25/11/2021
টেস্টোস্টেরনঃমানবদেহে এর প্রভাব, গুরুত্ব ও তাৎপর্যঃ-
টেস্টোস্টেরন হরমোন কি ?
টেস্টোস্টেরন হরমোন হলো এন্ড্রোজেন শ্রেনিভুক্ত পুরুষত্বের জন্য অন্তর্ভুক্ত প্রধান স্টেরয়েড হরমোন। মানুষসহ সকল প্রাণীজগতের শুক্রাশয়ে এ হরমোন উৎপন্ন হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাশয় ও নারীর ডিম্বাশয় থেকে এ হরমোন উৎপন্ন হয়। পুরুষের জন্য টেস্টোস্টেরন হরমোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।পুরুষদের মাঝে টেস্টোস্টেরন বিপাক হার নারীদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি(নারীদের এ কারনে দাড়ি, গোফ হয় না)।টেস্টোরেনের মাত্রা বৃদ্ধি হতে পারে দ্রুত মাংসপেশি এবং জীবনীশক্তি লাভের কারণ।
কেনো আমাদের টেস্টোস্টেরন দরকারঃ
★এনার্জি,স্মৃতিশক্তি
★মনোযোগ,আত্মমর্যাদাবোধ,আত্মনিয়ন্ত্রণ
★সুগঠিত পেশি(মেয়েদের শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপন্ন হয়,তাই তারা জিম করলেও মাসেল হয় না)
★দৈহিক শক্তি,কাজ করার সক্ষমতা
★গলার স্বরের গম্ভীরতা
★পুরুষের মত আচরণ
★লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদন
★যৌন ক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত আমিষ সরবরাহ করা
★দীর্ঘস্থায়ী যৌন ক্রিয়াতে
★স্বাস্থ্যকর মেটাবলিজম উৎপাদনে
★ লিভারের কার্যাবলীতে
★সুগঠিত প্রস্টেট গ্রন্থি গঠনে
★প্রজনন অঙ্গ যেমন শুক্রাশয় বৃদ্ধি
★শরীরের লোম বৃদ্ধি করে(চুল,দাড়ি....)
★মাংসপেশি বৃদ্ধি
★হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি,হাড়ের পূর্ণতা প্রাপ্তি
★যৌন অঙ্গের পূর্ণতা প্রদান করা
★উচ্চতায় বৃদ্ধি,কাঁধ প্রসারিত করা
টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে গেলে কি হয় ?
২৫-৩০ বছর বয়স থেকেই একজন মানুষের টেসটোসটেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমতে শুরু করে,এটা একটা সমস্যা।যদি টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমে যায় তাহলে কী হতে পারে জেনে নিন
★ক্লান্তিভাব,বিষণ্ণতা,দুর্বল স্মৃতি শক্তি
★মনোযোগ কমে যাওয়া
★অতিরিক্ত অস্থিরতা,কম শারীরিক সক্ষমতা
★ আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া
★পুরুষালি আচরণ কমে যাওয়া
★আচরণে মিনমিনে ভাব আসা
★স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়াতে আগ্রহ না থাকা
★দ্রুত বীর্যপাত
★দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া,মেরুদণ্ডে ব্যথা
★পেশী সুগঠিত না হওয়া
★শরীরে চর্বি হয়ে যাওয়া
★হাড় ক্ষয়ে যাওয়া'
★ চুল পড়ে যাওয়া (বয়স বাড়ার সাথে সাথে আস্তে আস্তে টাক হয়ে যাওয়া)
★স্থূলতা বা মেদবাহুল্য (আস্তে আস্তে পেট বেড়ে যাওয়া)
★রোগের ঝুঁকিবৃদ্ধি এবং অকালমৃত্যু
★ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ শিথিলতা
★অতাধিক ক্লান্তিভাব অনুভব করা
★ডিপ্রেশনের স্বীকার,ভুলে যাওয়া
★স্তনের আকার বৃদ্ধি এ হরমোন কম থাকলে দেহে ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে পুরুষের স্তনের আকার বেড়ে যেতে পারে। এ সমস্যাকে বলা হয় ‘গাইনেকোমাস্টিয়া’।
পুরুষ হরমোন বৃদ্ধি করে যেসব খাবারঃ
