03/11/2025
মহিলা মানইসের জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা কি জানেন?
এই ধরেন রাইতের আটটা বাজে।
স্বামী বাসায় ফেরার সময় হই গেছে। এখনো রান্নাবান্না বসান নাই। শইলটা ম্যাজম্যাজ করতাছে। উঠলে বসতে ইচ্ছে করে না, শুইলে উঠতে ইচ্ছে করে না। সেখানে রান্ধনের কথা ভাবলেই শইলে একশো ডিগ্রি জ্বর আসতাছে।
কিন্তু আপনি জানেন, স্বামী ঘরে এক ঠ্যাং দিয়েই বলবে- ভাত দাও খুদা লাগছে।
"ভাত দিবো কোথা থেকে? রানছি নাকি?" এই উত্তর তো আর
স্বামীরে দেয়া যাবে না। আমার যে আজ রানতে মন চায় না, সেটাও তো মুখ ফুটে বলা যাবে না।
এরপর মনে করেন সকাল আটটা বাজে। রাতে দেরীতে ঘুমানোর কারণে আপনার উঠতে মন চাইতেছে না। ঘন্টাখানেক পর স্বামী অফিসে যাবে। একেবারে খালি পেটে তারে বাইরে পাঠানো নীতি গর্হিত। এমতাবস্থায় চক্ষের ঘুম পাছায় ফেলে লাফ দিয়ে উঠে রান্নাঘরে গেলেন। কিন্তু তখন মাথা হ্যাং হয়ে থাকবে বিশ মিনিট। কি করবো, কেন করবো, আমি এখন কোথায়, বাপের নাম জানি কি!! কিচ্ছু মাথায় আসেনা বিশ্বাস করেন ভাই!! একেবারে নিজেকে সদ্য জন্ম নেয়া বাছুর মনে হয়। খালি এদিক সেদিক উদভ্রান্তের মতো তাকাই। আমার এখন কাজটা কি, রান্না? রান্না হইলে রানবো কি? এসবের উত্তর খুঁজতেই পনেরো মিনিট গায়েব। একান্তই কিছু মাথায় না আসলে চুলায় হয় গরম পানি তুলে দেই, এরপর আটা গুলাই। নয়তো ভাতের চাল ধুয়ে তুলে দেই। বাকিটা ভাত হতে হতে চিন্তা করা যাবে!
আবার ধরেন সারা রাত জার্নি করে ট্যুর শেষ করে ভোরবেলা বাসায় ফিরলেন। ঢুকে দেখলেন ঘরদোর ময়লায় গিজগিজ করতেছে। আপনার পেটে ভয়ানক ক্ষুধা। বেডশিট চেঞ্জ করা দরকার। রান্ধন তুলে দেয়া দরকার। বাচ্চা ক্যাচক্যাচ করতেছে। আর সবকিছু উপেক্ষা করে স্বামী ওয়াশরুমে ঢুকে গোসল করে ফ্রেশ মুডে এসে শুয়ে পড়তে পড়তে বলল, আমি ঘুমাই। ভাত হইলে ডাক দিও।
বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই, মনডায় চায় নিজেই চুলার উপ্রে উইঠা বইসা থাকি। জার্নি করে নিজেও ক্লান্ত বিধ্বস্ত। এই অবস্থায় রান্নাবান্না করে, ভাত বেড়ে, সবকিছু গুছিয়ে গাছিয়ে ঘুমানোর কথা ভাবলেই... মমতাজের গানের দুইটা লাইন মনে পড়ে যায়-
সংসার আমার ভাল্লাগে না..
সংসার ভালো লাগে না... 🤦♀️
©️ - (copy-post)