10/12/2025
☞ নাভির নিচের লোম কাটার সীমানা কতটুকু?
☞ স্বামী-স্ত্রী কেউ কারো লজ্জাস্থানের লোম কেটে দিতে পারবে?
☞ অন্ডকোষ ও পায়ুপথের চারপাশের লোমও কাটতে হবে?
☞ পুরুষ ও নারী কি কি ব্যবহার করে লজ্জাস্থানের লোম কাটতে পারবে?
☞ কত দিনের মধ্যে অবাঞ্ছিত লোম কাটতে হবে?
🔲 নাভির নিচের লোম কাটার সীমানা কতটুকু?
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
পায়ের পাতার উপর ভর করে বসা অবস্থায়, নাভী থেকে চার পাঁচ আঙ্গুল পরিমাণ নীচে যে ভাঁজ বা রেখা সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই অবাঞ্ছিত লোমের সীমানা শুরু। ঐ ভাঁজ থেকে দুই উরু পর্যন্ত ডান বামের লোম, গোপনাঙ্গের চার পাশের লোম, অণ্ডকোষ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত উদগত লোম এবং প্রয়োজনে মলদ্বারের আশ-পাশের লোম অবাঞ্ছিত লোমের অন্তর্ভুক্ত।
— (আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়্যা ৩/২১৬-২১৭, মরদূকে লেবাস আউর বালূঁকে শরয়ী আহকাম ৮১)
🔲 স্বামী তার স্ত্রী’র এবং স্ত্রী তার স্বামীর নাভির নিচের লোম কেটে দিতে পারবে?
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
হ্যাঁ, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অবাঞ্চিত লোম কেটে দিতে পারবে।
☞ তবে নিজ হাত দিয়ে অবাঞ্চিত লোম পরিস্কারের সামর্থ থাকা সত্বেও একে অপরের সাহায্য না নেওয়া উত্তম।
▪️স্বামী স্ত্রীর মাঝেও লজ্জা শীলতা থাকা আবশ্যক। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মাঝে লজ্জা না থাকলে সংসারে সুখ হয় না।
যদিও স্বামী স্ত্রীর পরস্পরের লজ্জাস্থানের লোম পরিষ্কার করে দেওয়া জায়েয। তবে ইহা আদব তথা শিষ্টাচার পরিপন্থী কাজ।
ইবন কুদামা আল মাকদেসী (রহ.) বলেন,
وَيُبَاحُ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْ الزَّوْجَيْنِ النَّظَرُ إلَى جَمِيعِ بَدَنِ صَاحِبِهِ ، وَلَمْسُهُ ، حَتَّى الْفَرْجِ … ؛ وَلِأَنَّ الْفَرْجَ يَحِلُّ لَهُ الِاسْتِمْتَاعُ بِهِ ، فَجَازَ النَّظَرُ إلَيْهِ وَلَمْسُهُ ، كَبَقِيَّةِ الْبَدَنِ
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সমস্ত দেহের দিকে তাকানো, স্পর্শ করা, এমনকি যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রেও বৈধ। কেননা, যৌনাঙ্গে মিলন হালাল। সুতরাং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মত তা দেখা ও স্পর্শ করাও জায়েয। (আল মুগনী ৭/৭৭)।
🔲 অন্ডকোষ ও মলদ্বারের চারপাশের লোমও কাটতে হবে?
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
মুত্র থলির নিচে নিম্নাঙ্গের যে হাড্ডি থেকে- যেখানে তলপেটের নিচে উক্ত হাড্ডি বরাবর চামড়ার ওপর একটি ভাঁজ থাকে। (পেটের নীচে লজ্জাস্থানের উপরে ত্রিভুজ অঞ্চলের শুরুতে যে ভাঁজ থাকে) এখান থেকেই সাধারণত ঘন পশম গজানো শুরু হয়। উক্ত ভাঁজ থেকে নিয়ে লিঙ্গ, অণ্ডকোষ এবং মলদ্বার- এই তিন অঙ্গের আশপাশে এবং উরুর ওই অংশ, যা অণ্ডকোষদ্বয়ের কাছাকাছি থাকে এবং যা পশমের কারণে ময়লাযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে পুরোটাই অবাঞ্ছিত পশম থেকে মুক্ত করতে হবে।
— [সূত্র: ফাতাওয়ায়ে মাদানিয়া : ৩/৪৮২]
পায়খানার রাস্তার আশেপাশের লোম কাটতে হবে।
যদি নাপাকি লেগে না থাকে, সন্দেহমুক্তভাবে পরিষ্কার রাখা সর্বদা সম্ভব হয়, তাহলে সমস্যা নেই।
তবে কেটে ফেলা উত্তম, কেটে ফেলবেন, এটা অধিকাংশ মত।(বিস্তারিত পরবর্তী পোস্টে আলোচনা করা হবে ইংশাআল্লাহ্)।
▪️আর নাভীর নিচের লোম, অন্ডকোষ, পায়ুপথ তথা শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করতে যেয়ে একটা-দুইটা লোম থেকে গেলে কোন গোনাহ হবেনা।
—আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়্যা ৩/২১৬-২১৭, মরদূকে লেবাস আউর বালূঁকে শরয়ী আহকাম ৮১)
🔲 পুরুষ ও নারী কি কি ব্যবহার করে নাভির নিচের লোম কাটতে পারবে?