★ডিমের কুসুম, অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, মাংস, কড লিভার তেল, অ্যাভোকাডো, লাল আঙ্গুর, ঝিনুক বা শুক্তিসমূহ, যকৃত, কুমড়ো বীজ, মটরশুটি, Chia বীজ, ডুমুর, আনারস, ওটমিল, পোল্ট্রি,বাদাম, কলা, রসুন, ব্রকোলি, পেঁয়াজ, আদা, ডালিম, গোলমরিচ, দধি,তরমুজ, শাক, বাঁধাকপি, প্রাণী হার্ট,মধু, কিশমিশ, কাজুবাদাম, উচ্চমানের লবণ বা হিমালয় ক্রিস্টাল লবণ, স্যামন, টুনা।
★ঘুমের মধ্যে অধিক টেস্টোস্টেরন তৈরি হয় বলে অবসাদ কাটাতে ও টেস্টোস্টেরন তৈরিতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার(রাত ১০ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত বেশি উৎপন্ন হয়,তাই এসময় অন্ধকার পরিবেশে ঘুমানো)
★খাদ্য এবং ব্যায়ামের মতই ভাল ঘুম আপনার দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার টেসটোসটেরন লেভেলের উপরও বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘুমের আদর্শ পরিমাণ বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি গবেষণায় দেখা যায়, রাতের বেলা মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুম যথেষ্ট নয়, টেসটোসটেরন লেভেল ১৫% হ্রাস পায়।
একটি দীর্ঘ গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা রাতের বেলা মাত্র ৪ ঘন্টা ঘুমায় তাদের টেসটোসটেরন লেভেল ঘাটতির পরিমাণ ৪৬%, যাকে বলা যায় ঘাটতির চূড়ান্ত পর্যায়। অন্যান্য দীর্ঘ মেয়াদী গবেষণাও একে সমর্থন করে।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ঘন্টা অতিরিক্ত ঘুমের ফলে টেসটোসটেরন লেভেল ১৫% বৃদ্ধি পায়। প্রতি রাতে ৭ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুম দীর্ঘ-মেয়াদী সুস্বাস্থ্য এবং টেসটোসটেরন লেভেলের জন্য সবচেয়ে ভাল বলে গবেষণায় দেখা যায়।
★ভিটামিন ডি (সূর্যের আলোতে প্রকাশিত হয়ে ত্বকে উৎপাদিত হয়)।
টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির ব্যয়ামঃ
শারীরিক শক্তি খরচ করে যেকোনো কাজের দ্বারা হতে পারে। যারা ভাবছেন জিমে গিয়ে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়াবেন তাদের যেসব ওয়ার্কআউট করা লাগতে পারে তা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ-ডেড লিফট,স্কোয়াট, পুশ আপ, সিট আপ, বারবেল কার্ল, নী-আপ, বাইসেপ ওয়ার্ক আউট, থাই ইত্যাদি ব্যায়ামের মাধ্যমে এ হরমোনের মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে।
পরিসমাপ্তিঃ
উপরের আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চয় আমরা টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছি। টেস্টোস্টেরন এর ঘাটতি থাকলে বিভিন্ন অসুখ মানবদেহ কে ঘিরে ধরে। শারীরিক অক্ষমতা, দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া, ইত্যাদি। এ সকল সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে ব্যয়াম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা, রাত না জাগা, কোন কিছু নিয়ে বেশি না ভাবা ইত্যাদি । কথায় আছে স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। অর্থাৎ স্বাস্থের যত্ন নিলে আশা করা যায় টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি থেকে আপনার শরীর মুক্ত থাকবে।
©