাগরে মিশে যে কতো শত প্রেমের গল্প রচনা করে—সে তো চিরন্তন। সেই টানে আজ কলি এসেছে। বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে—আপনার সাথে কিছু না বলা কথা বলবে।”

এক মুহূর্ত দেরি করল না সৌরভ। সে দ্রুত বাইরে এসে কলির সামনে দাঁড়াল।

সন্ধ্যার আলো নিভে গিয়ে চারদিকে ম্লান চাঁদের মায়া। দু’জনে কাছে আসতেই এক ধরনের নীরব উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। সৌরভ কলিকে নিয়ে বাড়ির আঙিনার পুরাতন আমগাছটির নিচে এসে দাঁড়ালো।

কলি চোখ তুলে তাকাল। সেই দৃষ্টির সঙ্গে সৌরভের চোখ আটকে গেল। মুহূর্ত দু’এক সে যেন শ্বাস নিলেও তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। হঠাৎ কলির চোখ নিচের দিকে নেমে গেল—লজ্জার ঢেউ গাল বেয়ে ছড়িয়ে পড়ল। দু’জনেই কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রইল।

শেষ পর্যন্ত সৌরভ স্বাভাবিক হতে না পেরে বলল,
— “কলি… এতদিন কোথায় ছিলে? তোমাকে না দেখলে মনটা কেন যেন অস্থির হয়ে যায়।”

কলি ধীরে বলল,
— “অস্থির হলে আমার কী করার আছে? আপনি তো নাকি এখন শুধু বই-খাতা নিয়েই ব্যস্ত।”

— “তোমার কথা তো বইয়ের পাতাতেও কোথাও লেখা নেই… তবুও সারাদিন মনে পড়ে।”

কলির ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল।
— “তাই নাকি? মনে পড়লে খোঁজ নেন না কেন?”

— “শক্তি পাই না… তোমার সামনে দাঁড়ালেই মনে হয়, কিছু বলব—তবুও বলতে পারি না।”

কলি এবার একটু এগিয়ে এল। বাতাসে তার চুল ছড়িয়ে পড়ছে।
— “আজ বলুন… আজ তো এসেছি শুনতে।”

সৌরভের হৃদস্পন্দন যেন কানে শুনতে পাচ্ছিল। কথা জড়িয়ে গেল।
সে কিছু বলতে না পেরে হঠাৎই কলির হাত ছুঁয়ে ফেলল। তারপর ধীরে কাছে এলো। মুখ বাড়িয়ে চুম্বন করতে চাইলো।

কিন্তু কলি মৃদু শক্তিতে তার বাহু নিচে নামিয়ে দিল।
— “এভাবে নয় সৌরভ… প্রেম মানে শুধু স্পর্শ নয়। প্রেম মানে মনের কথা মনের কাছে তুলে ধরা।”

সৌরভ লজ্জায় মাথা নিচু করল,
— “ক্ষমা করো… আমি ভেবেছিলাম… তোমাকে ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না।”

কলি বলল,
— “আমি জানি। আপনি ভাবতে পারেন বলেই আজ এসেছি। কিন্তু প্রতিটি প্রেমের পথই সহজ নয়। আপনাকে যদি আমি মনে রাখি—আপনিও তবে আমাকে সম্মান দিয়ে রাখবেন… ঠিক তো?”

— “প্রতিশ্রুতি দিলাম, কলি।”

একটু নীরবতা। তারপর হঠাৎ কলি বলল,
— “জানো, আমি আজকেই ঠিক করেছি—তোমার কাছে আমার মন খুলে বলব।”

সৌরভ চমকে উঠল,
— “কি কথা?”

কলি ধীরে বলল,
— “হৃদয় যখন কারো দিকে ছুটে যায়, তখন যতোই লুকাতে চাও—লুকানো যায় না সৌরভ। তুমি… তুমি আমার সব চিন্তা-ভাবনার ভেতরে ঢুকে পড়েছো। তুমি না থাকলে আমার দিনগুলো কেমন যেন ফাঁকা মনে হয়।”

সৌরভের বুক ভরে উঠল।
— “তুমি সত্যি?”
— “হ্যাঁ। সত্যি।”

তারপর কলি খুব ধীরে বলল,
— “তবে একটা কথা… তোমার পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে আর দেখবে না। পড়াশোনাটা আগে শেষ করো। প্রেম অপেক্ষা করতে পারে—কিন্তু ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে না।”