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
পুরুষের জন্য চেঁছে ফেলা এবং মহিলাদের জন্য উপড়িয়ে ফেলা মুস্তাহাব।—
(কিতাবুল ফিকহ আ’লাল মাযাহিবিল আরবাআ’ ২/৪৫)
☞ ব্লেড, ক্ষুর বা কাঁচি দ্বারা গোপনাঙ্গের লোম পরিস্কার করা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য জায়েয। অনুরূপভাবে হেয়ার রিমুভার জাতীয় ক্যামিক্যাল দ্বারা পরিস্কার করাতেও শরীয়তের কোন বাধা নেই। কেউ যদি কাঁচি দ্বারা ছোট করে রাখে, তাহলে জায়েয হবে, তবে উত্তম হবে না।
فَإِنْ أَزَالَ شَعْرَهُ بِغَيْرِ الْحَدِيدِ لَا يَكُونُ عَلَى وَجْهِ السُّنَّةِ
যদি কেউ চেঁছে না ফেলে অন্য কোনভাবে পরিষ্কার করে তাহলে তা সুন্নাহ অনুযায়ী হবে না।—(কিতাবুন নাওয়াযিল ১৫/৫৪৭)
▪️মেশিন দিয়ে লজ্জাস্থানের লোম কাটার মূলনীতি হলো—
☞ ছাটা না ক্লিন?
☞ লোম ক্লিন করা সুন্নাত।
☞ তাই মেসিন দিয়ে তো কাটা হয়/ছাটা হয়, ক্লিন হয় না।
☞ আর যদি একেবারে ন্যানো হয় তাহলে করা যেতে পারে।
তবে একবারে ক্লিন করাই উত্তম, সুন্নাহ।
▪️হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
٤٤٢٠ - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " «الْفِطْرَةُ خَمْسٌ: الْخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ» ". مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ফিতরাত তথা স্বভাবগত সুন্নত পাচঁটি।
১) খৎনা করা। ২) খুর দ্বারা নাভীর নীচ পরিস্কার করা। ৩) মুছ কাট। ৪) নক কাটা। ৫) বগলের চুলকে উপড়িয়ে ফেলা।
— (মিশকাতুল মাসাবিহ-৪৪২০)
☞ মুল্লা আলী ক্বারী (রঃ) উক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় লিখেন,
وَالِاسْتِحْدَادُ) : أَيْ حَلْقُ الْعَانَةِ، وَهُوَ اسْتِفْعَالٌ مِنَ الْحَدِيدِ، وَهُوَ اسْتِعْمَالُ الْحَدِيدِ مِنْ نَحْوِ الْمُوسَى فِي حَلْقِ الْعَانَةِ ذِي الشَّعْرِ الَّذِي حَوَالَيْ ذَكَرِ الرَّجُلِ وَفَرْجِ الْمَرْأَةِ. زَادَ ابْنُ شُرَيْحٍ: وَحَلْقَةُ الدُّبُرِ، فَجَعَلَ الْعَانَةَ مَنْبَتَ الشَّعْرِ مُطْلَقًا، وَالْمَشْهُورُ الْأَوَّلُ، فَإِنْ أَزَالَ شَعْرَهُ بِغَيْرِ الْحَدِيدِ لَا يَكُونُ عَلَى وَجْهِ السُّنَّةِ. كَذَا فِي شَرْحِ الْمَشَارِقِ، وَيَجِبُ أَنْ يُعْلَمَ أَنَّهُ لَا يُقْطَعُ شَيْئًا مِنْ شَعْرٍ وَهُوَ جُنُبٌ.
