13/11/2025
বাংলাদেশের গবাদিপশু খাত নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর দাবি—“আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ”—তা আসলে বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল কিংবা ভারত—এই দেশগুলো গবাদিপশুর খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করে, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং তাদের পশুখাদ্য শিল্প শক্তিশালী। তাই তাদের জন্য উৎপাদন খরচ, বাজারদর এবং সরবরাহ–ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে।
কিন্তু বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছে।
২০ কোটি জনসংখ্যা, মাথাপিছু জমি অত্যন্ত সীমিত, আর গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য নির্ভরতা প্রায় পুরোপুরি আমদানির উপর। গমের ভুসি, ভুট্টা, সয়াবিন মিল, সরিষার খৈল, সয়া খৈল—সবই আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দেশই গবাদিপশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি করে না—কিন্তু আমাদের মন্ত্রণালয় করে।
যদি সত্যিই স্বয়ংসম্পূর্ণ হতাম—
তাহলে কেন আমাদের ২০ কোটি মানুষ পর্যাপ্ত কাঁচা দুধ পায় না?
কেন দেশে বড় পরিসরের মিল্ক-পাউডার, চিজ বা ইনফ্যান্ট ফর্মুলা তৈরির কারখানা নেই?
কেন আমরা এখনো আমদানিকৃত দুগ্ধজাত পণ্যের উপর নির্ভরশীল?
এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর আজও কেউ দিতে পারে না।
বাংলাদেশে একটি অস্বাভাবিক শিল্প গড়ে উঠেছে—ফ্যাটেনিং ইন্ডাস্ট্রি।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মাংস হলো দুগ্ধ শিল্পের উপজাত, সেখানে আমাদের দেশে উল্টোভাবে মাংসকে মূল শিল্প করে মোটা করা পশু বিক্রি প্রধান ব্যবসা হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চল থেকে গোপনে বা আধা-সরকারি ব্যবস্থায় গরু এনে কুরবানির মৌসুম লক্ষ্য করে মোটা করা—এ যেন দেশের বাস্তবতাকেই বিদ্রূপ করছে।
একজন গরুর ন্যূনতম ঘাস–চাহিদার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৫০০ বর্গফুট জমি।
তাহলে ২০ কোটি মানুষের মাংসের চাহিদা পূরণ করতে কী পরিমাণ জমি দরকার—তার হিসাব করলেই বোঝা যায় “স্বয়ংসম্পূর্ণতা” কেবলই কাগুজে বুলি। তবুও মন্ত্রণালয়ের দাবি যেন সাধারণ মানুষের বাস্তবতা উপেক্ষা করেই উচ্চবিত্ত কয়েকটি এলাকার বাজারমাত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি।
আজ দেশি গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা প্রতি কেজি—যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। অথচ ভারত থেকে হিমায়িত মাংস আমদানি করা গেলে ৫০০ টাকার মধ্যেই হাড়বিহীন মাংস জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
ধনীরা চাইলে দেশীয় মাংসই কিনবে—তাতে আপত্তি নেই।
কিন্তু সাধারণ মানুষকে কম দামে আমদানিকৃত প্রোটিন খেতে বাধা দেওয়া—এ এক অমানবিক নীতি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে থাকলেও ২০ কোটি মানুষের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়—এবং আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়।
মাছ পানির নিচে থাকে বলে দেখানো যায় না; কিন্তু গরুর খামার দেখিয়ে প্রচার করা যায়—এই সুবিধাবাদিতা থেকেই “স্বয়ংসম্পূর্ণতা”র অবাস্তব দাবি উঠে আসে।
গত দশকে কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান এবং স্বার্থগোষ্ঠীর কারণে বাংলাদেশের vast জনগোষ্ঠী সুলভ দামে আমদানিকৃত গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।
মুরগির বাজারে যেমন নানা ধরনের বিকল্প আছে—মানুষ তাদের আয় অনুযায়ী কিনতে পারে—গরুর মাংসেও তেমনি বিকল্প থাকা উচিত।
⸻
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ
এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রোটিন পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের vast সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে গরুর মাংস খেতে দেওয়া মানবিক এবং অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই অপরিহার্য।
👉 অতএব, অবিলম্বে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির অনুমতি প্রদান করুন।
এটি শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়—এটি হবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য, নৈতিকতা এবং মানবাধিকারের সম্মান রক্ষার পদক্ষেপ