সৌরভ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
— “তুমি চাইছো আমি দূরে থাকি?”
— “না… আমি চাই তুমি জিতো। তুমি সফল হলে তবেই আমাদের গল্পটা সুন্দর হবে।”

সৌরভ হাসল—মনে হলো রাতের সব অন্ধকার সরে আলো ফুটে উঠেছে।
— “তাহলে তুমি থেকো… আমার সাফল্যের পেছনে নীরব প্রেরণা হয়ে।”

কলি মাথা নাড়ল,
— “থাকব। তবে কথা দাও, পড়াশোনায় মন দেবে।”

— “কথা দিলাম। তুমি তো আমার আলো।”

দু’জনের চোখ আবার এক মুহূর্তের জন্য মিলিত হলো।
বাতাস নিঃশব্দে বয়ে গেল। গাছের পাতার মধ্য দিয়ে চাঁদের আলো নেমে এসে দু’জনকে যেন আলতো আশীর্বাদ দিল।

কলি ধীরে বলল,
— “এখন যাই। আজ এতটুকুই।”

— “আবার কবে দেখা হবে?”

কলি পিছনে না তাকিয়ে শুধু বলল,
— “যখন তুমি প্রস্তুত হবে… শুধু প্রেমের নয়, জীবনের পথের জন্যও।”

সৌরভ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।
কলি দূরে অন্ধকারের ভেতর মিশে যেতে যেতে মনে হলো—এই রাতের নীরবতাও যেন তাদের প্রেম স্বাক্ষর করে রাখল।

প্রেম দুইটি মেরুর আকর্ষণের বল—
দূরত্ব যত-ই থাকুক, একসময় মিলন অনিবার্য।
সেই মিলনের অপেক্ষায় রেখে যায় এই রাত, এই নীরব চাঁদ, আর দু’টি কিশোর হৃদয়।

15/11/2025

স্বপ্নদাহ

তৃতীয় অধ্যায়

ফাল্গুন মাসের মাতাল হাওয়া চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে তার রঙিন উল্লাস। প্রকৃতি আপন খেয়ালে সেজেছে—সূর্যের সোনালী দীপ্তি যেন ঘরে-বাহিরে ঝলমল আলোয় ছবি এঁকে দিচ্ছে। রংবেরঙের ফুলে ভরে উঠেছে গাছপালা। ফুলের সেই সুবাসে মৌমাছি আর প্রজাপতিও মুগ্ধতার নেশায় ঘুরে বেড়াচ্ছে—কখনো ফুলে বসে মধু লুটছে, কখনো বা গুনগুন করে উড়ে যাচ্ছে অন্য কোনো ফুলের খোঁজে। ফাল্গুনের বাতাসে তাই যেন অদৃশ্য এক মায়াবী ঢেউ খেলছে বারবার। দু-একটি শালিক পাখি ‘ফুরুত–ফুরুত’ করে উড়ে বেড়াচ্ছে নীল আকাশ চিরে।

এত সৌন্দর্যের মাঝে বসেও সৌরভের চিত্তে যেন কোনো আলো পড়ে না। সেই আগের মতোই সে টেবিলে বসে পড়াশোনা করছে। ছোট্ট টেবিল, তার উপর মোটা মোটা বইয়ের স্তূপ—পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে নিজের সবটুকু ঢেলে পড়ছে সে। টেবিলের কাছে জানালাটি খোলা থাকলেও বাইরে তাকানোর মতো সময় তার নেই।

ঠিক তখনই কলির আগমন

যদিও কলিকে এর আগেও বহুবার দেখেছে সৌরভ, কিন্তু আজ যেন তাকে ফাল্গুনের পূর্ণিমার মতো উজ্জ্বল লাগল। প্রকৃতির রঙিন আলোয় কলির মুখশ্রী আরও দীপ্তিমান—তার উপস্থিতিতে ঘর যেন আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

কলি এসে মৃদু স্বরে বলল,
— “আমাকে একটা কাজ করে দিতে পারবেন?”

সৌরভ মুহূর্তেই নিজের ভিতরের আলোড়ন সামলে উঠে বলল,
— “কি কাজ, কলি?”

কলি কোনো সংকোচ না করেই তার হাতের ঘড়িটি বাড়িয়ে বলল—
— “আপনি তো প্রতিদিন শহরে যান প্রাইভেট পড়তে, আমার এই ঘড়িটা একটু সারিয়ে এনে দেবেন?”