(وَقَصُّ الشَّارِبِ) : وَهُوَ الشَّعْرُ النَّابِتُ عَلَى طَرَفِ الشَّفَةِ الْعُلْيَا، وَلِلنَّسَائِيِّ: وَحَلْقُ الشَّارِبِ، وَلَهُ أَيْضًا: وَتَقْصِيرُ الشَّارِبِ. وَقَالَ النَّوَوِيُّ: الْمُخْتَارُ فِي قَصِّ الشَّارِبِ أَنْ يَقُصَّهُ حَتَّى يَبْدُوَ طَرَفُ الشَّفَةِ وَلَا يَحْفِيهُ، وَأَمَّا رِوَايَةُ: أَحِفُّوا فَمَعْنَاهَا أَزِيلُوا مَا طَالَ عَلَى الشَّفَتَيْنِ. وَقَالَ الْقُرْطُبِيُّ: قَصُّ الشَّارِبِ أَنْ يَأْخُذَ مَا طَالَ عَلَى الشَّفَةِ بِحَيْثُ لَا يُؤْذِي الْآكِلَ، وَلَا يَجْتَمِعُ فِيهِ الْوَسَخُ. وَقَالَ: الْإِحْفَاءُ هُوَ الْقَصُّ الْمَذْكُورُ، وَلَيْسَ بِالِاسْتِئْصَالِ عِنْدَ مَالِكٍ. وَذَهَبَ الْكُوفِيُّونَ: أَيْ بَعْضُهُمْ إِلَى أَنَّهُ الِاسْتِئْصَالُ، وَذَهَبَ الطَّبَرِيُّ إِلَى التَّخْيِيرِ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: ذَكَرَ أَهْلُ اللُّغَةِ أَنَّ الْإِحْفَاءَ الِاسْتِئْصَالُ، وَكَذَا النَّهْكُ بِالنُّونِ وَالْكَافِ الْمُبَالَغَةُ فِي ذَلِكَ، وَقَدْ دَلَّتِ السُّنَّةُ عَلَى الْأَمْرَيْنِ، وَلَا تَعَارُضَ ; فَإِنَّ الْقَصَّ يَدُلُّ عَلَى أَخْذِ الْبَعْضِ، وَالْإِحْفَاءُ يَدُلُّ عَلَى أَخْذِ الْكُلِّ، وَكِلَاهُمَا ثَابِتٌ. وَقَالَ الْعَسْقَلَانِيُّ: وَرَجَّحَ ذَلِكَ ثُبُوتُ الْأَمْرَيْنِ فِي الْأَحَادِيثِ الْمَرْفُوعَةِ، كَذَا حَقَّقَهُ السُّيُوطِيُّ، وَفِي الْمُحِيطِ: لَا يَحْلِقُ شَعْرَ حَلْقِهِ. وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ، وَلَا بَأْسَ بِأَنْ يَأْخُذَ شَعْرَ الْحَاجِبَيْنِ وَشَعْرَ وَجْهِهِ مَا لَمْ يَتَشَبَّهْ بِالْمُخَنَّثِينَ. وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ يُكْرَهُ أَنْ يَحْلِقَ قَفَاهُ إِلَّا عِنْدَ الْحِجَامَةِ، وَأَمَّا حَلْقُ شَعْرِ الصَّدْرِ وَالظَّهْرِ، فَفِيهِ تَرْكُ الْأَدَبِ كَذَا فِي الْقِنْيَةِ.
ইস্তেহদাদ অর্থ হলো– নাভীর নীচ কে খুর ইত্যাদি দ্বারা পরিস্কার করা। পুরুষাঙ্গ ও যোনিপথের আশপাশের সবকিছুকে খুর দ্বারা পরিস্কার করতে হবে।
ইবনে শুরাইহ বলেন, মলমূত্রত্যাগের স্থানকেও খুর দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। উনি নাভীর নীচের সকল চুলকে তাতে শামিল রাখেন তা যেখানেই হোকনা কেন। তবে প্রথম মতটাই অধিক প্রসিদ্ধ। যদি কেউ খুর ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা নাভীর চুলকে পরিস্কার করে, তাহলে সেটা সুন্নত অনুযায়ী হবে না।(শরহে মাশারিক্ব) সবার জানা থাকা উচিৎ যে, জুনুবী অবস্থায় নাভীর চুলকে কাটা যাবে না।
🔲 কত দিনের মধ্যে অবাঞ্ছিত লোম কাটতে হবে?
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
অবাঞ্ছিত লোম, নখ ইত্যাদি সপ্তাহে একবার কাটা সুন্নত। কমপক্ষে ৪০ দিনের ভিতরে একবার হলেও কাটতে হবে বিনা ওজরে চল্লিশ দিন পর কাটা মাকরূহ তাহরীমি বা গোনাহর কাজ। এ মর্মে সাহাবী আনাস (রাযি.) বলেন,
٤٤٢٢ - وَعَنْ أَنَسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ: «وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ وَنَتْفِ الْإِبِطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
অর্থাৎ, গোঁফ ছোট রাখা , নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভীর নিচের লোম চেঁছে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যেন, আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরী না করি।মিশকাতুল মাসাবিহ-৪৪২২
— (মুসলিম ২৫৮)
▪️