ঘড়ির তখনকার যুগে আলাদা গুরুত্ব—কারো হাতে কেসিও ব্র্যান্ডের ঘড়ি মানেই একধরনের কদর। সামান্য ত্রুটি হলেও সবাই ঘড়িয়ালার কাছে নিয়ে যেত যত্নের সঙ্গে। কলির সেই ঘড়িটিও তেমনই প্রিয়।

সৌরভ ঘড়িটা হাতে নিয়ে বলল,
— “পারব।”

কথা শেষ করেই কলি ফিরে যাওয়ার উপক্রম ছিল। সৌরভের মন চাইছিল আরও কিছুক্ষণ তার সঙ্গে কথা বলতে—কিন্তু পাশে বসে আছে বড় বোন, তাই সে নিজেকে থামিয়ে রেখেছিল। তবুও কলি চলে যাওয়ার আগেই সে ডেকে উঠল,
— “কলি… তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে?”

কলি একটু লজ্জায় থমকে দাঁড়াল। সামান্য হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে।
— “ভালই।”

কথা বলার সময় সে সৌরভের চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না। সেই লাজুক দৃষ্টি সৌরভকে আরও অস্থির করে তুলল। যাবার সময় কলি বলল—
— “ঘড়ি সারানোর টাকাটা একটু পরে এসে দিয়ে যাব।”

সৌরভ কিছুক্ষণ কলির হেঁটে যাওয়া পথেই তাকিয়ে রইল। কলির রূপ তার হৃদয় চঞ্চল করে তুলেছে—মন পড়ায় নেই, শুধু একরাশ অজানা উত্তেজনা আর পুলক।

ওপাশ থেকে ভেসে এল কলির কণ্ঠ—
— “মা, আমাকে ১০০ টাকা দাও, ঘড়িটা সারাতে হবে।”

কলির মা হিসাবী হলেও জানেন, মেয়েটি কখনো অযথা টাকা নষ্ট করে না। তাই কোনো প্রশ্ন ছাড়াই টাকাটি হাতে তুলে দিলেন। কলি খুশিতে ঝলমল করে উঠল।

কিছুক্ষণ পর সে সৌরভদের বাড়ির দিকে দ্রুত পা বাড়াল। বাড়ির সীমানা পেরোতেই দেখল সৌরভ পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে। সৌরভ তাকে দেখে উঠে দাঁড়াল।

টাকাটি হাতে দিয়ে কলি বলল—
— “সৌরভ ভাই… আপনি যেন কি বলতে চেয়েছিলেন?”

সৌরভ কিছুক্ষণ নিরব রইল। কথাগুলো বুকের ভিতরেই যেন গাদাগাদি করে আছে, কিন্তু মুখে আসতে চায় না।
— “কলি… অনেকদিন ধরে তোমাকে একটা কথা বলব ভাবছি… কিন্তু কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না। তো… শোনো কলি—”

হঠাৎ থেমে গেল সে।
— “ও থাক… আজ নয়। আরেকদিন…”

তার বুকের ‘ভালবাসি’ শব্দগুলো আবারো গিলে ফেলল সে। কলির চোখের দিকে তাকালেই তার সব ভাষা কেমন করে হারিয়ে যায়। সুন্দরী নারীর সামনে এসে কথাজ্ঞান হারানো—এ যেন তার নিয়তি।

চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা দুজনের মধ্যে বাতাসটাও যেন গাঢ় হয়ে উঠল। অবশেষে সৌরভ বলল—
— “কলি, বিকেলে একবার এসে ঘড়িটা নিয়ে যাস।”

কলি কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। যেন সে সৌরভের বুকের চাপা কথাগুলো পড়ে ফেলছে। তারপর নরম স্বরে বলল—
— “ঘড়িটা ভালো করে সারিয়ে এনো ভাইয়া…”

বিকেল গড়ালে সৌরভ শহর থেকে ঘড়িটি সারিয়ে নিয়ে এল। ঠিক সময়ে কলিও এল। ঘড়িটা হাতে নিয়ে তার মুখে যে হাসি ফুটল, তাতে যেন আরেকটি ফাল্গুনের রং ছড়িয়ে পড়ল পুকুরপাড়ে।

সেই দিন থেকে, অজান্তেই, তাদের সম্পর্কের অদৃশ্য সুতোটি একটু একটু করে বাঁধতে শুরু করল—
হাওয়ায়, ঘড়ির টিকটিক শব্দে, আর অনুচ্চারিত কিছু কথার নিঃশব্দ স্পর্শে।

11/11/2025

দ্বিতীয় অধ্যায়

পরিচ্ছেদ – ৩

সে রাতে সৌরভের চোখে আর ঘুম এলো না। বারবার কলির কথা মনে পড়ছিল। কেন এমন করল কলি? তার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল—সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। মনে হচ্ছিল গভীর রাতের সেই মুহূর্তে যেন এক যুবা আর এক যুবক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে—ভয়ংকর, অথচ রোমাঞ্চে ভরা এক দৃশ্য।

ভাবতে ভাবতে কখন সকাল এসে পড়ল টেরই পেল না। জানালার ফাঁক দিয়ে সকালের রক্তিম সূর্যরশ্মি তার মুখে পড়তেই ঘুম ভাঙল। চোখ মেলে কিছুক্ষণ শুয়ে রইলো, তারপর আবার এপাশ-ওপাশ করে ঘুমিয়ে গেল।

এদিকে মা ডাক দিলেন—
“বাবা সৌরভ, অনেক বেলা হয়ে গেল, এখনো ঘুমাচ্ছো? স্কুলে যাবি না?”
কিন্তু সৌরভের কর্ণে যেন সে শব্দ ঢুকল না। পিঠ ঘুরিয়ে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলল, আর গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।

প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে বাড়ির ছোটদের চেঁচামেচিতে আবার ঘুম ভাঙল তার। চোখ ডলতে ডলতে দরজার চৌকাঠে এসে বসে পড়ল। কিছুক্ষণ পর ব্রাশ হাতে নিয়ে ঘরের পিছনে এসে বাঁশের মাচার উপর বসে পড়ল। তার মুখে ক্লান্তির ছাপ, যেন সারারাত কোনো অস্থির সাধনায় জেগে ছিল।

অনেকটা বেলা পেরিয়ে অবশেষে মুখ ধুয়ে খেয়ে নিল। তারপর ঘরে ফিরে আবার বিছানায় গা এলিয়ে দিল। দিনটা কাটল উদাস ভঙ্গিতে, যেন সময় থেমে গেছে। ধীরে ধীরে দিনের আলো অন্ধকারে হারিয়ে গেল।

সন্ধ্যা নামতেই থেমে গেল চারপাশের কোলাহল। পাখিরা ফিরে গেল নীড়ে। দূরে কোথাও নিশাচর বাদুড়ের ডানার শব্দে নিস্তব্ধতা আরও গাঢ় হয়ে উঠল। প্রকৃতি যেন সেজে উঠল এক রহস্যময় সাজে।

সৌরভ হঠাৎ উঠে দরজাটা খুলে দিল। বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ ভাসছিল। সে একটা প্রদীপ জ্বেলে চেয়ার টেনে বসল পড়ার জন্য। ঠিক তখনই দরজার কাছে কলি এসে দাঁড়াল।

সৌরভ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ—অবাক, নির্বাক। কলির মুখে মৃদু আলো পড়েছে, যেন ভোরের শিশিরে ভেজা কোনো কুসুম। চোখ নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি—যেন লজ্জার ভিতরেও একটা স্বীকারোক্তি লুকিয়ে আছে।

সৌরভের মনে হল, কলির সেই লজ্জামাখা হাসিটা বর্ষার দিনে ভেজা লতাপাতার দোলার মতো কাঁপছে। তার চোখে এমন এক মায়া, যা দূর থেকে দেখলেও মনকে টেনে নেয়।

অবশেষে সৌরভ নরম কণ্ঠে বলল—
“তুমি এই গোধূলি লগ্নে একা আমার বাড়িতে এলে কেন? লোকে দেখলে কী ভাববে?”

কলি চোখ নামিয়ে ধীর স্বরে বলল—
“আপনি যেটা বলতে চেয়েছিলেন, সেটা না শুনে থাকতে পারলাম না... তাই এলাম।”

সৌরভ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, তারপর টেবিলের বইগুলো আস্তে করে সরিয়ে রেখে বলল—
“চলো, বাইরে একটু হাঁটি।”

দুজনে নিঃশব্দে দরজার বাইরে পা বাড়াল। চারদিকে নরম হাওয়া বইছে, আকাশে জোছনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌরভের মনে হল—যে প্রশ্নের উত্তর এতদিন খুঁজছিল, হয়তো আজকের এই নীরবতাই তার জবাব হয়ে আসছে।

Address

Dhaka

Opening Hours

09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when shukur Mahmud posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category